Header Ads

মুনশি একাডেমি

শিক্ষা ও সাহিত্যভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
নোট ও সাজেশন বিসিএস ও এনটিআরসিএ বি.এড ও ব্যাংক প্রস্তুতি

ঘোড়ার মুখে লাগাম | ঈশপের গল্প | Aesop's Fable | Munshir konthe golpo

 

ঘোড়ার মুখে লাগাম | ঈশপের গল্প | Aesop's Fable | Munshir konthe golpo 

 ঘোড়ার মুখে লাগাম, ঈশপের গল্প, Aesop's Fable Bengali, বাংলা নীতিকথা, moral story Bengali, Munshir konthe golpo, bedtime story Bangla, শিশুদের গল্প, inspirational story, Bengali audio story 

 

 
 

🐎 ঘোড়ার মুখে লাগাম

(ঈশপের গল্প – Aesop’s Fable)

এক সবুজ-শ্যামল উপত্যকায় মুক্তভাবে ঘুরে বেড়াত একটি শক্তিশালী ও গর্বিত ঘোড়া। বিস্তীর্ণ মাঠ, নরম ঘাস আর খোলা আকাশ—সবই যেন তার নিজের রাজ্য। সে কারও অধীনে ছিল না, কারও আদেশ মানত না। নিজের শক্তি ও গতির ওপর তার ছিল অগাধ বিশ্বাস।

কিন্তু সেই উপত্যকায় ঘোড়ার আরেক প্রতিবেশী ছিল—একটি হরিণ। হরিণটি ছিল শান্ত স্বভাবের, নিরীহ এবং সবার সঙ্গে মিলেমিশে থাকতে ভালোবাসত। কিন্তু ঘোড়ার দাপট ও অহংকার তার ভালো লাগত না। সুযোগ পেলেই ঘোড়া হরিণকে তাড়া করত, খাবার থেকে সরিয়ে দিত, কখনো কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে ভয় দেখাত।

একদিন ঘোড়া সীমা ছাড়িয়ে গেল। সে হরিণটিকে এমনভাবে তাড়া করল যে হরিণটি প্রাণভয়ে পালাতে বাধ্য হলো। অপমানিত ও ক্ষুব্ধ হরিণ বুঝতে পারল—একাই এই শক্তিশালী ঘোড়ার মোকাবিলা করা সম্ভব নয়।

হরিণ তখন গেল মানুষের কাছে। সে মানুষের কাছে গিয়ে অনুনয় করে বলল,
“হে মানুষ, এই ঘোড়াটি আমাকে অত্যাচার করছে। তুমি যদি আমাকে সাহায্য করো, আমি কৃতজ্ঞ থাকব।”

মানুষ কিছুক্ষণ ভেবে বলল,
“আমি সাহায্য করতে পারি। তবে তার জন্য আমাকে ঘোড়ার মুখে লাগাম পরাতে হবে, যাতে আমি তাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি।”

হরিণ মুহূর্তও দেরি করল না। প্রতিশোধের আগুনে তার বিবেচনা শক্তি ঝাপসা হয়ে গিয়েছিল। সে রাজি হয়ে গেল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী মানুষ ঘোড়াটিকে ধরল। তার মুখে পরিয়ে দিল লাগাম, পিঠে চাপাল জিন। প্রথমে ঘোড়া কিছুই বুঝতে পারল না। কিন্তু একটু পরেই সে বুঝল—তার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সে দৌড়াতে চাইলে দড়ির টানে থেমে যেতে হচ্ছে, বাঁ দিকে যেতে চাইলে মানুষ টেনে নিচ্ছে ডানে।

হরিণ দূরে দাঁড়িয়ে এই দৃশ্য দেখে আনন্দে ভরে উঠল। সে ভাবল,
“আজ আমার অপমানের বদলা নেওয়া হলো।”

কিছুদিন পর মানুষ ঘোড়াটিকে নিয়ে চলে গেল। মাঠ, ঘাস, খোলা আকাশ—সবকিছুই তার কাছে অধরা হয়ে গেল। সে এখন মানুষের ইচ্ছায় চলে, মানুষের বোঝা বহন করে।

হরিণ তখন বুঝতে পারল, নিজের প্রতিশোধ নিতে গিয়ে সে ঘোড়ার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ—স্বাধীনতা কেড়ে নিয়েছে। কিন্তু ততদিনে আর কিছু করার ছিল না।

ঘোড়া দূরে তাকিয়ে নিঃশ্বাস ফেলল। তার চোখে তখন অনুতাপ নয়, ছিল হারিয়ে যাওয়া স্বাধীনতার দীর্ঘশ্বাস।


📌 নীতিকথা

রাগ ও প্রতিশোধের বশে পড়ে অন্যের ক্ষতি করতে গিয়ে অনেক সময় নিজের বা অন্যের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ—স্বাধীনতা—নষ্ট হয়ে যায়। সাময়িক লাভের আশায় স্থায়ী ক্ষতি ডেকে আনা বুদ্ধিমানের কাজ নয়।

 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.