কন্যাশিশু ও আইসক্রিম - মুনশি আলিম
কন্যাশিশু ও আইসক্রিম
মুনশি আলিম
সূর্য তখন অনেকটাই পশ্চিমাকাশে হেলে পড়েছে। তিন রাস্তার মোড়ে আসতেই আমার কানে ভেসে এলো এক শিশুর কান্না। কী অঝোর ধারায়ই না কাঁদছে!
কেমন এক অদ্ভুত মায়ায় মনটা গলে গেল। কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করতেই মেয়েটির মা বললো-হাইছকিরিমের লিগা কানতাছে। কন কেমুনডা লাগে। বাজার থাইক্কা মেলা দূরে আইয়া পড়ছি। অহন কেমনে যাই? মাইয়াডারে কইলাম বাড়ির কাছের দোকান থিকা কিন্না দিমু। কিন্তু কোনো কথাই হুনে না।
অবুঝ শিশুটি হাউমাউ করে কাঁদছে আর একটু পরপর বলছে- আইছকিরিম খামু। শিশুটির মায়ের দিকে তাকালাম। তার চোখেমুখে কেমন যেনো অসহায়ের ছাপ! নীরবতা ভেঙে বললাম-আসুন, বাজারে আসুন। আমি আইসক্রিম দিব।
হাত দিয়ে ইশারা করার সাথে সাথেই মেয়েটি আমাকে অনুসরণ করা শুরু করলো। মেয়েটির মা অনেকটা নিরুপায় হয়েই তার পিছু নিল।
বাজারের একেবারে কাছেই একটি মুদির দোকান। আইসক্রিমের কথা জিজ্ঞেস করতেই একগাল হেসে বললেন -জিঅয়, আছে। কিজাত নিবা? ততক্ষণে মেয়েটিও এসে হাজির।
আমি দোকানদারকে বললাম-ই পুড়িয়ে যেখটা বাছিয়া নেয় অখটাও দিলাইন। ছোট্ট মেয়েটি তার ইচ্ছেমতো আইসক্রিম বেছে নিল। শিশুটির মায়ের দিকে তাকিয়ে বললাম-আপনিও একটা নিন। বলেই তার হাতে একটি আইসক্রিম তুলে দিলাম।
বিল পরিশোধ করে ফিরতিপথে পা বাড়ানোর আগে মেয়েটির মাথায় স্নেহের হাত বুলালাম। মেয়েটির চোখেমুখে তখন সেকি আনন্দের ঝিলিক! আমার দিকে তাকিয়ে মিলিয়ন ডলার মূল্যের এক হাসি দিল। আহা! কত নির্মল, কত পবিত্র। সামান্যতেই যে অসামান্য আনন্দ!
এক অপার তৃপ্তি নিয়ে ফিরতিপথে পা বাড়ালাম। জীবন সুন্দর, ঠিক যেমনটা সুন্দর পবিত্র চিন্তাগুচ্ছ।
২০ শে জুলাই ২০২৩ খ্রিষ্টাব্দ,
জাফলং, সিলেট।
ml

কোন মন্তব্য নেই