ঘাসফড়িং আর পিঁপড়ের গল্প
ঘাসফড়িং আর পিঁপড়ের গল্প
(The Ant and The Grasshopper)
একটি নীতিশিক্ষামূলক রূপকথার গল্প
সবুজে ভরা এক শান্ত গ্রামে থাকত একটি ঘাসফড়িং। সারাদিন রোদে ঝিলমিল ঘাসের ওপর লাফিয়ে বেড়ানোই ছিল তার একমাত্র কাজ। গাছের ডালে বসে সে গুনগুন করে গান গাইত, কখনো বাঁশির মতো মিষ্টি সুর তুলত। কাজকর্মের কথা ভাবলেই তার মাথা ধরত।
ওই গ্রামের পাশেই ছোট্ট একটি গর্তে থাকত একটি পিঁপড়ে। আকারে ছোট হলেও সে ছিল ভীষণ পরিশ্রমী। প্রতিদিন ভোর হতেই সে বেরিয়ে পড়ত খাবারের খোঁজে। মাঠের এক কোণ থেকে শস্যের দানা টেনে আনত, আবার কখনো কারও ফেলে দেওয়া খাবারের টুকরো সংগ্রহ করত। সবকিছু সে জমিয়ে রাখত নিজের ঘরে।
একদিন দুপুরবেলা পিঁপড়ে দেখল, ঘাসফড়িং গাছের ছায়ায় বসে গান গাইছে। পিঁপড়ে কাছে এসে বলল,
— “এভাবে সারাদিন গান গাইলে চলবে? শীত আসছে, তখন খাবার পাবে কোথায়?”
ঘাসফড়িং হেসে বলল,
— “এই সুন্দর দিনে কাজের কথা ভেবে মাথা ভার করব কেন? এখন আনন্দ করি, পরে দেখা যাবে।”
পিঁপড়ে কিছু না বলে আবার নিজের কাজে ফিরে গেল। দিনের পর দিন এভাবেই চলতে থাকল। গ্রীষ্মের দিনগুলো একসময় শেষ হয়ে গেল। বাতাস ঠান্ডা হতে শুরু করল, আকাশ মেঘলা হয়ে উঠল। শীত এসে পড়ল হঠাৎ করেই।
শীতের কনকনে বাতাসে ঘাসফড়িংয়ের শরীর কাঁপতে লাগল। চারদিকে তাকিয়ে সে দেখল—কোথাও আর খাবার নেই। ঘাস শুকিয়ে গেছে, মাঠ ফাঁকা। তখন তার মনে পড়ল পিঁপড়ের কথা। কাঁপতে কাঁপতে সে পিঁপড়ের ঘরের সামনে এসে দাঁড়াল।
দরজায় কড়া নাড়তেই পিঁপড়ে বেরিয়ে এল। ঘাসফড়িং দুর্বল কণ্ঠে বলল,
— “আমি খুব ক্ষুধার্ত। একটু খাবার দাও। আমি ভুল করেছি।”
পিঁপড়ে কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর ঘরের ভেতর থেকে খাবার এনে ঘাসফড়িংকে দিল। বলল,
— “সময় থাকতে কাজ করলে আজ এমন কষ্ট পেতে হতো না। তবে ভুল বুঝতে পারাই বড় কথা।”
ঘাসফড়িং খাবার খেতে খেতে চোখ ভিজিয়ে ফেলল। সে বুঝে গেল, শুধু গান আর আনন্দে জীবন চলে না। সময়ের কাজ সময়ে করতেই হয়।
সেদিন থেকে ঘাসফড়িং আর কখনো অলস রইল না। সে পরিশ্রমের মূল্য বুঝে গেল।
নীতিশিক্ষা
সময়ের কাজ সময়ে করা উচিত। পরিশ্রম ও দূরদর্শিতাই সাফল্যের চাবিকাঠি। আজকের অবহেলা, আগামীর দুঃখ ডেকে আনে।
ঘাসফড়িং আর পিঁপড়ের গল্প (The Ant and The Grasshopper)

কোন মন্তব্য নেই