Header Ads

মুনশি একাডেমি

শিক্ষা ও সাহিত্যভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
নোট ও সাজেশন বিসিএস ও এনটিআরসিএ বি.এড ও ব্যাংক প্রস্তুতি

চৈতী হাওয়া কবিতার ব্যাখ্যা। কাজী নজরুল ইসলাম। মুনশি আলিম

চৈতী হাওয়া কবিতার ব্যাখ্যা। কাজী নজরুল ইসলাম। মুনশি আলিম

 

চৈতী হাওয়া, চৈতী হাওয়া কবিতার ব্যাখ্যা, কাজী নজরুল ইসলাম, চৈতী হাওয়া কবিতা বিশ্লেষণ, Choiti Haoa, Choiti Haoa Poem Analysis, Kazi Nazrul Islam, Munshi Academy, মুনশি একাডেমি, Munshi Alim, চৈতী হাওয়া কবিতার মূলভাব, বাংলা কবিতা বিশ্লেষণ, নজরুল সাহিত্য, Choiti Haoa Nazrul, কবিতার লাইন টু লাইন ব্যাখ্যা

 

কাজী নজরুল ইসলামের এই অনবদ্য কবিতাটি তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের গভীর শোক ও বিরহগাথার এক দলিল। এটি মূলত তাঁর কনিষ্ঠ পুত্র বুলবুল এবং প্রথম স্ত্রী নার্গিসের বিচ্ছেদ-স্মৃতির এক মিশ্র আখ্যান বলে অনেকে মনে করেন। তবে কবিতার মূল সুর হলো—হারিয়ে যাওয়া প্রিয়জনকে ফিরে পাওয়ার ব্যাকুলতা এবং প্রকৃতির ঋতুচক্রের মাঝে সেই স্মৃতির রোমন্থন। বিচ্ছেদ জীবনের কঠিন সত্য, আর সেই বিচ্ছেদ যখন মৃত্যু বা চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার রূপ নেয়, তখন স্মৃতির প্রতিটি পাতায় এক গভীর হাহাকার জন্মায়। নজরুলের এই কবিতায় আমরা দেখি প্রকৃতি কীভাবে প্রতিটি ঋতুতে—বিশেষ করে চৈত্র মাসে—হারানো মানুষের কথা মনে করিয়ে দেয়। 'রিনু' বা প্রিয়জনের অনুপস্থিতি কবিকে করে তুলেছে 'বাউল', যা আজ প্রতিটি বিরহী হৃদয়ের কণ্ঠস্বর।

নিচে কবিতাটির প্রতিটি স্তবকের লাইন বাই লাইন ব্যাখ্যা দেওয়া হলো:

 

স্তবক ১: হারানো মাণিক ও স্মৃতির দহন

হারিয়ে গেছ অন্ধকারে-পাইনি খুঁজে আর,

আজকে তোমার আমার মাঝে সপ্ত পারাবার!

আজকে তোমার জন্মদিন- / স্মরণ-বেলায় নিদ্রাহীন / হাতড়ে ফিরি হারিয়ে-যাওয়ার অকূল অন্ধকার!

এই-সে-হেথাই হারিয়ে গেছে কুড়িয়ে-পাওয়া হার!

ব্যাখ্যা: প্রিয়জন চিরতরে হারিয়ে গেছেন (মৃত্যু বা বিচ্ছেদ)। তাদের মাঝখানে এখন সাত সমুদ্রের দূরত্ব। আজ সেই প্রিয়জনের জন্মদিন, তাই কবি ঘুমাতে পারছেন না। অন্ধকারের মাঝে তিনি সেই মানুষকে হাতড়ে বেড়াচ্ছেন। যাকে তিনি ভাগ্যের দান হিসেবে ‘কুড়িয়ে’ পেয়েছিলেন, সেই অমূল্য রত্নটি (হার) আজ এখানেই হারিয়ে গেছে।

 

স্তবক ২: বিধাতার নিষ্ঠুরতা

শূন্য ছিল নিতল দীঘির শীতল কালো জল,

কেন তুমি ফুটলে সেথা ব্যথার নীলোৎপল?

আঁধার দীঘির রাঙলে মুখ, / নিটোল ঢেউ-এর ভাঙলে বুক,- / কোন পূজারী নিল ছিঁড়ে? ছিন্ন তোমার দল

ঢেকেছে আজ কোন্ দেবতার কোন সে পাষাণ-তল?

ব্যাখ্যা: কবির জীবন ছিল শূন্য এক দীঘির মতো। সেখানে সেই প্রিয়জন ‘নীল পদ্ম’ (নীলোৎপল) হয়ে ফুটেছিলেন। কিন্তু কোনো এক নিষ্ঠুর পূজারী (বিধাতা বা মৃত্যু) সেই ফুলটি ছিঁড়ে নিয়ে গেছে কোনো এক পাষাণ দেবতার চরণে নিবেদন করার জন্য। অর্থাৎ, অকালে প্রিয়জনের মৃত্যু বা প্রস্থান কবিকে ব্যথাতুর করেছে।

 

স্তবক ৩: পরপারের ঘাটে অপেক্ষা

অস্ত-খেয়ার হারামাণিক-বোঝাই-করা না’ / আসছে নিতুই ফিরিয়ে দেওয়ার উদয়-পারের গাঁ

ঘাটে আমি রই বসে / আমার মাণিক কই গো সে? / পারাবারের ঢেউ-দোলানি হানছে বুকে ঘা!

আমি খুঁজি ভিড়ের মাঝে চেনা কমল-পা!

ব্যাখ্যা: মৃত্যু বা সময়ের নৌকা প্রতিদিন পরপার থেকে যাত্রী নিয়ে আসে এবং নিয়ে যায়। কবি ঘাটে বসে আছেন তাঁর সেই হারানো ‘মাণিক’-এর আশায়। ঢেউয়ের শব্দ কবির বুকে আঘাতের মতো লাগে। হাজারো মানুষের ভিড়ে তিনি কেবল সেই পরিচিত প্রিয় মানুষটির পা বা চিহ্ন খুঁজে বেড়ান।

 

স্তবক ৪ ও ৫: চৈত্রের প্রকৃতি ও হারানো স্পর্শ

বইছে আবার চৈতী হাওয়া, গুমরে ওঠে মন,

পেয়েছিলাম এমনি হাওয়ায় তোমার পরশন।...

পড়ছে মনে টগর চাঁপা বেল চামেলি জুঁই,

মধুপ দেখে যাদের শাখা আপনি যেত নুই।...

ব্যাখ্যা: চৈত্র মাস আসার সাথে সাথে কবির মন হু-হু করে ওঠে, কারণ এই ঋতুতেই তিনি প্রিয়জনের সান্নিধ্য পেয়েছিলেন। প্রকৃতির ফুলে ফুলে যে মাদকতা, তা কবিকে সেই প্রিয় মানুষের হাসির কথা মনে করিয়ে দেয়। কবি কল্পনা করছেন, প্রিয়জন যখন হাসতেন, তখন তার গাল গোলাপের মতো রাঙা হয়ে উঠত।

 

স্তবক ৬ ও ৭: সাঁওতালি জীবনের স্মৃতি ও রোমান্টিকতা

পিয়াল-বনায় পলাশ ফুলের গেলাস-ভরা মউ

খেতো বঁধুর জড়িয়ে গলা সাঁওতালিয়া বউ! / লুকিয়ে তুমি দেখতে তাই, / বলতে, ‘আমি অমনি চাই!’

ব্যাখ্যা: কবি একসময়কার গ্রামীণ ও সহজ-সরল প্রেমের স্মৃতি মনে করছেন। পলাশ বনের ধারে সাঁওতাল দম্পতির ভালোবাসা দেখে প্রিয়জন আবদার করতেন ঠিক তেমনি ভালোবাসার। কবি সেই চপল স্মৃতিগুলো মনে করে ব্যথিত হচ্ছেন।

 

স্তবক ৮ ও ৯: বিষণ্ণ দুপুর ও গোধূলি

ডাকত ডাহুক জল-পায়রা নাচত ভরা বিল,

জোড়া ভুরু ওড়া যেন আসমানে গাঙ-চিল...

উদাস দুপুর কখন গেছে, এখন বিকেল যায়,

ঘুম জড়ানো ঘুমতি নদীর ঘুমুর-পরা পায়।

ব্যাখ্যা: প্রিয়জনের চোখের নীল আর ভ্রুর সৌন্দর্য প্রকৃতির সাথে মিশে আছে। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হয়, সন্ধ্যা আসে। মন্দিরে শঙ্খ বাজে, মাঠের বাঁশিতে করুণ সুর (ভীমপলাশী রাগ) বাজে। এই সবকিছুর মাঝেই কবির একাকীত্ব আরও প্রকট হয়ে ওঠে।

 

স্তবক ১০ ও ১১: অনাদরের আক্ষেপ

বাউল আজি বাউল হলো আমরা তফাতে।

আম-মুকুলের গুঁজি-কাঠি দাও কি খোঁপাতে?...

কামরাঙারা রাঙল ফের / পীড়ন পেতে ঐ মুখের / স্মরণ করে চিবুক তোমার, বুকের তোমার ঠাম-

ব্যাখ্যা: কবি এখন সংসারত্যাগী বাউলের মতো দিশেহারা। প্রিয়জনের সাজগোজ, তার ডাবের জল দিয়ে মুখ মোছা—এসব ছোট ছোট কাজগুলো এখন কে করে দেয়? কামরাঙা বা জামরুল ফলেছে, কিন্তু সেই প্রিয় মানুষটি নেই বলে এসবের সমাদর করারও কেউ নেই।

 

স্তবক ১২: চোখের জলের মালা

করেছিলাম চাউনি চয়ন নয়ন হতে তোর,

ভেবেছিলুম গাঁথব মালা পাইনে খুঁজে ডোর!

সেই চাহনি নীল-কমল / ভরল আমার মানস-জল...

বক্ষে আমার দুলে আঁখির সাতনরী-হার লোর!

ব্যাখ্যা: প্রিয়জনের চোখের চাহনি দিয়ে কবি প্রেমের মালা গাঁথতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সেই চাহনি এখন কবির হৃদয়ে কাটার মতো বিঁধছে। গলার হারের বদলে এখন কবির বুকে ঝরছে ‘লোর’ বা চোখের জলের সাতনরী হার।

 

স্তবক ১৩ ও ১৪: পথ হারানো পথিক

তরী আমার কোন্ কিনারায় পাইনে খুঁজে কূল,

স্মরণ-পারের গন্ধ পাঠায় কমলা নেবুর ফুল!...

কোথায় তুমি কোথায় আমি চৈতে দেখা সেই,

কেঁদে ফিরে যায় যে চৈত- তোমার দেখা নেই!

ব্যাখ্যা: কবি জীবনের কূল খুঁজে পাচ্ছেন না। স্মৃতির গন্ধে তিনি দিশেহারা। চৈত্র মাস আবার এসেছে, কিন্তু যার সাথে দেখা হওয়ার কথা ছিল, সে নেই। কবি আক্ষেপ করছেন—তিনি কি এখনো কবির আশায় পথ চেয়ে আছেন, না কি অন্য কোথাও ঘর বেঁধেছেন?

 

স্তবক ১৫: পুনর্মিলনের অন্তিম আকাঙ্ক্ষা

পারাপারের ঘাটে প্রিয় রিনু বেঁধে না’,

এই তরীতে হয়ত তোমার পড়বে রাঙা পা।

আবার তোমার সুখ-ছোঁওয়ায় / আকুল দোলা লাগবে নায়,

এক তরীতে যাব মোরা আর-না-হারা গাঁ,

পারাপারের ঘাটে প্রিয় রিনু বেঁধে না’।।

ব্যাখ্যা: শেষ স্তবকে কবি এক আধ্যাত্মিক আকুতি জানিয়েছেন। তিনি মৃত্যুর ওপারে বা অন্য কোনো লোকে প্রিয়জনের সাথে মিলনের স্বপ্ন দেখছেন। তিনি বলছেন, ‘রিনু’ (প্রিয় সম্বোধন) যেন ঘাটে নৌকা বেঁধে রাখে। কবি বিশ্বাস করেন, জীবনের এই বিষাদময় যাত্রা শেষে তাঁরা এমন এক গ্রামে (আর-না-হারা গাঁ) পৌঁছাবেন যেখান থেকে আর কেউ কখনও হারিয়ে যায় না।


মূল উপজীব্য: এটি বিরহী হৃদয়ের এক হাহাকার, যেখানে প্রকৃতি, প্রেম এবং মৃত্যু একবিন্দুতে এসে মিলেছে। প্রিয়জনকে হারানোর বেদনা কবিকে উদাসীন করে তুললেও, শেষ পর্যন্ত তিনি এক স্বর্গীয় পুনর্মিলনের আশায় বুক বেঁধেছেন।

 

 কবিতা- চৈতী হাওয়া

কাজী নজরুল ইসলাম 

 

হারিয়ে গেছ অন্ধকারে-পাইনি খুঁজে আর,

আজকে তোমার আমার মাঝে সপ্ত পারাবার!

আজকে তোমার জন্মদিন-

স্মরণ-বেলায় নিদ্রাহীন

হাতড়ে ফিরি হারিয়ে-যাওয়ার অকূল অন্ধকার!

এই-সে-হেথাই হারিয়ে গেছে কুড়িয়ে-পাওয়া হার!

 

শূন্য ছিল নিতল দীঘির শীতল কালো জল,

কেন তুমি ফুটলে সেথা ব্যথার নীলোৎপল?

আঁধার দীঘির রাঙলে মুখ,

নিটোল ঢেউ-এর ভাঙলে বুক,-

কোন পূজারী নিল ছিঁড়ে? ছিন্ন তোমার দল

ঢেকেছে আজ কোন্ দেবতার কোন সে পাষাণ-তল?

 

অস্ত-খেয়ার হারামাণিক-বোঝাই-করা না’

আসছে নিতুই ফিরিয়ে দেওয়ার উদয়-পারের গাঁ

ঘাটে আমি রি বসে

আমার মাণিক কই গো সে?

পারাবারের ঢেউ-দোলানি হানছে বুকে ঘা!

আমি খুঁজি ভিড়ের মাঝে চেনা কমল-পা!


বইছে আবার চৈতী হাওয়া, গুমরে ওঠে মন,

পেয়েছিলাম এমনি হাওয়ায় তোমার পরশন।

তেমনি আবার মহুয়া-মউ

মৌমাছিদের কৃষ্ণ-বউ

পান করে ঐ ঢুলছে নেশায় দুলছে মহুল বন!

ফুল-শৌখিন দখিন-হাওয়ায় কানন উচাটন!


পড়ছে মনে টগর চাঁপা বেল চামেলি জুঁই,

মধুপ দেখে যাদের শাখা আপ্নি যেত নুই।

হাস্তে তুমি দুলিয়ে ডাল,

গোলাপ হয়ে ফুটতো গাল!

থলকমলি আঁউরে যেত তপ্ত ও-গাল ছুঁই!

বকুল-শাখা ব্যাকুল হতো টলমলাত ভুঁই!



চৈতী রাতের গাইত গজল বুলবুলিয়ার রব,

দুপুর বেলায় চবুতরায় কাঁদত কবুতর!

ভুঁই-তারকা সুন্দরী

সজনে ফুলের দল ঝরি

থোপা থোপা লাজ ছড়াত দোলন-খোঁপার ‘পর,

ঝাঁজাল্‌ হাওয়ায় বাজত উদাস মাছ্‌রাঙার স্বর!


পিয়াল-বনায় পলাশ ফুলের গেলাস-ভরা মউ

খেতো বঁধুর জড়িয়ে গলা সাঁওতালিয়া বউ!

লুকিয়ে তুমি দেখতে তাই,

বলতে, ‘আমি অমনি চাই!’

খোঁপায় দিতাম চাঁপা গুঁজে, ঠোঁটে দিতাম মউ!

হিজল শাখায় ডাকত পাখি ‘বউ গো কথা কউ’



ডাকত ডাহুক জল-পায়রা নাচত ভরা বিল,

জোড়া ভুরু ওড়া যেন আসমানে গাঙ-চিল

হঠাৎ জলে রাখতে পা,

কাজ্‌লা দীঘির শিউরে গা-

কাঁটা দিয়ে উঠত মৃণাল ফুটত কমল-ঝিল।

ডাগর চোখে লাগত তোমার সাগর-দীঘির নীল!


উদাস দুপুর কখন গেছে, এখন বিকেল যায়,

ঘুম জড়ানো ঘুমতি নদীর ঘুমুর-পরা পায়।

শঙ্খ বাজে মন্দিরে,

সন্ধ্যা আসে বন ঘিরে,

ঝাউএর শাখায় ভেজা আঁধার কে পিঁজেছে হায়।

মাঠের বাঁশী বন-উদাসী ভীম্পলাশী গায়।


১০

বাউল আজি বাউল হলো আমরা তফাতে।

আম-মুকুলের গুঁজি-কাঠি দাও কি খোঁপাতে?

ডাবের শীতল জল দিয়ে

মুখ মাজোকি আর প্রিয়ে?

প্রজাপতির ডাক-ঝরা সোনার টোপাতে

ভাঙা ভুরু দাও কি জোড়া রাতুল শোভাতে?



১১

বউল ঝরে ফলেছে আজ থোলো থোলো আম,

রসের-পীড়ায়-টসটসে-বুক ঝুরছে গোলাবজাম।

কামরাঙারা রাঙল ফের

পীড়ন পেতে ঐ মুখের

স্মরণ করে চিবুক তোমার, বুকের তোমার ঠাম-

জামরুলে রস ফেটে পড়ে, হায়, কে দেবে দাম!


১২

করেছিলাম চাউনি চয়ন নয়ন হতে তোর,

ভেবেছিলুম গাঁথব মালা পাইনে খুঁজে ডোর!

সেই চাহনি নীল-কমল

ভরল আমার মানস-জল,

কমল-কাঁটার ঘা লেগেছে মর্ম-মূলে মোর

বক্ষে আমার দুলে আঁখির সাতনরী-হার লোর!


১৩

তরী আমার কোন্ কিনারায় পাইনে খুঁজে কূল,

স্মরণ-পারের গন্ধ পাঠায় কমলা নেবুর ফুল!

পাহাড়তলীর শালবনায়

বিষের মত নীল ঘনায়!

সাঁঝ পরেছে ঐ দ্বিতীয়ার-চাঁদ-ইহুদি-দুল!

হায় গো, আমার ভিন্ গাঁয়ে আজ পথ হয়েছে ভুল!



১৪

কোথায় তুমি কোথায় আমি চৈতে দেখা সেই,

কেঁদে ফিরে যায় যে চৈত- তোমার দেখা নেই!

কণ্ঠে কাঁদে একটি স্বর-

কোথায় তুমি বাঁধলে ঘর?

তেমনি করে জাগছ কি রাত আমার আশাতেই?

কুড়িয়ে-পাওয়া-বেলায় খুঁজি হারিয়ে-যাওয়া খেই।


১৫

পারাপারের ঘাটে প্রিয় রিনু বেঁধে না’,

এই তরীতে হয়ত তোমার পড়বে রাঙা পা।

আবার তোমার সুখ-ছোঁওয়ায়

আকুল দোলা লাগবে নায়,

এক তরীতে যাব মোরা আর-না-হারা গাঁ,

পারাপারের ঘাটে প্রিয় রিনু বেঁধে না’।।

 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.