কাঁটা (গল্প) - মুনশি আলিম
কাঁটা (গল্প)
মুনশি আলিম
মামা রুবজ এ রহমানের জন্য কলেজের সেই পুরোনো বকুলগাছটা আজও প্রেমের সাক্ষী হয়ে ঠাঁয় দাড়িয়ে আছে। তবে গাছটা যতটা রোমান্টিক, তার নিচে দাঁড়ানো মামুজি ততটাই নার্ভাস। হাতে একটা গোলাপ কিন্তু কাঁটা বেশি হওয়ায় সে বারবার ভাবছে- প্রেমটা বুঝি কাঁটার মতোই বিঁধবে।
ঠিক তখনই মামার স্বপ্নরানি মেঘলা এসে হাজির। সে এমনভাবে হাঁটছে যেন প্রতিদিনই কেউ তাকে গোলাপ হাতে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে থাকে। মামা তাড়াতাড়ি ফুলটা সামনে ধরল। মুখে ম্লান হাসি এনে বলল- এই নাও… শুধুমাত্র তোমার জন্য। মেঘলা ফুলটার দিকে তাকিয়ে বলল, এত কাঁটা কেন? আ হ্যাঁ শুধুমাত্র ভুল শব্দ। শুধু বললেই হতো।
নিজের দীনতা বুজতে পেরে মামুজি ঘামতে শুরু করলো। তার ওই একটাই সমস্য; মেয়েদের প্রপোজ করতে গেলেই সে মেকাপ করা সুন্দরীদের মতো টকটকে লাল হয়ে ওঠে; সেইসাথে চলে ঘামের মিছিল!
বেচারা ঘাম মুছতে মুছতে বলল- প্রেমে কাঁটা থাকবেই। তবু আমি সাবধানে ধরেছি। মেঘলা ফিক করে হেসে ফেলল। সে হাসিতে মামার হৃদয় দলিত মথিত হয়; অনেকটা রুটি বানানোর আগে গলিত ময়দার মণ্ড বা খামির মত।
মামা চোখ বন্ধ করে বিড়বিড় করে কী একটু জপে নিল। তারপর বলল, তুমি কি জানো- তোমার হাসি দেখলে আমার পড়া, সব কবিতা ভুলে যাই?
মেঘলা ভ্রুকুটি টেনে বলল- এটা কি এই প্রথম হচ্ছে?
মামা একটু থমকে গেল। তারপর সত্যি কথাটাই বলল- না, এই প্রথম না। প্রতিবারই হয়। তবে তোমার হাসি এলেই আমার মাথার ভেতরের সব লাইন দৌড়ে পালায়।
মেঘলা এবার আর ভ্রুকুটি রাখল না। নরম গলায় বলল- তা হলে কবিতা ভুলে যাওয়াই ভালো। বাস্তবটা মনে থাকুক। মামার চোখেমুখে হাসির পরাগরেণু সহসাই ঢেউ খেলে গেল। মুচকি হেসে বলল, তাহলে…গোলাপটা রাখবে?
মেঘলা গোলাপটা নিল। কাঁটা ছুঁয়ে হেসে বলল- কাঁটা থাকলেও সমস্যা নেই। সাবধানে ধরতে জানলেই হলো।
অপ্রত্যাশিত খুশিতে মামার মনে পড়ল ছোটোবেলায় পড়া সেই বিখ্যাত লাইনদ্বয়- আজ ইদ। মদিনার ঘরে ঘরে আনন্দ!
১৫ই জানুয়ারি ২০২৬
সিলেট

কোন মন্তব্য নেই