পাত্রী দেখা: মুনশি আলিমের একটি হাসির ও রম্য ছোটগল্প
মামা হঠাৎ কল দিয়ে বললো—ভাগিনা, খালকে একটু সকাল সকাল আইছ; পাত্রী দেখাত যাইতাম। বালা সুট-কোট ফড়িয়া আইছ। কদিন থেকেই মামা তার ভাতিজার জন্য পাত্রী দেখছেন। কিন্তু কোথাও ষোলকলা পূর্ণ হচ্ছে না।
আমরা সকাল দশাটার দিকে রওয়ানা দিলাম। প্রায় ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই আমরা পাত্রীর বাসায় উপস্থিত হলাম। পাত্রী কোথায়? জিজ্ঞেস করতেই পাত্রীর নানি মুচকি হেসে বললো—আগে খাওয়া-দাওয়া শেষ খরিলাইন ... । যে কথা সেইকাজ। প্রথম পর্ব ভালোভাবেই শেষ হলো।
দ্বিতীয় পর্বে এসেই আমার অস্বস্থিবোধ শুরু হলো। বাড়ির মেয়েছেলে, জোয়ান, বুড়া অনেকেই কেমন যেনো আড়চোখে তাকাচ্ছে। আবার অনেকেই দরজার পর্দা একটু সরিয়ে লুকোচুরি-দৃষ্টিতে দেখছে। আমি কিছু বুঝে উঠার আগেই পাত্রী এসে আমার বাম দিকে বসল। একেবারে সাদাসিদে কিন্তু ভারি মিষ্টি।
আমি মামার দিকে তাকিয়ে ক্ষীণস্বরে বললাম—দারুণ! মামা দ্রুত অন্দরমহলে গেলেন। মিনিট দুয়েক কাটিয়ে এসে আমাকে বললেন—এখন তো উটি যাইতাম অইব। আমি বললাম—জিঅয়। বিদায়মুহূর্তে অন্দরমহলের কে যেনো বেশ জোরেশোরেই বললো—দুজনকে খুব মানাবে! পাত্র খুব স্মার্ট! কথাটি শোনামাত্রই আমি ঘামতে শুরু করলাম।
মামা আমার কানে ফিসফিস করে বললেন—খইন্যাবেটিরে কিছু দিতে নায়নি? এতক্ষণে বিষয়টা দিনের মতোই পরিষ্কার হয়ে গেল। আমি কয়েকবার ঢুক গিলে মানিব্যাগ বের করলাম। আর মনে মনে মামার ওপর ভীষণ রাগান্বিত হলাম। সর্বমোট ৬০০ টাকা আছে। নিজের গাড়িভাড়াটা শুধু রেখে অবশিষ্ট ৫০৫ টাকা কন্যার হাতে দিলাম। গণনার প্রয়োজন নেই বলেই আমার মুখের ঘাম মুছার বৃথা চেষ্টা করতে লাগলাম।
সবাইকে সালাম দিয়ে বাসা থেকে বের হতেই মামাকে বললাম—হালার হালা! মামা অট্টহাসিতে ফেটে পড়লেন। কিছুক্ষণ পর আমিও মামার সঙ্গে শরীক হলাম।

কোন মন্তব্য নেই