ভুল নামের সঠিক ইতিহাস | ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ | মুনশি আলিম
ভুল নামের সঠিক ইতিহাস | ব্যক্তিগত স্মৃতিচারণ
ছবি: মুনশি আলিম
এসএসসি পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশনের শেষ সময়। বিকেল কাটায় কাটায় তিনটা। খবর এলো রেজিষ্ট্রেশনে মায়ের নাম দিতে হবে। সময়টা ছিল ২০০১ সাল। আজকের মতো হাতে হাতে মোবাইল ছিল না। এক ক্লিকে বাড়িতে ফোন দেওয়ার সুযোগও ছিল না। আমার স্কুল আমির মিয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে বাড়ির দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। হেঁটে গিয়ে মায়ের নাম জেনে আবার বিকেল ৪টায় ফিরে আসা কোনোভাবেই আমার পক্ষে সম্ভবপর ছিল না। এককথায়, নির্দিষ্ট টাইমফ্রেমের মধ্য ফিরে আসার মতো সময় আর হাতে ছিল না।
চারদিকে তখন চাপা উত্তেজনা। রেজিস্ট্রেশন বন্ধ হয়ে যাবে। আহা! চোখের সামনেই বুঝি ভবিষ্যৎ অন্ধকারে নিমজ্জিত হওয়ার উপক্রম। মানে এক বছরের স্বপ্ন থমকে যাবে।
বন্ধুরা পাশে দাঁড়াল। সহপাঠীদের মধ্যে একজনের ভাতিজির নাম মনে পড়ল। ওর নাম নুরজাহান বেগম। খুব শান্তশিষ্ট। আর আন্তরিকতায় তার জুরি মেলা ভার! অগত্যা মায়ের আসল নাম স্থলে রেজিস্ট্রেশন ফরমে লেখা হলো 'নুরজাহান বেগম'। সত্যি এ এক অন্যরকম মুহূর্ত।
আজ এত বছর পরও আমার সার্টিফিকেটে সেই নামই রয়ে গেছে 'নুরজাহান বেগম'। কাগজে-কলমে হয়তো ভুল কিন্তু এই ভুলের ভেতর লুকিয়ে আছে এক সময়ের অসহায়তা। সেই সময়ের বন্ধুদের নিঃশব্দ সহানুভূতি ছিল এক মায়ের প্রতি সন্তানের অদৃশ্য দায়বদ্ধতা।
সময় এগিয়েছে বহুদূর। সার্টিফিকেট জমেছেও অনেক। বড় বড় ডিগ্রি! কিন্তু আর হয়ত কখনোই নতুন করে তার নাম সার্টিফিকেটের মতো জাগতিক কোনো ক্যানভাসে লেখা হয়ে উঠবে না। সিস্টেমের গ্যাড়াকলে এখনো বন্দি আমাদের চিন্তাশীল আবেগ!
সেই যে নাম; যে নামটি ২০০১ সালের এক বিকেলের স্মৃতি হয়ে আমার জীবনের পাতায় স্থায়ীভাবে লেখা আছে।কিছু ভুল থাকে, যেগুলো শুধরে ফেলা যায় না। শুধু বয়ে বেড়ানো যায়- এক টুকরো আবেগ আর ইতিহাস হয়ে।
২০.০১.২০২৬
কালিগঞ্জ, জকিগঞ্জ, সিলেট,
সন্ধ্যা ৬:০০-৭:৩০টা
https://munshiacademy.blogspot.com/

কোন মন্তব্য নেই