কম্পিউটার অপারেটর থেকে শিক্ষা অফিসার: বিতর্কিত পদোন্নতি পর্যালোচনার ঘোষণা
কম্পিউটার অপারেটর থেকে শিক্ষা অফিসার: বিতর্কিত পদোন্নতি পর্যালোচনার ঘোষণা
মুনশি একাডেমি ডেস্ক | ২৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনস্থ বিভিন্ন দপ্তরের কম্পিউটার অপারেটর ও প্রশাসনিক কর্মচারীদের সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার (এটিইও) পদে পদোন্নতি দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। খোদ শিক্ষামন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী এই গণ-পদোন্নতির বিষয়ে অবহিত নন বলে জানিয়েছেন। বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখার এবং প্রয়োজনে তা 'রিভিউ' করার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সচিবালয়ে জুনিয়র বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
যা ঘটেছে
গত সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়, যেখানে মাউশির আওতাধীন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৮২ জন কর্মচারীকে ১০ম গ্রেডে সহকারী উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। পদোন্নতি পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সাঁটলিপিকার কাম কম্পিউটার অপারেটর, প্রধান সহকারী, উচ্চমান সহকারী ও হিসাবরক্ষক। প্রশাসনিক কর্মচারীদের সরাসরি শিক্ষা কর্মকর্তার পদে আসীন করা নিয়ে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে।
শিক্ষামন্ত্রীর প্রতিক্রিয়া
সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন—কম্পিউটার অপারেটরদের শিক্ষা কর্মকর্তা করা হলে গুণগত শিক্ষা (Quality Education) নিশ্চিত হবে কি না? এর জবাবে বিস্ময় প্রকাশ করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "এই বিষয়ে তো আমরা কোনো কিছু জানি না। আপনি কোথা থেকে পেলেন এটা? কোন দপ্তর থেকে এটি হয়েছে?"
বিজ্ঞপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করার পর মন্ত্রী আরও বলেন, "আপনারা যেহেতু আমাদের এটি বলেছেন, আমাদের চোখ এড়িয়ে গিয়েছিল কি না জানি না। তবে প্রশাসনে কী হয়েছে, তা আমরা খতিয়ে দেখব। প্রয়োজনে এটিকে রিভিউ করতে হবে।"
কোয়ালিটি এডুকেশন নিয়ে সংশয়
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মাঠ পর্যায়ে একাডেমিক সুপারভিশন ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার জন্য একাডেমিক ব্যাকগ্রাউন্ড থাকা কর্মকর্তাদের প্রয়োজন। সেখানে দাপ্তরিক কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের পদোন্নতি দিয়ে শিক্ষা অফিসার বানানো হলে শিক্ষার মানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিষয়টি খতিয়ে দেখার মন্ত্রী আশ্বাস দেওয়ায় এখন এই ৮২ জনের পদোন্নতি ঝুলে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই