ব্রাশ সিলের মহাকাব্য । ছোটোগল্প। মুনশি আলিম
ব্রাশ সিলের মহাকাব্য।ছোটোগল্প। মুনশি আলিম
একবার এক নির্বাচনে দায়িত্ব পালন করছিলেন আমাদের প্রিয় মামুজি রুবজ এ রহমান। নির্বাচনী বিধি মোতাবেক ঠিক বিকেল ৪টা বাজতেই ভোটগ্রহণ সমাপ্ত। এবার শুরু হলো সবচেয়ে সংবেদনশীল অধ্যায় ভোট গণনা ও ফলাফল ঘোষণা। রুমজুড়ে নিঃশব্দ উত্তেজনা। সহকারী প্রিসাইডিং, পোলিং অফিসার সবাই গম্ভীর মুখে ব্যস্ত গণনায়। হঠাৎ মামার মাথায় বাজ পড়ল—আরে! ব্রাশ সিল কোথায়?
শুরু হলো সর্বনাশা অভিযান। পকেট তল্লাশি, পোশাক উল্টেপাল্টে দেখা, অফিস রুম তন্নতন্ন। সহকর্মীদের জিজ্ঞেস—কারো কাছে ব্রাশ সিল আছে? উত্তর একটাই, না নেই। মামার কপালে বিন্দু বিন্দু ঘাম। কারণ একটাই—বস্তা সিলগালা হবে কী দিয়ে?
ফলাফল শেষ। একজন একজন করে সবাই রুম ছাড়ছে। মামার অবস্থা এমন—হাসবেন না কাঁদবেন, না এখনই গোসল করে ফেলবেন; কিছুই বুঝে উঠতে পারছেন না। ঠিক তখনই আবির্ভাব হলো এক স্টাম সাইজের খর্বাকায় সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের। কোনো কথা নেই, কোনো প্রশ্ন নেই। শুধু পায়ে থাকা লন্ডনী হিল টাইপের ক্যাটস নিয়ে সোজা বস্তার দিকে এগিয়ে গেলেন। ধুম! এক লাথিতে বস্তা সিলগালা!
চোখের পলকেই কাজ শেষ। তারপর প্রশান্ত হাসি দিয়ে বললেন—স্যার, এ যাত্রা আপনাকে বাঁচিয়ে দিলাম। মামা তখন ভাবছেন—এটা কি স্বপ্ন? নাকি নির্বাচন কমিশনের গোপন প্রশিক্ষণ?
এরই মধ্যে হাজির আনসার সদস্যরা। বস্তা কাঁধে তুলে গাড়িতে। কেন্দ্র ছাড়ল সবাই। কিন্তু নাটক তো এখানেই শেষ নয়। জমা দেওয়ার সময় জানা গেল—ব্রাশ সিলও জমা দিতে হয়! মামার বুক ধড়ফড় করছে। কী বলবেন? কী লিখবেন? ঠিক তখনই সেই খর্বাকায় রক্ষাকর্তা আবার এগিয়ে এলেন।
নিজের ব্যাগের ছেঁড়া অংশ দেখিয়ে এমন বিশ্বাসযোগ্য গল্প বললেন—যেন মনে হলো, ব্যাগ নয়, পুরো নির্বাচনই ছেঁড়া ছিল! ফলাফল? মামা আবারও পার! সব কাজ শেষ। মামা ক্লান্ত শরীরে বাড়ি ফিরলেন। বাড়ির সামনে এসে চাবি বের করতে গিয়ে চোখ তো একেবারেই ছানাবড়া!
পকেটের ভেতর চকচক করছে সেই মহামূল্যবান বস্তু ‘ব্রাশ সিল’!
মূল কথা: দায়িত্ব থাকলে চাপ আসবেই, ভুল মানুষকে সাময়িক ভয় দেখাতে পারে; কিন্তু উপস্থিত বুদ্ধি আর সহকর্মীর সহযোগিতায় যেকোনো বড় বিপদ সামলে নেওয়া যায়।
মুনশি আলিম
শাহপরান, সিলেট
রচনার তারিখ: ২৬.০১.২০২৬ খ্রি

কোন মন্তব্য নেই