জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বি.এড সিলেবাস ২০২৬ | নতুন কারিকুলাম
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বি.এড সিলেবাস ২০২৬ | নতুন কারিকুলাম
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ২০২৬ সালের (বা ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের) ১ বছর মেয়াদি ব্যাচেলর অব এডুকেশন (বি.এড) প্রফেশনাল কোর্সের সিলেবাসে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই পরিবর্তনগুলো মূলত কোর্সের নাম এবং আধুনিক শিখনের সাথে সামঞ্জস্য রেখে করা হয়েছে।
নিচে বিস্তারিত সিলেবাস ও বিষয়সমূহ তুলে ধরা হলো:
বি.এড সিলেবাস ২০২৬ (১ বছর মেয়াদি প্রফেশনাল)
এই কোর্সটি সাধারণত দুইটি সেমিস্টারে বিভক্ত। ২০২৫ শিক্ষাবর্ষ থেকে কার্যকর হওয়া নতুন নির্দেশনায় প্রধান তিনটি কোর্সের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে।
আবশ্যিক বিষয়সমূহ (Core Subjects)
| কোর্সের নতুন নাম (২০২৬) | পূর্বের নাম (রেফারেন্সের জন্য) |
| সক্রিয় শিখন পদ্ধতি ও কৌশল | শিখন-শেখানো দক্ষতা ও কৌশল |
| শিক্ষায় বিকাশমান তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি | শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT) |
| জেন্ডার ও বৈশ্বিক নাগরিকত্ব | একীভূত শিক্ষা |
অন্যান্য প্রধান বিষয়সমূহ:
শিক্ষার দার্শনিক ও সমাজতাত্ত্বিক ভিত্তি (Philosophical and Sociological Foundations of Education)
মাধ্যমিক শিক্ষা (Secondary Education)
শিক্ষায় মনোবিজ্ঞান (Educational Psychology)
শিক্ষাক্রম ও মূল্যায়ন (Curriculum and Assessment)
বিশেষায়িত বা পদ্ধতিমূলক বিষয় (Pedagogy/Teaching Methods)
শিক্ষার্থীকে তার স্নাতক পর্যায়ের বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে সাধারণত দুইটি পাঠদান পদ্ধতি পছন্দ করতে হয়:
বাংলা পাঠদান পদ্ধতি
ইংরেজি পাঠদান পদ্ধতি
গণিত পাঠদান পদ্ধতি
সামাজিক বিজ্ঞান পাঠদান পদ্ধতি
সাধারণ বিজ্ঞান পাঠদান পদ্ধতি
ধর্ম শিক্ষা পাঠদান পদ্ধতি ইত্যাদি।
ব্যবহারিক ও ইন্টার্নশিপ (Practical & Internship)
তাত্ত্বিক বিষয়ের পাশাপাশি বি.এড কোর্সে ব্যবহারিক অংশটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ:
শিক্ষণ অনুশীলন (Teaching Practice): কোনো মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সরাসরি পাঠদান।
শিক্ষণ উপকরণ তৈরি: পাঠ্য বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে চার্ট, মডেল বা ডিজিটাল কন্টেন্ট তৈরি।
মৌখিক পরীক্ষা (Viva Voce): কোর্স শেষে সামগ্রিক বিষয়ের ওপর ভাইভা।
এককথায়-------------------
১. আবশ্যিক বিষয়সমূহ (Compulsory Subjects):
শিক্ষার দার্শনিক ও সমাজতাত্ত্বিক ভিত্তি।
শিখন ও শিক্ষণ পদ্ধতি (নতুন শিক্ষাক্রমের আলোকে)।
মাধ্যমিক শিক্ষা ও কারিকুলাম উন্নয়ন।
শিক্ষায় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (ICT in Education)।
অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা (Inclusive Education)।
২. নির্বাচিত বা ঐচ্ছিক বিষয় (Elective Subjects):
শিক্ষার্থীরা তাদের স্নাতক বা স্নাতকোত্তরের বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে ২টি শিক্ষণ পদ্ধতি (Teaching Method) নির্বাচন করতে পারেন:
বাংলা/ইংরেজি শিক্ষাদান পদ্ধতি।
গণিত/বিজ্ঞান শিক্ষাদান পদ্ধতি।
সামাজিক বিজ্ঞান/ভূগোল শিক্ষাদান পদ্ধতি।
৩. ব্যবহারিক ও ইন্টার্নশিপ (Practical & Internship):
নতুন সিলেবাসে ইন্টার্নশিপের মেয়াদ ও গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। এখন সরাসরি স্কুলেও ২০ সপ্তাহের একটি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
ভর্তি সংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত তথ্য:
আবেদনের সময়: ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম সাধারণত ফেব্রুয়ারি-মার্চের মধ্যে শুরু হয় (বিগত বছরের ট্রেন্ড অনুযায়ী)।
যোগ্যতা: স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (পাস) বা সম্মান ডিগ্রি।
বাছাই পদ্ধতি: কোনো ভর্তি পরীক্ষা হয় না; সাধারণত স্নাতক ও পূর্ববর্তী পরীক্ষার ফলের (GPA) ভিত্তিতে মেধা তালিকা তৈরি করা হয়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: বিস্তারিত ও পূর্ণাঙ্গ সিলেবাসের জন্য আপনার কলেজের নোটিশ বোর্ড বা জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট nu.ac.bd নিয়মিত চেক করার পরামর্শ রইল।

কোন মন্তব্য নেই