Header Ads

মুনশি একাডেমি

শিক্ষা ও সাহিত্যভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
নোট ও সাজেশন বিসিএস ও এনটিআরসিএ বি.এড ও ব্যাংক প্রস্তুতি

সন্ধি বিচ্ছেদ: A to Z সহজবোধ্য আলোচনা

 

সন্ধি বিচ্ছেদ: A to Z সহজবোধ্য আলোচনা

 
সন্ধি বিচ্ছেদ, #সন্ধি বিচ্ছেদ, সন্ধি বিচ্ছেদ করো, বাংলা সন্ধি বিচ্ছেদ, উল্লাস সন্ধি বিচ্ছেদ, সন্ধি ও সন্ধি বিচ্ছেদ, সন্ধি বিচ্ছেদ এর নিয়ম, ইত্যাদি সন্ধি বিচ্ছেদ, আবিষ্কার সন্ধি বিচ্ছেদ, সন্ধি বিচ্ছেদ করার নিয়ম, সন্ধি বিচ্ছেদ এর সহজ নিয়ম, পরীক্ষা’ এর সন্ধি বিচ্ছেদ, সন্ধি বিচ্ছেদের কৌশল, ‘লবণ’ শব্দের সন্ধি বিচ্ছেদ –, সন্ধি বিচ্ছেদ মনে রাখার কৌশল, সন্ধি বিচ্ছেদ শর্টকাট সাজেশন, সন্ধি বিচ্ছেদের সহজ নিয়ম, বাংলা ব্যাকরণ থেকে সন্ধি বিচ্ছেদ, চাকুরির জন্য সন্ধি বিচ্ছেদ শিখুন, গুরুত্বপূর্ণ ১০০ টি সন্ধি বিচ্ছেদ

                   সন্ধি বিচ্ছেদ


সন্ধি বিচ্ছেদ করার নিয়ম ও উদাহরণ | স্বর, ব্যঞ্জন ও বিসর্গ সন্ধি।

সন্ধি বিচ্ছেদ বাংলা ব্যাকরণে শব্দগঠনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম

সন্ধি কী?

সন্ধি” শব্দের অর্থ হলো মিলন
যখন দুটি ধ্বনি একে অপরের সন্নিহিত হয়ে মিলিত হয়, লোপ পায় বা পরিবর্তিত হয়, তখন সেই প্রক্রিয়াটিকে সন্ধি বলা হয়।

  • উদাহরণ:
    বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়
    এখানে ‘বিদ্যা’ ও ‘আলয়’ ধ্বনিগুলো মিলিত হয়ে ‘বিদ্যালয়’ শব্দটি গঠন করেছে।

সন্ধি শব্দের বিশ্লেষণ

  • সন্ধি = সম + ধৃ

  • অর্থ: সমদিকে ধাবিত হওয়া বা মিলিত হওয়া

সন্ধির উদ্দেশ্য

  • শব্দের সহজ ও দ্রুত উচ্চারণের সুবিধা প্রদান

  • ধ্বনির মিলনের মাধ্যমে শব্দের সুসংগত গঠন নিশ্চিত করা

সুতরাং, সন্ধি শুধু শব্দের মিলন নয়, এটি উচ্চারণ ও ভাষার স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করার একটি প্রক্রিয়া।

 

সন্ধির উদ্দেশ্য

সন্ধির উদ্দ্যেশ্য হলো:

  • উচ্চারণে স্বাচ্ছন্দ্যতা বা সুবিধা বা সহজপ্রবণতা।
  • ধ্বনিগত মাধুর্য রক্ষা বা সম্পাদন।
  • নতুন শব্দ তৈরি করা।
  • শব্দকে সংক্ষিপ্ত করা।
  • বাক্যকে সংক্ষিপ্ত করা।
  • বাক্যকে সুন্দর, প্রাঞ্জল ও সহজবোধ্য করা।

 

সন্ধির ফলে কী ঘটে

১. দুটো ধ্বনি মিলিত হয়ে এক ধ্বনিতে সংহতি লাভ করে। যেমন-শুভ+ইচ্ছা=শুভেচ্ছা ।

২.দ্বিতীয় ধ্বনির প্রভাবে প্রথম ধ্বনির রুপান্তর ঘটে। যেমন-শত+অব্দ=শতাব্দ

৩.দুটো ধ্বনি একত্রিত হয়ে তৃতীয় আরেকটি ধ্বনিতে পরিণত হয়। যেমন-উত্তর+উত্তর=উত্তরোত্তর

৪.দুটো ধ্বনির মাঝখানে তৃতীয় আরেকটি ধ্বনির আগমন ঘটে। যেমন-নৌ+ইক=নাবিক,বনঃ+পতি=বনস্পতি।

 

সন্ধি ও সমাসের পার্থক্য

সহজ ভাষায় সন্ধি হল ধ্বনিসমূহের মিলন আর সমাস হল পদ সমূহের মিলন। সন্ধিতে প্রতিটি শব্দের অর্থ একই থাকে পক্ষান্তরে সমাসে কখনো পূর্বপদ, কখনো পরপদ এবং কখনো অন্যপদের অর্থের প্রাধান্য থাকে। সন্ধিতে কখনো বিভক্তি লোপের প্রশ্নই আসে না। কিন্ত কোন কোন সমাসে পদের বিভক্তি লোপ পায়।সন্ধিতে ধ্বনিগুলো শুধু যুক্ত হয় অন্যদিকে সমাস সংক্ষিপ্ত করণের কাজ করে থাকে। সন্ধি তিন প্রকার পক্ষান্তরে সমাস ছয় প্রকার।

 

সন্ধির প্রকারভেদ

সন্ধি প্রধানত দুই প্রকার যথা ১.বাংলা শব্দের সন্ধি ২.তৎসম শব্দের সন্ধি।

বাংলা শব্দের সন্ধি আবার ২ প্রকার যথা স্বরসন্ধি ও ব্যঞ্জনসন্ধি।

তৎসম শব্দের সন্ধি তিন প্রকার যথা স্বরসন্ধি,ব্যঞ্জনসন্ধি ও বিসর্গসন্ধি।

 

স্বরসন্ধির নিয়ম

স্বরধ্বনির সঙ্গে স্বরধ্বনির মিলনের ফলে নতুন অর্থবহ যে শব্দ গঠিত হয় তাকে স্বরসন্ধি বলে । স্বরধ্বনি + স্বরধ্বনি ।

১. অ-কার কিংবা আ-কারের পর অ-কার কিংবা আ-কার থাকলে উভয়ে মিলে আ-কার হয়; আ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয় । যেমন-

অ+অ = আ → নর+অধম = নরাধম,নব+অন্ন = নবান্ন

অ+আ = আ → হিম+আলয় = হিমালয়, সিংহ+আসন = সিংহাসন

আ+অ = আ → যথা+অর্থ = যথার্থ,মহা+অর্ঘ = মহার্ঘ

আ+আ = আ → বিদ্যা+আলয় = বিদ্যালয়, মহা+আশয় = মহাশয়

 

২. অ-কার কিংবা আ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে এ-কার হয়; এ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়। যেমন-

অ+ই = এ → শুভ+ইচ্ছা = শুভেচ্ছা,সত্য+ইন্দ্ৰ = সত্যেন্দ্র

আ+ই = এ → যথা+ইষ্ট = যথেষ্ট,যথা+ইচ্ছা = যথেচ্ছা

অ+ঈ = এ → পরম+ঈশ = পরমেশ, অপ+ঈক্ষা = অপেক্ষা

আ+ঈ = এ → মহা+ঈশ = মহেশ, রমা+ঈশ = রমেশ

 

৩. অ-কার কিংবা আ-কারের পর উ-কার কিংবা উ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ও-কার হয়; ও-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়। যেমন-

অ+উ = ও → সূর্য+উদয় = সূর্যোদয়, সর্ব+উচ্চ = সর্বোচ্চ

আ+উ = ও → যথা+উচিত = যথোচিত,কথা+উপকথন = কথোপকথন

আ+উ = ও → গঙ্গা+ঊর্মি = গঙ্গোর্মি,মহা+ঊর্মি = মহোর্মি

 

৪. অ-কার কিংবা আ-কারের পর ঋ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ‘অর’ হয় এবং তা রেফ () রূপে পরবর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়। যেমন-

অ+ঋ = অর্ → দেব+ঋষি = দেবর্ষি,সপ্ত+ঋষি = সপ্তর্ষি

আ+ঋ = আর → তৃষ্ণা+ঋত = তৃষ্ণার্ত,ক্ষুধা+ঋত = ক্ষুধার্ত

 

৫. অ-কার কিংবা আ-কারের পর ‘ঋত' শব্দ থাকলে (অ,আ+ঋ) উভয়ে মিলে ‘আর’ হয় এবং বানানে পূর্ববর্তী বর্ণে আ এবং পরবর্তী বর্ণে রেফ () লেখা হয়। যেমন-

অ+ঋ = আর → শীত+ঋত = শীতার্ত, শোক+ঋত = শোকার্ত

 

৬. অ-কার কিংবা আ-কারের পর এ-কার কিংবা ঐ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঐ-কার হয়; ঐ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়। যেমন-

অ+ এ = ঐ →জন+এক = জনৈক,হিত+এষী = হিতৈষী

আ+এ = ঐ →সদা+এব = সদৈব,তথা+এবচ = তথৈবচ

অ+ ঐ = ঐ →মত+ঐক্য = মতৈক্য,রাজ+ঐশ্বর্য = রাজৈশ্বর্য

আ+ঐ = ঐ→মহা+ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য,মহা+ঐক্য = মহৈক্য

 

৭. অ-কার কিংবা আ-কারের পর ও-কার কিংবা ঔ-কার থাকলে উভয়ে মিলে ঔ-কার হয়; ঔ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়। যেমন-

অ+ও = ঔ → বন+ওষধি = বনৌষধি,জল+ওকা = জলৌকা (জোঁক)

আ+ও = ঔ → মহা+ওষধি = মহৌষধি,গঙ্গা+ওঘ (ঢেউ) = গঙ্গৌঘ

অ+ঔ = ঔ → পরম+ঔষধ = পরমৌষধ,চিত্ত+ঔদার্য = চিত্তৌদার্য

আ+ঔ = ঔ → মহা+ঔষধ = মহৌষধ,মহা+ঔৎসুক্য = মহৌৎসুক্য

 

৮. ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই-কার কিংবা ঈ-কার থাকলে উভয়ে মিলে দীর্ঘ ঈ-কার হয়; দীর্ঘ ঈ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়। যেমন-

ই+ই = ঈ → অতি+ইত = অতীত,অভি+ইষ্ট = অভীষ্ট

ই+ঈ = ঈ → পরি+ঈক্ষা = পরীক্ষা,গিরি+ঈশ = গিরীশ

ঈ+ই = ঈ → সতী+ইন্দ্ৰ = সতীন্দ্র,শচী+ইন্দ্ৰ = শচীন্দ্ৰ

ঈ+ঈ= ঈ → সতী+ঈশ = সতীশ,শ্রী+ঈশ = শ্রীশ

 

৯. ই-কার কিংবা ঈ-কারের পর ই ও ঈ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ই বা ঈ স্থানে ‘য’ বা য () ফলা হয়। য-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে লেখা হয়। যেমন-

ই+অ = ষ্+অ → অতি+অন্ত = অত্যন্ত,বি+অবস্থা = ব্যবস্থা

ই+আ = ষ্+আ → ইতি+আদি = ইত্যাদি,অতি+আচার = অত্যাচার

ই+উ = ষ্+উ → অতি+উক্তি = অত্যুক্তি,প্রতি+উত্তর = প্রত্যুত্তর

ই+ ঊ = ষ্+ঊ → প্রতি+ঊষ = প্রত্যূষ, অথি+ঊর্ধ্ব = অত্যূর্ধ্ব

ঈ+আ = ষ্+আ → মসী+আধার = মস্যাধার

ই+এ = ষ্+এ → প্রতি+এক = প্ৰত্যেক

ই+ঐ = ষ্+ঐ → অতি+ঐশ্বর্য = অত্যৈশ্বর্য

ঈ+অ = ষ্+অ → নদী+অম্বু = নদ্যম্বু

 

১০. উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ-কার কিংবা ঊ- কার থাকলে উভয়ে মিলে ঊ-কার হয়; ঊ-কার পূর্ববর্তী ব্যঞ্জন ধ্বনির সাথে যুক্ত হয় । যেমন-

উ+উ = ঊ → মরু+উদ্যান = মরূদ্যান,কটু+উক্তি = কটূক্তি

উ+ঊ = ঊ → বহু+ঊর্ধ্ব = বহূর্ধ্ব,লঘু+ঊর্মি = লঘূর্মি

ঊ+উ = ঊ → বধূ+উৎসব = বধূৎসব,বধূ+উক্তি = বধূক্তি

ঊ+ঊ = ঊ → ভূ+ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব, সরযূ+ঊর্মি = সরযূমি

 

১১. উ-কার কিংবা ঊ-কারের পর উ ও ঊ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে উ বা ঊ স্থানে ব-ফলা হয় এবং ব-ফলা লেখার সময় পূর্ববর্তী বর্ণের সাথে লেখা হয়। যেমন-

উ+অ = ব+অ → সু+অল্প = স্বল্প, অনু+অয় = অন্বয়

উ+আ = ব+আ → সু+আগত = স্বাগত,পশু+আচার = পশ্বাচার

উ+ই = ব+ই → অনু+ইত = অন্বিত

উ+ঈ = ব+ঈ → তনু+ঈ = তন্বী

উ+এ = ব+এ → অনু+এষণ = অন্বেষণ

 

১২. ঋ-কারের পর ঋ ভিন্ন অন্য স্বর থাকলে ‘ঋত স্থানে ‘র’ হয় এবং তা র-ফলা রূপে পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনের সাথে যুক্ত হয়। যেমন-

পিতৃ+অনুমতি = পিত্ৰনুমতি,পিতৃ+অর্থে = পিত্ৰৰ্থে

 

১৩. এ, ঐ, ও, ঔ-কারের পর এ, ঐ স্থানে যথাক্রমে অয়, আয় এবং ও, ঔ স্থানে যথাক্রমে অব্ ও আব্ হয়। যেমন-

  • এ+অ = অয়ূ্+অ→ নে+অন = নয়ন, শে+অন = শয়ন
  • ঐ+অ = আয়্+অ → নৈ+অক = নায়ক, গৈ+অক = গায়ক
  • ও+অ = অব্+অ → পো+অন = পবন, লো+অন = লবণ
  • ঔ+অ = আব্+অ → পৌ+অক = পাবক
  • ও+আ = অব্+আ → গো+আদি = গবাদি
  • ও+এ = : অব্+এ → গো+এষণা = গবেষণা
  • ও+ই = অব্+ই → পো+ইত্ৰ = পবিত্র
  • ঔ+ই = আব্+ই→ নৌ+ইক = নাবিক
  • ঔ+ই = আব্+উ→ ভৌ+উক = ভাবুক

 

স্বরধ্বনির কতিপয় গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ

  • বিন্ধ‍্য + অচল = বিন্ধ‍্যাচল
  • মোহ + অন্ধ = মোহান্ধ
  • হিম+অচল = হিমাচল
  • ছেলে + আমি = ছেলেমি
  • রত্ন +আকর = রত্নাকর
  • অর্ধ + এক = অর্ধেক
  • পরি + আলোচনা = পর্যালোচনা
  • গোঁড়া + আমি = গোঁড়ামি
  • অতি +অন্ত = অত্যন্ত
  • মসী +আধার = মস্যাধার
  • গোলা + অন্দাজ =গোলন্দাজ
  • দিন +এক = দৈনিক
  • মেয়ে + আলি = মেয়েলি
  • বিদ্যা + আলয় = বিদ্যালয়
  • পিতৃ + আলয় = পিত্রালয়
  • পরি + ঈক্ষা = পরীক্ষা
  • এত +এক = এতেক
  • রবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র
  • প্রতি + এক = প্রত্যেক
  • মিতা + আলি = মিতালি
  • ঘড়ি + ইয়াল = ঘড়িয়াল
  • ভাই + ইয়া = ভাইয়া
  • জন + এক = জনৈক
  • বি + অর্থ = ব্যর্থ
  • সতী +ঈশ = সতীশ
  • মিথ্যা + উক = মিথ্যুক
  • ক্ষুধা + ঋত = ক্ষুধার্ত
  • মহা + আকাশ = মহাকাশ
  • রাজ + ঋষি = রাজর্ষি
  • জল + ওকা = জলৌকা
  • পশু + অধম = পশ্বধম
  • মনু + অন্তর = মন্বন্তর
  • নে + অন = নয়ন
  • নৈ + অক = নায়ক
  • পৌ + অক = পাবক
  • গো + এষণা = গবেষণা
  • নৌ + ইক = নাবিক
  • শুভ + ইচ্ছা = শুভেচ্ছা
  • ছেলে + আমি = ছেলেমি
  • অতি + অধিক = অত্যধিক
  • আ + চর্য = আশ্চর্য
  • মাথা + এ =মাথায়
  • চির + উনি = চিরুনি
  • বহ্নি + উৎসব =বহ্নুৎসব
  • আলো + এ = আলোয়
  • আমা + এ = আমায়
  • চা + এ = চায়ে
  • ঝি + এ = ঝিয়ে
  • বাবু + আনা = বাবুয়ানা
  • মন + উপযোগী =মনোপযোগী
  • যশ + আকাঙ্ক্ষা = যশাকাঙ্ক্ষা
  • ঈদ + উৎসব = ঈদোৎসব
  • খাসি+ ইয়া = খাসিয়া
  • ছায়া + এ = ছায়ায়
  • মা + এ = মায়ে
  • ভাল + এ = ভালয়
  • দই + এ = দইয়ে
  • হিন্দু + আনি = হিন্দুয়ানি
  • মন+ অন্তর = মনান্তর
  • মন+অধীন = মনাধীন
  • ঢাকা + ঈশ্বরী =ঢাকেশ্বরী
  • তুষার + আবৃত = তুষারাবৃত
  • প্রতি + ঊ = প্রত্যুষ
  • তনু + ঈ = তন্বী
  • সু + অল্প = স্বল্প
  • সু + আগত = স্বাগত
  • ঘোড়া + দৌড় = ঘোড়দৌড়
  • লো + অন = লবণ
  • গো + আদি = গবাদি
  • পো + ইত্র = পবিত্র
  • ভৌ + উক = ভাবুক
  • যথা + ইষ্ট =যথেষ্ট
  • নির + আময় = নিরাময়
  • বি +ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন
  • ইতি + আদি = ইত্যাদি
  • মুড় + অক = মোড়ক
  • মত +ঐক্য = মতৈক্য
  • প্রেম + আস্পদ = প্রেমাস্পদ
  • নিত‍্য + আনন্দ = নিত‍্যানন্দ
  • চিত্র + অর্পিত = চিত্রার্পিত
  • সর্বস্ব + অন্ত = সর্বস্বান্ত
  • গৃহ + অভ্যন্তর = গৃহাভ্যন্তর
  • নব + অন্ন = নবান্ন
  • স্ব + অধীন = স্বাধীন
  • হিত + অহিত = হিতাহিত
  • হস্ত + অন্তর = হস্তান্তর
  • পর + অধীন = পরাধীন
  • দেশ + অন্তর = দেশান্তর
  • প্রাণ + অধিক = প্রাণাধিক
  • রুপ + অন্তর = রুপান্তর
  • গ্রাম + অন্তর = গ্রামান্তর
  • সিংহ + আসন = সিংহাসন
  • হত+ আশ = হতাশ
  • দেব + আলয় = দেবালয়
  • জল + আধার = জলাধার
  • দণ্ড + আদেশ = দণ্ডাদেশ
  • স্ব + আয়ত্ত = স্বায়ত্ত
  • মেঘ + আলয় = মেঘালয়
  • মহা + অর্ঘ = মহার্ঘ
  • যথা + অযথ = যথাযথ
  • কথা + অমৃত = কথামৃত
  • ত্বরা + অন্বিত = ত্বরান্বিত
  • মহা + আশয় = মহাশয়
  • কারা + আগার = কারাগার
  • ব্যথা + আতুর = ব্যাথাতুর
  • ভাষা + আচার্য = ভাষাচার্য
  • সদা + আনন্দ =সদানন্দ
  • সত্য + ইন্দ্র = সত্যেন্দ্র
  • স্ব + ইচ্ছা = স্বেচ্ছা
  • পূর্ণ + ইন্দু = পূর্ণেন্দু
  • দেব + ইন্দ্র = দেবেন্দ্র
  • জিত + ইন্দ্রিয় =জিতেন্দ্রিয়
  • মহা + ইন্দ্র = মহেন্দ্র
  • রসনা + ইন্দ্রিয় =রসনেন্দ্রিয়
  • নর+ ইন্দ্র = নরেন্দ্র
  • কৃষ্ঞ + ইন্দু = কৃষ্ঞেন্দু
  • শ্রবণ + ইন্দ্রিয় = শ্রবণেন্দ্রিয়
  • রাজ+ ইন্দ্র= রাজেন্দ্র
  • হিম + আলয় =হিমালয়
  • যথা + ইষ্ট = যথেষ্ট
  • যথা + ইচ্ছা = যথেচ্ছা
  • অপ + ঈক্ষা = অপেক্ষা
  • গণ + ঈশ = গণেশ
  • ভব + ঈশ = ভবেশ
  • নর + ঈশ = নরেশ
  • পরম+ ঈশ = পরমেশ
  • রাজা + ঈশ্বর = রাজ্যেশ্বর
  • রমা + ঈশ = রমেশ
  • উমা + ঈশ = উমেশ
  • মহা + ঈশ্বর = মহেশ্বর
  • গঙ্গা + ঈশ্বর = গঙ্গেশ্বর
  • সূর্য + উদয় = সূর্যোদয়
  • সর্ব + উচ্চ = সর্বোচ্চ
  • প্রশ্ন + উত্তর = প্রশ্নোত্তর
  • ফল + উদয় = ফলোদয়
  • পর + উপকার = পরোপকার
  • কাল + উত্তীর্ণ = কালোত্তীর্ণ
  • শারদ + উৎসব = সারদোৎসব
  • উত্তর + উত্তর = উত্তরোত্তর
  • দীর্ঘ + উচ্চারণ = দীর্ঘোচ্চারণ
  • নীল + উৎপল = নীলোৎপল
  • হিত + উপদেশ = হিতোপদেশ
  • প্রশ্ন + উত্তর = প্রশ্নোত্তর
  • প্রথম + উক্ত = প্রথমোক্ত
  • লোক + উত্তর = লোকোত্তর
  • যথা + উচিত = যথোচিত
  • কথা + উপকথন = কথোপকথন
  • যথা + উপযুক্ত = যথোপযুক্ত
  • মহা + উৎসব = মহোৎসব
  • গৃহ + ঊর্ধ্ব = গৃহোর্ধ্ব
  • চল + ঊর্মি = চলোর্মি
  • নব + ঊড়া = নবোঢ়া
  • সর্ব + উর্ধ্ব = সর্বোর্ধ্ব
  • গঙ্গা + ঊর্মি = গঙ্গোর্মি
  • মহা + ঊর্মি = মহোর্মি
  • মহা + উর্ধ্ব = মহোর্ধ্ব
  • দেব+ ঋষি = দেবর্ষি
  • সপ্ত+ঋষি = সপ্তর্ষি
  • অধম+ঋণ = অধমর্ণ
  • উত্তম+ঋণ =উত্তমর্ণ
  • অধম+ ঋণ = অধমর্ণ
  • মহা + ঋষি = মহর্ষি
  • রাজ+ ঋষি = রাজর্ষি
  • শীত+ঋত = শীতার্ত
  • দুঃখ+ঋত = দুঃখার্ত
  • শোক + ঋত = শোকার্ত
  • ভয় +ঋত = ভয়ার্ত
  • তৃষ্ঞা + ঋত = তৃষ্ঞার্ত
  • ক্ষুধা + ঋত = ক্ষুধার্ত
  • পিপাসা + ঋত = পিপাসার্ত
  • বেদনা + ঋত = বেদনার্ত
  • জন + এক = জনৈক
  • হিত + এষী =হিতৈষী
  • হিত+ এষণা = হিতৈষণা
  • সদা + এব = সদৈব
  • তথা + এবচ = তথৈবচ
  • তথা + এব = তথৈব
  • বসুধা + এব = বসুধৈব
  • রাজ+ ঐশ্বর্য=রাজৈশ্বর্য
  • ভাব + ঐশ্বর্য = ভাবৈশ্বর্য
  • ভাব + ঐক্য = ভাবৈক্য
  • অতুল + ঐশ্বর্য = অতুলৈশ্বর্য
  • মত+ ঐক্য = মতৈক্য
  • মহা + ঐশ্বর্য = মহৈশ্বর্য
  • মহা + ঐক্য = মহৈক্য
  • বন+ ওষধি = বনৌষধি
  • জল + ওকা =জলৌকা
  • জল + ওঘ = জলৌঘ
  • মহা + ওষধি = মহৌষধি
  • গঙ্গা + ওঘ = ঢেউ
  • চিত্ত + ঔদার্য = চিত্তৌদার্য
  • দিব্য + ঔষধ =দিব্যৗষধ
  • মহা + ঔষধ =মহৌষধ
  • মহা + ঔৎসুক্য = মহৌৎসুক্য
  • মহা + ঔদার্য = মহৌদার্য
  • মহা + ঔদাস্য = মহৌদাস্য
  • অতি + ইতি = অতীত
  • অভি + ইষ্ট =অভীষ্ট
  • প্রতি + ইতি = প্রতীতি
  • অতি + ইন্দ্র = অতীন্দ্র
  • অতি + ইব = অতীব
  • রবি + ইন্দ্র = রবীন্দ্র
  • গিরি + ইন্দ্র = গিরীন্দ্র
  • প্রতি + ইত = প্রতীত
  • গিরি + ঈশ =গিরীশ
  • ক্ষিতি + ঈশ = ক্ষিতীশ
  • প্রতি + ঈক্ষা = প্রতীক্ষা
  • অধি + ঈশ্বর = অধীশ্বর
  • অভি + ইপ্সা =অভীপ্সা
  • দিল্লি + ঈশ্বর = দিল্লীশ্বর
  • সতী + ইন্দ্র = সতীন্দ্র
  • শচী + ইন্দ্র = শচীন্দ্র
  • সুধী + ইন্দ্র = সুধীন্দ্র
  • মহী + ইন্দ্র = মহীন্দ্র
  • যোগী + ইন্দ্র = যোগীন্দ্র
  • ফণী + ইন্দ্র = ফণীন্দ্র
  • মহী + ইন্দ্র = মহীন্দ্র
  • সতী + ঈশ =সতীশ
  • শ্রী + ঈশ = শ্রীশ
  • ফণী + ঈশ্বর =ফণীশ্বর
  • মহী + ঈশ্বর = মহীশ্বর
  • পৃথ্বী + ঈশ = পৃথ্বীশ
  • অতি + অন্ত = অত্যন্ত
  • বি + অবস্থা = ব্যবস্থা
  • আদি + অন্ত = আদ্যন্ত
  • অতি + অধিক = অত্যধিক
  • যদি + অপি = যদ্যপি
  • পরি + অন্ত =পর্যন্ত
  • অধি + অক্ষ = অধ্যক্ষ
  • প্রতি + অহ = প্রত্যহ
  • গতি + অন্তর = গত্যন্তর
  • পরি + অন্ত = পর্যন্ত
  • ইতি + আদি = ইত্যাদি
  • অতি +আচার = অত্যাচার
  • প্রতি + আবর্তন = প্রত্যাবর্তন
  • প্রতি + আশা = প্রত্যাশা
  • অতি + আশ্চর্য = অত্যাশ্চর্য
  • অতি + উক্তি = অত্যুক্তি
  • প্রতি + উত্তর = প্রত্যুত্তর
  • অভি + উত্থান =অভ্যুত্থান
  • প্রতি + উপকার = প্রত্যুপকার
  • উপরি + উপরি = উপর্যুপরি
  • প্রতি + ঊষ = প্রত্যূষ
  • অথি + ঊর্ধ্ব = অত্যূর্থ
  • মসী + আধার =মস্যাধার
  • প্রতি + এক = প্রত্যেক
  • অতি + ঐশ্বর্য = অতৈশ্বর্য
  • নদী + অম্বু = নদ্যম্বু
  • মরু +উদ্যান = মরূদ্যান
  • কটু + উক্তি = কটূক্তি
  • সু + উক্ত =সূক্ত
  • অনু+ উদিত = অনূদিত
  • বহু + ঊর্ধ্ব = বহূর্ধ্ব
  • লঘু+ ঊর্মি = লঘূর্মি
  • তনু +ঊর্ধ্ব =তনূর্ধ্ব
  • তরু + ঊর্ধ্ব = তরূর্ধ্ব
  • বধূ + উৎসব = বধূৎসব
  • বধূ + উক্তি = বধূক্তি
  • বধূ + উচিত = বধূচিত
  • ভূ+ ঊর্ধ্ব = ভূর্ধ্ব
  • সরযূ + ঊর্মি = সরযূর্মি
  • সু + অল্প = স্বল্প
  • অনু + অয় = অন্বয়
  • পশু + অধম = পশ্বধম
  • মনু + অন্তর = মন্বন্তর
  • সু + আগত = স্বাগত
  • পশু + আচার = পশ্বাচর
  • অনু + ইত =অন্বিত
  • তনু + ঈ = তন্বী
  • অনু + ঈক্ষা = অন্বীক্ষা
  • গুরু + ঈ = গুর্বী
  • অনু+ এষণ = অন্বেষণ
  • পিতৃ + অনুমতি =পিত্রনুমতি
  • পিতৃ+ আলয় = পিত্রালয়
  • মাতৃ + আদেশ =মাত্রাদেশ
  • মাতৃ + ইচ্ছা =মাত্রিচ্ছা
  • পিতৃ + আদেশ = পিত্রাদেশ
  • নে + অন = নয়ন
  • শে + অন = শয়ন
  • নৈ + অক = নায়ক
  • গৈ + অক = গায়ক
  • পো + অন = পবন
  • লো + অন = লবণ
  • পেী + অক = পাবক
  • গো + আদি = গবাদি
  • গো + এষণা = গবেষণা
  • পো +ইত্র = পবিত্র
  • নেী+ ইক = নাবিক
  • ভৌ+ উ = ভাবুক

 

ব্যঞ্জনসন্ধি (বাংলা)

স্বরে-ব্যঞ্জনে, ব্যঞ্জনে-স্বরে ব্যঞ্জনে-ব্যঞ্জনে যে সন্ধি হয় তাকে ব্যঞ্জন সন্ধি বলে। প্রকৃত বাংলা ব্যঞ্জন সন্ধি সমীভবনের নিয়মেই হয়ে থাকে।

ব্যঞ্জনসন্ধির (তৎসম) বিভিন্ন নিয়ম

ব্যঞ্জন সন্ধিকে (তৎসম) তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

ক. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি:

১. ক্, চ্, ট্, ত্, প্ এর পরে স্বরধ্বনি থাকলে সেগুলো যথাক্রমে গ্, জ্, ড্ (ডু), দ্, ব্ হয়। পরবর্তী স্বরধ্বনিটি পূর্ববর্তী ব্যঞ্জনধ্বনির সাথে যুক্ত হয়। যেমন-

ক্+অ=গ → দিক্‌+অন্ত = দিগন্ত,বাক্+আড়ম্বর = বাগাড়ম্বর

চ্+অ = জ → ণিচ্‌ + অন্ত = ণিজন্ত, অচ্‌+অন্ত = অজন্ত

ট্+আ = ড → ষট্+আনন = ষড়ানন

ত্+অ= দ→ তৎ+অবধি = তদবধি

প্+অ = ব→ সুপ+অন্ত= সুবন্ত

 

খ. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:

১. স্বরধ্বনির পর ছ থাকলে উক্ত ব্যঞ্জনধ্বনিটি দ্বিত্ব (চ্ছ) হয়। যেমন-

অ+ছ =চ্ছ → এক+ছাত্র = একচ্ছত্র

আ+ছ =চ্ছ → কথা+ছলে = কথাচ্ছলে

ই+ছ=চ্ছ → পরি+ছদ = পরিচ্ছদ

 

গ. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:

১. ত্ ও দৃ এর পর চ্ ও ছ্ থাকলে ত্ ও দৃ স্থানে চ্ হয়। যেমন-

ত + চ = চ্চ→সৎ+চিন্তা = সচ্চিন্তা

ত+ছ = চ্ছ→উৎ+ছেদ = উচ্ছেদ

দ+চ = চ্চ→বিপদ + চয় = বিপচ্চয়

দ+ছ =চ্ছ→বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া

 

২. ত্ ও দৃ- এরপর জ্ ও ঝ্ থাকলে ত্ ও দৃ এর স্থানে জ্ হয়। যেমন-

ত+জ = জ্জ → সৎ+জন = সজ্জন

দ+জ = জ্জ →বিপদ+জাল = বিপজ্জাল

ত+ঝ = জ্ঝ → কুৎ+ঝটিকা = কুজ্ঝটিকা

 

৩. ত্ ও দৃ এরপর শৃ থাকলে ত্ ও দৃ এর স্থলে চ্ এবং শ এর স্থলে ছ উচ্চারিত হয়। যেমন-

ত+শ = চ+ছ = চ্ছ→উৎ+শ্বাস = উচ্ছ্বাস,উৎ+শৃঙ্খল = উচ্ছৃঙ্খল, চলৎ+শক্তি = চলচ্ছক্তি

৪. ত্ ও দৃ এর পর ড্ থাকলে ত্ ও দৃ এর স্থানে ড্ হয়। যেমন-

ত্+ড = ড্ড → উৎ+ডীন = উড্ডীন,বৃহৎ+ঢক্কা = বৃহড্ ঢক্কা।

 

৫. ত্ ও দূ এর পর হ থাকলে ত্ ও দৃ এর স্থলে দ এবং হ এর স্থলে ধ্ হয়। যেমন-

ত্+হ = দ+ধ = দ্ধ→ উৎ+হার= উদ্ধার।

দৃ+হ = দৃ+ধ = দ্ধ → পদ্+হতি = পদ্ধতি।

৬. ত্ ও দ্ এর পর ল্ থাকলে ত্ ও দৃ এর স্থলে ল উচ্চারিত হয়। যেমন-

ত্+ল = ল্ল → উৎ+লাস = উল্লাস

উৎ+লেখ = উল্লেখ

উৎ+লিখিত = উল্লিখিত

উৎ+লঙ্ঘন = উল্লঙ্ঘন

 

৭. বর্গের প্রথম ধ্বনি আগে থাকলে এবং পরে বর্গের তৃতীয় ও চতুর্থ ধ্বনি বা য/র/ল/ব/হ থাকলে প্রথম ধ্বনিটি তৃতীয় ধ্বনিতে পরিণত হয়। যেমন-

ক্+দ্ = গ+দ্→ বাক্+দান = বাগদান

ট্+য= ড+য্ → ষট্+যন্ত্র = ষড়যন্ত্র ।

ত্+ঘ = দ্+ঘ → উৎ+ঘাটন = উদ্ঘাটন

ত্+য = দ্+য → উৎ+যোগ = উদ্যোগ

ত্+ব = দ্+ব → উৎ+বন্ধন = উদ্বন্ধন

ত্+র = দৃ+র → তৎ+রূপ = তদ্রূপ

 

৮. ঙ, ঞ, ণ, ন, ম পরে থাকলে পূর্ববর্তী অঘোষ অল্পপ্রাণ স্পর্শধ্বনি সেই বর্গীয় ঘোষ স্পর্শধ্বনি কিংবা নাসিক্যধ্বনি হয়। যেমন-

ক্+ন = গঙ+ন→ দিক্+নির্ণয় = দিগ্‌নির্ণয় বা দিঙনির্ণয়

ত্+ম = দ/ন+ম→ তৎ+মধ্যে = তন্মধ্যে

এরূপ ক্ষেত্রে সাধারণত নাসিক্য ব্যঞ্জনই বেশি প্রচলিত। যেমন- বাক্+ময় = বাঙ্ ময়, তৎ+ময় = তন্ময়

 

৯. ম্ এর পর যে কোনো বর্গীয় ধ্বনি থাকলে ম্ ধ্বনিটি সেই বর্গের নাসিক্য ধ্বনি হয়। যেমন-

ম্+ক = ঙ+ক → শম্+কা = শঙ্কা

ম্+চ = ঞ+চ → সম্+চয় = সঞ্চয়

ম্+ত = ন+ত → সম্+তাপ = সন্তাপ

 

১০.ম এর পর অন্তঃস্থ ধ্বনি য, র, ল, ব কিংবা শ, ষ, শ, হ থাকলে ম্ স্থলে অনুস্বার (ং) হয়।যেমন-

সম্+যম = সংযম

সম্+লাপ = সংলাপ

সম্+বাদ = সংবাদ

 

১১.চ্ ও জ্ এর পর নাসিক্য ধ্বনি তালব্য হয়। যেমন-

চ্+ন = চ+ঞ →যাচ+ না = যাচ্‌ঞা, রাজ্+নী = রাজ্ঞী

জ্+ন = জ+ঞ → যজ্+ন = যজ্ঞ

 

১২. দ্ ও ধ্ এর পরে ক, চ, ট, ত, প, খ, ছ, ঠ, প, ফ থাকলে দ্ ও ধ্ স্থলে অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি হয়। যেমন-

তদ্+কাল= তৎকাল

ক্ষুধ্+পিপাসা = ক্ষুৎপিপাসা

 

১৩. দৃ কিংবা ধূ এর পরে স্ থাকলে দূ ও ধূ স্থলে অঘোষ অল্পপ্রাণ ধ্বনি হয়। যেমন-

বিপদ্+সংকুল = বিপৎসংকুল, তদ্+সম = তৎসম

 

১৪. ষ্ এর পর ত্ বা থ্ থাকলে যথাক্রমে ত্ ও থ্ স্থানে ট ও ঠ হয় । যেমন-

  • কৃষ+তি = কৃষ্টি
  • আকৃষ্+ত = আকৃষ্ট
  • গুরুত্বপূর্ণ ব্যঞ্জনসন্ধির (বাংলা) উদাহরণ

  • এক+এক = একেক
  • কয়+এক = কয়েক
  • শাক্‌+ভাত =শাভাত
  • যত+দিন = যদ্দিন
  • তখন+ই = তখনই
  • মাস+এক = মাসেক
  • পাঁচ+জন = পাঁজ্জন
  • টাকা+শাল = টাকশাল
  • ছোট+দা = ছোড়দা।
  • যা+ইচ্ছা+তাই = যাচ্ছেতাই
  • জাতি+অভিমান = জাত্যভিমান
  • ঘোড়া+দৌড় = ঘোড়দৌড়
  • কাঁচা+কলা = কাঁচকলা
  • নাতি+বৌ = নাতবৌ।
  • বোন+আই= বোনাই
  • চুন+আরি = চুনারি
  • তিল+এক = তিলেক
  • বার+এক = বারেক
  • তিন+এক= তিনেক
  • পাঁচ+শ = পাঁশ্শ
  • সাত+শ = সাশ্শ
  • পাঁচ+সিকা = পাঁশুশিকা
  • নাত+জামাই = নাজ্জামাই (ত্+জ=জ্জ)
  • বদ্‌+জাত= বজ্জাত
  • হাত+ছানি = হাচ্ছানি
  • আর্+না = আন্না
  • চার্+টি= চাট্টি
  • ধর্+না = ধন্না
  • দুর্+ছাই = দুচ্ছাই
  • ব্যঞ্জন সন্ধির প্রকারভেদ

ব্যঞ্জন সন্ধিকে (তৎসম) তিন ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

ক. ব্যঞ্জনধ্বনি + স্বরধ্বনি:
  • দিক্‌+অন্ত = দিগন্ত
  • বাক্‌+আড়ম্বর = বাগাড়ম্বর
  • প্রাক্+উক্ত = প্রাগুক্ত
  • ণিচ্ +অন্ত = ণিজন্ত
  • অচ্‌+অন্ত = অজন্ত
  • ষট্‌+আনন = ষড়ানন
  • তৎ+অবধি = তদবধি
  • সুপ+অন্ত = সুবন্ত ।
  • সৎ+উপদেশ = সদুপদেশ
  • ষট+অঙ্গ = ষড়ঙ্গ
  • ষট্ +ঋতু = ষড়ঋতু
  • ষট্+ঐশ্বর্য = ষড়ৈশ্বর্য
  • সৎ+অৰ্থক = সদর্থক
  • সৎ+ইচ্ছা = সদিচ্ছা
  • মৃৎ+অঙ্গ = মৃদঙ্গ
  • শরৎ+ইন্দু = শরদিন্দু
  • জগৎ+ইন্দ্ৰ = জগদিন্দ্র
  • সুপ+অন্ত = সুবন্ত
  • বাক্‌+ঈশ = বাগীশ
  • তৎ+অন্ত = তদন্ত
  • কৃৎ+অন্ত = = কৃদন্ত
  • সৎ+উপায় = সদুপায়
  • সৎ+আনন্দ = সদানন্দ

খ. স্বরধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
  • এক+ছত্র = একচ্ছত্র
  • কথা+ছলে = কথাচ্ছলে।
  • পরি+ছদ = পরিচ্ছদ।
  • প্র+ছদ = প্রচ্ছদ
  • বৃক্ষ+ছায়া = বৃক্ষচ্ছায়া
  • মুখ+ছবি = মুখচ্ছবি
  • আ+ছন্ন = আচ্ছন্ন
  • আ+ছাদন = আচ্ছাদন
  • বি+ছেদ = বিচ্ছেদ
  • পরি+ছন্ন = পরিচ্ছন্ন
  • পরি+ছেদ = পরিচ্ছেদ
  • বি+ছিন্ন = বিচ্ছিন্ন
  • তরু+ছায়া = তরুচ্ছায়া
  • অঙ্গ+ছেদ = অঙ্গচ্ছেদ
  • আলোক+ছটা = আলোকচ্ছটা
  • প্রতি+ছবি = প্রতিচ্ছবি
  • প্র+ছদ = প্রচ্ছদ
  • আ+ছাদন = আচ্ছাদন
  • স্ব+ছন্দে = স্বচ্ছন্দে
  • অনু+ছেদ = অনুচ্ছেদ

গ. ব্যঞ্জনধ্বনি + ব্যঞ্জনধ্বনি:
  • সৎ+চিন্তা = সচ্চিন্তা
  • উৎ+ছেদ = উচ্ছেদ।
  • বিপদ + চয় = বিপচ্চয়
  • বিপদ + ছায়া = বিপচ্ছায়া
  • চলৎ+চিত্র = চলচ্চিত্র
  • বিপদ+চিন্তা = বিপচ্চিন্তা
  • তদ্+চিত্র = তচ্চিত্র
  • উৎ+ছিন্ন = উচ্ছিন্ন
  • তদ্+ছবি = তচ্ছবি
  • উৎ+চারণ = উচ্চারণ
  • বিপদ্+জনক = বিপজ্জনক
  • শরৎ+চন্দ্র = শরচ্চন্দ্র
  • সৎ+চরিত্র = সচ্চরিত্র
  • তৎ+ছবি = তচ্ছবি
  • কুৎ+ঝটিকা = কুজ্ঝটিকা
  • তদ্‌+জন্য = তজ্জন্য
  • জগৎ+জীবন = জগজ্জীবন
  • উৎ+জ্বল = উজ্জ্বল
  • যাবৎ+জীবন = যাবজ্জীবন
  • বিপদ্+ঝঞ্ঝা = বিপজঝ্ঞা
  • উৎ+শ্বাস = উচ্ছ্বাস
  • উৎ+শৃঙ্খল =উচ্ছৃঙ্খল
  • চলৎ + শক্তি = চলচ্ছক্তি
  • উৎ+ডীন = উড্ডীন
  • বৃহৎ+ঢক্কা = বৃহড্‌ঢক্কা
  • উৎ+হার= উদ্ধার
  • পদ্+হতি = পদ্ধতি
  • উৎ+হৃত = উদ্ধৃত
  • তদ্‌+শক্তি = তচ্ছদ্ভি
  • তদ্+হিত = তদ্ধিত
  • উৎ+লাস = উল্লাস
  • উৎ+লেখ = উল্লেখ
  • উৎ+লঙ্ঘন = উল্লঙ্ঘন।
  • উৎ+লিখিত = উল্লিখিত
  • বাক্‌+দান = বাগদান
  • ষট্‌+যন্ত্র = ষড়যন্ত্র।
  • উৎ+ঘাটন = উদ্ঘাটন
  • উৎ+যোগ = উদ্যোগ
  • উৎ+বন্ধন = উদ্বন্ধন
  • তৎ+রূপ = তদ্রূপ
  • দিক্‌+নির্ণয় = দিগ্‌নির্ণয়
  • তৎ+মধ্যে = তন্মধ্যে
  • বাক্‌+ময় = বাঙ্ ময়
  • তৎ+ময় = তন্ময়
  • উৎ+নয়ন = উন্নয়ন
  • উৎ+নতি = উন্নতি
  • জগৎ+নাথ = জগন্নাথ।
  • চিৎ+ময় = চিন্ময 

 

গুরুত্বপূর্ণ ব্যঞ্জনসন্ধির উদাহরণ


  • জগৎ+নাথ = জগন্নাথ
  • তদ্+নিমিত্ত = তন্নিমিত্ত
  • ক্ষুধ+নিবৃত্তি = ক্ষুন্নিবৃত্তি
  • মৃৎ+ময় = মৃন্ময়
  • সৎ+মার্গ = সন্মার্গ
  • তদ্+মাত্র = তন্মাত্র
  • তদ্‌+মধ্যে = তন্মধ্যে
  • তদ্+লিখিত = তল্লিখিত
  • হৃদ্‌+পিণ্ড = হৃৎপিণ্ড
  • তদ্+সম : = তৎসম
  • ক্ষু+কাতর = ক্ষুৎকাতর
  • বু+ত = বুদ্ধ
  • লভ্‌+ত = লব্ধ
  • বিমু+ত = বিমুগ্ধ
  • সম্+খ্যা = সংখ্যা
  • দু+ত = দুগ্ধ
  • সম্+ঘ = সংঘ
  • সম্ + চয় = সঞ্চয়
  • কিম্+চিৎ = কিঞ্চিৎ
  • সম্+পূর্ণ = সম্পূর্ণ
  • সম্+জাত = সঞ্জাত
  • সম্+জয় = সঞ্জয়
  • গম্+তব্য = গন্তব্য
  • কিম্‌+তু = কিন্তু
  • সম্+ধান = সন্ধান
  • সম্+ধি = সন্ধি
  • সম্+প্রদান = সম্প্রদান
  • সম্+বোধন = সম্বোধন
  • সম্+বন্ধ = সম্বন্ধ
  • সম্+মিলন = সম্মিলন
  • সম্+মান = সম্মান
  • সম্+যত = সংযত
  • সম্+যুক্ত = সংযুক্ত
  • সম্+রাগ = সংরাগ
  • সম্+লগ্ন = সংলগ্ন
  • সম্+হত = সংহত
  • সম্+বর্ধনা = সংবর্ধনা
  • ষট্+নবতি = ষণ্নবতি
  • ষট্‌+মাস = ষণ্মাস (ষাণ্মাসিক)
  • দিক্‌+গজ = দিগ্‌গজ
  • অপ্‌+ময় = অম্ময়
  • দিক্‌+বিজয় = দিগ্‌বিজয়
  • বাক্‌+জাল = বাগ্‌জাল
  • দিক্‌+দর্শন = দিগ্‌দর্শন
  • বাক্‌+দত্তা = বাগ্দত্তা
  • বাক্‌+ধারা = বাগধারা
  • দিক্‌+বিজয় = দিগ্‌বিজয়
  • দিক্‌+ভ্রান্ত = দিগ্‌ভ্রান্ত
  • ষট্‌+জ = ষড়জ
  • ষট্‌+ভুজ = ষড়ভুজ
  • উৎ+গত = উদ্‌গত
  • উৎ+যম = উদ্যম
  • উৎ+বেগ = উদ্বেগ
  • জগৎ+বিখ্যাত = জগদ্বিখ্যাত
  • উৎ+ভিদ = উদ্ভিদ
  • তৎ+ভব = তদ্ভব
  • সৎ+ভাব = সদ্ভাব
  • অপ্‌+জ = অজ
  • অপ্‌+ধি = অব্ধি
  • বাক্‌+যন্ত্র = বাগযন্ত্র
  • উৎ+যত = উদ্যত
  • উৎ+স্থিত = উত্থিত
  • উৎ+যাপন = উদ্‌যাপন
  • উৎ+ভব = উদ্ভব
  • উৎ+স্থিতি = উত্থিতি
  • বাক্‌+দেবী = বাগ্‌দেবী
  • উৎ+গার = উদ্‌গার 

 

বিশেষ নিয়মে সাধিত কতগুলো ব্যঞ্জনসন্ধি :

  • উৎ+স্থান =উত্থান
  • সম্+কার = সংস্কার
  • উৎ+স্থাপন =উত্থাপন
  • সমৃ+কৃত = সংস্কৃত
  • উৎ+স্থাপিত = উত্থাপিত
  • পরি+কার =পরিষ্কার
  • সম+কৃতি = সংস্কৃতি
  • পরি+কৃত = পরিষ্কৃত

 

মনে রাখার উপায়

পণ্ডিতগণ সংস্কৃত ভাষাকে পরিষ্কার ও সংস্কার করে বাংলাতে উত্থাপন করেন। উত্থাপিত এই ভাষার উত্থান আমাদের সংস্কৃতিকে পরিষ্কৃত করেছে।

 

বিসর্গ সন্ধি

বিসর্গের সঙ্গে স্বরধ্বনি বা ব্যঞ্জনধ্বনির মিলনে যে সন্ধি হয়, তাকে বিসর্গ সন্ধি বলে।

বিসর্গ সন্ধিকে দুই ভাগে ভাগ করা যায় যথা:

১. র্-জাত বিসর্গ: র স্থানে যে বিসর্গ হয় তাকে র-জাত বিসর্গ বলে।যেমন-অন্তর-অন্তঃ,প্রাতর-প্রাতঃ,পুনর-পুনঃ ইত্যাদি।

২. স্-জাত বিসর্গ: স স্থানে যে বিসর্গ হয় তাকে স-জাত বিসর্গ বলে।যেমন-নমস্-নমঃ,পুরস-পুরঃ,শিরস্-শিরঃ ইত্যাদি ।

 

বিসর্গ সন্ধি সহজে মনে রাখার উপায়

সন্ধি গঠিত শব্দসমূহ যদি আমরা একটু বিশেষভাবে খেয়াল করি তাহলে দেখতে পাব যে , যেখানে “ো ” ও-কার আছে সেখানে ও-কারের পরিবর্তে বিসর্গ (ঃ) যোগ করে সন্ধি বিচ্ছেদ করতে হচ্ছে। যেমন- অধোগতি= অধঃ+গতি, এর ধ এর সাথে “ো”ও-কার আছে সেই ও-কারের পরিবর্তে বিসর্গ হচ্ছে।এরুপ –বয়োজ্যেষ্ঠ, ত্রয়োদশ, শিরোধার্য ইত্যাদি।তেমনিভাবে “র”,“রেফ”,“শ”,“ষ”,“স”, “ঃ” এর পরিবর্তে বিসর্গ ব্যবহৃত হচ্ছে। যেমন- নিরীক্ষণ = নিঃ+ঈক্ষণ , দুর্গত = দুঃ+গত, দুশ্চিন্তা = দুঃ+চিন্তা , চতুষ্পদ = চতুঃ+পদ , তিরস্কার = তিরঃ+কার , অধঃক্রম = অধঃ+ক্রম ।কাজেই যেখানে “ও-কার”, “র”,“রেফ”,“শ”,“ষ”,“স”, “ঃ” থাকবে; ধরে নিতে হবে সেটা বিসর্গ সন্ধি।তাহলে সহজেই আমরা বিসর্গ বসিয়ে এই সন্ধি বিচ্ছেদটা করতে পারব। আবার অনেক সময় কোন কিছুর পরিবর্তন ছাড়া অতিরিক্ত বিসর্গ যোগ করে ও সন্ধি বিচ্ছেদ করতে হচ্ছে।তবে এগুলো খুব কম। যেমন- অতএব = অতঃ+এব।

 

বিসর্গসন্ধির (তৎসম) বিভিন্ন নিয়ম

বিসর্গ সন্ধি দুইভাবে সাধিত হয়। যথা:

ক. বিসর্গ ও স্বরের সন্ধি:

১. অ-ধ্বনির পরস্থিত (অঘোষ উষ্মধ্বনি) বিসর্গের পর অ ধ্বনি থাকলে অ+ঃ+অ মিলে ও-কার হয়। যেমন-

ততঃ+অধিক = ততোধিক,বয়ঃ+অধিক = বয়োধিক

 

খ. বিসর্গ ও ব্যঞ্জনের সন্ধি:

১. অ-কারের পরস্থিত স্ জাত বিসর্গের পর ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ ব্যঞ্জনধ্বনি, নাসিক্য ধ্বনি কিংবা অন্তস্থ য, অন্তস্থ ব, র, ল, হ থাকলে অ-কার ও স্ জাত বিসর্গ উভয় স্থলে ও-কার হয়। যেমন-

মনঃ+রম = মনোরম

তিরঃ+ধান = তিরোধান

মনঃ+হর = মনোহর

তপঃ+বন = তপোবন

 

২. অ-কারের পরস্থিত র্ জাত বিসর্গের পর উপর্যুক্ত ধ্বনিসমূহের কোনোটি থাকলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়। যেমন-

অন্তঃ+গত = অন্তর্গত

পুনঃ+উক্ত = পুনরুক্ত

অন্তঃ+ধান = অন্তৰ্ধান

অহঃ+অহ = অহরহ

 

৩. অ ও আ ভিন্ন অন্য স্বরের পরে বিসর্গ থাকলে এবং তার সাথে অ, আ, বর্গীয় ঘোষ অল্পপ্রাণ ও ঘোষ মহাপ্রাণ নাসিক্য ধ্বনি কিংবা য, র, ল, ব, হ এর সন্ধি হলে বিসর্গ স্থানে ‘র’ হয়। যেমন-

নিঃ+আকার = নিরাকার

দুঃ+যোগ = দুর্যোগ

আশীঃ+বাদ = আশীর্বাদ

 

৪. বিসর্গের পর অঘোষ অল্পপ্রাণ কিংবা মহাপ্রাণ তালব্য ব্যঞ্জন থাকলে বিসর্গের স্থলে তালব্য শিশ ধ্বনি হয়, অঘোষ অল্পপ্রাণ কিংবা অঘোষ মহাপ্রাণ মূর্ধন্য ব্যঞ্জন থাকলে বিসর্গ স্থলে মূর্ধন্য শিশ ধ্বনি হয়, অঘোষ অল্পপ্রাণ কিংবা অঘোষ মহাপ্রাণ দন্ত্য ব্যঞ্জনের স্থলে দন্ত্য শিশ ধ্বনি হয়। যেমন-

ঃ=চ/ছ = শ+চ/ছ → নিঃ+চয় = নিশ্চয়,শিরঃ+ছেদ = শিরশ্ছেদ

ঃ+ট/ঠ = ষ+ট/ঠ → ধনুঃ+টঙ্কার = ধনুষ্টঙ্কার,নিঃ+ঠুর = নিষ্ঠুর

ঃ+ত/থ = স+ত/থ → দুঃ+তর = দুস্তর,দুঃ+থ = দুস্থ

 

৫. অঘোষ অল্পপ্রাণ ও অঘোষ মহাপ্রাণ কণ্ঠ্য কিংবা ওষ্ঠ্য ব্যঞ্জন (ক, খ, প, ফ) পরে থাকলে অ বা আ ধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ দন্ত্য শিশ ধ্বনি (স্) হয় এবং অ বা আ ব্যতীত অন্য স্বরধ্বনির পরস্থিত বিসর্গ স্থলে অঘোষ মূর্ধন্য শিশ্ ধ্বনি (ষ) হয়। যেমন-

অ এর পরে বিসর্গ ঃ+ক = স্+ক → নমঃ+কার = নমস্কার

অ এর পরে বিসর্গ ঃ+খ = স্+খ → পদঃ+খলন = পদস্খলন

ই এর পরে বিসর্গ ঃ+ক = ষ+ক → নিঃ+কর = নিষ্কর

উ এর পরে বিসর্গ ঃ+ক = ষ+ক → দুঃ+কর = দুষ্কর

৬. কোনো কোনো ক্ষেত্রে সন্ধির বিসর্গ লোপ হয় না। যেমন-

প্রাতঃ+কাল = প্রাতঃকাল,শিরঃ+পীড়া = শিরঃপীড়া, মনঃ+কষ্ট = মনঃকষ্ট

 

৭. যুক্ত ব্যঞ্জন ধ্বনি স্ত, স্থ কিংবা স্প পরে থাকলে পূর্ববর্তী বিসর্গ অবিকৃত থাকে অথবা লোপ পায়। যেমন-

দুঃ+স্থ = দুঃস্থ / দুস্থ নিঃ+স্তব্ধ = নিঃস্তব্ধ / নিস্তব্ধ,নিঃ+স্পন্দ = নিঃস্পন্দ / নিস্পন্দ

 

গুরুত্বপূর্ণ বিসর্গ সন্ধির উদাহরণ

  • অধঃ+গতি = অধোগতি
  • বয়ঃ+জ্যেষ্ঠ = বয়োজ্যেষ্ঠ
  • এয়ঃ+দশ = ত্রয়োদশ
  • শিরঃ+ধার্য = শিরোধার্য
  • মনঃ+নীত = মনোনীত
  • মনঃ+গত = মনোগত
  • সদ্যঃ+জাত = সদ্যোজাত
  • শিরঃ+দেশ = শিরোদেশ
  • মনঃ+নয়ন = মনোনয়ন
  • অধঃ+বদন = অধোবদন
  • সরঃ+বর = সরোবর
  • অকুতঃ+ভয় = অকুতোভয়
  • মনঃ+যোগ = মনোযোগ
  • যশঃ+লাভ = যশোলাভ
  • পুরঃ+হিত = পুরোহিত
  • অতঃ+এব = অতএব
  • নিঃ+রোগ = নীরোগ
  • নিঃ+অন্ন = নিরন্ন
  • বহিঃ+অঙ্গ = বহিরঙ্গ
  • নিঃ+আশা = নিরাশা
  • জ্যোতিঃ+ইন্দ্ৰ = জ্যোতিরিন্দ্র
  • নিঃ+ঈহ = নিরীহ
  • নিঃ+ঈক্ষণ = নিরীক্ষণ
  • নিঃ+উপায় = নিরুপায়
  • নিঃ+উপমা = নিরুপমা
  • দুঃ+অবস্থা = দুরবস্থা
  • চতুঃ+অঙ্গ = চতুরঙ্গ
  • দুঃ+আত্মা = দুরাত্মা
  • দুঃ+আশা = দুরাশা
  • দুঃ+উহ: = দুরূহ
  • অন্তঃ+অঙ্গ = অন্তরঙ্গ
  • প্রাতঃ+আশ = প্রাতরাশ
  • অন্তঃ+আত্মা = অন্তরাত্মা
  • অন্তঃ+ইত = অন্তরিত
  • অন্তঃ+ঈক্ষ = অন্তরীক্ষ
  • অন্তঃ+ঈপ = অন্তরীপ
  • পুনঃ+উত্থান = পুনরুত্থান
  • পুনঃ+উক্তি = পুনরুক্তি
  • অন্তঃ+গত = অন্তর্গত
  • দুঃ+গত = দুর্গত
  • দুঃ+ঘটনা = দুর্ঘটনা
  • নিঃ+ঘাত = নির্ঘাত
  • দুঃ+জন = দুর্জন
  • নিঃ+দিষ্ট = নির্দিষ্ট
  • চতুঃ+দিক = চতুর্দিক
  • নিঃ+ধারণ = নির্ধারণ
  • নিঃ+নয় = নির্ণয়
  • নিঃ+বাক = নির্বাক
  • নিঃ+মান = নির্মাণ
  • দুঃ+লভ = দুর্লভ
  • দুঃ+চিন্তা = দুশ্চিন্তা
  • মনঃ+তাপ = মনস্তাপ
  • নিঃ+পত্তি = নিষ্পত্তি
  • নিঃ+ফল = নিষ্ফল
  • চতুঃ+কোণ = চতুষ্কোণ
  • ভ্রাতুঃ+পুত্র = ভ্রাতুষ্পুত্র
  • পুরঃ+কার = পুরস্কার
  • বাচঃ+পতি = বাচস্পতি
  • মনঃ+ক্ষুণ্ন = মনঃক্ষুণ্ণ
  • দুঃ+শাসন = দুঃশাসন
  • দুঃ+স্বপ্ন = দুঃস্বপ্ন
  • মনঃ (মনস্) +ঈষা = মনীষা
  • দুঃ+নিবার = দুর্নিবার
  • অন্তঃ+ভুক্ত = অন্তর্ভুক্ত
  • নিঃ+যাতন = নির্যাতন
  • নিঃ+লজ্জ = নির্লজ্জ
  • নিঃ+ছিদ্র = নিশ্চিদ্ৰ
  • ইতঃ+ততঃ = ইতস্তত
  • আবিঃ+কার = আবিষ্কার
  • নিঃ+পন্ন = নিষ্পন্ন
  • দুঃ+কৃতি = দুষ্কৃতি
  • চতুঃ+পদ = চতুষ্পদ
  • তিরঃ+কার = তিরস্কার
  • মনঃ+কামনা = মনস্কামনা
  • অধঃ+ক্রম = অধঃক্রম
  • অতঃ+পর = অতঃপর
  • নিঃ+শেষ = নিঃশেষ
  • নিঃ+সন্দেহ = নিঃসন্দেহ

 

নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি

যার কোন পাতন (যুক্তি) নেই তাকে বলে নিপাতন। অর্থাৎ বাংলা ব্যাকরণে কোন বিষয়বস্তু যখন কোন যুক্তি দ্বারা খন্ডন করা যায় না তখন তাকে নিপাতন বলে। এটা কিছুটা ইংরেজি Appropriate Preposition এর মত। বাংলা ব্যাকরণ তথা ভাষায় ও এমন নিপাতনে সিদ্ধ বহুল শব্দ রয়েছে। যেমন : সন্ধি, ণত্ব বিধান ষত্ব বিধান, সমাস ইত্যাদি। সন্ধির প্রচলিত নিয়ম না মেনে যে সন্ধি হয় তাকে নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি বলে। নিপাতনে সিদ্ধ সন্ধি মনে রাখার সহজ উপায় নিচে দেওয়া হল:

নিপাতনে সিদ্ধ স্বরসন্ধি

কুল+অটা= কুলটা

প্র+ঊঢ় = প্রৌঢ়

অন্য+অন্য = অন্যান্য

গো+অক্ষ = গবাক্ষ

মার্ত+অন্ড= মার্তণ্ড

শার+অঙ্গ = শারঙ্গ

শুদ্ধ+ ওদন = শুদ্ধোদন

গো+ইন্দ্র= গবেন্দ্র

স্ব+ ঈর = স্বৈর

অক্ষ+ ঊহিনী = অক্ষৌহিণী

বিম্ব+ ওষ্ঠ = বিম্বোষ্ঠ

 

মনে রাখার উপায় :

প্রৌঢ় (বৃদ্ধ ) কুলটা অন্যান্য দের সঙ্গে নিয়ে গবাক্ষের ( জানালা) পাশে মার্তণ্ডের (সূর্য) দিকে তাকিয়ে শারঙ্গ (বাদ্যযন্ত্র) বাজাচ্ছে। অন্যদিকে শুদ্ধোদন (দেবতা) গবেন্দ্রকে ( গরুর দেবতা) সঙ্গে নিয়ে স্বৈর-চারীভাবে অক্ষৌহিনী ( সেনাবাহিনী) সহযোগে বিম্বোষ্ঠ ( লাল ঠোট) রমনীকে দেখতে যাচ্ছে।

 

নিপাতনে সিদ্ধ ব্যঞ্জনসন্ধি

বন+পতি = বনস্পতি

বৃহৎ+পতি = বৃহস্পতি

এক+দশ= একাদশ

ষট্+দশ = ষোড়শ

তৎ+ কর = তস্কর

পর+পর = পরস্পর

গো+পদ= গোষ্পদ

মনস্+ঈসা = মনীষা

হরি + চন্দ= হরিশ্চন্দ্র

আ+ চর্য = আশ্চর্য

পতৎ+ অঞ্জলি = পতঞ্জলি

দিব+ লোক = দ্যুলোক

প্রায়+ চিত্ত = প্রায়শ্চিত্ত

 

মনে রাখার উপায় : বনস্পতির বয়স ষোড়শ। বৃহস্পতির বয়স একাদশ। তারা পরস্পর তস্কর (চোর)। একদিন তাদের গোষ্পদ চুরি করতে দেখে ফেলে নায়িকা মনীষা। হিন্দু হয়ে গোষ্পদ চুরি ব্যাপার টায় আশ্চর্য হয়ে মনীষা চলে গেল নায়ক হরিশচন্দ্রের কাছে। হরিশচন্দ্র ও বুঝতে পারলো না। তারা উভয়ই চলে গেল পরিচালক পতঞ্জলীর কাছে। পতঞ্জলী বলল, যারা গোষ্পদ চুরি করে তাদের প্রায়শ্চিত্ত করতে হয় এবং তারা দ্যুলোকে প্রবেশ করতে পারে না।

 

নিপাতনে সিদ্ধ বিসর্গসন্ধি

প্রাতঃ + কাল = প্রাতঃকাল

শিরঃ + পীড়া = শিরঃপীড়া

অহঃ + অহ = অহরহ

ভাঃ + কর = ভাস্কর

মনঃ + কষ্ট = মনঃকষ্ট

বাচঃ + পতি = বাচস্পতি

অহঃ + নিশা = অহর্নিশ

আঃ+পদ = আস্পদ

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.