বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ-বহুনির্বাচনি, সৃজনশীল প্রশ্ন
বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ- মাইকেল মধুসূদন দত্ত
কবি পরিচিতি
মাইকেল মধুসূদন দত্ত (১৮২৪–১৮৭৩)
আধুনিক বাংলা কবিতার অগ্রদূত, বাংলা মহাকাব্যের নবস্রষ্টা ও নাট্যসাহিত্যের পথিকৃৎ মাইকেল মধুসূদন দত্ত ১৮২৪ খ্রিস্টাব্দের ২৫ জানুয়ারি যশোর জেলার কেশবপুর উপজেলার সাগরদাঁড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত আইনজীবী এবং মাতা জাহ্নবী দেবী ছিলেন ধর্মপরায়ণা ও স্নেহশীলা। মাতার তত্ত্বাবধানে গ্রামেই তাঁর প্রাথমিক শিক্ষা সম্পন্ন হয়।
১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি কলকাতার ঐতিহ্যবাহী হিন্দু কলেজের সপ্তম শ্রেণিতে ভর্তি হন। এখানেই তাঁর মধ্যে ইউরোপীয় সাহিত্য, গ্রিক–রোমান পুরাণ ও ধ্রুপদী ভাবধারার প্রতি গভীর আকর্ষণ জন্মায়। ছাত্রজীবনেই তাঁর সাহিত্যপ্রতিভার স্বাক্ষর পাওয়া যায়। ১৮৪৩ খ্রিস্টাব্দে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করে তিনি পিতৃপ্রদত্ত নামের সঙ্গে ‘মাইকেল’ নাম যুক্ত করেন। ধর্মান্তরের কারণে পিতার সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং তাঁকে হিন্দু কলেজ ত্যাগ করে শিবপুরের বিশপ্স কলেজে ভর্তি হতে হয়। এখানে তিনি গ্রিক, লাতিন ও হিব্রু ভাষায় বিশেষ পারদর্শিতা অর্জন করেন।
মধুসূদন ছিলেন বহুভাষাবিদ। ইংরেজি ও সংস্কৃতির পাশাপাশি তিনি ফরাসি, জার্মান, ইতালীয় ও গ্রিক ভাষায় দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। তাঁর সাহিত্যচর্চার সূচনা হয় ইংরেজি ভাষায়— The Captive Ladie, Visions of the Past প্রভৃতি ইংরেজি কাব্য তার নিদর্শন। তবে অচিরেই তিনি উপলব্ধি করেন যে তাঁর প্রকৃত সৃজনশীল শক্তি মাতৃভাষা বাংলাতেই পূর্ণতা পেতে পারে। ফলে বিদেশি ভাষার মোহ ত্যাগ করে তিনি বাংলা সাহিত্যে প্রত্যাবর্তন করেন এবং বাংলা কাব্যে এক বৈপ্লবিক রূপান্তর সাধন করেন।
মাইকেল মধুসূদন দত্ত বাংলা কবিতার দীর্ঘদিনের পয়ারছন্দের একঘেয়েমি ভেঙে প্রবর্তন করেন অমিত্রাক্ষর ছন্দ—যা বাংলা অক্ষরবৃত্ত ছন্দের এক অভিনব রূপ। তাঁর এই ছন্দে চরণের শেষে অন্ত্যমিল বাধ্যতামূলক নয়, বরং ভাবপ্রবাহই মুখ্য। তাঁর শ্রেষ্ঠ কাব্য ‘মেঘনাদবধ কাব্য’-এ এই ছন্দের সর্বোচ্চ সার্থক প্রয়োগ ঘটেছে। এ কাব্যের মাধ্যমে তিনি বাংলা সাহিত্যে প্রথমবারের মতো খলনায়ক মেঘনাদকে নায়কের মর্যাদা দেন এবং রাবণ-পুত্রের বীরত্ব ও মানবিক ট্র্যাজেডিকে মহিমান্বিত করেন—যা বাংলা সাহিত্যে এক বিপ্লবাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি।
মধুসূদন বাংলা সাহিত্যে চতুর্দ্দশপদী কবিতা (সনেট)-এর প্রবর্তক। তাঁর চতুর্দ্দশপদী কবিতাবলি গ্রন্থে ইউরোপীয় সনেট কাঠামোর সঙ্গে বাংলা ভাষার সৌন্দর্য অপূর্বভাবে মিলিত হয়েছে। এছাড়া তাঁর বীরাঙ্গনা কাব্য-এ নারীর স্বর, আত্মমর্যাদা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার যে প্রকাশ ঘটেছে, তা বাংলা সাহিত্যে নারী-চেতনার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
নাট্যসাহিত্যের ক্ষেত্রেও তিনি আধুনিকতার সূচনা করেন। শর্মিষ্ঠা, পদ্মাবতী ও কৃষ্ণকুমারী তাঁর উল্লেখযোগ্য ট্র্যাজেডি নাটক। সামাজিক ব্যঙ্গ ও প্রহসনের ক্ষেত্রে একেই কি বলে সভ্যতা? ও বুড় সালিকের ঘাড়ে রোঁ বাংলা নাটকে বাস্তবতা ও রসবোধের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য কাব্যগ্রন্থ হলো— তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য, ব্রজাঙ্গনা কাব্য, বীরাঙ্গনা কাব্য, মেঘনাদবধ কাব্য ও চতুর্দ্দশপদী কবিতাবলি। জীবনের শেষদিকে দারিদ্র্য, অসুস্থতা ও নিঃসঙ্গতার সঙ্গে সংগ্রাম করেও তিনি সাহিত্যচর্চা থেকে বিচ্যুত হননি।
১৮৭৩ খ্রিস্টাব্দের ২৯ জুন কলকাতায় এই মহান কবি মৃত্যুবরণ করেন। বাংলা সাহিত্যে তিনি আজও অমর—একজন বিদ্রোহী স্রষ্টা, যিনি ইউরোপীয় ধ্রুপদী আদর্শ ও বাংলা ভাষার প্রাণশক্তিকে একত্র করে আধুনিক বাংলা সাহিত্যের ভিত্তি নির্মাণ করেছেন।
বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত
“বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ” কবিতা
“এতক্ষণে”-অরিন্দম কহিলা বিষাদে,
“জানিনু কেমনে আসি লক্ষ্মণ পশিল
রক্ষপুরে! হায়, তাত, উচিত কি তব
এ কাজ? নিকষা সতী তোমার জননী!
সহোদর রক্ষঃশ্রেষ্ঠ! শূলিশম্ভুনিভ
কুম্ভকর্ণ! ভ্রাতৃপুত্র বাসববিজয়ী!
নিজগৃহপথ, তাত, দেখাও তস্করে?
চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে?
কিন্তু নাহি গঞ্জি তোমা, গুরুজন তুমি
পিতৃতুল্য। ছাড় দ্বার, যাব অস্ত্রাগারে,
পাঠাইব রামানুজে শমন-ভবনে,
লঙ্কার কলঙ্ক আজি ভঞ্জিব আহবে।”
উত্তরিলা বিভীষণ, “বৃথা এ সাধনা,
ধীমান্। রাঘবদাস আমি; কী প্রকারে
তাঁহার বিপক্ষ কাজ করিব, রক্ষিতে
অনুরোধ?” উত্তরিলা কাতরে রাবণি;-
“হে পিতৃব্য, তব বাক্যে ইচ্ছি মরিবারে!
রাঘবের দাস তুমি? কেমনে ও মুখে
আনিলে এ কথা, তাত, কহ তা দাসেরে!
স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থাণুর ললাটে;
পড়ি কি ভূতলে শশী যান গড়াগড়ি
ধূলায়? হে রক্ষোরথি, ভুলিলে কেমনে
কে তুমি? জনম তব কোন মহাকুলে?
কে বা সে অধম রাম? স্বচ্ছ সরোবরে
করে কেলি রাজহংস পঙ্কজ-কাননে
যায় কি সে কভু, প্রভু, পঙ্কিল সলিলে,
শৈবালদলের ধাম? মৃগেন্দ্র কেশরী,
কবে, হে বীরকেশরী, সম্ভাষে শৃগালে
মিত্রভাবে? অজ্ঞ দাস, বিজ্ঞতম তুমি,
অবিদিত নহে কিছু তোমার চরণে।
ক্ষুদ্রমতি নর, শূর, লক্ষ্মণ; নহিলে
অস্ত্রহীন যোধে কি সে সম্বোধে সংগ্রামে?
কহ, মহারথী, এ কি মহারথীপ্রথা?
নাহি শিশু লঙ্কাপুরে, শুনি না হাসিবে
এ কথা! ছাড়হ পথ; আসিব ফিরিয়া
এখনি! দেখিব আজি, কোন্ দেববলে,
বিমুখে সমরে মোরে সৌমিত্রি কুমতি!
দৈব-দৈত্য-নর-রণে, স্বচক্ষে দেখেছে,
রক্ষঃশ্রেষ্ঠ, পরাক্রম দাসের! কী দেখি
ডরিবে এ দাস হেন দুর্বল মানবে?
নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে প্রগল্ভে পশিল
দম্ভী; আজ্ঞা কর দাসে, শাস্তি নরাধমে।
তব জন্মপুরে, তাত, পদার্পণ করে
বনবাসী! হে বিধাতঃ নন্দন-কাননে
ভ্রমে দুরাচার দৈত্য? প্রফুল্ল কমলে
কীটবাস? কহ তাত, সহিব কেমনে?
হেন অপমান আমি,-ভ্রাতৃ-পুত্র তব?
তুমিও, হে রক্ষোমণি, সহিছ কেমনে?”
মহামন্ত্র-বলে যথা নরশিরঃ ফণী,
মলিনবদন লাজে, উত্তরিলা রথী
রাবণ-অনুজ, লক্ষি রাবণ-আত্মজে;
“নহি দোষী আমি, বৎস; বৃথা ভর্ৎস মোরে
তুমি! নিজ কর্ম-দোষে, হায়, মজাইলা
এ কনক-লঙ্কা রাজা, মহিলা আপনি!
বিরত সতত পাপে দেবকুল; এবে
পাপপূর্ণ লঙ্কাপুরী; প্রলয়ে যেমতি
বসুধা, ডুবিছে লঙ্কা এ কালসলিলে!
রাঘবের পদাশ্রয়ে রক্ষার্থে আশ্রয়ী
তেঁই আমি। পরদোষে কে চাহে মজিতে?”
রুষিলা বাসবত্রাস! গম্ভীরে যেমতি
নিশীথে অম্বরে মন্দ্রে জীমূতেন্দ্র কোপি,
কহিলা বীরেন্দ্র বলী,- “ধর্মপথগামী,
হে রাক্ষসরাজানুজ, বিখ্যাত জগতে
তুমি;- কোন্ ধর্ম মতে, কহ দাসে, শুনি,
জ্ঞাতিত্ব, ভ্রাতৃত্ব, জাতি, –এ সকলে দিলা জলাঞ্জলি?
শাস্ত্রে বলে, গুণবান্ যদি
পরজন, গুণহীন স্বজন, তথাপি
নির্গুণ স্বজন শ্রেয়ঃ, পরঃ পরঃ সদা!
এ শিক্ষা, হে রক্ষোবর, কোথায় শিখিলে?
কিন্তু বৃথা গঞ্জি তোমা! হেন সহবাসে,
হে পিতৃব্য, বর্বরতা কেন না শিখিবে?
গতি যার নীচ সহ, নীচ সে দুর্মতি।”
এক নজরে মাইকেল মধুসূদন দত্তের জীবনী, সাহিত্যকর্ম এবং বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতার সকল গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত
[২৫শে জানুয়ারি, ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দ—২৯শে জুন, ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দ]
- কবির নাম: মাইকেল মধুসূদন দত্ত।
- প্রকৃত নাম: মধুসূধন দত্ত।
- ছদ্মনাম: ঞরসড়ঃযু চবহঢ়ড়বস.
- জন্ম: ২৫শে জানুয়ারি, ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দ (১২৩০ সনের ১২ই মাঘ,শনিবার)
- জন্মস্থান: সাগরদাঁড়ি, কেশবপুর, যশোর।
- পিতার নাম: রাজনারায়ণ দত্ত
- বংশ: জমিদার বংশ।
- মাতার নাম: জাহ্নবী দেবী (১ম স্ত্রী) [রাজনারায়ণ দত্তের আরও ৩ জন স্ত্রী ছিল]
- ধর্মান্তরিত হন: ৯ই ফেব্রুয়ারি ১৮৪৩ খ্রিষ্টাব্দে।
- উদ্দেশ্য: (অনেকের ধারণা) রেভারেণ্ড কৃষ্ণমোহন বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদূষী কন্যা দেবকীকে বিয়ে করার জন্য।
- ভাষা: গ্রিক, ফারসি, পারসি, হিব্রু, তেলেগু, তামিল, হিন্দুস্থানি, ফ্রেঞ্চ, জার্মান, ইতালিয়ান, ল্যাটিন, হিব্রু, সংস্কৃত, ইংরেজি প্রভৃতি।
- প্রথম কর্ম: ইংরেজি শিক্ষক (মাদ্রাজ মেল অরফেন এসাইলাম),
- বিয়ে: ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে, ৯ই ডিসেম্বর ।
- ১ম স্ত্রীর নাম: রেবেকা ম্যাক্টাভিস / টমসন।
- স্ত্রীর পেশা: অনাথ বিদ্যালয়ের ছাত্রী (মধুসূদন শিক্ষক)
- বিবাহ বিচ্ছেদ: ১৮৫৫ সালে।
- ২য় স্ত্রীর নাম: (প্রেসিডেন্সি কলেজের জনৈক শিক্ষকের কন্যা)অধ্যাপক কন্যা আঁরিয়েতা (হেনরিয়েটা)
- মৃত্যু: ২৬শে জুন, ১৮৭৩ খ্রি.
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য-উপাত্ত
প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ: The captive lady, (1849)।
পত্রকাব্য: ‘বীরাঙ্গনা’
প্রথম নাটক: শর্মিষ্ঠা, (১৮৫৯)
অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রথম প্রয়োগ: পদ্মাবতী (নাটক)
প্রথম সার্থক ট্রাজেডি নাটক: কৃষ্ণকুমারী।
সফল প্রয়োগ: ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’ ।
প্রথম সার্থক মহাকাব্য: মেঘনাদবধ
বাংলা সনেটের প্রবর্তক : মধুসূদন দত্ত।
সনেটের প্রবর্তক: ইতালীয় কবি পেত্রাক।
আধুনিক বাংলা কবিতার জনক: মধুসূদন দত্ত।
অমর মহাকাব্যের নাম: মেঘনাদবধ।
রাধাকৃষ্ণ বিষয়ক গীতিকাব্যের নাম: ব্রজাঙ্গনা।
উপাধি: আধুনিক বাংলা নাটকের জনক।
মধুসূদন রচনাবলি:
কাব্যগ্রন্থ :
মনে রাখার কৌশল: তিমেব্রবীচ
তি = তিলোত্তমাসম্ভব (১৮৬০), মে = মেঘনাদবধ (১৮৬১), ব্র = ব্রজাঙ্গনা(১৮৬১),বী = বীরাঙ্গনা (১৮৬২), চ = চতুর্দশপদী কবিতাবলি (১৮৬৬) ইত্যাদি।
চতুর্দশপদী কবিতাবলি: ফ্রান্সের ভার্সাই নগরীতে বসে রচিত।
ইংরেজি কাব্যগ্রন্থ: The captive lady, Vison
of the past.
অনুবাদ: ‘নীলদর্পণ’ নাটক ইংরেজিতে।
নাটক:
মনে রাখার কৌশল: শমিষ্ঠা-পদ্মাবতীকে কৃষ্ণ মায়ার গুণে বধ করল।
শর্মিষ্ঠা (১৮৫৮), পদ্মাবতী (১৮৬০), কৃষ্ণকুমারী (১৮৬১), হেক্টরবধ (১৮৭১), মায়াকানন (১৮৭৩), বিষ না ধনুগুণ (১৮৭৩) প্রভৃতি।
প্রহসন: একেই কি বলে সভ্যতা (১৮৫৯) বুড় শালিকের ঘাঁড়ে রোঁ (১৮৫৯),
মৃত্যু: ২৯ জুন, ১৮৭৩ খ্রিষ্টাব্দ, দুপুর ২.০০ টা। কলকাতা।
সমাধিক্ষেত্র: কলকাতার পার্ক স্ট্রীট।
- সাহিত্যের সংজ্ঞার্থ : নিজের কথা, পরের কথা বাহ্যজগতের কথা সাহিত্যের মনোবিনায় যে সুর ঝংকৃত হয় তার শিল্প সঙ্গত রূপই হলো সাহিত্য।
কবিতা কী? কবিতা কাকে বলে?
- কবিতার সংজ্ঞার্থ:
- কবি দান্তে বলেছেন, ‘সুরে বসানো কথাই হলো কবিতা।’
- কোলরিজ বলেছেন, ‘শ্রেষ্ঠতম বিন্যাস, শ্রেষ্ঠতম শব্দসমূহের প্রকাশই কবিতা।’
- কবি কালিদাস বলেছেন, ‘কবিতা হচ্ছে শব্দ ও অর্থের নিত্য সংবদ্ধতায় শব্দ ও অর্থের প্রতিপত্তি।’
- মার্লাম বলেছেন, ‘শব্দই কবিতা।’
- মাইকেল মধুসূদন দত্ত বলেছেন, ‘... শব্দে শব্দে বিয়ে দেওয়াই হচ্ছে কবিতা।
- আর্চিবল্ড ম্যাকলিম বলেন, ‘কবিতা হবে শব্দহীন, নিশ্চুপ, যেমন আকাশ পথে বলাকার উড়াল।’
- হাউজম্যান বলেছেন, ‘কবিতা যতটা না বুদ্ধিগ্রাহ্য তার চেয়েও বেশি শারীরিক।’
- ওযার্ডসওয়ার্থ বলেছেন, ‘কবিতা হচ্ছে শক্তিশালী অনুভূতির স্বতস্ফূর্ত প্রবাহ।’
- টি এস এলিয়ট বলেছেন, ‘ব্যক্তিত্ব থেকে নিষ্ক্রমনই হচ্ছে কবিতা।’
- মুনশি আলিম বলেছেন, ‘শিল্প ও আবেগের সংমিশ্রণই হল কবিতা।’
আরও কিছু কবিতার সংজ্ঞার্থ:
ফ্রস্ট: ‘ কবিতা হলো পারফরমেনস ইন ওয়ার্ডস।
কোলরিজ: ‘গদ্য মানে শব্দ সর্বোৎকৃষ্টভাবে সাজানো। আর পদ্য মানে সর্বোৎকৃষ্ট শব্দ সর্বোৎকৃষ্টভাবে সাজানো।
এডগার এলান পো: ‘সৌন্দরে্যর ছন্দোময় সৃষ্টি।
কীটস: ‘ কবিতা মুগ্ধ করবে তার সুক্ষ¥ অপরিমেয়তায়, একটি মাত্র ঝংকারে নয়। পাঠকের মনে হবে এ যেন তারই সর্বোত্তম চিন্তা যা ক্রমশ ভেসে উঠছে তার স্মৃতিতে।’
এলিয়ট: ‘ কবিতা রচনা হলো রক্তকে কালিতে রূপান্তর করার যন্ত্রণা ।’
কার্লাইল: ‘ কবিতা হলো মিউজিক্যাল থট।’
এরিস্টটল: ‘ কবিতা দর্শনের চেয়ে বেশি, ইতিহাসের চেয়ে বড়ো।’
সেন্ট অগাস্টিন: ‘ যদি জিজ্ঞাসা করা না হয়, আমি জানি। যদি জিজ্ঞাসা করা হয়, আমি জানি না।’
বোদলেয়ার: ‘ প্রত্যেক কবি অনিবার্যভাবেই সমালোচক। একজন সমালোচক কবি হয়ে উঠলে আশ্চর্য হওয়া যতটা স্বাভাবিক তার চেয়ে বেশি আশ্চর্য হতে হবে যদি একজন কবির মধ্যে সমালোচক জেগে না থাকে।’
মিল: ‘ চিন্তা এবং বাক্য, যার মধ্যে আবেগ পেয়ে যায় নিজের শরীর।’
মেকল: ‘ কবিতা বললে আমরা বুঝি সেই শিল্প যা শব্দকে ব্যবহার করে এমন ভাবে যা কল্পনার রাজ্যে জাগিয়ে দেয় এক স্বপ্ন।’
ওয়ার্ডসওয়ার্থ: ‘ কবিতা সমস্ত জ্ঞানের শ্বাস-প্রশ্বাস আর সুক্ষ আতœা।’
কবিতার প্রকারভেদ:
কবিতা প্রধানত দুই প্রকার।
যথা:
ক. মন্ময় (Subjective), ব্যক্তিনিষ্ঠ।
খ. তন্ময় (Objective) বস্তুনিষ্ঠ।
বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতার কিছু শব্দ গুরুত্বপূর্ণ শব্দার্থ
� বিভীষণ—রাবণের কনিষ্ঠ সহোদর। রাম-রাবণের যুদ্ধে স্বপক্ষ ত্যাগকারী। রামের ভক্ত।
� অরিন্দম—অরি বা শত্রæকে দমন করে যে। এখানে মেঘনাদকে বোঝানো হয়েছে।
� পশিল—প্রবেশ করল।
� রক্ষঃপুরে—রাক্ষসদের পুরী বা নগরে। এখানে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে।
� তাত—পিতা। এখানে পিতৃব্য অর্থে।
� নিকষা—রাবণের মা।
� শূলীশম্ভুনিভ-শূলপাণি মহাদেবের মতো।
� কুম্ভকণ—রাবণের মধ্যম সহোদর।
� বাসবজিয়ী—দেবতাদের রাজা ইন্দ্র বা বাসবকে জয় করেছে যে। এখানে মেঘনাদ।
� তস্কর—চোর।
� গঞ্জি-তিরস্কার করি।
� রামানুজ—রাম+অনুজ= রামানুজ। এখানে রামের অনুজ লক্ষ¥ণকে বোঝানো হয়েছে।
� শামন—ভবনে-যমালয়ে।
� ভঞ্জিব আহবে—যুদ্ধদ্বারা বিনষ্ট করব।
� আহবে—যুদ্ধে।
� ধীমান—ধীসম্পন্ন। জ্ঞানী।
� রাঘব—রঘুবংশের শ্রেষ্ঠ সন্তান। এখানে রামচন্দ্রকে বোঝানো হয়েছে।
� রাঘবদাস—রামচন্দ্রের আজ্ঞাবহ।
� রাবণি—রাবণের পুত্র। এখানে মেঘনাদকে বোঝানো হয়েছে।
� বিধ—চাঁদ।
� স্থাণু —নিশ্চল।
� রক্ষোরথী—রক্ষকুলের বীর।
� শৈবালদলের ধাম—পুকুর। বদ্ধ জলাশয়।
� শৈবাল—শেওলা।
� মৃগেন্দ্র কেশরী—কেশরযুক্ত পশুরাজ সিংহ।
� কেশরী—কেশরযুক্ত প্রাণী। সিংহ।
� মহারথী—মহাবীর। শ্রেষ্ঠ বীর।
� মহারথীপ্রথা—শ্রেষ্ঠ বীরদের আচরণ—প্রথা।
� সৌমিত্রি—লক্ষ¥ণ। সুমিত্রার গর্ভজাত সন্তান বলে লক্ষ¥ণের অপর নাম সৌমিত্রি।
� নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগার—লঙ্কাপুরীতে মেঘনাদের যজ্ঞস্থান। এখানে যজ্ঞ করে মেঘদান যুদ্ধে যেত।
� প্রগলভে—নির্ভীক চিত্তে।
� দম্ভী—দম্ভ করে যে। দাম্ভিক।
� নন্দন কানন—স্বর্গের উদ্যান।
� লক্ষি—লক্ষ করে।
� বসুধা—পৃথিবী।
� তেঁই—তজ্জন্য। সেহেতু।
� রুষিলা—রাগান্বিত হলো।
� বাসবত্রাস—বাসবের ভয়ের কারণ যে মেঘনাদ।
� মন্দ্র—শব্দ। ধ্বনি।
� জীমূতেন্দ্র—মেঘের ডাক বা আওয়াজ।
� বলী—বলবান। বীর।
� জলাঞ্জলি—সম্পূর্ণ পরিত্যাগ।
� নীচ—হীন। নিকৃষ্ট। ইতর।
� দুর্মতি—অসৎ বা মন্দ বুদ্ধি।
এক নজরে বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতার গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রগুলো:
মেঘনাদ: বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতায় মেঘনাদ প্রধান চরিত্র। কাব্যাংশের কেন্দ্রীয় চরিত্র হিসেবে ফুটে উঠা মেঘনাদ একজন বীর যোদ্ধা এবং নিবেদিত দেশপ্রেমিক। তিনি নিজ মাতৃভূমি, বংশ ও গোত্রের ঐশ্বরে্যর বর্ণনার মাধ্যমে এ কবিতার সম্পূর্ণ অংশজুড়ে তাঁর চাচা বিভীষণকে রামের সঙ্গ ত্যাগ করে দেশমাতৃকার দলে যোগ দেয়ার অনুরোধ করেন।
বিভীষণ: মেঘনাদের সম্পূর্ণ বিপরীত ছিলেন বিভীষণ। দেশপ্রেম এর চেয়ে তার কাছে প্রাধান্য পায় রামের ধর্মদীক্ষা। তাই কাব্যাংশে তাকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে একজন বিশ্বাসঘাতক এবং দেশদ্রোহী হিসেবে। যিনি রামের দলে যোগ দিয়ে নিজ পরিবারের সাথেও বিশ্বাসঘাতকতা করেন।
লক্ষ্মণ: চমৎকার এ কবিতায় লক্ষ¥ণকে বর্ণনা করা হয়েছে একজন নীচ ও ভীতু যোদ্ধা হিসেবে। যে কিনা বিভীষণের সাহায্য নিয়ে নিরস্ত্র মেঘনাদের ওপর হামলা করেন এবং পরিশেষে তাঁকে বধ করেন। একজন বীর যোদ্ধা কখনই তার নিরস্ত্র প্রতিপক্ষের উপর আক্রমণ করতে পারেন। তাই এখানে লক্ষ¥ণকে একজন কাপুরুষ, কপট ও নীচ চরিত্র হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
রাম: কাব্যাংশের প্রধান খলনায়ক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে রামকে। তারই ভ্রাতা লক্ষ¥ণ মায়া দেবীর আনুকূল্যে শত শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে বিভীষণের সহায়তায় নিরস্ত্র মেঘনাদকে আক্রমণ করেন। রামায়ণে রাম যদিও একজন নায়ক কিন্তু দেশপ্রেমিক লেখকের চোখে তিনি হয়ে উঠেছেন একজন খলনায়ক।
রাবণ: একজন বীর যোদ্ধা। কাব্যাংশের একটি বিরাট অংশজুড়ে মেঘনাদের মুখে ফুটে উঠে রাবণের প্রশংসা। রক্ষঃশ্রেষ্ঠ, রাজহংশ এবং মৃগেন্দ্র কেশরীর মতো প্রশংসামূলক শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে রাবণের বর্ণনায়।
কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ: কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ
এতক্ষণে অরিন্দম / কহিলা বিষাদে (৮ + ৬)
জানিনু কেমন আসি / ল²ণ পশিল ( ৮ + ৬)
রক্ষপুরে! হায়, তাত / উচিত কি তব (৮ + ৬)
এ কাজ? নিকষা সতী / তোমার জননী! (৮ + ৬)
বিশ্লেষণ: “বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ” কাব্যাংশটি ছন্দ বিশ্লেষণে দেখা যায় এটি ১৪ মাত্রার প্রবহমান যতিস্বাধীন অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। পংক্তির রচনান্তে মিল না থাকায় এর পর্ব অমিত্রাক্ষর ছন্দের অভিধান পেয়েছে। এ প্রতিটি পংক্তি বা চরণ ৮ ও ৬ মাত্রায় দুটি পর্বে বিভক্ত হয়ে মোট ১৪টি মাত্রায় রচিত হয়েছে। এখানে যে শুধু অন্ত্যমিল রক্ষিত হয়নি তাই নয়, বিরামচিহ্ন ব্যবহারেও স্বাধীন হয়েছেন কবি। তিনি বিরামচিহ্ন ব্যবহারে বক্তব্যের অর্ধেকে বা স্পষ্টতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন। যার ফলে ভাব প্রকাশের প্রবহমানতা কবিতাংশে ছন্দের বিশেষ লক্ষণ পরিলক্ষিত হয়।
ছন্দ: “বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ” কাব্যাংশটি ১৪ মাত্রার অমিল প্রবহমান যতিস্বাধীন অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত। প্রথম পংক্তির সঙ্গে দ্বিতীয় পংক্তির চরণান্তের মিলনহীনতার কারণে এ ছন্দ ‘অমিত্রাক্ষর ছন্দ’ নামে সমধিক পরিচিত। এ কাব্যাংশের প্রতিটি ১৪ মাত্রায় এবং (৮ + ৬) মাত্রার দুটি পর্বে বিন্যস্ত। লক্ষ করার বিষয় যে, এখানে দুই পংক্তির চরণান্তিক মিলই কেবল পরিহার করা হয়নি, যতিপাত বা বিরামচিহ্নের স্বাধীন ব্যবহারও হয়েছে বিষয় বা বক্তব্যের অর্থের অনুষঙ্গে। এ কারণে ভাবপ্রকাশের প্রবহমানতাও কাব্যাংশটি ছন্দের বিশেষ লক্ষণ হিসেবে বিবেচ্য।
জেনে রাখা দরকার
১. অরিন্দম-মেঘনাদের উপাধি।
২. রক্ষ:পুর বলতে বুঝানো হয়েছে-লঙ্কাপুরকে।
৩. মেঘনাদের রাজ্যের নাম-লঙ্কাপুর।
৪. মেঘনাদের বাবার নাম-রাবণ।
৫. মেঘনাদের চাচার নাম-বিভীষণ।
৬. রাবনের মায়ের নাম-নিকষা।
৭. রামানুজ হলো ল²ণ-(রামের ছোট ভাই)
৮. লক্ষণের মায়ের নাম সুমিত্রা।
৯. সৌমিত্রি বলতে বুঝানো হয়েছে-ল²ণকে।
১০. রাঘবদাস হল-বিভীষণ।
১১. প্রফুল কমলে বাস করে-কীট।
১২. রাবণ-অনুজ হল-বিভীষণ।
১৩. রাবণ আত্মজ হল-মেঘনাদ।
১৪. সর্বদা পাপ থেকে বিরত থাকে-দেবতারা।
১৫. বীরেন্দ্র বলী’ বলা হয়েছে- মেঘনাদকে।
১৬. রাক্ষসরাজ হল-রাবণ।
১৭. রাক্ষরাজানুজ হল-বিভীষণ।
১৮. জগতে বিখ্যাত-বিভীষণ
বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্নগুলোর উত্তর তোমার নোটখাতায় লিখ
১. প্রশ্ন: সৌমিত্রি কে?
২. প্রশ্ন: বাসবাস কে?
৩. প্রশ্ন: বিধু শব্দের অর্থ কী?
৪. প্রশ্ন: অরিন্দম কে?
৫. প্রশ্ন: বিভীষণের মায়ের নাম কী?
৬. প্রশ্ন: স্থাণু অর্থ কী?
৭. প্রশ্ন: লক্ষ্মণের মায়ের নাম কী?
৮. প্রশ্ন: নিগুণ স্বজন শ্রেয় পরঃ পরঃ সদা! —উক্তিটি কার?
৯. প্রশ্ন: মেঘের ডাক কে এক কথায় কী বলা হয়?
১০. প্রশ্ন: প্রগলভে শব্দের অর্থ কী?
১১. প্রশ্ন: রাজার আলয়ে কাকে বসানাে হয়েছে?
১২. প্রশ্ন: রাজহংস কোথায় কেলি করে?
১৩. প্রশ্ন: মেঘনাদ কেন বিভীষণকে তিরস্কার করতে চান না?
১৪. প্রশ্ন: মেঘনাদ রামানুজকে কোথায় পাঠাবে?
১৫. প্রশ্ন: মাইকেল মদুসূদন দত্ত কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
১৬. প্রশ্ন: বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতাটি কোন গ্রন্থ থেকে নেয়া হয়েছে?
১৭. প্রশ্ন: রাবণ-আত্মজে বলতে কাকে বাঝোনাে হয়েছে?
১৮. প্রশ্ন: মধুসূদন-পূর্ব হাজার বছরের বাংলা কবি কী বুঝিয়েছেন?
১৯. প্রশ্ন: কৃষ্ণকুমারী কী জাতীয় রচনা?
২০. প্রশ্ন: লক্ষ¥ণের মায়ের নাম কী?
২১. প্রশ্ন: ইন্দ্রে অপর নাম কী?
২২. প্রশ্ন: রাক্ষসরাজানুজ কে?
২৩. প্রশ্ন: বিধু শব্দের অর্থ কী?
২৪. প্রশ্ন: নিকষা কে?
২৫. প্রশ্ন: সংশ্লিষ্ট কবিতায় যমালয়কে কী বলা হয়েছে?
২৬. প্রশ্ন: কাকে রক্ষারথি বলে সম্বাধেন করা হয়েছে?
২৭. প্রশ্ন: এবে শব্দের অর্থ কী?
২৮. প্রশ্ন: অরিন্দম কে?
২৯. প্রশ্ন: মহামন্ত্র বলে যথা নশিরঃ ফণী কে?
৩০. প্রশ্ন: বাংলা কাব্যে মাইকেল মধুসূদন দত্ত কোন ছন্দের প্রর্তন করেন?
৩১. প্রশ্ন: বিখ্যাত জগতে তুমি কে?
পরীক্ষা উপযোগী আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত (জ্ঞানমূলক) প্রশ্ন
‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতাটি নেয়া হয়েছে—মেঘনাবধ কাব্যের ৬ষ্ঠ সর্গ ‘বধো’ (বধ) থেকে।
মেঘনাদবধ কাব্যের মোট সর্গসংখ্যা—৯টি।
ভ্রাতা কুম্ভকর্ণ ও জ্যেষ্ঠ পুত্র বীরবাহুর মৃত্যুর পর রাবণ তার যুদ্ধের সেনাপতি করেন—কনিষ্ঠ পুত্র মেঘনাদকে।
যুদ্ধজয় নিশ্চিত করার জন্য মেঘনাদ মনস্থির করল—নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে
শত শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ল²ণ ফাঁকি দিয়ে নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়—মায়াদেবীর আনুকূল্যে।
শত শত প্রহরীর চোখ ফাঁকি দিয়ে ল²ণ নিকুম্ভিরা যজ্ঞাগারে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়—রাবণের অনুজ বিভীষণের সহায়তায়।
নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে ল²ণ মেঘনাদের কাছে প্রার্থনা করে—যুদ্ধের।
নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে মেঘনাদ ল²ণের কাছে প্রার্থনা করে—যুদ্ধসাজ গ্রহণ করতে সময় দেয়ার জন্য।
নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারের প্রবেশদ্বারে মেঘনাদ দেখতে পায়—বিভীষণকে
এ কবিতায় মাতৃভাষা প্রতি প্রকাশিত হয়েছে—ভালোবাসা।
এ কবিতায় বিশ্বাসঘাতকতা ও দেশদ্রোহিতার বিরুদ্ধে প্রকাশিত হয়েছে - ঘৃণা।
এ কবিতায় জ্ঞাতিত্ব, ভাতৃত্ব ও জাতিসত্তার সংহতির বিরুদ্ধে পরিচালিত ষড়যন্ত্রকে অভিহিত করা হয়েছে—নীচতা ও বর্বরতা বলে।
রাম রাবণের যুদ্ধে স্বপক্ষ ত্যাগকারী—বিভীষণ।
শাস্ত্রমতে গুণহীন হলেও শ্রেয়—র্নিগুণ স্বজন।
রথ চালনার মাধ্যমে যুদ্ধ করে যে তাকে বলে—রথী।
লঙ্কাপুরীতে মেঘনাদের যজ্ঞস্থানের নাম—নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগার।
তাত শব্দের আক্ষরিক অর্থ—পিতা।
কবিতায় ‘তাত’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে—পিতৃব্য / চাচা অর্থে।
অরি বা শত্র“কে যে দমন করে তাকে বলা হয় - অরিন্দম।
মেঘনাদ লঙ্কাকে তুলনা করেছে—প্রফুল কমলের সাথে।
মেঘনাদ লঙ্কায় লক্ষ্মণের প্রবেশকে তুলনা করেছে—প্রফুল কমলে কীটবাসের সাথে।
‘নহি দোষী আমি, বৎস ; বৃথা ভর্ৎস মোরে’—মেঘনাদের কথার প্রেক্ষিতে বিভীষণ একথাটি বলেছে—মলিনবদনে।
‘পরদোষে কে চাহে মজিতে?’- এখানে ‘পরদোষে’ দ্বারা বিভীষণ বুঝিয়েছে—রাবণের দোষের কথা।
লঙ্কাপুরী পরিপূর্ণ—পাপ দ্বারা।
বিভীষণের নিজ পক্ষ ত্যাগ করে রামের পক্ষ অবলম্বন করাকে মেঘনাদ আখ্যায়িত করেছে—বর্বরতা বলে।
‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতাটিতে যতি চিহ্নের ব্যবহার হয়েছে—স্বাধীনভাবে/ বক্তব্যের অর্থের অনুষঙ্গে।
‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতাটি ছন্দের বিশেষ লক্ষণ—ভাব প্রকাশের প্রবহমানতা।
পিতৃব্যের ষড়যন্ত্রকে মেঘনাদ আখ্যায়িত করেছে—নীচতা ও বর্বরতা হিসেবে।
অনুধাবন প্রশ্ন :
১. ‘হায় তাত, উচিত কি তব এই কাজ’—কোন প্রসঙ্গে, কেন বলা হয়েছে?
২. ‘স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থানুর ললাটে’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
৩. ‘লঙ্কার কলঙ্ক আজি ভঞ্জিব আহবে’—কেন বলা হয়েছে?
৪. ‘চÐালে বসাও আনি রাজার আলয়ে’—ব্যাখ্যা কর।
৫. ‘প্রফুল্ল কমলে কীটবাস’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
৬. বিভীষণ রামের পক্ষ অবলম্বন করেছেন কেন?
৭. লক্ষ¥ণের সঙ্গে যুদ্ধকে মেঘনাদ অন্যায় যুদ্ধ বলেছেন কেন?
৮. মেঘনাদ গুণহীন স্বজনকে শ্রেয় বলেছেন কেন?
৯. মেঘনাদ যজ্ঞাগারে যাচ্ছিল কেন?
১০. বিভীষণ লঙ্কারাজ্যকে পাপপূর্ণ বলেছেন কেন?
১১. ‘তব বাক্যে ইচ্ছি মরিবারে!’—কেন বলা হয়েছে?
১২. ‘হেন সহবাস, হে পিতৃব্য বর্বরতা কেন না শিখিবে?’—ব্যাখ্যা কর।
১৩. ‘এ শিক্ষা, হে রক্ষোবর কোথায় শিখিলে?’—এখানে কোন শিক্ষার কথা এবং কেন বলা হয়েছে?
১৪. মেঘনাদ লঙ্কার কলঙ্ক কীভাবে বিনষ্ট করতে চায়?
১৫. মেঘনাদের মতে, লঙ্কাপুরীর শিশুরা হাসবে কেন—ব্যাখ্যা কর।
১৬. মেঘনাদকে অরিন্দম বলা হয়েছে কেন?
১৭. ‘রুষিলা বাসবত্রাস’—কেন? ব্যাখ্যা কর।
১৮. বিভীষণ নিজেকে রাঘবদাস বলেছেন কেন?
১৯. মেঘনাদ কেন অস্ত্রগারে যেতে চেয়েছিলেন?
২০. মেঘনাদ কেন বিভীষণকে তিরস্কার কংরেন?
২১. ‘পাঠাইব রামানুজে শমন-ভবনে’—কেন বলা হয়েছে?
২২. ‘বৃথা এ সাধনা ধীমান্’—কেন বলা হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
২৩. ‘মহারথী, এ-কি মহারথী প্রথা’—ব্যাখ্যা কর।
২৪. ‘মৃগেন্দ্র কেশরী, কবে হে বীরকেশরী,
২৫. সম্ভাষে শৃগালে মিত্রভাবে?’—ব্যাখ্যা কর।
২৬. লক্ষ্মণকে ‘দুর্বল মানব’ বলা হয়েছে কেন?
২৭. ‘গতি যার নীচ সহ, নীচ সে দুর্মতি’—ব্যাখ্যা কর।
২৮. ‘প্রলয়ে যেমনি বসুধা, ডুবিছে লঙ্কা এ কালসলিলে’—ব্যাখ্যা কর।
২৯. বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতার বৈশিষ্ট্য বর্ণনা কর।
৩০. বিভীষণের মতে লঙ্কার আজ এমন অবস্থার কারণ বর্ণনা কর।
৩১. বিভীষণ ও লক্ষ্মণ রাক্ষসপুরীতে প্রবেশ করেছিল কেন?
বেশি প্র্যাকটিস/ অনুশীলন করার জন্য অনুধাবনমূলক প্রশ্ন
মৃগেন্দ্রকেশরী, কবে, হে বীরকেশরী, সম্ভাষে শৃগালে মিত্রভাবে?’
‘কী দেখি ডরিবে এ দাস হেন দুর্বল মানবে?’ উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
‘হেন সহবাসে, হে পিতৃব্য, বর্বরতা কেন না শিখিবে?’ উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।
নাহি শিশু লঙ্কাপুরে, শুনি না হাসিবে এ কথা কেন বলা হয়েছে?
“এতক্ষণে”—অরিন্দম কহিলা বিষাদে—মেঘনাদের এ অভিব্যক্তির কারণ কী?
‘কে তুমি? জনম তব কোন মহাকুলে?’- মেঘনাদ এ উক্তিটি কেন করেছেন?
“নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে প্রগলতে পশিল দম্ভী’ উক্তিটি দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
লক্ষ্মণ কীভাবে রক্ষঃপুরে অনুপ্রবেশ করেন?
মেঘনাদ কেন নিকুম্ভিলা যজ্ঞাগারে পূজানুষ্ঠান করছিলেন?
মেঘনাদের সঙ্গে লক্ষ্মণের যুদ্ধকে অন্যায় যুদ্ধ বলা হয়েছে কেন?
রামচন্দ্র কর্তৃক লঙ্কা আক্রান্ত হয়েছিল কেন? ব্যাখ্যা করো।
দৈব কৌশল বলতে কী বোঝায়? ব্যাখ্যা করো।
মেঘনাদের সঙ্গে যুদ্ধে লক্ষ্মণ মায়াদেবীর আশ্রয় নিয়েছিলেন কেন?
মধুসূদন কীভাবে বাল্মীকির কাব্যকে নবমূল্য দান করেছেন?
মেঘনাদ লক্ষ্মণকে ‘ক্ষুদ্রমতি নর’ বলেছেন কেন?
গুণবান পরজন অপেক্ষা র্নিগুণ স্বজন শ্রেয় কেন?
বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ কবিতার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সৃজনশীল প্রশ্ন:
সৃজনশীল প্রশ্ন ১: হাজার হজার সৈন্য যুদ্ধক্ষেত্রে পুতুলের মতো দাঁড়িয়ে থাকে। মোহনলাল ও মিরমর্দান প্রাণপণে যুদ্ধ করেও মিরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতার কাছে পরাজিত হয়। ব্রিটিশ সৈন্যরা অনায়াসেই বাংলা দখল করে নেয়। এভাবেই ১৭৫৭ সালের ২৩শে জুন বাংলার স্বাধীনতার অবসান ঘটে।
ক. সৌমিত্রি কে?
খ. “হায় তাত, উচিত কি তব এ কাজ?’—কে, কেন এ উক্তিটি করেছিল?
গ. উদ্দীপকের মিরজাফর ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার কোন চরিত্রের প্রতিনিধিত্ব করে? তুলনামূলক আলোচনা কর।
ঘ. “উদ্দীপকের মূলভাব ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ” কবিতার মূলভাবের সাথে আংশিক সামঞ্জস্যপূর্ণ”থথ উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন কর।
সৃজনশীল প্রশ্ন ২: বাবার ব্যবসায় দুর্দিন দেখা দিলে বড়ো ছেলে বাবার ব্যবসায়িক প্রতিপক্ষের সাথে হাত মেলায় ভবিষ্যতের আশায়। ছোটো ছেলে বাবার ব্যবসায়িক দুর্দিন কাটানোর চেষ্টার অংশ হিসেবে বড়ো ভাইকে বাবার পাশে থাকার অনুরোধ করে, কিন্তু বড়ো ছেলের অভিযোগ—বাবার একগুয়ে মনোভাব আর ভুল সিদ্ধান্তের কারণে পারিবারিক ব্যবসা ডুবতে বসেছে। তার ব্যর্থতার দায়ভার আমি নেব কেন? বড়ো ভাইয়ের সমর্থন না পেয়ে সুদিন ফিরিয়ে আনতে একা সংগ্রাম চালিয়ে যায় ছোটো ছেলে।
ক. বাসবত্রাস কে?
খ. “লঙ্কার কলঙ্ক আজ ভঞ্জিব আহবে” দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকের ছোটো ছেলে ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ” কবিতার কোন চরিত্রের অনুরূপ? কীভাবে?
ঘ. উদ্দীপকের বড়ো ছেলে এবং ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ” কবিতার বিভীষণের আচরণ ভিন্ন উদ্দেশ্যপ্রসূত”—মন্তব্যটি বিবেচনা কর।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৩: ১৭৫৭ সালে পলাশীর প্রান্তরে বাংলার স্বাধীনতা সূর্য অস্তÍমিত হয়েছিল যাদের বিশ্বাসঘাতকতায় তাদের অন্যতম প্রধান সেনাপতি মীরজাফর প্রধান সেনাপতি হয়েও সে ইংরেজদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেনি। শুধু মীরজাফরই নয়; রাজবল্লভ, রায়দুর্লভ, উমিাদ, জগৎশেঠও যুদ্ধে চরম অসহযোগিতা করেছে। কিন্তু মোহনলাল ও মীরমর্দান বাঙালি জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেননি। দেশের জন্য যুদ্ধ করেছেন এবং জীবন দিয়েছেন। পক্ষান্তরে মীরজাফর এবং তার দোসররা বাঙালি জাতির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে এবং জাতিকে প্রায় ২০০ বছর ইংরেজদের গোলামি করতে বাধ্য করেছে।
ক. ‘বিধু” শব্দের অর্থ কী?
খ. “চণ্ডালে বসাও আনি রাজার আলয়ে?’থ চরণটির তাৎপর্য ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত বিশ্বাসঘাতকতা ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ” বিষয়বস্তু কিভাবে প্রতিফলিত হয়েছে? আলোচনা কর।
ঘ. “উদ্দীপকটি ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার আংশিক রূপায়ণ মাত্র”—তোমার মতামতসহ উক্তিটি বিচার কর।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৪: ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালরাতে পাক হানাদার বাহিনী বাংলার নিরস্ত্র বাঙালির ওপর বর্বরোচিত হামলা চালায়। এতে দখলদার পাক হানাদার বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল এ দেশীয় দোসর ঘরের শত্রু রাজাকার, আল-বদর, আল-শামস বাহিনী। যদিও যুদ্ধের নীতিতে নিরস্ত্র মানুষ হত্যা কাপুরুষোচিত।
ক. ‘অরিন্দম’ কে?
খ. ‘স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থাণুর ললাটে’ কথাটি বুঝিয়ে দাও ।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত রাজাকার, আল-বদর বাহিনী এবং কবিতায় বর্ণিত বিভীষণের ভূমিকার সাদৃশ্য ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “নিরস্ত্র মানুষ হত্যা কাপুরুষোচিত’ উদ্দীপক ও ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার আলোকে উক্তিটি বিচার কর।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৫: রুমি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া এক তরুণ। সামনে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ। এমন সময় দেশে শুরু হয়ে গেল মুক্তিযুদ্ধ। এ যেন বাঙালির অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই। দেশের এমন অবস্থায় চুপ করে বসে থাকেনি রুমি। দেশমাতৃকার আহŸানে সাড়া দিয়ে সে যোগ দেয় মুক্তিযুদ্ধে। প্রাণপণ যুদ্ধ করে হানাদারদের বিরুদ্ধে ।
ক. মাইকেল মধুসূদন দত্ত কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
খ. “পরদোষে কে চাহে মজিতে?”—উক্তিটি বুঝিয়ে লিখ।
গ. উদ্দীপকের রুমির মধ্যে “বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশের কোন বিষয়টি প্রতিফলিত হয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. উদ্দীপকটি “বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশের সমগ্র ভাব ধারণ করে কী? তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৬: স্বাধীনতার অগ্রনায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে সাড়া দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে এ দেশের আপামর জনতা। যুদ্ধের বীর সেনানীদের শের, বীর্য, সাহসিকতা, কর্তব্যনিষ্ঠা দেশপ্রেম ও ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনতা। মুক্তিযুদ্ধে শহিদ বীরযোদ্ধারা জীবনের বিনিময়ে আমাদের দিয়ে গেলেন লাল সবুজের পতাকা ।
ক. লক্ক্ষণের মায়ের নাম কী?
খ. প্রফুল্ল কমলে কীটবাস?’—উক্তিটি বুঝিয়ে দাও।
গ. উদ্দীপকে মুক্তিযোদ্ধাদের কোন বৈশিষ্ট্য ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার মেঘনাদের চরিত্রে ফুটে ওঠে? আলোচনা কর।
ঘ. “দেশপ্রেম প্রকৃত বীরের ধমর্”—উদ্দীপক ও ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতা অনুসরণে বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৭: প্রাচীন গ্রিস প্রজাতন্ত্রী নগর রাষ্ট্র ছিল। জুলিয়াস সিজার একজন সফল সেনাপ্রধান ছিলেন। কালক্রমে জুলিয়াস সিজার একনায়কতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করেন। তার এ নীতির সমর্থন দেন তার স্নেহ ভাজন বুটাস। পরবর্তীতে সিনেটররা রাষ্ট্রের কল্যাণার্থে সিজারকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে। বুটাস তখন ষড়যন্ত্রকারীদের সাথে যোগ দেয়। নিরস্ত্র সিজারকে সিনেটররা একের পর এক ছুরিকাঘাত করতে থাকে। যখন তার প্রিয় বুটাস তাকে ছুরিকাঘাত করে তখন সিজার হতবাক হয়ে বলে, “বুটাস, তুমিও?”
ক. “সৌমিত্রি’ কে?
খ. “নাহি শিশু লঙ্কাপুরে শুনি না হাসিবে এ কথা।’—কোন কথা? বুঝিয়ে লিখ।
গ. উদ্দীপকে প্রকাশিত বুটাসের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের “বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতায় প্রকাশিত বিভীষণের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের তুলনা কর।
ঘ. প্রমাণ কর, ‘কিছুটা মিল থাকলেও সিজার মেঘনাদের প্রতিনিধি নয়।’—বিশ্লেষণ কর।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৮: ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ কালোরাতে পাকিস্তান হানাদার বাহিনী নিরস্ত্র বাঙালির ওপরে অতর্কিত হামলা চালায়। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীকে সহায়তা করেছিল রাজাকার-আলবদররা ।
ক. ‘প্রগলভে’ শব্দের অর্থ কী?
খ. “স্থাপিলা বিধুরে বিধি স্থানুর ললাটে”—বুঝিয়ে লেখ।
গ. উদ্দীপকে উল্লিখিত রাজাকারের ভূমিকার সাথে ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার কোন চরিত্রের মিল রয়েছে? ব্যাখ্যা কর।
ঘ. “নিরস্ত্র মানুষ হত্যা কাপুরোষিত” ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার আলোকে পর্যালোচনা কর।
সৃজনশীল প্রশ্ন ৯: সমন্ত দুর্বলতা ঝেড়ে ফেলে আপনারা ভেবে দেখুন কে বেশি শত্তিমান? একদিকে দেশের সমস্ত সাধারণ মানুষ—অন্যদিকে মুষ্টিমেয় কয়েকজন বিদ্রোহী । তাদের হাতে অস্ত্র আছে, আর আছে ছলনা এবং শঠতা। অস্ত্র আমাদেরও আছে, কিন্তু তারচেয়ে যা বড়ো, সবচেয়ে যা বড়ো আমাদের আছে সেই দেশপ্রেম এবং স্বাধীনতা সংকল্প।
ক. রাজহংস কোথায় কেলি করে?
খ. মেঘনাদকে অরিন্দম বলা হয়েছে কেন? —বুঝিয়ে লেখ ।
গ. উদ্দীপকটি ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার সাথে কিভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ? ব্যাখ্যা কর।
গ. উদ্দীপকের মূলভাব এবং ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কবিতার স্বর্ণালঙ্কার প্রতি মেঘনাদের অনুরাগ একসূত্রে গাঁথা। মন্তব্যটি মূল্যায়ন কর।
সৃজনশীল প্রশ্ন ১০: পৃথিবীর প্রতিটি দেশে ও সমাজে যতই ন্যায়ধর্ম, ক্ষাত্রধর্ম, মানবিকতা, যুক্তিবাদ-এর আদর্শের কথা বলা হোক না কেন! —এগুলোর বাস্তব প্রকাশ বা কার্যক্রম খুঁজে পাওয়া দুর্লভ। সর্বত্র বিশ্বাসঘাতকতা, কুটকৌশল, অন্যায়-অত্যাচার আর মিথ্যার জয়-জয়কার ৷
ক. মেঘনাদ কেন বিভীষণকে তিরস্কার করতে চান না?
খ. নিজেকে রামচন্দ্রের দাস বলায় মেঘনাদ বিভীষণকে কী কী বিষয় স্মরণ করিয়ে দেয়? তা লেখ।
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত বক্তব্য ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ’ কাব্যাংশের সাথে কী সাদৃশ্য বহন করে? বিশ্লেষণ কর।
ঘ. “সর্বত্র বিশ্বাসঘাতকতা, কুটকৌশল, অন্যায়-অত্যাচার আর মিথ্যার জয়-জয়কার।’— উক্তিটি ‘বিভীষণের প্রতি মেঘনাদ” কবিতাংশের আলোকে মূল্যায়ন কর।

কোন মন্তব্য নেই