স্বদেশ কবিতা: ৫ম শ্রেণি বাংলা নোট ও সম্পূর্ণ সমাধান - আহসান হাবীব
স্বদেশ কবিতা: ৫ম শ্রেণি বাংলা নোট ও সম্পূর্ণ সমাধান - আহসান হাবীব
🌿 স্বদেশ - আহসান হাবীব (কবিতার মূলভাব)
বাংলাদেশ নদীমাতৃক দেশ। এদেশের প্রকৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রা যেন একটি জীবন্ত ছবি। 'স্বদেশ' কবিতায় কবি দেখিয়েছেন একটি ছেলে নদীর জোয়ার, সারি সারি নৌকা, আর গাছে গাছে পাখির কলকাকলি দেখে মুগ্ধ হয়। এই অবারিত মাঠ, নানা কাজের মানুষ আর চিরসবুজ প্রকৃতি তার মনের মধ্যে গেঁথে যায়। এই অমূল্য প্রাকৃতিক ছবি কোনো কড়ি বা টাকা দিয়ে কেনা যায় না। এটি কবির কাছে এক পরম পাওয়ার বিষয়।
🔘 বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ):
১. 'স্বদেশ' কবিতাটি কে রচনা করেছেন?
(ক) কাজী নজরুল ইসলাম (খ) সুকুমার বড়ুয়া (গ) আহসান হাবীব ✅ (ঘ) শামসুর রাহমান
২. 'স্বদেশ' কবিতায় কোথায় জোয়ার আসে?
(ক) নদীতে ✅ (খ) পুকুরে (গ) খালে (ঘ) বিলে
৩. 'স্বদেশ' কবিতায় জারুল গাছে কোন রঙের পাখি বসে?
(ক) লাল (খ) নীল (গ) হলুদ ✅ (ঘ) কালো
৪. 'স্বদেশ' কবিতায় ছবিটি কী দিয়ে কেনা নয়?
(ক) কড়িতে ✅ (খ) টাকাতে (গ) রুপিতে (ঘ) ডলারে
৫. 'স্বদেশ' কবিতায় কে নদীর ধারে বসে ছবি দেখে?
(ক) মেয়েটি (খ) ছেলেটি ✅ (গ) বধূটি (ঘ) শিশুটি
📝 অনুশীলনী সমাধান
১. শব্দার্থ ও বাক্য গঠন:
কড়ি: প্রাচীনকালে কেনাবেচার জন্য ব্যবহৃত ছোট সাদা শামুক। (বাক্য: আগেকার দিনে মানুষ কড়ি দিয়ে কেনাবেচা করত।)
টুকটুক: উজ্জ্বল সুন্দর রং বোঝাতে ব্যবহৃত শব্দ। (বাক্য: লাল জামা পরে খুকিটিকে টুকটুক লাগছে।)
শিল্পী: যিনি কোনো শিল্পকলা তৈরি করেন। (বাক্য: জয়নুল আবেদিন ছিলেন একজন বড় মাপের চিত্রশিল্পী।)
পাখপাখালি: নানা ধরনের পাখি। (বাক্য: সকালে পাখপাখালির কলকাকলিতে ঘুম ভাঙে।)
২. গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর:
প্রশ্ন: গ্রাম বাংলার কোন ছবিটি আমাদের চেনা?
উত্তর: নদীর তীরে সারি সারি নৌকা বাঁধা, নদীর জোয়ার এবং তীরে একলা বসে থাকা একটি ছেলের দৃশ্যই আমাদের চেনা গ্রাম বাংলার ছবি।
প্রশ্ন: ‘সব মিলে এক ছবি' বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তর: বাংলাদেশের অবারিত মাঠ, নানা পেশার মানুষ, নদী, বাড়ি-বাগান আর পাখপাখালি—এই সবকিছু মিলে দেশটা যেন একটি সুন্দর আঁকা ছবির মতো। একেই 'সব মিলে এক ছবি' বলা হয়েছে।
প্রশ্ন: কোন ছবিটি টাকা দিয়ে কেনা যায় না?
উত্তর: চিরসবুজ গ্রাম বাংলার প্রকৃতি, নদীর জোয়ার, জারুল গাছের হলুদ পাখি আর এদেশের সহজ-সরল মানুষের মায়াময় এই প্রাকৃতিক ছবি টাকা দিয়ে কেনা যায় না।
✅ সঠিক উত্তরে টিক (√) চিহ্ন দাও:
ক. নদীর তীরে সারি সারি কী রাখা ছিল? — নৌকা
খ. ছেলেটির সারাদিন কীভাবে কাটে? — মাঠের মানুষ আর হাটের মানুষ দেখে
গ. ‘স্বদেশ' কবিতায় ছেলেটি কীভাবে তার ছবি আঁকে? — নিজের মনের মধ্যে
ঘ. ‘স্বদেশ' কবিতায় কবি বাংলাদেশের কোন ছবিটি তুলে ধরেছেন? — বাংলাদেশের প্রকৃতি ও মানুষের জীবনযাত্রার ছবি
ঙ. ‘এই ছেলেটির মুখ সারাদেশে সব ছেলেদের মুখেতে টুকটুক’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে? — ছেলেটির মুখের প্রতিচ্ছবি
অতিরিক্ত তথ্য-উপাত্ত
১. শব্দার্থ শিখি
কড়ি: এক ধরনের ছোট সাদা শামুক (আগেকার দিনে যা টাকা হিসেবে ব্যবহৃত হতো)।
টুকটুকে: খুব সুন্দর বা গাঢ় লাল।
শিল্পী: যিনি কোনো শিল্পকলা (যেমন ছবি আঁকা, গান) চর্চা করেন।
পাখালি: পাখি বা পাখপাখালি।
মেঠো পথ: মাটির রাস্তা বা মাঠের ভেতর দিয়ে যাওয়া পথ।
২. শূন্যস্থান পূরণ
ক. এ দেশের নদী ও মাঠ মিলে যেন একটি ছবি। খ. গাছে গাছে পাখির কলকাকলি শোনা যায়। গ. মেঠো পথে চাষি ভাই কাজ করছেন। ঘ. বাংলাদেশের প্রকৃতি যেন এক শিল্পীর আঁকা। ঙ. এই ছবি টাকা দিয়ে কেনা যায় না।
৩. নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর জেনে নিই ও লিখি
প্রশ্ন (ক): নদী ও মাঠের বর্ণনা দাও। উত্তর: কবিতায় নদীকে বলা হয়েছে সুতোর মতো যা এঁকেবেঁকে চলেছে। আর মাঠের পর মাঠ কেবল সবুজ আর সবুজ। নদীর তীরে একলা বসে থাকা বালক এই রূপ দেখে মুগ্ধ হয়। নদী ও মাঠ মিলে এক শান্ত স্নিগ্ধ পরিবেশ তৈরি করেছে।
প্রশ্ন (খ): কবি কেন এই ছবিটিকে 'কেনা যায় না' বলেছেন? উত্তর: শিল্পী যদি কাগজে ছবি আঁকেন, তবে তা টাকা দিয়ে কেনা সম্ভব। কিন্তু আমাদের স্বদেশ বা প্রকৃতি হলো স্রষ্টার এক জীবন্ত দান। নদীর বয়ে চলা, পাখির গান আর মানুষের মায়া—এসব অমূল্য। হৃদয়ের এই গভীর টান ও ভালোবাসা কোনো সম্পদ দিয়ে কেনা যায় না।
প্রশ্ন (গ): 'স্বদেশ' কবিতায় বাংলাদেশের কোন রূপ ফুটে উঠেছে? উত্তর: কবিতায় বাংলাদেশের শ্যামল ও শান্ত রূপ ফুটে উঠেছে। এতে আছে জোয়ারের নদী, গাছের সারিতে পাখিদের আড্ডা, মেঠো পথ এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা। এককথায়, কবির চোখে স্বদেশ হলো প্রকৃতির রঙে সাজানো এক অদ্ভুত সুন্দর মায়ার ছবি।
প্রশ্ন (ঘ): ছেলেটি নদীর ধারে বসে কী দেখে? উত্তর: ছেলেটি নদীর ধারে বসে দেখে সুতোর মতো বয়ে চলা নদী, নদীর তীরে দাঁড়িয়ে থাকা সবুজ গাছপালা এবং প্রকৃতিতে ঘুরে বেড়ানো নানা জাতের পাখি। সে তন্ময় হয়ে বাংলাদেশের এই অপরূপ সৌন্দর্য নিজের মনে গেঁথে নেয়।
✍️ শূন্যস্থান পূরণ (কবিতার অংশ):
"এই যে ছবি এমন আঁকা,
ছবির মতো দেশ,
দেশের মাটি দেশের মানুষ।
নানা রকম বেশ,
বাড়ি বাগান পাখপাখালি।
সব মিলে এক ছবি
নেই তুলি নেই রঞ্জ তবুও
আঁকতে পারি সবই।"
✍️ যুক্তবর্ণ চিনে নিই
দেশ (দ + এ-কার) - এটি সাধারণ বর্ণ।
** শিল্প** (ল + প) = গল্প, অল্প।
** কান্ত** (ন + ত) = শান্ত, অনন্ত।
** গঞ্জ** (ঞ + জ) = কুঞ্জ, গুঞ্জন।
👨💼 কবি-পরিচিতি: আহসান হাবীব
জন্ম: ২রা ফেব্রুয়ারি ১৯১৭ (পিরোজপুর জেলার শঙ্করপাশা গ্রাম)।
পেশা: সাংবাদিক। তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন পত্রিকার সাহিত্য পাতা সম্পাদনা করেছেন।
বিখ্যাত বই: 'বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর' ও 'ছুটির দিন দুপুরে'।
মৃত্যু: ১০ই জুলাই ১৯৮৫।

কোন মন্তব্য নেই