স্মরণীয় যাঁরা বরণীয় যাঁরা: ৫ম শ্রেণি বাংলা নোট ও সমাধান
স্মরণীয় যাঁরা বরণীয় যাঁরা: ৫ম শ্রেণি বাংলা নোট ও সমাধান
🕯️ স্মরণীয় যাঁরা বরণীয় যাঁরা (অধ্যায় সারসংক্ষেপ)
১৯৭১ সালে দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী যখন বুঝতে পারল তাদের পরাজয় নিশ্চিত, তখন তারা এদেশকে মেধাশূন্য করার এক ঘৃণ্য পরিকল্পনা করে। এরই ধারাবাহিকতায় ১৪ই ডিসেম্বর দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের—শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক ও সাহিত্যিকদের হত্যা করা হয়। এই অধ্যায়ে আমরা সেই মহান বুদ্ধিজীবীদের আত্মত্যাগ এবং তাঁদের প্রতি আমাদের ঋণের কথা জানতে পারি।
🔘 বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ):
১. ১৯৭১ সালের শেষদিকে মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনী তাদের পরাজয় অবধারিত জেনে কোন ধরনের গভীর ধ্বংসের পথ বেছে নেয়?
(ক) কৃষক হত্যা
(খ) শ্রমিক হত্যা
(গ) নারী ও শিশুহত্যা
(ঘ) বুদ্ধিজীবী হত্যা ✅
২. 'সাধনা ঔষধালয়' কে প্রতিষ্ঠা করেন?
(ক) যোগেশচন্দ্র ঘোষ ✅
(খ) সন্তোষচন্দ্র ভট্টাচার্য
(গ) নিত্যগোপাল চৌধুরী
(ঘ) হিরণকুমার বিশ্বাস
৩. একুশে ফেব্রুয়ারিতে ভাষা শহিদদের স্মরণ করে আমরা কোথায় ফুল দিতে যাই?
(ক) স্মৃতিসৌধে
(খ) শহিদ মিনারে ✅
(গ) জাতীয় সংসদে
(ঘ) মিরপুর ও রায়ের বাজারের বধ্যভূমিতে
৪. অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন?
(ক) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ✅
(খ) খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়
(গ) কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
(ঘ) চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়
৫. লেখক শহীদুল্লাহ কায়সার আর কী হিসেবে সুপরিচিত ছিলেন?
(ক) গায়ক
(খ) চলচ্চিত্রকার
(গ) শিক্ষক
(ঘ) সাংবাদিক ✅
📝 অনুশীলনী সমাধান
১. শব্দার্থ ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:
বধ্যভূমি: যেখানে নিরপরাধ মানুষকে ধরে এনে হত্যা করা হয়।
বুদ্ধিজীবী: যাঁরা মেধা ও জ্ঞান দিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের সেবা করেন।
অবিসংবাদিত: যা নিয়ে কোনো বিতর্ক নেই বা সর্বজনস্বীকৃত।
রণাঙ্গন: যুদ্ধের ময়দান।
শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস: ১৪ই ডিসেম্বর।
২. আমাদের মহান শহিদ বুদ্ধিজীবীগণ (এক নজরে)
| নাম | পরিচয় ও অবদান |
| মুনীর চৌধুরী | খ্যাতিমান সাহিত্যিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। |
| শহীদুল্লাহ কায়সার | বিশিষ্ট সাংবাদিক ও প্রখ্যাত লেখক। |
| মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী | প্রথিতযশা শিক্ষক ও সাহিত্যিক। |
| যোগেশচন্দ্র ঘোষ | আয়ুর্বেদ শাস্ত্রের পণ্ডিত ও 'সাধনা ঔষধালয়'-এর প্রতিষ্ঠাতা। |
| সেলিনা পারভীন | সাহসি নারী সাংবাদিক ও সম্পাদক। |
| গোবিন্দচন্দ্র দেব | প্রখ্যাত দার্শনিক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। |
৩. গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের উত্তর:
প্রশ্ন: পাকিস্তানিরা কেন বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করেছিল?
উত্তর: পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী পরাজয় নিশ্চিত জেনে এদেশকে মেধাশূন্য করতে চেয়েছিল। তারা ভেবেছিল দেশের শ্রেষ্ঠ মেধাগুলোকে ধ্বংস করলে এদেশ আর মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না।
প্রশ্ন: আমরা কেন বুদ্ধিজীবীদের স্মরণ করি?
উত্তর: বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন আমাদের পথপ্রদর্শক। তাঁদের জ্ঞান ও চেতনা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে সাহস জুগিয়েছিল। তাঁদের মহান আত্মত্যাগের মাধ্যমেই আমরা স্বাধীন বাংলাদেশ পেয়েছি, তাই আমরা তাঁদের চিরকাল শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করি।
📍 বধ্যভূমি ও স্মৃতিস্তম্ভ
শহিদ বুদ্ধিজীবীদের স্মরণে ঢাকার রায়ের বাজার ও মিরপুরে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতি বছর ১৪ই ডিসেম্বর আমরা সেখানে গিয়ে বীর সন্তানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করি।
কোন মন্তব্য নেই