Header Ads

মুনশি একাডেমি

শিক্ষা ও সাহিত্যভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
নোট ও সাজেশন বিসিএস ও এনটিআরসিএ বি.এড ও ব্যাংক প্রস্তুতি

অর্ধাঙ্গী - বেগম রোকেয়া: মূলভাব ও পূর্ণাঙ্গ সৃজনশীল প্রশ্নব্যাংক

অর্ধাঙ্গী - বেগম রোকেয়া: মূলভাব ও পূর্ণাঙ্গ সৃজনশীল প্রশ্নব্যাংক

 

 

ordhangi begum rokeya, hsc bangla 1st ordhangi probondho, hsc bangla 1st paper ordhangi, hsc bangla 1st paper ordhang, ordhangi hsc bangla 1st paper, ordhangi probondho hsc, ordhangi hsc probondho, ordhangi obelar bangla, ordhangi hsc, bangla 1st paper ordhangi, ardhangi hsc bangla, ordhangi hsc probondho mcq, ordhangi probondho hsc 2026, ordhangi bangla, ordhangi hsc mcq, ordhangi hsc 2026, begum rokeya sakhawat hossain related mcq question bcs, ordhangi probondho hsc 10 minute school, ordhangi probondho,মুনশি একাডেমি, মুনশি আলিম,munshi academy, munshi alim

কোন রোগীর চিকিৎসা করিতে হইলে প্রথমে রোগের অবস্থা জানা আবশ্যক। তাই অবলাজাতির উন্নতির পথ আবিস্কার করিবার পূর্ব্বে তাহাদের অবনতির চিত্র দেখাইতে হয়। আমি “স্ত্রাজাতির অবনতি” শীর্ষক প্রবন্ধে ভগিনীদিগকে জানাইয়াছি যে, আমাদের একটা রোগ আছে-‘দাসত্ব’। সে রোগের কারণ এবং অবস্থা কতক পরিমাণে ইতঃপূর্ব্বে বর্ণনা করা হইয়াছে। এক্ষণে আমরা দেখাইতে চেষ্টা করিব, সেই রোগ হওয়ায় আমাদের সামাজিক অবস্থা কেমন বিকৃত হইয়াছে। ঔষধ পথ্যের বিধান স্থানান্তরে দেওয়া হইবে।

এইখানে গোঁড়া পর্দাপ্রিয় ভগ্নীদের অবগতির জন্য দু একটা কথা বলিয়া রাখা আবশ্যক বোধ করি। আমি অবরোধ প্রথার বিরুদ্ধে দণ্ডায়মান হই নাই। কেহ যদি আমার “স্ত্রীজাতির অবনতি” প্রবন্ধে পর্দাবিদ্বেষ ছাড়া আর কোন উদ্দেশ্য দেখিতে না পান, তবে আমাকে মনে করিতে হইবে আমি নিজের মনোভাব উত্তমরূপে ব্যক্ত করিতে পারি নাই, অথবা তিনি প্রবন্ধটি মনোযোগ সহকারে পাঠ করেন নাই।

সে প্রবন্ধে প্রায় সমগ্র নারীজাতির উল্লেখ আছে। সকল সমাজের মহিলাগণই কি অবরোধে বন্দিনী থাকেন? অথবা তাঁহারা পর্দানশীল নহেন বলিয়া কি আমি তাঁহাদিগকে সম্পূর্ণ উন্নত বলিয়াছি? আমি মানসিক দাসত্বের (enslaved মনের) আলোচনা করিয়াছি।

কোন একটা নূতন কাজ করিতে গেলে সমাজ প্রথমতঃ গোলযোগ উপস্থিত করে, এবং পরে সেই নূতন চাল চলন সহিয়া লয়, তাহারই দৃষ্টান্তস্বরূপ পার্সী মহিলাদের পরিবর্ত্তিত অবস্থার উল্লেখ করিয়াছি। পূর্ব্বে তাঁহারা ছত্রব্যবহারেরও অধিকারিণী ছিলেন না, তারপর তাঁহাদের বাড়াবাড়িটা সীমা লঙ্ঘন করিয়াছে, তবু ত পৃথিবী ধ্বংস হয় নাই। এখন পার্সী মহিলাদের পর্দামোচন হইয়াছে সত্য, কিন্তু মানসিক দাসত্ব মোচন হইয়াছে কি? অবশ্যই হয় নাই। আর ঐ যে পর্দা ছাড়িয়াছেন, তাহা দ্বারা তাঁহাদের স্বকীয় বুদ্ধিবিবেচনার ত কোন পরিচয় পাওয়া যায় না। পার্সী পুরুষগণ কেবল অন্ধভাবে বিলাতী সভ্যতার জীবনীশক্তির ত কিছু পরিচয় পাওয়া যায় না-তাঁহারা যে জড়পদার্থ, সেই জড়পদার্থই আছেন। পুরুষ যখন তাঁহাদিগকে অন্তঃপুরে রাখিতেন, তাঁহারা তখন সেইখানে থাকিতেন। আবার পুরুষ যখন তাঁহাদের “নাকের দড়ী” ধরিয়া টানিয়া তাঁহাদিগকে মাঠে বাহির করিয়াছেন, তখনই তাঁহারা পর্দার বাহির হইয়াছে! ইহাতে রমণীকুলের বাহাদুরী কি? ঐরূপ পর্দা-বিরোধ কখনই প্রশংসনীয় নহে।

কলম্বস যখন আমেরিকা আবিস্কার করিতে কৃতসঙ্কল্প হন, তখন লোকে তাঁহাকে বাতুল বলে নাই কি? নারী আপন স্বত্ব-স্বামিত্ব বুঝিয়া আপনাকে নরের ন্যায় শ্রেষ্ঠ জ্ঞান করিতে চাহে, ইহাও বাতুলতা বই আর কি?

পুরুষগণ স্ত্রীজাতির প্রতি যতটুকু সম্মান প্রদর্শন করেন, তাহাতে আমরা সম্পূর্ণ তৃপ্ত হইতে পারি না। লোকে কালী, শীতলা প্রভৃতি রাস-প্রকৃতির দেবীকে ভয় করে, পূজা করে, সত্য। কিন্তু সেইরূপ বাঘিনী, নাগিনী, সিংহী প্রভৃতি “দেবী” ও কি ভয় ও পূজা লাভ করে না? তবেই দেখা যায় পূজাটা কে পাইতেছেন,-রমণী কালী, না রাসী নৃমুণ্ডামালিনী?

নারীকে শিক্ষার দিবার জন্য গুরুলোকে সীতা দেবীকে আদর্শরূপে দেখাইয়া থাকেন। সীতা অবশ্যই পর্দানশীল ছিলেন না। তিনি রামচন্দ্রের অর্দ্ধাঙ্গী, রাণী, প্রণয়িনী এবং সহচরী। আর রামচন্দ্র প্রেমিক, ধার্ম্মিক-সবই। কিন্তু রাম সীতার প্রতি যে ব্যবহার করিয়াছেন, তাহাতে প্রকাশ পায় যে, একটি পুতুলের সঙ্গে কোন বালকের যে সম্বন্ধ, সীতার সঙ্গে রামের সম্বন্ধও প্রায় সেইরূপ। বালক ইচ্ছা করিলে পুতুলকে প্রাণপণে ভালবাসিতে পারে; পুতুল হারাইলে বিরহে অধীর হইতে পারে; পুতুলের ভাবনায় অনিদ্রায় রজনী যাপন করিতে পারে; পুতুলটা যে ব্যক্তি চুরি করিয়াছিল, তাহার প্রতি খড়গহস্ত হইতে পারে; হারান পুতুল ফিরিয়া পাইলে আহলাদে আটখানা হইতে পারে; আবার বিনা কারণে রাগ করিয়াও পুতুলটা কাদায় ফেলিয়া দিতে পারে,-কিন্তু পুতুল বালকের কিছুই করিতে পারে না, কারণ হস্তপদ থাকা সত্ত্বেও পুত্তলিকা অচেতন পদার্থ! বালক তাহার পুতুল স্বেচ্ছায় অনলে উৎসর্গ করিতে পারে, পুতুল পুড়িয়া গেল দেখিয়া ভূমে লুটাইয়া ধূলি-ধূসরিত হইয়া উচ্চৈঃস্বরে কাঁদিতে পারে!!

রামচন্দ্র “স্বামিত্বের” ষোল আনা পরিচয় দিয়াছেন!! আর সীতা?-কেবল প্রভু রামের সহিত বনযাত্রার ইচ্ছা প্রকাশ করিয়া দেখাইয়াছেন যে, তাঁহারও ইচ্ছা প্রকাশের শক্তি আছে। রাম বেচারা অবোধ বালক, সীতার অনুভব শক্তি আছে, ইহা তিনি বুঝিতে চাহেন নাই, কেন না, বুঝিয়া কার্য্য করিতে গেলে স্বামিত্বটা পূর্ণমাত্রায় খাটান যাইত না!

আচ্ছা, দেশ কালের নিয়মানুসারে কবির ভাষায় স্বর মিলাইয়া না হয় মানিয়া লই যে, আমরা স্বামীর দাসী নহি-অর্দ্ধাঙ্গী। আমরা তাঁহাদের গৃহে গৃহিণী, সরণে (না হয়, অন্ততঃ তাঁহাদের চাকুরী উপলক্ষে যথা তথ্য) অনুগামিনী, সুখ দুঃখে সমভাগিনী, ছায়াতুল্য সহচরী ইত্যাদি।

কিন্তু কলিযুগে আমাদের ন্যায় অর্দ্ধাঙ্গী লইয়া পুরুষগণ কিরূপ বিকলাঙ্গ হইয়াছেন, তাহা কি কেহ একটু চিন্তাচক্ষে দেখিয়াছেন? আক্ষেপের (অথবা “প্রভু”দের সৌভাগ্যের) বিষয় যে, আমি চিত্রকর নহি-নতুবা এই নারীরূপ অর্দ্ধাঙ্গ তাঁহাদের কেমন অপরূপ মূর্ত্তি হইয়াছি, তাহা আঁকিয়া দেখাইতাম।

শুক্লকেশ বুদ্ধিমানগণ বলেন যে, আমাদের সাংসারিক জীবনটা দ্বিচক্র শকটের ন্যায়-ঐ শকটের এক চক্র পতি, অপরটি পত্নী। তাই ইংরাজী ভাষায় কথায় কথায় স্ত্রীকে অংশিণী (partner) উত্তমার্দ্ধ (better half) ইত্যাদি বলে। জীবনের কর্ত্তব্য অতি গুরুতর, সহজ নহেঃ

“সুকঠিন গার্হস্থ্য ব্যাপার
সুশৃঙ্খল কে পারে চালাতে?
রাজ্যশাসনের রীতি নীতি
সূক্ষ্মভাবে রয়েছে ইহাতে।”

বোধ হয় এই গার্হস্থ্য ব্যাপারটাকে মস্তকস্বরূপ কল্পনা করিয়া শাস্ত্রকারগণ পতি ও পত্নীকে তাহার অঙ্গস্বরূপ বলিয়াছেন। তবে দেখা যাউক বর্ত্তমান যুগে সমাজের মূর্ত্তিটা কেমন।

মনে করুন কোন স্থানে পূর্ব্বদিকে একটি বৃহৎ দর্পণ আছে, যাহাতে আপনি আপাদমস্তক নিরীক্ষণ করিতে পারেন। আপনার দক্ষিণাঙ্গভাগ
পুরুষ এবং বামাঙ্গভাগ স্ত্রী। এই দর্পণের সম্মুখে দাঁড়াইয়া দেখুনঃ

আপনার দক্ষিণ বাহু দীর্ঘ (ত্রিশ ইঞ্চি) এবং স্থুল, বামবাহু দৈর্ঘ্যে চব্বিশ ইঞ্চি এবং ক্ষীণ। দক্ষিণ চরণে দৈর্ঘ্যে ১২ ইঞ্চি, বাম চরণ অতিশয় ক্ষুদ্র। দক্ষিণ স্বন্ধ উচ্চতায় পাঁচ ফিট, বাম স্কন্ধ উচ্চতায় চারি ফিট! (তবেই মাথাটা সোজা থাকিতে পারে না, বাম দিকে ঝুঁকিতে পড়িতেছে! কিন্তু আবার দক্ষিণ কর্ণভারে বিপরীত দিকেও একটু ঝুঁকিয়াছে!) দক্ষিণ কর্ণ হস্তিকর্ণের ন্যায় বৃহৎ, বাম কর্ণ রাসভকর্ণের ন্যায় দীর্ঘ! দেখুন!-ভাল করিয়া দেখুন, আপনার মূর্ত্তিটা কেমন!! যদি এ মূর্ত্তিটা অনেকের মনোমত না হয়, তবে দ্বিচক্র শকটের গতি দেখাই। যে শকটের এক চক্র বড় (পতি) এবং এক চক্র ছোট (পত্নী) হয়, সে শকট অধিক দূরে অগ্রসর হইতে পারে না; সে কেবল একই স্থানে (গৃহকোণেই) ঘুরিতে থাকিবে। তাই ভারতবাসী উন্নতির পথে অগ্রসর হইতে পারিতেছেন না।

 

সমাজের বিধি ব্যবস্থা আমাদিগকে তাহাদের অবস্থা হইতে সম্পূর্ণ পৃথক রহিয়াছে; তাঁহাদের সুখ দুঃখ এক প্রকার, আমাদের সুখ দুঃখ অন্য প্রকার। এস্থলে বাবু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের “নবদম্পতীর প্রেমালাপ” কবিতার দুই চারি ছত্র উদ্ধৃত করিতে বাধ্য হইলাম-

“বর। কেন সখি কোণে কাঁদিছ বসিয়া?
“কনে। পুষি মেনিটিরে ফেলিয়া এসেছি ঘরে।

*

“বর। কি করিছ বনে কুঞ্জভবনে?
“কনে। খেতেছি বসিয়া টোপা কূল।

*

“বর। জগৎ ছানিয়া, কি দিব আনিয়া জীবন করি ক্ষয়?
তোমা তবে সখি, বল করিব কি?
“কনে। আরো কূল পাড় গোটা ছয়।

*

“বর। বিরহের বেলা কেমনে কাটিবে?
“কনে। দেব পুতুলের বিয়ে।”

সুতরাং দেখা যায় কন্যাকে এরূপ শিক্ষা দেওয়া হয় না, যাহাতে সে স্বীকার ছায়াতুল্য সহচরী হইতে পারে। প্রভুদের বিদ্যার গতির সীমা নাই, স্ত্রীদের বিদ্যার দৌড় সচরাচর “বোধোদয়” পর্য্যন্ত!

স্বামী যখন পৃথিবী হইতে সূর্য্য ও নক্ষত্রের দূরত্ব মাপেন, স্ত্রী তখন একটা বালিশের ওয়াড়ের দৈর্ঘ্য প্রস্থ (সেলাই করিবার জন্য) মাপেন! স্বামী যখন কল্পনা-সাহায্যে সুদূর আকাশে গ্রহনক্ষত্রমালা বেষ্টিত সৌরজগতের বিচরণ করেন, সূর্য্যমণ্ডলের ঘনফল তুলাদণ্ডে ওজন করেন এবং ধূমকেতুর গতি নির্ণয় করেন, স্ত্রী তখন রন্ধনশালায় বিচরণ করেন, চাউল ডাল ওজন করেন এবং রাঁধুনীর গতি নির্ণয় করেন। বলি জ্যোতির্ব্বেত্তা মহাশয়, আপনার পার্শ্বে আপনার সহধর্ম্মিনী কই? বোধ হয়, গৃহিণী যদি আপনার সঙ্গে সূর্য্যমণ্ডলে যান, তবে তথায় পঁহুছিবার পূর্ব্বেই উত্তাপে বাস্পীভূত হইয়া যাইবেন! তবে সেখানে গৃহিণীর না যাওয়াই ভাল!!

অনেকে বলেন, স্ত্রীলোকদের উচ্চশিক্ষার প্রয়োজন নাই। মেয়ে চর্ব্ব্য, চোষ্য রাঁধিতে পারে, বিবিধ প্রকার সেলাই করিতে পারে, দুই চারি খানা উপন্যাস পাঠ করিতে পারে, ইহাই যথেষ্ট। আর বেশী আবশ্যই নাই। কিন্তু ডাক্তার বলেন যে আবশ্যক আছে, যেহেতু মাতার দোষ গুণ লইয়া পুত্রগণ ধরাধামে কণ্ঠস্থ বিদ্যার জোরে এফ, এ, বি, এ, পাশ হয় বটে; কিন্তু বালকের মনটা তাহার মাতার সহিত রান্নাঘরেই ঘুরিতে থাকে! তাহাদের বিদ্যাপরীক্ষায় এ কথার সত্যতার উপলব্ধি হইতে পারে।১
আমার জনৈক বন্ধু তাঁহার ছাত্রকে উত্তর দক্ষিণ প্রভৃতি দিঙনির্ণয়ের কথা (cardinal points) বুঝাইতেছিলেন। শেষে তিনি প্রশ্ন করিলেন, “যদি তোমার দক্ষিণ হস্ত পশ্চিমে এবং রাম হস্ত পূর্ব্বে থাকে, তবে তোমার মুখ কোন দিকে হইবে?” উত্তর পাইলেন “আমার পশ্চাৎ দিকে!”

যাঁহারা কন্যার ব্যায়াম করা অনাবশ্যক মনে করেন, তাঁহারা দৌহিত্রকে হৃষ্টপুষ্ট “পাহলওয়ান” দেখিতে চাহেন কি না? তাঁহাদের দৌহিত্র ঘুষিটা খাইয়া থাপড়টা মারিতে পারে, এরূপ ইচ্ছা করেন কি না? যদি সেরূপ ইচ্ছা করেন, তবে বোধ হয়, তাঁহারা সুকুমারী গোলাপ-লতিকায় কাঁঠাল ফলাইতে চাহেন!! আর যদি তাঁহারা ইচ্ছা করেন যে দৌহিত্রও বলিষ্ঠ না হয়, বরং পয়জার পেটা হইয়া নত মস্তকে উচ্চৈঃস্বরে বলে, “মাৎ মারো! চোট লাগতা হায়!!” এবং পয়জার লাভ শেষ হইলে দূরে গিয়া প্রহারকর্ত্তাকে শাসাইয়া বলে যে, “কায় মারতা থা? হাম নালিশ করেগা!” তাহা হইলে আমি তাঁহাদিগকে আমার বক্তব্য বুঝাইতে অক্ষম।

খ্রীষ্টিয়ান সমাজে যদিও স্ত্রীশিক্ষার যথেষ্ট সুবিধা আছে, তবু রমণী আপন স্বত্ব ষোল আনা ভোগ করিতে পায় না। তাহাদের মন দাসত্ব হইতে মুক্তি পায় না। স্বামী ও স্ত্রী কতক পরিমাণে জীবনের পথে পাশাপাশি চলিয়া থাকেন বটে; কিন্তু প্রত্যেক উত্তমার্দ্ধই (Better half) তাঁহার অংশীর (partner এর) জীবনে আপন জীবনে মিলাইয়া তন্ময়ী হইয়া যান না। স্বামী যখন ঋণজালে জড়িত হইয়া ভাবিয়া ভাবিয়া মরমে মরিতেছেন, স্ত্রী তখন একটা নূতন টুপীর (bonnet এর) চিন্তা করিতেছেন! কারণ তাঁহাকে কেবল মূর্ত্তিমতী কবিতা হইতে শিক্ষা দেওয়া হইয়াছে-তাই তিনি মনোরমা কবিতা সাজিয়া থাকিতে চাহেন। ঋণদায়রূপ গদ্য (prosaic) অবস্থা তিনি বুঝিতে অক্ষম।

 

এখন মুসলমানসমাজে প্রবেশ করা যাউক। মুসলমানের মতে আমরা পুরুষের “অর্দ্ধেক”, অর্থাৎ দুইজন নারী একজন নরের সমতুল্য। অথবা দুইটি ভ্রাতা ও একটি ভগিনী একত্র হইলে আমরা “আড়াই জন” হই! আপনারা “মুহম্মদীয় আইনে” দেখিতে পাইবেন যে বিধান আছে, পৈতৃক সম্পত্তিতে কন্যা পুত্রের অর্দ্ধেক ভাগ পাইবে। এ নিয়মটি কিন্তু পুস্তকেই সীমাবদ্ধ। যদি আপনারা একটু পরিশ্রম স্বীকার করিয়া কোন ধনবান মুসলমানের সম্পত্তি বিভাগ করা দেখেন, কিম্বা জমীদারী পরিদর্শন করিতে যান, তবে দেখিবেন কার্য্যতঃ কন্যার ভাগে শূন্য (০) কিংবা যৎসামান্য পড়িতেছে।

আমি এখন অপার্থিব সম্পত্তির কথা বলিব। পিতার স্নেহ, যত্ন ইত্যাদি অপার্থিব সম্পত্তি। এখানেও পক্ষপাতিতার মাত্রা বেশী। ঐ যত্ন, স্নেহ, হিতৈষিতার অর্দ্ধেকই আমরা পাই কই? যিনি পুত্রের সুশিক্ষার জন্য চারি জন শিক্ষক নিযুক্ত করেন, তিনি কন্যার জন্য দুই জন শিক্ষয়ত্রী নিযুক্ত করেন কি? যেখানে পুত্র তিনটা (বি, এ, পর্য্যন্ত) পাশ করে, সেখানে কন্যা দেড়টা পাশ (এন্ট্রাসি পাশ ও এফ, এ, ফেল) করে কি? পুত্রদের বিদ্যালয়ের সংখ্যা করা যায় না, বালিকাদের বিদ্যালয় সংখ্যায় পাওয়াই যায় না! সে স্থলে ভ্রাতা “শমস-উল-ওলামা”২ সে স্থলে ভগিনী “নজম-উল-ওলামা” হইয়াছেন কি? তাঁহাদের অন্তঃপুর গগণে অসংখ্য “নজমন্নেসা” “শমসন্নেসা” শোভা পাইতেছেন বটে। কিন্তু আমরা সাহিত্য-গগনে “নজম-উল-ওলামা” দেখিতে চাই!

আমাদের জন্য এ দেশে শিক্ষার বন্দোবস্ত সচরাচর এইরূপ-প্রথমে আরবীয় বর্ণমালা, অতঃপর কোরাণ শরীফ পাঠ। কিন্তু শব্দগুলির অর্থ বুঝাইয়া দেওয়া হয় না, কেবল স্মরণশক্তির সাহায্যে টীয়াপাখীর মত আবৃত্তি কর। কোন পিতার হিতৈষণার মাত্রা বৃদ্ধি হইলে, তিনি দুহিতাকে “হাফেজা” করিতে চেষ্টা করেন। সমুদয় কোরাণখানি যাঁহার কণ্ঠস্থ থাকে, তিনিই “হাফেজ”। আমাদের আরবী শিক্ষা ঐ পর্য্যন্ত! পারস্য এবং উর্দ্দু শিখিতে হইলে, প্রথমেই “করিমা ববখশা এবর হালেমা” এবং একেবারে (উর্দ্দু) “বানাতন নাশ” পড়!৩ একে আকার ইকার নাই, তাতে আবার আর কোন সহজপাঠ্য পুস্তক পূর্ব্বে পড়া হয় নাই সুতরাং পাঠের গতি দ্রুতগামী হয় না। অনেকের ঐ কয়খানি পুস্তক পাঠ শেষ হওয়ার পূর্ব্বেই কন্যা-জীবন শেষ হয়। বিবাহ হইলে বালিকা ভাবে, “যাহা হোক, পড়া হইতে রক্ষা পাওয়া গেল!” কোন কোন বালিকা রন্ধন ও সূচীকর্ম্মে সুনিপুণা হয়। বঙ্গদেশের বালিকাদিগকে রীতিমত বঙ্গভাষা শিক্ষা দেওয়া হয় না। কেহ কেহ উর্দ্দু পড়িতে শিখে, কিন্তু কলম ধরিতে শিখে না। ইহাদের উন্নতির চরম সীমা সলমা চুমকির কারুকার্য্য, উলের জুতা মোজা ইত্যাদি প্রস্তুত করিতে শিক্ষা পর্য্যন্ত।

 

যদি ধর্ম্মগুরু মোহাম্মদ (দঃ) আপনাদের হিসাব নিকাশ লয়েন যে, “তোমরা কন্যার প্রতি কিরূপ ন্যায় ব্যবহার করিয়াছ?” তবে আপনারা কি বলিবেন?

পয়গম্বরদের ইতিহাসে শুনা যায়, জগতে যখনই মানুষ বেশি অত্যাচার অনাচার করিয়াছে, তখনই এক-একজন পয়গম্বর আসিয়া দুষ্টের দমন পালন করিয়াছেন। আরবে স্ত্রীজাতির প্রতি অধিক অত্যাচার হইতেছিল; আরববাসিগণ কন্যাহত্যা করিতেছিল তখন হযরত মোহাম্মদ (দঃ) কন্যাকুলের রকস্বরূপ দণ্ডায়মান হইয়াছিলেন। তিনি কেবল বিবিধ ব্যবস্থা দিয়াই ক্ষান্ত থাকেন নাই, স্বয়ং কন্যা পালন করিয়া আদর্শ দেখাইয়াছেন। তাঁহার জীবন ফাতেমাময় করিয়া দেখাইয়াছেন-কন্যা কিরূপ আদরণীয়া। সে আদর, সে স্নেহ জগতে অতুল।

আহা! তিনি নাই বলিয়া আমাদের এ দুর্দ্দশা। তবে আইস ভগিনীগণ! আমরা সকলে সমস্বরে বলিঃ

“করিমা ববখশা এবর হালেমা!” করিম (ঈশ্বর) অবশ্যই কৃপা করিবেন। যেহেতু “সাধনার সিদ্ধি।” আমরা “করিমের” আনুগ্রহলাভের জন্য যত্ন করিলে অবশ্যই তাঁহার করুণা লাভ করিব। আমরা ঈশ্বর ও মাতার নিকট ভ্রাতাদের “অর্দ্ধেক” নহি। তাহা হইলে এইরূপ স্বাভাবিক বন্দোবস্ত হইত-পুত্র যেখানে দশ মাস স্থান পাইবে, দুহিতা সেখানে পাঁচ মাস! পুত্রের জন্য যতখানি দুগ্ধ আমদানী হয়, কন্যার জন্য তাহার অর্দ্ধেক! সেরূপ ত নিয়ম নাই! আমরা জননীর স্নেহ মমতা ভ্রাতার সমানই ভোগ করি। মাতৃহৃদয়ে পক্ষপাতিতা নাই। তবে কেমন করিয়া বলিব, ঈশ্বর পক্ষপাতী? তিনি কি মাতা অপেক্ষা অধিক করুণাময় নহেন?

আমি এবার রন্ধন ও সূচীকার্য্য সম্বন্ধে যাহা বলিয়াছি, তাহাতে আবার যেন কেহ মনে না করেন যে আমি সূচীকর্ম্ম ও রন্ধনশিক্ষার বিরোধী। জীবনের প্রধান প্রয়োজনীয় বস্তু অন্নবস্ত্র; সুতরাং রন্ধন ও সেলাই অবশ্য শিক্ষণীয়। কিন্তু তাই বলিয়া জীবনটাকে শুধু রান্নাঘরেই সীমাবদ্ধ রাখা উচিত নহে।

স্বীকার করি যে, শারীরিক দুর্ব্বলতাবশতঃ নারীজাতি অপর জাতির সাহায্যে নির্ভর করে। তাই বলিয়া পুরুষ “প্রভু” হইতে পারে না। কারণ জগতে দেখিতে পাই, প্রত্যেকেই প্রত্যেকের নিকট কোন না কোন প্রকার সাহায্য প্রার্থনা করে, যেন একে অপরের সাহায্যে ব্যতীত চলিতে পারে না। তরুলতা যেমন বৃষ্টির সাহায্য-প্রার্থী, মেঘও আবার নদীর ঋণী। তবে তরঙ্গিনী কাদম্বিনীর “স্বামী’, না কাদম্বিনী তরঙ্গীণীর “স্বামী”, এ স্বাভাবিক নিয়মের কথা ছাড়িয়া কেবল সামাজিক নিয়মে দৃষ্টিপাত করিলেও আমরা তাহাই দেখি।

 

কেহ সূত্রধর, কেহ তস্তুরায় ইত্যাদি। একজন ব্যারিষ্টার ডাক্তারের সাহায্য-প্রার্থী, আবার ডাক্তারও ব্যারিষ্টারের সাহায্য চাহেন। তবে ডাক্তারকে ব্যারিষ্টারের স্বামী বলিব, না ব্যারিষ্টার ডাক্তারের স্বামী? যদি ইহাদের কেহ কাহাকে “স্বামী” বলিয়া স্বীকার না করেন, তবে শ্রীমতীগণ জীবনের চিরসঙ্গী শ্রীমানদিগকে “স্বামী” ভাবিবেন কেন?

আমরা উত্তমার্দ্ধ (better halves) তাঁহারা নিকৃষ্টার্দ্ধ (worse halves), আমরা অর্দ্ধাঙ্গী, তাঁহারা অর্দ্ধাঙ্গ। অবলার হাতেও সমাজের জীবন মরণের কাঠি আছে, যেহতু “না জাগিলে সব ভারত-ললনা” এ ভারত আর জাগিতে পারিবে না। প্রভুদের ভীরুতা কিম্বা তেজস্বিতা জননীর ইচ্ছার উপর নির্ভর করে। তবে কেবল শারীরিক বলের দোহাই দিয়া অদূরদর্শী ভ্রাতৃমহোদয়গণ যেন শ্রেষ্ঠত্বের দাবী না করেন!

আমরা পুরুষের ন্যায় সুশিক্ষা ও অনুশীলনের সম্যক সুবিধা না পাওয়ায় পশ্চাতে পড়িয়া আছি। সমনা সুবিধা পাইলে আমরাও কি শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করিতে পারিতাম না? আশৈশব আত্মনিন্দা শুনিতেছি, তাই এখন আমরা অন্ধভাবে পুরুষের শ্রেষ্ঠতা স্বীকার করি, এবং নিজেকে অতি তুচ্ছ মনে করি। অনেক সময় “হাজার হোক ব্যাটা ছেলে!” বলিয়া ব্যাটা ছেলেদের দোষ মা করিয়া অন্যায় প্রশংসা করি। এই ত ভুল।৪

আমি ভগিনীদের কল্যাণ কামনা করি। তাঁহাদের ধর্ম্মবন্ধন বা সমাজজবন্ধন ভিন্ন করিয়া তাঁহাদিগকে একটা উন্মুক্ত প্রান্তরে বাহির করিতে পাহি না। মানসিক উন্নতি করিতে হইলে হিন্দুকে হিন্দুত্ব বা খ্রীষ্টানী ছাড়িতে হইবে এমন কোন কথা নাই। আপন আপন সম্প্রদায়ের পার্থক্য রা করিয়াও মনটাকে স্বাধীনতা দেওয়া যায় না। আমরা যে কেবল উপযুক্ত শিjgNার অভাবে অবনত হইয়াছি, তাই বুঝিতে ও বুঝাইতে চাই।

অনেকে হয়ত ভয় পাইয়াছেন যে, বোধ হয় একটা পত্নীবিদ্রোহের আয়োজন করা হইতেছে। অথবা ললনাগণ দলে দলে উপস্থিত হইয়া বিপকে রাজকীয় কার্য্যক্ষেত্রে হইতে তাড়াইয়া দিয়া সেই পদগুলি অধিকার করিবেন-শ্যামলা, চোগা, আইন কানুনের পাঁজি পুঁথি লুঠিয়া লইবেন! অথবা সদলবলে কৃষিক্ষেত্রে উপস্থিত হইয়া কৃষকগুলিকে তাড়াইয়া দিয়া তাহাদের শস্যত্রে দখল করিবেন, হাল গরু কাড়িয়া লইবেন, তবে তাঁহাদের অভয় দিয়া বলিতে হইবে-নিশ্চিন্ত থাকুন।

 

 


📝 ২০টি জ্ঞানমূলক প্রশ্ন (ক)

১. বেগম রোকেয়ার মতে নারীজাতির প্রধান রোগ কোনটি? (উ: দাসত্ব)

২. 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধটি কোন গ্রন্থে সংকলিত? (উ: মতিচূর - ১ম খণ্ড)

৩. রচয়িতার মতে সমাজ সংস্কারের জন্য আগে কী প্রয়োজন? (উ: অবনতির চিত্র দেখানো)

৪. পার্সী মহিলারা পূর্বে কী ব্যবহারের অধিকারিণী ছিলেন না? (উ: ছত্র বা ছাতা)

৫. অর্ধাঙ্গী বলতে লেখক কী বুঝিয়েছেন? (উ: স্বামীর অর্ধেক অঙ্গ বা পত্নী)

৬. কোন জাতি উন্নতির পথে অগ্রসর হতে পারছে না? (উ: ভারতবাসী)

৭. "সুকঠিন গার্হস্থ্য ব্যাপার"—কবিতাটি কার উদ্ধৃতি? (উ: সম্ভবত কোনো শাস্ত্রীয় বা লোকজ কবির)

৮. আরব্য বর্ণমালা শিক্ষার পর মুসলিম বালিকাদের কী পড়ানো হয়? (উ: কোরাণ শরীফ)

৯. 'হাফেজ' বলতে কী বোঝায়? (উ: সমুদয় কুরআন যার কণ্ঠস্থ থাকে)

১০. বেগম রোকেয়া কাকে 'বালক' হিসেবে কল্পনা করেছেন? (উ: রামচন্দ্রকে)

১১. আরবে কন্যাহত্যা রোধে কে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন? (উ: হযরত মোহাম্মদ দ.)

১২. লেখিকা নিজেকে চিত্রকর ভাবলে কী আঁকতেন? (উ: নারীরূপ বিকলাঙ্গ মূর্তির চিত্র)

১৩. দ্বিচক্র শকটের একটি চাকা ছোট হলে কী ঘটে? (উ: শকটটি একই স্থানে ঘুরতে থাকে)

১৪. নারীর উন্নতির চরম সীমা বর্তমানে কীসে সীমাবদ্ধ? (উ: সলমা-চুমকির কাজ ও উলের জুতা-মোজা)

১৫. 'বানাতন নাশ' কী? (উ: একটি উর্দু পাঠ্যবই)

১৬. লেখিকার মতে স্বামী যখন ধূমকেতুর গতি মাপেন, স্ত্রী তখন কী মাপেন? (উ: বালিশের ওয়াড়ের দৈর্ঘ্য)

১৭. 'মুহম্মদীয় আইন' অনুযায়ী পৈতৃক সম্পত্তিতে কন্যা কতটুকু পায়? (উ: পুত্রের অর্ধেক)

১৮. শমস-উল-ওলামা শব্দের অর্থ কী? (উ: আলেমদের মধ্যে সূর্য)

১৯. কোন সমাজের মহিলারা কিছুটা পাশাপাশি চলেছেন? (উ: খ্রিষ্টান সমাজের)

২০. "না জাগিলে সব ভারত-ললনা"—গানটির মূল ভাব কী? (উ: নারী জাগরণ ছাড়া দেশের উন্নতি অসম্ভব)

 

📝 ২০টি অনুধাবনমূলক প্রশ্ন (খ)

১. "রোগের অবস্থা জানা আবশ্যক"—কেন বলা হয়েছে?

২. লেখিকা কেন অবরোধ প্রথার বিরুদ্ধে দণ্ডায়মান হননি?

৩. পার্সী মহিলাদের পর্দামোচনকে কেন 'বাহাদুরি' বলা যাবে না?

৪. রাম ও সীতার সম্বন্ধকে পুতুল ও বালকের সাথে তুলনা করা হয়েছে কেন?

৫. "সীতা অবশ্যই পর্দানশীল ছিলেন না"—ব্যাখ্যা করো।

৬. পুরুষ কেন অর্ধাঙ্গী নিয়ে বিকলাঙ্গ হয়েছেন?

৭. সমাজকে দ্বিচক্র শকটের সাথে তুলনা করার কারণ কী?

৮. "মাতার দোষ গুণ লইয়া পুত্রগণ এফ.এ পাশ হয়"—উক্তিটি বুঝিয়ে লেখো।

৯. "গোলাপ-লতিকায় কাঁঠাল ফলাইতে চাহেন"—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

১০. খ্রিষ্টান সমাজেও নারী কেন প্রকৃত মুক্তি পায়নি?

১১. সম্পত্তির উত্তরাধিকারে কন্যা কেন 'শূন্য' (০) পায়?

১২. "আমরা সাহিত্য-গগনে নজম-উল-ওলামা দেখিতে চাই"—কেন?

১৩. টিয়াপাখির মতো আবৃত্তি করার কুফল কী?

১৪. হযরত মোহাম্মদ দ. কীভাবে নারী জাতির রক্ষক ছিলেন?

১৫. "সাধনায় সিদ্ধি"—অর্ধাঙ্গী প্রবন্ধের আলোকে ব্যাখ্যা করো।

১৬. রন্ধনশালা ও সূচীকর্মকে জীবনের শেষ সীমা বলা যাবে না কেন?

১৭. "তরঙ্গিনী কাদম্বিনীর স্বামী না কাদম্বিনী তরঙ্গিনীর"—কেন বলা হয়েছে?

১৮. "পুরুষ প্রভু হইতে পারে না"—উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

১৯. মানসিক দাসত্ব বলতে বেগম রোকেয়া কী বুঝিয়েছেন?

২০. "অভয় দিয়া বলিতে হইবে-নিশ্চিন্ত থাকুন"—লেখিকা কেন এমন উপহাস করেছেন?

 

 

🎨 ১০টি সৃজনশীল প্রশ্ন

 

১. সাইফ সাহেব তাঁর ছেলেকে বিদেশে পড়তে পাঠান কিন্তু মেয়েকে বলেন বাড়ির কাজ শিখতে। তিনি মনে করেন মেয়েরা পৈতৃক সম্পত্তির ভাগ নিলে সংসার অশান্ত হয়। তাই মেয়েকে নামমাত্র কিছু টাকা দিয়ে অধিকার থেকে বঞ্চিত করেন।

 

ক. 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে রোদ্যাঁ কে ছিলেন? (প্রবন্ধভেদে উত্তর হবে: ভাস্কর)

খ. "বৈশ্য লেখকের পক্ষেই শূদ্র পাঠকের মনোরঞ্জন করা সংগত"বুঝিয়ে লেখো।

গ. উদ্দীপকের সাইফ সাহেবের আচরণ 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের কোন বিশেষ দিকটিকে নির্দেশ করে?

ঘ. "সাইফ সাহেবের মতো পুরুষদের কারণেই সমাজ আজ বিকলাঙ্গ"প্রবন্ধের আলোকে মূল্যায়ন করো।

 

২. রেশমা বিবি শিক্ষিত নারী হলেও তাঁর মতে "হাজার হোক ব্যাটা ছেলে, ওর একটু দোষ থাকতেই পারে।" তিনি নিজের মেয়েকে কড়া শাসনে রাখলেও ছেলের সব অন্যায়কে প্রশ্রয় দেন এবং নিজেকে পুরুষের চেয়ে তুচ্ছ মনে করেন।

ক. 'পেল্লা' শব্দের অর্থ কী?

খ. "শিক্ষা ও সাহিত্যের ধর্ম এক নয়"ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের রেশমা বিবির চরিত্রে প্রবন্ধের কোন 'আত্মনিন্দা'র প্রতিফলন ঘটেছে?

ঘ. "নারীর এই হীনম্মন্যতাই তাদের উন্নতির প্রধান অন্তরায়"প্রবন্ধের শেষাংশের আলোকে বিশ্লেষণ করো।

৩. উদ্দীপক: একটি রিকশার বাম চাকাটি পাংচার হয়ে যাওয়ায় চালক শত চেষ্টা করেও সেটি সোজা চালাতে পারছেন না। রিকশাটি কেবল বাম দিকেই গোল হয়ে ঘুরছে এবং গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে না।

ক. 'বিদ্যাসুন্দর' কাব্যটি কার রচনা?

খ. "খেলার আনন্দ নিরর্থক"ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের রিকশাটির অবস্থা 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধের কোন উপমার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ?

ঘ. "নারী ও পুরুষের সমান উন্নয়ন ছাড়া সমাজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে না"উক্তিটি উদ্দীপক ও প্রবন্ধের আলোকে যাচাই করো।

 

৪. মহাকাশচারী কল্পনা চাওলা যখন আকাশে বিচরণ করছেন, তখন তাঁর গ্রামের অনেক নারী কেবল মশলার ওজনে আর রান্নার সময়ের হিসাবে ব্যস্ত। তারা মনে করে বাইরের জগত তাদের জন্য নয়।

ক. 'হাফেজ' বলতে কী বোঝায়?

খ. "পুতুল বালকের কিছুই করিতে পারে না"ব্যাখ্যা করো।

গ. উদ্দীপকের গ্রামীণ নারীদের সাথে প্রবন্ধের 'রন্ধনশালা'র বন্দিত্বের তুলনা করো।

ঘ. কল্পনা চাওলার মতো নারীরাই কি লেখিকার কাঙ্ক্ষিত 'সাহিত্য-গগনের নজম-উল-ওলামা'? সপক্ষে যুক্তি দাও।

 

৫. শায়লা তার বাবার সম্পত্তির অংশ দাবি করায় আত্মীয়রা তাকে 'লোভী' ও 'বেয়াদব' আখ্যা দেয়। অথচ তার ভাইয়েরা সেই সম্পত্তি নিয়ে বিলাসী জীবন যাপন করছে। শায়লা বুঝতে পারে সমাজ শুধু কাগজে কলমেই তাকে অর্ধেক অধিকার দিয়েছে।

ক. শমস-উল-ওলামা অর্থ কী?

খ. "গোলাপ-লতিকায় কাঁঠাল ফলাইতে চাহেন"বলতে কী বোঝানো হয়েছে?

গ. উদ্দীপকের শায়লার অভিজ্ঞতা 'অর্ধাঙ্গী' প্রবন্ধে বর্ণিত উত্তরাধিকার আইনের বাস্তবতার সাথে কীভাবে সংগতিপূর্ণ?

ঘ. "আইন বইয়ে থাকলেও বাস্তবে নারী অধিকার আজ শূন্য"প্রবন্ধের আলোকে মন্তব্যটি বিশ্লেষণ করো।


 

 

আশা করি, আজকের এই আলোচনাটি আপনাদের ভালো লেগেছে এবং এখান থেকে নতুন কিছু জানতে পেরেছেন। শিক্ষা, সাহিত্য প্রযুক্তির এমন আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বিশ্লেষণ পেতে নিয়মিত আমাদের ব্লগের সাথেই থাকুন।

মুনশি একাডেমি (Munshi Academy) সব সময় চেষ্টা করে আপনাদের সামনে নির্ভুল মানসম্মত কন্টেন্ট উপস্থাপন করতে। আমাদের এই পোস্টটি যদি আপনাদের উপকারে আসে, তবে অন্যদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না।

 

📖 আরও পড়ুন (নির্বাচিত কন্টেন্ট)

আপনার পঠন অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করতে নিচের প্রবন্ধগুলো দেখে নিতে পারেন:

 

  • একাডেমি/ চাকরির প্রস্তুতি:

 

o   📌 বাংলা ব্যাকরণ

 

o   📌 বিসিএস প্রস্তুতি

 

o   📌 ব্যাংক প্রস্তুতি

 

 

 

আরও দেখুন ক্লাস বিষয়ক ভিডিও:

 

 

আরও পড়ুন

 ব্যক্তিত্ব ও জীবনী সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত সমৃদ্ধ প্রবন্ধ

 

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মজার মজার তথ্য-উপাত্ত বিষয়ক প্রবন্ধ

📌 বিজ্ঞান জিজ্ঞাসা

 

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন (Stay Connected):

যেকোনো জিজ্ঞাসা বা পরামর্শের জন্য আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। এছাড়া আমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে নিচের লিঙ্কগুলো ভিজিট করুন:

 

আমাদের অনলাইন কোর্স কিনতে চাইলে:

এইচএসসি বাংলা ১ম এবং বাংলা ২য় পত্র (পিডিএফ শিট)

🟢 সরাসরি অর্ডার করতে এখানে ক্লিক করুন

 

ধন্যবাদান্তে,

মুনশি একাডেমি টিম

 

 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.