Header Ads

মুনশি একাডেমি

শিক্ষা ও সাহিত্যভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
নোট ও সাজেশন বিসিএস ও এনটিআরসিএ বি.এড ও ব্যাংক প্রস্তুতি

সর্দার ব্যাঙ (শিশুতোষ ছোটগল্প) – মুনশি আলিম || মুনশি একাডেমি


সর্দার ব্যাঙ, শিশুতোষ গল্প, মুনশি আলিম, ছোটগল্প, বাংলা শিশুসাহিত্য, বাচ্চাদের গল্প, ব্যাঙের গল্প, Munshi Alim, Children's Story, Bengali Short Story, শিক্ষণীয় গল্প, ঠনঠনি পুকুর, ফিকশন, সাহিত্য, Munshi Academy, গল্পপাঠ, মজার গল্প, Animal Story, বাংলা গল্প, কল্পকাহিনি।

 

 সর্দার ব্যাঙ (শিশুতোষ ছোটগল্প) – মুনশি আলিম | মুনশি একাডেমি

এক
কুসুমপুর এলাকা জুড়ে বেশ কয়েকটি ছোটবড় পুকুর আছেসবচেয়ে বড় পুকুরের নাম ঠনঠনি পুকুরএই পুকুরেই বাস করত টিউটিউ ব্যাঙেরাঠনঠনি নামটি অবশ্য পুকুরের মালিক অরবিন্দ তালুকদার রাখে নি, রেখেছে এলাকার দুষ্টু যুবকেরাএই নামকরণের নেপথ্যে কারণও আছেসে অনেক দিন আগের কথাতখন এই এলাকার মধ্যে তিনিই ছিলেন সবার চেয়ে ধনী ব্যক্তিএলাকার সকল অনুষ্ঠানেই তিনি প্রধান অতিথি থাকার চেষ্টা করতেন, কিন্তু কোন অনুষ্ঠানেই তিনি কোন প্রকার চাঁদা-টাদা দিতেন নাতিনি এমনই কঞ্জুস ছিলেন যে- ভিক্ষুক, হত দরিদ্র কিংবা প্রতিবন্দীদের কল্যাণেও কখনো দুই চার টাকা খরচ করেছেন বলে শোনা যায় নিনিজে সব সুবিধাই নিবে অথচ অন্যের বেলায় তিনি ঠনঠন বলে এলাকার দুষ্টু যুবকেরা তার নামকরই করে ফেলেছে ঠনঠনি তালুকদারআর সে নামকরণের সূত্র ধরেই তার পুকুরের নামও রাখা হয়েছে ঠনঠনি পুকুর!



এই পুকুর আয়তনে ছিল বেশ বড়দীর্ঘকাল ধরে অযত্ন আর অবহেলায় এই পুকুর শেওলা আর কুচুরিপানায় পরিপূর্ণ হয়ে গেছেএই পুকুরেরই উত্তর দিকে বাস করত টিউটিউ ব্যাঙেরাএরা যখন পুকুরে সাঁতার কাটত, তখন সকলেই একসাথে সাঁতার কাটত; আবার যখন ডাকাডাকি শুরু করত তখন সকলেই একসাথে ডাকততাদের সবার সাথেই ছিল গলায় গলায় ভাব অরবিন্দ তালুকদার অন্যের বিপদে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে না এলেও তারা কিন্তু একে অপরের বিপদে নিজের জীবন কুরবানি করতেও দ্বিধাবোধ করে না!


সেদিন ছিল খুব বৃষ্টিটিউটিউ ব্যাঙের সর্দার গঞ্জ থেকে মাত্রই ফিরে এসেছেসর্দারের আসার খবর শুনেই বাচ্চা ব্যাঙাচিরা লেংটি পড়ে দলবেঁধে এসেছে মৃদু স্বরে সর্দারের স্তব মূলক ব্যাঙ্গীয় ধ্রুপদী সঙ্গীত পরিবেশন করতে থাকেসর্দার তো বুঝে ফেললেন বাচ্চারা কী চাচ্ছেএরপর আর দেরি করলেন নানিজের ঝুলা থেকে গঞ্জ থেকে আনা মিষ্টি বের করে দিলেনগঞ্জের মিষ্টি পেয়ে তারা খুশিতে বাকবাকুম করতে করতে চলে গেল

 

অরবিন্দের ছেলে টুকুর সাথে সর্দার ব্যাঙের ছিল বেশ ভাবটুকু সর্দার ব্যাঙকে কাছে ডাকতেই সে তার কাছে ছুটে যেততারপর দুজনে ইচ্ছে মতো খেলতটুকু আজ সকালে ঘুম থেকে ঠেই সর্দারকে বলল- সর্দার কাল আমার জন্মদিনতোমার সকল সদস্যদের নিমন্ত্র রইলসর্দার তো মহা খুশিখুশিতে কয়েক লাফেই চলে গেল নিজের বাড়িতেছোট-বড় সকলকেই ডেকে জড়ো করে বললেন- কাল আমার দুপেয়ে বন্ধু টুকুর জন্মদিনসেখানে তোমাদের সকলের নিমন্ত্রভাল ভাল কাপড়-চোপড় পড়ে তোমরা সেখানে যাবেসেই সাথে ছোট ব্যাঙাচিদের সাবধান করে দিলেন- যাতে করে কেউ সেখানে ল্যাঙটা হয়ে না যায়!


দুই
পরদিন সকালবেলাব্যাঙ রমণীরা সেই সকাল থেকেই সাজগোজ শুরু করেছেসর্দারের বন্ধুর জন্মদিন বলে কথা! একটু সাজগোজ না করে গেলেই যে নয়! অবিবাহিত তরুণী ব্যাঙেরা সেই যে সাত সকালে পার্লারে সাজগোজের জন্য বেরিয়েছে দুপুর হয়ে এল এখনো আসার নামগন্ধও নেইসর্দার ব্যাঙ বিকেল ৪ টার সময় সবাইকে জারুল তলায় একত্রিত হওয়ার জন্য নির্দেশ দিলেন যেই কথা সেই কাজযথাসময়ে সকলেই হাজির হল


 ব্যাঙ সর্দার মহাসমারোহে বন্ধু জন্মদিনে দাওয়াত খেতে চললেন কিছুদূর যাওয়ার পর তারা হিজল তলায় বসে একটু জিরিয়ে নিলমূলত প্রবীণ ব্যাঙেরা একটু জিরিয়ে নেওয়ার জন্য আবদার করেছিলসর্দার বলে তাকে অনেক কিছুই মানতে হয়, বুঝতে হয়, বিবেচনা করতে হয়অবশ্য সর্দার হিসেবে তার সেরকম সকল গুণই ছিলটিউটিউ গোত্রভূক্ত সকল ব্যাঙই তাকে শ্রেষ্ঠ সর্দার হিসেবে মানত


তারা যেখানে বিশ্রাম নিচ্ছিল তার একটু দূরেই টুকুর বাড়ি বাড়িতে বেশ সাজসাজ রব দলবেঁধে দুপেয়ে দৈত্যরা বাড়ির ভিতর প্রবেশ করছে সর্দারের অবশ্য বাড়ির ভিতরে যাওয়ার অনুমতি নেইতাদের নিমন্ত্র জানানো হয়েছে শান বাঁধানো পুকুর ঘাটের দক্ষিণ ভিটিতে


একটু পর সব টিউটিউ ব্যাঙেরা পুকুর ঘাটের দক্ষিণ ভিটিতে উপস্থিত হলব্যাঙাচিদের ততক্ষণে ক্ষুধা যেন পেট চুচু করা শুরু করেছেতাদের যেন আর তর সইছে নাসবাই সর্দার ব্যাঙকে বলতে লাগলো- সর্দার, আর কত দেরি?

 
সবার চাপে পড়ে সর্দার লাফাতে লাফাতে বন্ধু টুকুর বাড়ির রাস্তায় গেলযাওয়া মাত্রই দেখল টুকু আকাশের মত বড় বাটিতে করে যেন কী আনছে! টুকু সর্দারের সাথে কুশল বিনিময় করলোতার সাথে হ্যান্ডসেকও করল
টুকুর পাশেই ছিল তার আরেক বন্ধু জিকুসে ছিল খুবই দুষ্টু ব্যাঙদের দুই চক্ষে দেখতে পারতো নাটুকু ব্যাঙের সাথে হ্যান্ডসেক করেছে দেখে ঘৃণায় তার শরীর ঘিন ঘিন করছেবন্ধুকে শিক্ষা না দিতে পারলেও ব্যাঙকে একটা উচিত শিক্ষা দেওয়া চাই-ই চাই সে নিজের মধ্যে কি যেন একটা ফন্দি আঁটলো

 
ব্যাঙের পথ ধরে টুকু ও জিকু দুজনেই গেল পুকুর ঘাটের দক্ষিণ ভিটিতেসেখানে যাওয়া মাত্রই জিকুর চোখ যেন কপালে ওঠার মত অবস্থাপুকুর ঘাটের দক্ষিণ ভিটি ছোটবড় কয়েক হাজার ব্যাঙে পরিপূর্ণ হয়ে গেছেএকসাথে এত ব্যাঙের উপস্থিতি তার জীবনেও দেখে নিতাছাড়া টুকু ব্যাঙের সাথে বন্ধুত্ব রাখুক এটা সে কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে নাকিন্তু তার মনের এই গোপন কথাটুকু সে প্রকাশ করল না কেবল মনে মনে একটা দুরভিসন্ধি আঁটলো


জিকুর হাতে অনেকগুলো গ্যাসের বেলুন ছিলসেগুলো দেখতেও ছিল বেশ চকচকেপড়ন্ত বিকেলে সূর্যে আলোয় সে বেলুনগুলো যেন আরও আকর্ষণীয় হয়ে ওঠেছেমুখে বেশ প্রসন্নতা ভাব এনে জিকু সর্দারকে বলল- এই বেলুনগুলো নিয়ে টুকুকে আশীর্বাদ কর সাথে সাথে তোমার সদস্যদেরকেও বল আশীর্বাদ করতেকী বলে আশীর্বাদ করতে হবে তাও বলে দিল সেহ্যাপি বার্থ ডে টুকুইংরেজি শব্দ শুনে সব ব্যাঙেরা একে অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করতে লাগলোজিকু বুঝতে পারলো ইংরেজি তাদের মোটেও পছন্দনীয় নয় এতে করে তার রাগের পরিমাণ আরও বেড়ে গেল, কিন্তু তা প্রকাশ করল নাতখন সে আরেকটু কৌশলী কণ্ঠে বলল- বল - শুভ জন্মদিন টুকুএবার সব ব্যাঙ নড়েচড়ে বসলসবাই সর্দারের দিকে তাকিয়ে রয়েছেসর্দার বলার সাথে সাথেই তারাও বলবে


জিকু সর্দার ব্যাঙের হাতে বিশটি গ্যাস বেলুনের একত্রিত করা সুতা এগিয়ে দেয়সর্দার ব্যাঙ সুতা ধরতেই জিকু বলে- দুহাত দিয়ে শক্ত করে ধরসর্দার ব্যাঙ সরল চিত্তে তাই করলোযেই না মাত্র সর্দার ব্যাঙ সুতাটি ধরেছে অমনিই বেলুনগুলো সর্দারকে নিয়ে আকাশের দিকে দিল ছুট প্রথম দিকে সর্দার একটু আনন্দ পেলেও কিছুটা উপড়ে উঠতেই তার মুখ ভয়ে পাশুটে হয়ে গেলসর্দার ব্যাঙ সুতা ছাড়তে খুব চেষ্টা করল কিন্তু পারল নাসুতার মধ্যে খুব আঁঠালো জাতীয় কী যেন দেওয়া! এদিকে জিকু সব ব্যাঙদের বলতে থাকে- দ্যাখ, তোমাদের সর্দার জাদু জানে! জাদু বলে আকাশে ওড়ছে! উড়তে উড়তে সে স্বর্গের দিকে যাবেপ্রথম প্রথম সব ব্যাঙই বিশ্বাস করলকিন্তু যতই সে উপরে উঠতে থাকে ততই যেন তারা ভয় পেতে থাকেসর্দার ব্যাঙ উপর থেকে চিৎকার করতে থাকেবাঁচাও! বাঁচাও!! বাঁচাও!!! তা শুনে জিকুর সেকি অট্টহাসি!



টুকু তার বাটির খাবারের তালা খুলতে খুলতেই এই কাণ্ডটি ঘটেছেসর্দারের চিঁকার শুনে সে বাটি ফেলেই সে বেলুনটি ধরার জন্য লাফ দেয়কিন্তু ততক্ষণে বেলুনসহ সর্দার ব্যাঙ অনেক উপরে ওঠে গেছে ঠিকানাহীন উড়ন্ত সর্দারের দিকে তাকিয়ে টুকুর চোখ ছলছল করে ওঠেকান্নাজড়িত অস্পষ্ট স্বরে বলে- মাফ করো বন্ধু, যেখানেই যাও, ভাল থেকো, ভালো থেকো





----------------------
১৫.১১.২০১৪
মুনশি আলিম
জাফলং, সিলেট




 

 

📖 আরও পড়ুন (নির্বাচিত কন্টেন্ট)

আপনার পঠন অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করতে নিচের প্রবন্ধগুলো দেখে নিতে পারেন:

 

  • একাডেমি/ চাকরির প্রস্তুতি:

 

o   📌 বাংলা ব্যাকরণ

 

o   📌 বিসিএস প্রস্তুতি

 

o   📌 ব্যাংক প্রস্তুতি

 

 

আরও দেখুন ক্লাস বিষয়ক ভিডিও:

 

আরও পড়ুন

 ব্যক্তিত্ব ও জীবনী সম্পর্কিত তথ্য-উপাত্ত সমৃদ্ধ প্রবন্ধ

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক মজার মজার তথ্য-উপাত্ত বিষয়ক প্রবন্ধ

📌 বিজ্ঞান জিজ্ঞাসা

 

আমাদের সাথে যুক্ত থাকুন (Stay Connected):

যেকোনো জিজ্ঞাসা বা পরামর্শের জন্য আমাদের কমেন্ট বক্সে জানাতে পারেন। এছাড়া আমাদের অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হতে নিচের লিঙ্কগুলো ভিজিট করুন:

   মুনশি একাডেমি, শাহপরান, সিলেট ||

v শিক্ষামূলক ইউটিউব চ্যানেল: @munshi.academy

v ওয়েবসাইট: https://munshiacademy.blogspot.com/

v ইমেইল: munshiacademywebsite@gmail.com

v ভ্রমণ বিষয়ক ইউটিউব চ্যানেল: @travelwithmunshialim

 

 

 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.