Header Ads

মুনশি একাডেমি

শিক্ষা ও সাহিত্যভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
নোট ও সাজেশন বিসিএস ও এনটিআরসিএ বি.এড ও ব্যাংক প্রস্তুতি

মঞ্জরিত আকাশকুসুম ও একটি প্রাপ্তিস্বীকার : বই আলোচনা

 মঞ্জরিত আকাশকুসুম ও একটি প্রাপ্তিস্বীকার : সঙ্গ-প্রসঙ্গ

মুনশি আলিম


মুশফিকুর রহমান একজন সময়সচেতন রোমান্টিক কবি| রোমান্টিকতার আবহে তিনি সময়কে ধরতে চেয়েছেন নিজের মতো করে| মঞ্জরিত আকাশকুসুম ও একটি প্রাপ্তিস্বীকার কাব্যের পরতে পরতে তিনি আঁকতে চেয়েছেন শুদ্ধ প্রেমের নিটোল ক্যানভাস| বিহারী লালের সারদা দেবীর মতো কবির চোখ পুরো কাব্যজুড়েই খুঁজে ফিরে মানস প্রিয়ার স্পর্শ! তাঁর লেখায় যেমন রয়েছে নিজস্ব ধারা তেমনই রয়েছে বিষয়-ˆবচিত্র্যে ভরপুর| ২০১৮ সালে বর্ণ বিন্যাস প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হয় কাব্যটি| কবি মুশফিকুর রহমানের এটি দ্বিতীয় কাব্য| সাড়ে পাঁচ ফর্মার এই কাব্যটিতে মোট কবিতা রয়েছে ৭৮টি| 

মঞ্জরিত আকাশকুসুম ও একটি প্রাপ্তিস্বীকার—কবিতার নামকরণের মধ্যেই এক ধরনের রোমান্টিক পূর্বাভাস মেলে| তাঁর এই কাব্যে রয়েছে—অতিমাত্রায় রোমান্টিকতা, প্রত্যাশা, আন্তঃক্ষরণ, বিচ্ছিন্ন আত্মকথন, জীবনের ছায়াপাত, অস্থিরতা-বিভ্রান্তির ছাপ, সমকালীন বাস্তবতা, ভাবের রোদন, মানসপ্রিয়ার স্মৃতিচারণ, রোমান্টিকতার দীর্ঘশ্বাস, আদিম কামনা, যুগ জটিলতা, প্রেমের জটিল নিকাশ, বিবিধ| পুরো কাব্যেই নিটোল ঝর্ণাধারার মতো 

রোমান্টিকতার রস যেনো উপচে পড়ছে

/প্রিয়তমা! নদী হও
এই শেষ সুযোগ-এমন ডুবিয়ে মারবার মতো

প্লবতাহীন সাধ

অতলে তলিয়ে যেত-প্রতিক্রিয়াহীন|


কবিতাগুলো নানারকম রঙিন শিল্পের মোড়কে সজ্জিত| এককথায় এটি শিল্পসুষমাসমৃদ্ধ কবিতার বই| মঞ্জরিত আকাশকুসুম ও একটি প্রাপ্তিস্বীকার কাব্যের কোনো কোনো কবিতা পঠনপাঠনে মনে হয়—কবিতার জন্যই বুঝি তাঁর জন্ম! কবিরা স্বপ্নদ্রষ্টা| মানুষের মনে স্বপ্ন বুননে তাঁরা নিরলস ভূমিকা পালন করে থাকে| প্রয়োজনের তাগিদেই কবিকে শিল্পের পথে হাঁটতে হয়| কবি মুশফিকুর রহমান শিল্প ও সুন্দরের পূজারি| পুরোপুরি এক রোমান্টিক প্নদ্রষ্ট্রা| কবি এ কাব্যে রোমান্টিক ভাবের ভেতর দিয়ে নিজের দ্বৈরথ সত্ত্বার দিকটিও ¯^তঃস্ফুর্তভাবে প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন|

তুমিও তাদের মতো নাকি?

[...] 

যদিও কাকাতুয়া পায়রা এক নয়
পাখনা কিংবা পালকের রং/

 [...]

 কিন্তু উড়ে যাওয়ার সময়-এক

সবাই অচেনা পাখি/তুমিও তাদের মতো নাকি?


রোমান্টিকতার এমন চমৎকার চিত্রকল্পসমূহ অত্যন্ত দরদ দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁর পুরো কাব্যে| তবে ভাষার সরলীকরণের কারণে পাঠক যে তাঁর কাব্য পাঠে প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত পড়ে আরামবোধ করবে তাতে কোন সন্দেহ নেই| কাব্যে অনেক কবিই দর্শন চর্চা করে থাকেন| তবে তা যেমন প্রত্যাশিত নয় তেমনই কোন কাব্যে তার ব্যবহার থাকলেও তা অনভিপ্রেতও নয়| কবি মুশফিকুর রহমান তাঁর কাব্যে রোমান্টিকতার এমনকী সেইসঙ্গে সময়েরও বন্দনা রয়েছে| রয়েছে নান্দনিকতার সৌকর্যবোধ| অতিমাত্রায় ভাবের প্রবাহ থেকেও তিনি নিজেকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করেছেন| ফলে তার কবিতাগুলো হয়ে উঠেছে বাস্তবঘেঁষা|

এবার তো কথা কও

ফেটে পড়ো অট্টহাস্যে

আকাশ মৃত্তিকা প্রকম্পিত করে


জানান দাও তোমার দ্ব্যর্থহীন অস্তিত্ব

আমি একবার শ্বাস নিতে চাই


প্রাণভরে

তোমরা মহাপ্রাণ

কণ্ঠবিধৌত বাতাসে|


কবি মুশফিকুর রহমানের কবিতায় স্ববিরোধী কথা না থাকলেও বিন্যাস ও প্রকরণে যে তা গতানুগতিক এটা খুবই স্পষ্ট| উপমা ব্যবহারে যদিও তিনি সিদ্ধহস্থ তথাপি এ কাব্যে এর সফল প্রয়োগে অনেকটাই ঘাটতি লক্ষণীয়| তাঁর কাব্যে সমকালীন কবিদের ঈষৎ প্রভাব থাকলেও তা উদাহরণ হিসেবে টানার মতো নয়| 

সাহিত্য নিঃসন্দেহে ব্যক্তিমনের শৈল্পিক অভিব্যক্তি| তা স্বতঃস্ফূর্ত ও অবারিত| আরোপিত নয়| এই নির্জলা একটি বিষয়ের ওপরে আলোচনা বা সমালোচনা একটু স্পর্শকাতর ব্যাপার বটে| একই গ্রন্থ বা বিষয়ের ওপর একের অধিক আলোচনা হলে তা বিচ্ছুরিত হবে আলাদা আলো ও রঙে| এখানে দৃষ্টিভঙ্গি রুচিও পছন্দ প্রাধান্য পায়| ভাষার সরলীকরণের দিক থেকে বিবেচনা করলে কিংবা ভাব-ভাষা, ছন্দ, অলংকরণ ও বিষয়-বস্তুর নতুনত্বের দিক থেকে চিন্তা করলে কবি মুশফিকুর রহমান পাঠক হৃদয়ের কাছাকাছি তো যাবেই বাংলা সাহিত্যেও দীর্ঘকাল টিকে থাকবে বলে আমার বিশ্বাস| সত্য ও সুন্দর প্রকাশের ক্ষেত্রে তার কাব্য নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবি রাখে| কালের যাত্রায় সত্য ও সুন্দরের জয় হোক|




কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.