শামসুর রাহমান: নাগরিক চেতনার কবি
শামসুর রাহমান: নাগরিক চেতনার কবি
ভূমিকা: নগরের জনতা ও একজন কবির আবির্ভাব
বাংলা সাহিত্যের আধুনিকতার ইতিহাসে শামসুর রাহমান এক অপ্রতিদ্বন্দ্বী নাম। তিরিশের দশকের কবিরা যখন আধুনিকতার ভিত্তি গড়ছিলেন, শামসুর রাহমান তাকে সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের জীবনের সঙ্গে গেঁথে দিয়েছিলেন। তিনি ছিলেন নাগরিক জীবনের কথক, স্বাধীনতার কবি এবং বাংলা কবিতার আধুনিকতার বরপুত্র। আল মাহমুদ যেমন মাটির টানে আমাদের শিকড়ে ফিরিয়ে নিয়েছিলেন, শামসুর রাহমান তেমনই নগরের ধুলোবালি, মিছিল আর নাগরিক একাকীত্বকে কবিতার ছন্দে রূপান্তরিত করেছিলেন। তাঁর নাগরিক জীবনবোধ এবং বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনে তাঁর কালজয়ী ভূমিকার কথা।
শামসুর রাহমান ১৯২৯ সালের ২৩ অক্টোবর পুরনো ঢাকার মাহুতটুলিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বেড়ে ওঠা এবং কবি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়া—সবই ছিল ঢাকাকেন্দ্রিক। ১৯৫০-এর দশকে যখন বাংলা কবিতা এক নতুন বাঁকের মুখে দাঁড়িয়ে, তখন তিনি তাঁর নিভৃতচারী কিন্তু শক্তিশালী কাব্যভাষা নিয়ে আত্মপ্রকাশ করেন। তিনি কেবল একজন কবি ছিলেন না, তিনি ছিলেন এক অবরুদ্ধ সময়ের কণ্ঠস্বর এবং বাঙালির মুক্তি সংগ্রামের কাব্যিক সাক্ষী।
কাব্যযাত্রা: নাগরিকতা ও নিঃসঙ্গতার বয়ান
শামসুর রাহমানের প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে’ (১৯৬০) প্রকাশের মাধ্যমেই বাংলা কবিতায় এক নতুন নাগরিক সুর ঝঙ্কৃত হয়। এই কাব্যে রোমান্টিকতা ও বিষণ্নতা মিলেমিশে একাকার হয়ে গিয়েছিল। তাঁর কবিতায় শহর ঢাকা কেবল একটি স্থান ছিল না, বরং তা ছিল এক জীবন্ত চরিত্র।
নাগরিক আধুনিকতা: তাঁর কবিতায় আমরা পাই ল্যাম্পপোস্ট, ঘোড়ার গাড়ি, ডাস্টবিন, চড়ুইপাখি আর নাগরিক মানুষের চরম একাকীত্ব। বুদ্ধদেব বসু বা জীবনানন্দের আধুনিকতা যেখানে ছিল বিমূর্ত, রাহমানের আধুনিকতা সেখানে ছিল আমাদের চিরচেনা গলিপথের মতো বাস্তব। ‘রৌদ্র করোটিতে’ বা ‘বিদ্ধ নীলিমা’ কাব্যগ্রন্থগুলোতে তিনি নাগরিক জীবনের হাহাকার ও দহনকে ভাষা দিয়েছিলেন।
স্বাধীনতার কবি ও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতা
শামসুর রাহমানকে বলা হয় ‘স্বাধীনতার কবি’। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি জাতীয় সংকটে তাঁর কলম হয়ে উঠেছিল শ্রেষ্ঠ অস্ত্র।
‘আসাদের শার্ট’: ১৯৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আসাদের রক্তমাখা শার্টকে তিনি পরিণত করেছিলেন আমাদের স্বাধীনতার পতাকায়।
‘স্বাধীনতা তুমি’ ও ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য, হে স্বাধীনতা’: বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম নিয়ে তাঁর এই দুটি কবিতা আজ বিশ্বসাহিত্যের অমূল্য সম্পদ। তাঁর কবিতা কেবল সৌন্দর্যচর্চা করেনি, বরং তা হয়ে উঠেছিল অবরুদ্ধ জাতির প্রতিবাদের ভাষা। যখন বাঙালির কথা বলা নিষিদ্ধ ছিল, তখন তিনি রূপকের আড়ালে গর্জে উঠেছিলেন ‘বন্দী শিবির থেকে’ কাব্যগ্রন্থের মাধ্যমে।প্রতিবাদী কবি ও শহুরে কবি
শব্দ ও শিল্পশৈলীর বৈচিত্র্য
শামসুর রাহমানের শব্দভাণ্ডার ছিল অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তিনি ধ্রুপদী শব্দের পাশাপাশি অত্যন্ত সাবলীলভাবে চলতি ভাষা ও বিদেশি শব্দের প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। তাঁর কবিতার চিত্রকল্পগুলো পাঠকের মনে একটি স্থায়ী ছায়া ফেলে। তাঁর ছন্দ জ্ঞান ছিল প্রখর—পয়ার, অক্ষরবৃত্ত বা গদ্যছন্দ, সবক্ষেত্রেই তিনি দেখিয়েছেন মুন্সিয়ানা। কবির কবিতায় নারীর প্রেম যেমন এসেছে সূক্ষ্ম অনুভূতিতে, তেমনি এসেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত জননীর হাহাকার। তিনি তাঁর কবিতায় মিথ বা পুরাণের সার্থক প্রয়োগ ঘটিয়ে আধুনিক মানুষের জীবনবোধকে নতুন মাত্রা দান করেছিলেন।
প্রতিবাদী কবি ও শহুরে কবি
শামসুর রাহমান বাংলা সাহিত্যে একাধারে প্রতিবাদী কবি ও আধুনিক শহুরে চেতনার অন্যতম প্রধান কণ্ঠস্বর। তাঁর কবিতায় সময়ের রাজনৈতিক সংকট, স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, ভাষা ও সংস্কৃতির প্রশ্ন এবং সাধারণ মানুষের বেদনা গভীরভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি কেবল কবিতার সৌন্দর্য নির্মাণে সীমাবদ্ধ ছিলেন না; বরং সময়ের অন্যায় ও অসংগতির বিরুদ্ধে তাঁর কলম ছিল সক্রিয় ও দৃঢ়।
১৯৫৮ সালে পাকিস্তানে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন জারি হলে শামসুর রাহমান স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে ব্যঙ্গাত্মক ও সাহসী অবস্থান নেন। সে বছর সিকান্দার আবু জাফর সম্পাদিত সমকাল পত্রিকায় তিনি ‘হাতির শুঁড়’ কবিতাটি লেখেন, যেখানে স্বৈরতন্ত্রকে তীক্ষ্ণ বিদ্রুপের মাধ্যমে আঘাত করা হয়। পরে শেখ মুজিবুর রহমান কারাবন্দি থাকাকালে তাঁকে উদ্দেশ্য করে তিনি লেখেন অসাধারণ রাজনৈতিক তাৎপর্যপূর্ণ কবিতা ‘টেলেমেকাস’ (১৯৬৬ বা ১৯৬৭), যা তাঁর রাজনৈতিক সচেতনতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
১৯৬৭ সালের ২২ জুন পাকিস্তান সরকার রেডিও পাকিস্তানে রবীন্দ্রসঙ্গীত সম্প্রচার নিষিদ্ধ করলে শামসুর রাহমান দৃঢ়ভাবে এর প্রতিবাদ করেন। সে সময় তিনি সরকার নিয়ন্ত্রিত দৈনিক পাকিস্তান-এ কর্মরত ছিলেন; তবুও পেশাগত অনিশ্চয়তার ভয় উপেক্ষা করে রবীন্দ্রসঙ্গীতের পক্ষে দেওয়া বিবৃতিতে তিনি স্বাক্ষর করেন। ওই বিবৃতিতে তাঁর সঙ্গে ছিলেন হাসান হাফিজুর রহমান, আহমেদ হুমায়ুন ও ফজল শাহাবুদ্দীন প্রমুখ। এই ঘটনাটি তাঁর সাংস্কৃতিক সাহস ও নৈতিক অবস্থানের পরিচায়ক।
পরবর্তী বছর ১৯৬৮ সালে আইয়ুব খান পাকিস্তানের সব ভাষার জন্য অভিন্ন রোমান হরফ চালুর প্রস্তাব দিলে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিবাদ দেখা দেয়। আগস্ট মাসে কবি, সাংবাদিক, সাহিত্যিক, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক ও সংস্কৃতিকর্মী—মোট ৪১ জন এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে বিবৃতি দেন; শামসুর রাহমানও ছিলেন সেই প্রতিবাদকারীদের একজন। এই ক্ষোভ ও বেদনা থেকেই তিনি রচনা করেন মর্মস্পর্শী কবিতা ‘বর্ণমালা, আমার দুঃখিনী বর্ণমালা’, যা ভাষা ও সাংস্কৃতিক স্বাধিকারের প্রতীক হয়ে ওঠে।
১৯৬৯ সালের ২০ জানুয়ারি গুলিস্তানে একটি মিছিলের সামনে শহীদ আসাদের রক্তাক্ত শার্ট দিয়ে তৈরি পতাকা দেখে শামসুর রাহমান গভীরভাবে আলোড়িত হন। এই দৃশ্য তাঁর মনে যে প্রবল আবেগের জন্ম দেয়, তারই শিল্পরূপ হলো অমর কবিতা ‘আসাদের শার্ট’। একইভাবে ১৯৭০ সালের ২৮ নভেম্বর ঘূর্ণিঝড়ে দক্ষিণাঞ্চলের লাখো মানুষের মৃত্যু ও দুর্দশা তাঁকে ব্যথিত করে তোলে এবং তিনি লেখেন মানবিক বেদনায় ভরপুর কবিতা ‘আসুন আমরা আজ ও একজন জেলে’।
মুক্তিযুদ্ধের সময় ১৯৭১ সালে শামসুর রাহমান পরিবারসহ নরসিংদীর পাড়াতলী গ্রামে আশ্রয় নেন। যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ ও স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা তাঁর কবিতায় নতুন মাত্রা যোগ করে। এপ্রিলের প্রথম দিকে তিনি লেখেন ‘স্বাধীনতা তুমি’ এবং ‘তোমাকে পাওয়ার জন্য হে স্বাধীনতা’—যা মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করা শক্তিশালী কবিতারূপে প্রতিষ্ঠিত হয়।
পরবর্তী সময়ে ১৯৮৭ সালে এরশাদের স্বৈরশাসনের প্রতিবাদে তিনি দৈনিক বাংলার প্রধান সম্পাদকের পদ থেকে পদত্যাগ করেন। এই সময় থেকে পরবর্তী চার বছর তিনি ধারাবাহিকভাবে প্রতিবাদী কবিতা রচনা করেন—প্রথম বছরে শৃঙ্খলমুক্তির পক্ষে, দ্বিতীয় বছরে স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে, তৃতীয় বছরে সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে এবং চতুর্থ বছরে সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে। ১৯৯১ সালে এরশাদের পতনের পর তিনি লেখেন ‘গণতন্ত্রের পক্ষে কবিতা’, যা তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক ও নৈতিক সংগ্রামের সমাপ্তি-প্রতিধ্বনি হিসেবে বিবেচিত হয়।
শামসুর রাহমানের কবিচেতনায় অসাম্প্রদায়িকতা, গণতন্ত্র এবং জনমানুষের প্রতি গভীর দরদ ছিল প্রবল। এই আপসহীন মানবিক অবস্থানের কারণে তাঁকে সমালোচকদের হত্যার হুমকির মুখেও পড়তে হয়েছে। তবুও তিনি কখনো তাঁর বিশ্বাস ও প্রতিবাদী কণ্ঠস্বর থেকে সরে আসেননি। তাই শামসুর রাহমান শুধু একজন কবি নন; তিনি ছিলেন সময়ের বিবেক ও শহুরে জীবনের দ্রোহী প্রতিনিধি।
বহুমাত্রিক গদ্য ও শিশুসাহিত্য
শামসুর রাহমান কেবল কবিতার রাজা ছিলেন না, গদ্যেও তাঁর অবস্থান ছিল অনন্য। তাঁর আত্মজীবনী ‘কালের ধুলোয় লেখা’ কেবল তাঁর নিজের গল্প নয়, এটি একটি জাতির বিবর্তনের দলিল।
তিনি শিশুবান্ধব কবি। কবি শামসুর রাহমান যেমন একজন কবি হিসেবে খ্যাতিমান তেমনি তার শিশুদের প্রতি অপরিসীম ভালোবাসা ছিল। একারণে তিনি শিশুদের জন্য লিখেছেন বেশ ক’টি বই। শিশুদের অনুষ্ঠান হলে তো কথাই নেই। শিশুদের অনুষ্ঠানে ছিল তার সরব উপস্থিতি।
তিনি ছিলেন জাতীয় শিশু কিশোর সংগঠন ‘বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা’র প্রতিষ্ঠাতা উপদেষ্টা। তার মৃত্যুর আগের কয়েক বছর তার শ্যামলীর বাসায় জন্মদিনের অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল 'বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা'। তার জন্মদিনে শিশুরা উৎসব করে। জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তারই রচিত ছড়া কবিতা আবৃত্তি করে শোনায় শিশুরা। এসময় শিশুদের সাথে তিনি খুব আনন্দঘন পরিবেশে কাটিয়েছেন, কবিতা গান শুনেছেন, অটোগ্রাফ দিয়েছেন। মোট কথায় শামসুর রাহমান ছিলেন শিশুবান্ধব একজন মানুষ।
উল্লেখ্য, ১৯৯০ সালের ৩ আগস্ট বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মেলা প্রতিষ্ঠালাভের পর থেকে তিনি এই সংস্থার বিভিন্ন সাংগঠনিক কাজে পরামর্শ দিয়ে, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে সংগঠনকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।
- · এলাটিং বেলাটিং (১৯৭৪)
- · ধান ভানলে কুঁরো দেব (১৯৭৭)
- · গোলাপ ফোটে খুকীর হাতে (১৯৭৭)
- · স্মৃতির শহর (১৯৭৯)
- · রংধনুর সাঁকো (১৯৯৪)
- · লাল ফুলকির ছড়া (১৯৯৫)
- · নয়নার জন্য (১৯৯৭)
- · আমের কুঁড়ি জামের কুঁড়ি (২০০৪)
- · নয়নার জন্য গোলাপ (২০০৫)
📚 প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা
✦ কাব্যগ্রন্থ (মোট: ৬৬টি)
- • প্রথম গান, দ্বিতীয় মৃত্যুর আগে (১৯৬০)
- • বঙ্গবন্ধু মুক্তিযুদ্ধ (মুক্তিযুদ্ধ ও ভাষা আন্দোলনভিত্তিক রাজনৈতিক কবিতা)
- • রৌদ্র করোটিতে (১৯৬৩)
- • বিধ্বস্ত নিলীমা (১৯৬৭)
- • নিরালোকে দিব্যরথ (১৯৬৮)
- • নিজ বাসভূমে (১৯৭০) (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)
- • বন্দী শিবির থেকে (১৯৭২) (মুক্তিযুদ্ধকালীন রচিত)
- • দুঃসময়ে মুখোমুখি (১৯৭৩)
- • ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাটা (১৯৭৪)
- • আদিগন্ত নগ্ন পদধ্বনি (১৯৭৪)
- • এক ধরনের অহংকার (১৯৭৫)
- • আমি অনাহারী (১৯৭৬)
- • শূন্যতায় তুমি শোকসভা (১৯৭৭)
- • বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে (১৯৭৭)
- • প্রতিদিন ঘরহীন ঘরে (১৯৭৮)
- • প্রেমের কবিতা (১৯৮১)
- • ইকারুসের আকাশ (১৯৮২)
- • মাতাল ঋত্বিক (১৯৮২)
- • উদ্ভট উটের পিঠে চলেছে (১৯৮৩)
- • কবিতার সঙ্গে গেরস্থালি (১৯৮৩)
- • নায়কের ছায়া (১৯৮৩)
- • আমার কোনো তাড়া নেই (১৯৮৪)
- • যে অন্ধ সুন্দরী কাঁদে (১৯৮৪)
- • অস্ত্রে আমার বিশ্বাস নেই (১৯৮৫)
- • হোমারের স্বপ্নময় হাত (১৯৮৫)
- • শিরোনাম মনে পড়ে না (১৯৮৫)
- • ইচ্ছে হয় একটু দাঁড়াই (১৯৮৫)
- • ধুলায় গড়ায় শিরস্ত্রাণ (১৯৮৫)
- • এক ফোঁটা কেমন অনল (১৯৮৬)
- • টেবিলে আপেলগুলো হেসে উঠে (১৯৮৬)
- • দেশদ্রোহী হতে ইচ্ছে করে (১৯৮৬)
- • অবিরল জলভূমি (১৯৮৬)
- • আমরা ক'জন সঙ্গী (১৯৮৬)
- • ঝর্ণা আমার আঙুলে (১৯৮৭)
- • স্বপ্নেরা ডুকরে উঠে বারবার (১৯৮৭)
- • খুব বেশি ভালো থাকতে নেই (১৯৮৭)
- • মঞ্চের মাঝখানে (১৯৮৮)
- • বুক তার বাংলাদেশের হৃদয় (১৯৮৮) (মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক)
- • হৃদয়ে আমার পৃথিবীর আলো (১৯৮৯)
- • সে এক পরবাসে (১৯৯০)
- • গৃহযুদ্ধের আগে (১৯৯০)
- • খণ্ডিত গৌরব (১৯৯২)
- • ধ্বংসের কিনারে বসে (১৯৯২)
- • হরিণের হাড় (১৯৯৩)
- • আকাশ আসবে নেমে (১৯৯৪)
- • উজাড় বাগানে (১৯৯৫)
- • এসো কোকিল এসো স্বর্ণচাঁপা (১৯৯৫)
- • মানব হৃদয়ে নৈবদ্য সাজাই (১৯৯৬)
- • তুমিই নিঃশ্বাস তুমিই হৃৎস্পন্দন (১৯৯৬)
- • তোমাকেই ডেকে ডেকে রক্তচক্ষু কোকিল হয়েছি (১৯৯৭)
- • হেমন্ত সন্ধ্যায় কিছুকাল (১৯৯৭)
- • ছায়াগণের সঙ্গে কিছুক্ষণ (১৯৯৭)
- • মেঘলোকে মনোজ নিবাস (১৯৯৮)
- • সৌন্দর্য আমার ঘরে (১৯৯৮)
- • রূপের প্রবালে দগ্ধ সন্ধ্যা রাতে (১৯৯৮)
- • টুকরা কিছু সংলাপের সাঁকো (১৯৯৮)
- • স্বপ্নে ও দুঃস্বপ্নে বেঁচে আছি (১৯৯৯)
- • নক্ষত্র বাজাতে বাজাতে (২০০০)
- • শুনি হৃদয়ের ধ্বনি (২০০০)
- • হৃদপদ্মে জ্যোৎস্না দোলে (২০০১)
- • ভগ্নস্তূপে গোলাপের হাসি (২০০২)
- • ভাঙাচোরা চাঁদ মুখ কালো করে ধুকছে (২০০৩)
- • গন্তব্য নাই বা থাকুক (২০০৪)
- • কৃষ্ণপক্ষে পূর্ণিমার দিকে (২০০৪)
- • গোরস্থানে কোকিলের করুণ আহ্বান (২০০৫)
- • অন্ধকার থেকে আলোয় (২০০৬)
- • না বাস্তব না দুঃস্বপ্ন (২০০৬)
✦ উপন্যাস (৪টি)
• অক্টোপাশ (১৯৮৩)
• অদ্ভুত আঁধার এক (১৯৮৫)
• নিয়ত মন্তাজ (১৯৮৫)
• এলো সে অবেলায় (১৯৯৪)
✦ প্রবন্ধগ্রন্থ
• আমৃত্যু তার জীবনানন্দ (১৯৮৬)
• কবিতা এক ধরনের আশ্রয় (২০০২)
✦ অন্যান্য রচনা
• শিশু-কিশোর সাহিত্য
• আত্মস্মৃতি
✦ অনুবাদ
• অনুবাদ কবিতা: ৩টি
• অনুবাদ নাটক: ৩টি
সাংবাদিকতা ও আদর্শিক লড়াই
পেশাগত জীবনে তিনি দীর্ঘকাল ‘দৈনিক বাংলা’র সম্পাদক ছিলেন। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার ধারক এবং মৌলবাদবিরোধী আন্দোলনের অগ্রসৈনিক। তাঁর এই অনমনীয় অবস্থানের কারণে তাঁকে বারবার ঘাতকচক্রের হামলার শিকার হতে হয়েছিল, কিন্তু তিনি কখনও তাঁর কলম থামাননি। তিনি বিশ্বাস করতেন, কবির দায়বদ্ধতা সত্য ও সুন্দরের প্রতি।
সম্মাননা ও পুরস্কার
- আদমজী সাহিত্য পুরস্কার
- বাংলা একাডেমি পুরস্কার
- একুশে পদক
- নাসির উদ্দিন স্বর্ণপদক
- জীবনানন্দ পুরস্কার
- আবুল মনসুর আহমেদ স্মৃতি পুরস্কার
- মিতসুবিসি পুরস্কার (সাংবাদিকতার জন্য)
- স্বাধীনতা পদক
- আনন্দ পুরস্কার
ভারতের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় এবং রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় কবিকে সম্মানসূচক ডি.লিট উপাধিতে ভূষিত করে। তার ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে গুগল তাদের হোমপেজে শামসুর রাহমানের গুগল ডুডল প্রদর্শন করে তার জন্মদিন উদ্যাপন করে। গুগল ডুডলটিতে দেখা যায় সবুজ পাঞ্জাবি পরা শুভ্র চুলের শামসুর রাহমান লেখালেখি করছেন।
মহাপ্রস্থান
বাঙালির এই শ্রেষ্ঠ কবিকে দেশ-বিদেশ থেকে অসংখ্য সম্মাননায় ভূষিত করা হয়েছে। ২০০৬ সালের ১৭ আগস্ট এই মহাপ্রাণের জীবনাবসান ঘটে।
শামসুর রাহমান আজ নেই, কিন্তু তাঁর কবিতা প্রতিটি মিছিলে, প্রতিটি একাকী সন্ধ্যায় কিংবা প্রতিটি দেশপ্রেমের মুহূর্তে আমাদের পাশে থাকে। তিনি বাংলা কবিতাকে আভিজাত্যের খোলস থেকে বের করে এনে গণমানুষের প্রাণের কাছাকাছি নিয়ে গিয়েছিলেন। বাংলা সাহিত্যের আকাশ যতদিন থাকবে, শামসুর রাহমান নামক নক্ষত্রটি ততদিন ধ্রুবতারার মতো উজ্জ্বল হয়ে আমাদের পথ দেখাবে।

কোন মন্তব্য নেই