Header Ads

মুনশি একাডেমি

শিক্ষা ও সাহিত্যভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
নোট ও সাজেশন বিসিএস ও এনটিআরসিএ বি.এড ও ব্যাংক প্রস্তুতি

প্রত‌্যাবর্তনের লজ্জা কবিতা | আল মাহমুদ | এইচএসসি বাংলা

প্রত‌্যাবর্তনের লজ্জা কবিতা | আল মাহমুদ | এইচএসসি বাংলা





 কবি-পরিচিতি : আল মাহমুদ ১৯৩৬ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই জুলাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার মৌড়াইল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর প্রকৃত নাম মির আবদুস শুকুর আল মাহমুদ। তাঁর পিতার নাম আবদুর রব মির ও মাতার নাম রওশন আরা মির। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। দীর্ঘদিন তিনি সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ‘দৈনিক গণকণ্ঠ’ ও ‘দৈনিক কর্ণফুলী’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন তিনি। মধ্যবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে যোগদান করেন এবং পরিচালকের পদ থেকে অবসরে যান।

 

আধুনিক বাংলা কবিতায় আল মাহমুদ অনন্য এক জগৎ তৈরি করেন। সেই জগৎ যন্ত্রণাদগ্ধ শহরজীবন নিয়ে নয়- স্নিগ্ধ-শ্যামল, প্রশান্ত গ্রামজীবন নিয়ে। গ্রামীণ জীবন ও প্রকৃতির চিরায়ত রূপ নিজস্ব কাব্যভাষা ও সংগঠনে শিল্পিত করে তোলেন কবি আল মাহমুদ।


তাঁর প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে-কাব্যগ্রন্থ: ‘লোক-লোকান্তর’, ‘কালের কলস’, ‘সোনালী কাবিন’, ‘মায়াবি পর্দা দুলে উঠো’, ‘অদৃষ্টবাদীদের রান্নাবান্না’, ‘বখতিয়ারের ঘোড়া’, ‘আরব্য রজনীর রাজহাঁস’; শিশুতোষ কাব্যগ্রন্থ: ‘পাখির কাছে ফুলের কাছে’; উপন্যাস: ‘ডাহুকী’, ‘কবি ও কোলাহল’, ‘নিশিন্দা নারী’, ‘আগুনের মেয়ে’ ইত্যাদি; ছোটগল্প: ‘পানকৌড়ির রক্ত’, ‘সৌরভের কাছে পরাজিত’, ‘গন্ধবণিক’। 

 

তিনি বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদকসহ অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন। তিনি ২০১৯ সালের ১৫ই ফেব্রুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।

 

 

প্রত্যাবর্তনের লজ্জা - আল মাহমুদ

 

আল মাহমুদের কবিতা : প্রত্যাবর্তনের লজ্জা, প্রত্যাবর্তনের লজ্জা আল মাহমুদ, প্রত‍্যাবর্তনের লজ্জা আল মাহমুদ, কবি আল মাহমুদের প্রত্যাবর্তনের লজ্জা, প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতা, al mahmud er kobita | প্রত্যাবর্তনের লজ্জা | আল মাহমুদ, প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতা hsc, কবিতা প্রত্যাবর্তনের লজ্জা, প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতা আবৃত্তি, প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতার mcq, প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতার আলোচনা, প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতার মূলভাব, প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতার সৃজনশীল, প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতার ব্যাখ্যা

শেষ ট্রেন ধরবো বলে এক রকম ছুটতে ছুটতে স্টেশনে পৌঁছে দেখি
নীলবর্ণ আলোর সংকেত। হতাশার মতোন হঠাৎ
দারুণ হুইসেল দিয়ে গাড়ি ছেড়ে দিয়েছে।
যাদের সাথে শহরে যাবার কথা ছিল তাদের উৎকণ্ঠিত মুখ
জানালায় উবুড় হয়ে আমাকে দেখছে। হাত নেড়ে সান্ত্বনা দিচ্ছে।

আসার সময় আব্বা তাড়া দিয়েছিলেন, গোছাতে গোছাতেই
তোর সময় বয়ে যাবে, তুই আবার গাড়ি পাবি।
আম্মা বলছিলেন, আজ রাত না হয় বই নিয়েই বসে থাক
কত রাত তো অমনি থাকিস।
আমার ঘুম পেলো। এক নিঃস্বপ্ন নিদ্রায় আমি
নিহত হয়ে থাকলাম।

অথচ জাহানারা কোনদিন ট্রেন ফেল করে না। ফরহাদ
আধ ঘণ্টা আগেই স্টেশনে পৌঁছে যায়। লাইলী
মালপত্র তুলে দিয়ে আগেই চাকরকে টিকিট কিনতে পাঠায়। নাহার
কোথাও যাওয়ার কথা থাকলে আনন্দে ভাত পর্যন্ত খেতে পারে না।
আর আমি এঁদের ভাই
সাত মাইল হেঁটে শেষ রাতের গাড়ি হারিয়ে
এক অখ্যাত স্টেশনে কুয়াশায় কাঁপছি।

কুয়াশার শাদা পর্দা দোলাতে দোলাতে আবার আমি ঘরে ফিরবো।
শিশিরে আমার পাজামা ভিজে যাবে। চোখের পাতায়
শীতের বিন্দু জমতে জমতে নির্লজ্জের মতোন হঠাৎ
লাল সূর্য উঠে আসবে। পরাজিতের মতো আমার মুখের উপর রোদ
নামলে, সামনে দেখবো পরিচিত নদী। ছড়ানোছিটানো
ঘরবাড়ি, গ্রাম। জলার দিকে বকের ঝাঁক উড়ে যাচ্ছে। তারপর
দারুণ ভয়ের মতো ভেসে উঠবে আমাদের আটচালা।
কলার ছোট বাগান।

দীর্ঘ পাতাগুলো না না করে কাঁপছে। বৈঠকখানা থেকে আব্বা
একবার আমাকে দেখে নিয়ে মুখ নিচু করে পড়তে থাকবেন,
ফাবি আইয়ে আলা ই-রাব্বিকুমা তুকাজ্বিবান …।

বাসি বাসন হাতে আম্মা আমাকে দেখে হেসেফেলবেন।
ভালোই হলো তোর ফিরে আসা। তুই না থাকলে
ঘরবাড়ি একেবারে কেমন শূন্য হয়ে যায়। হাত মুখ
ধুয়ে আয়। নাস্তা পাঠাই।
আর আমি মাকে জড়িয়ে ধরে আমার প্রত্যাবর্তনের লজ্জাকে
তুলে ফেলবো ঘষে ঘষে।

 

প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতার মূলভাব

‘প্রত্যাবর্তনের লজ্জা’ কবিতাটি আল মাহমুদের ‘সোনালি কাবিন’ কাব্যগ্রন্থ থেকে সংকলিত হয়েছে। সংলাপ এবং গল্প বলার ঢংয়ে কবিতাটি রচিত। শহরে যাবার শেষ ট্রেনটি ধরার জন্য রেলস্টেশনে পৌঁছাতে পৌঁছাতেই ট্রেন ছেড়ে দিল। কবি দেখতে পেলেন, যাদের সঙ্গে একত্রে শহরে যাবার কথা ছিল তারা ট্রেনের জানালা দিয়ে তাকে সান্ত্বনা জানাচ্ছেন। ট্রেন ধরতে না পারার হতাশায় কবির মনে পড়ল বাবা-মায়ের কথাগুলো। নিজের ভাইবোনদের সতর্ক ও সচেতন প্রস্তুতির স্মৃতিও কবির মনে জাগ্রত হলো।

এক রকম পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে কবি সেই ভোররাতে বাড়ির পথে ফিরতে শুরু করলেন। রাতের অন্ধকার সরিয়ে সূর্যের আলো চোখে পড়তেই তিনি দেখতে পেলেন পরিচিত নদী, গ্রাম, নিজেদের আটচালা ঘর। কবির এই ফিরে আসা তার মাকে আনন্দিত করে তুললো। কবিও মাকে জড়িয়ে ধরে তার প্রত্যাবর্তনের লজ্জা মন থেকে মুছে ফেললেন। শহর বা নাগরিক জীবনের চেয়ে মাতৃতুল্য গ্রামীণ সহজ জীবনই কবির জন্য পরম স্বস্তির। তিনি শহরমুখী জীবনযাত্রায় খাপ খাওয়াতে না পারার ব্যর্থতাকে মুছে ফেলছেন মায়ের আশ্রয়ে। এই মা একই সঙ্গে প্রকৃতিরও প্রতিমূর্তি।

 


📘 কবিতা থেকে ৩০টি বহুনির্বাচনি প্রশ্নোত্তর

১. কবিতার বক্তা কোথায় যেতে চেয়েছিল?

ক) গ্রামে
খ) শহরে
গ) নদীর ধারে
ঘ) কর্মস্থলে
উত্তর: খ)

২. বক্তা কেন ট্রেনটি মিস করে?

ক) অসুস্থতার কারণে
খ) ইচ্ছাকৃতভাবে
গ) দেরিতে পৌঁছানোর কারণে
ঘ) টিকিট না থাকায়
উত্তর: গ)

৩. স্টেশনে পৌঁছে বক্তা কী দেখতে পায়?

ক) লাল সংকেত
খ) সবুজ সংকেত
গ) নীলবর্ণ আলোর সংকেত
ঘ) হলুদ সংকেত
উত্তর: গ)

৪. ট্রেন ছাড়ার সময় কী শোনা যায়?

ক) ঘণ্টাধ্বনি
খ) আজান
গ) হুইসেল
ঘ) চিৎকার
উত্তর: গ)

৫. জানালায় কারা বক্তার দিকে তাকিয়ে ছিল?

ক) পরিবার
খ) অপরিচিত লোক
গ) সহযাত্রী বন্ধু
ঘ) শহরে যাওয়ার কথা যাদের ছিল
উত্তর: ঘ)

৬. বক্তার বাবা কী নিয়ে তাড়া দিয়েছিলেন?

ক) পড়াশোনা
খ) সময়মতো প্রস্তুতি
গ) টাকা
ঘ) যাত্রাপথ
উত্তর: খ)

৭. মা কী পরামর্শ দিয়েছিলেন?

ক) বাইরে ঘুরতে
খ) ট্রেন ধরতে
গ) বই নিয়ে বসে থাকতে
ঘ) ঘুমাতে
উত্তর: গ)

৮. বক্তা কী ধরনের ঘুমে আচ্ছন্ন হয়?

ক) গভীর স্বপ্নময়
খ) নিঃস্বপ্ন
গ) অস্থির
ঘ) জাগ্রত
উত্তর: খ)

৯. ‘নিহত হয়ে থাকলাম’ বলতে বোঝানো হয়েছে—

ক) শারীরিক মৃত্যু
খ) মানসিক অবসাদ
গ) আত্মহত্যা
ঘ) দুর্ঘটনা
উত্তর: খ)

১০. জাহানারা কেমন মানুষ?

ক) অগোছালো
খ) দায়িত্বজ্ঞানহীন
গ) সময়নিষ্ঠ
ঘ) উদাসীন
উত্তর: গ)

১১. ফরহাদ কী করে?

ক) দেরি করে
খ) আধ ঘণ্টা আগে পৌঁছে যায়
গ) ট্রেন ফেল করে
ঘ) টিকিট হারায়
উত্তর: খ)

১২. লাইলী কী ধরনের মানুষ?

ক) অবহেলাপূর্ণ
খ) অগোছালো
গ) পরিকল্পনাহীন
ঘ) সংগঠিত
উত্তর: ঘ)

১৩. নাহার কোথাও যাওয়ার আগে কী করে?

ক) ঘুমায়
খ) ভাত খেতে পারে না
গ) হাসে
ঘ) কাঁদে
উত্তর: খ)

১৪. বক্তা নিজেকে কাদের সাথে তুলনা করেছে?

ক) বন্ধুদের
খ) বোনদের
গ) ভাইবোনদের
ঘ) সহযাত্রীদের
উত্তর: গ)

১৫. বক্তা কোথায় কাঁপছে?

ক) শহরে
খ) ঘরে
গ) অখ্যাত স্টেশনে
ঘ) নদীর পাড়ে
উত্তর: গ)

১৬. কোন প্রাকৃতিক উপাদানটির উল্লেখ বেশি?

ক) বৃষ্টি
খ) কুয়াশা
গ) ঝড়
ঘ) তাপ
উত্তর: খ)

১৭. বক্তার পাজামা কীতে ভিজে যায়?

ক) বৃষ্টিতে
খ) ঘামে
গ) শিশিরে
ঘ) নদীর জলে
উত্তর: গ)

১৮. সূর্যকে কীভাবে বর্ণনা করা হয়েছে?

ক) শান্ত
খ) নীল
গ) লাল
ঘ) সোনালি
উত্তর: গ)

১৯. বক্তা কী দেখে নিজের এলাকা চিনতে পারে?

ক) পাহাড়
খ) নদী ও গ্রাম
গ) শহর
ঘ) রাস্তা
উত্তর: খ)

২০. কোন পাখির ঝাঁকের কথা বলা হয়েছে?

ক) কাক
খ) চিল
গ) বক
ঘ) শালিক
উত্তর: গ)

২১. বাড়ির ধরন কী?

ক) দোচালা
খ) চারচালা
গ) আটচালা
ঘ) টিনশেড
উত্তর: গ)

২২. বাড়ির পাশে কী আছে?

ক) আমবাগান
খ) কলার বাগান
গ) ধানক্ষেত
ঘ) পুকুর
উত্তর: খ)

২৩. পাতাগুলো কীভাবে নড়ছে?

ক) হেসে
খ) চুপচাপ
গ) না না করে কাঁপছে
ঘ) স্থির
উত্তর: গ)

২৪. বাবা কী করছিলেন?

ক) কথা বলছিলেন
খ) ঘুমাচ্ছিলেন
গ) পড়ছিলেন
ঘ) রান্না করছিলেন
উত্তর: গ)

২৫. বাবা কোন আয়াত পাঠ করছিলেন?

ক) বিসমিল্লাহ
খ) সূরা ফাতিহা
গ) ফাবি আইয়ে আলা ই রাব্বিকুমা তুকাজ্জিবান
ঘ) আয়াতুল কুরসি
উত্তর: গ)

২৬. মা হাতে কী নিয়ে ছিলেন?

ক) খাবার
খ) বই
গ) বাসি বাসন
ঘ) কাপড়
উত্তর: গ)

২৭. মা কী অনুভব করেন?

ক) বিরক্তি
খ) রাগ
গ) স্বস্তি ও আনন্দ
ঘ) ভয়
উত্তর: গ)

২৮. বাড়ি কেমন লাগে বক্তার অনুপস্থিতিতে?

ক) সুন্দর
খ) বড়
গ) শূন্য
ঘ) অচেনা
উত্তর: গ)

২৯. কবিতার শেষাংশে প্রধান অনুভূতি কী?

ক) গর্ব
খ) লজ্জা ও ভালোবাসা
গ) ক্ষোভ
ঘ) ভয়
উত্তর: খ)

৩০. কবিতার মূলভাব কী?

ক) ভ্রমণবিলাস
খ) শহরজীবনের আকর্ষণ
গ) ব্যর্থতা থেকে ঘরে ফেরা ও পারিবারিক আশ্রয়
ঘ) ট্রেনযাত্রার বর্ণনা
উত্তর: গ)




স্পেশাল বহুনির্বাচনি


উদ্দীপকটি পড়ো প্রশ্নের উত্তর দাও

সিয়াম পড়াশোনা শেষ করেছে। জীবিকার তাগিদে শহরে পাড়ি জমাতে চায়।
কিন্তু শহুরে জীবন তার পছন্দ নয়। তাই গ্রাম ছেড়ে যাওয়ার সময় গ্রামের সেই নৈসর্গিক রূপ, তার শৈশব-কৈশোরের স্মৃতিবিজড়িত স্থান- এসব দেখে তার মন কাঁদে। কিছু দূর গিয়েও সে আবার মায়ের কোলেই ফিরে আসে।
1. উদ্দীপকের গদ্যাংশে 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতার প্রতিফলিত ভাব-

i. প্রকৃতির প্রতি মুগ্ধতা
ii. শেকড়ের প্রতি টান অনুভব করা
iii.. গ্রামীণ স্বস্তিপূর্ণ জীবন
নিচের কোনটি সঠিক?
i ও ii
i ও iii
ii ও iii
i, ii ও iii

 

2.উদ্দীপকের 'মায়ের কোল' বলতে বোঝানো হয়েছে-

i. কবির মা
ii. প্রকৃতির প্রতিমূর্তি
iii. কোনো দেবী

নিচের কোনটি সঠিক?
i ও ii
i ও iii
ii ও iii
i, ii ও iii

1.কবিতায় 'শীতের বিন্দু' বলতে কীসের কথা বলা হয়েছে
কুয়াশা
শীতের শিশির
নদীর জল
জলের স্রোত

2.প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' কবিতার উৎস কী?
বখতিয়ারের ঘোড়া
লোক-লোকান্তর
কালের কলস
সোনালী কাবিন

3.রাতের কোন সময়ের ট্রেনটি কবি ধরতে চেয়েছিলেন?
প্রথম ভাগের
মধ্য ভাগের
শেষ ভাগের
দ্বিতীয় ভাগের




📘 ক. জ্ঞানমূলক প্রশ্ন (২০টি)

১. কবিতার বক্তা কোথায় যাওয়ার উদ্দেশ্যে স্টেশনে গিয়েছিল?
২. স্টেশনে পৌঁছে বক্তা কোন রঙের সংকেত দেখতে পায়?
৩. ট্রেন ছাড়ার সময় কোন শব্দের উল্লেখ আছে?
৪. জানালায় কারা বক্তার দিকে তাকিয়ে ছিল?
৫. বক্তার বাবা কী বিষয়ে তাকে তাড়া দিয়েছিলেন?
৬. বক্তার মা কী করার পরামর্শ দিয়েছিলেন?
৭. বক্তা কী ধরনের ঘুমে আচ্ছন্ন হয়?
৮. কবিতায় জাহানারার চরিত্র কীভাবে উপস্থাপিত হয়েছে?
৯. ফরহাদ স্টেশনে কখন পৌঁছে যায়?
১০. লাইলী কীভাবে যাত্রার প্রস্তুতি নেয়?
১১. নাহারের আচরণ কেমন?
১২. বক্তা নিজেকে কাদের ভাই বলে উল্লেখ করেছে?
১৩. বক্তা কোন জায়গায় কাঁপছিল?
১৪. কবিতায় কোন প্রাকৃতিক অবস্থা বারবার এসেছে?
১৫. বক্তার পাজামা কীতে ভিজে যায়?
১৬. সূর্যকে কবিতায় কী রঙের বলা হয়েছে?
১৭. বক্তা ফিরে আসার সময় কোন নদীর কথা উল্লেখ করে?
১৮. কোন পাখির ঝাঁক উড়ে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে?
১৯. বক্তার বাড়ির ধরন কী?
২০. মা হাতে কী নিয়ে ছিলেন?

 

📙 খ. অনুধাবনমূলক প্রশ্ন (২০টি)

১. “নীলবর্ণ আলোর সংকেত” কেন কবিতায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে?
২. ট্রেন মিস করার ঘটনাটি কবির মানসিক অবস্থাকে কীভাবে প্রকাশ করে?
৩. জানালায় তাকিয়ে থাকা মানুষেরা কবিতায় কী প্রতীকী অর্থ বহন করে?
৪. বাবার উপদেশে জীবনের কোন বাস্তবতা ফুটে উঠেছে?
৫. মায়ের কথার মধ্যে কোন মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রকাশ পেয়েছে?
৬. “নিহত হয়ে থাকলাম” বাক্যটি কী অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
৭. জাহানারা, ফরহাদ, লাইলী ও নাহারের মাধ্যমে কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
৮. বক্তার নিজের প্রতি অসন্তোষ কোথায় স্পষ্ট হয়েছে?
৯. কুয়াশা কবিতায় কোন অনুভূতির প্রতীক?
১০. শিশিরে ভেজা পাজামা কোন বাস্তবতার ইঙ্গিত দেয়?
১১. লাল সূর্য কেন পরাজয়ের অনুভূতি তৈরি করেছে?
১২. গ্রাম, নদী ও বকের ঝাঁক কবিতায় কী আবহ সৃষ্টি করেছে?
১৩. আটচালা বাড়ি কবিতায় কী স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে এসেছে?
১৪. কলার বাগানের বর্ণনা কীভাবে গ্রাম্য পরিবেশকে জীবন্ত করেছে?
১৫. বাবার নীরব আচরণে কী ধরনের আবেগ প্রকাশ পেয়েছে?
১৬. কোরআনের আয়াত পাঠের মাধ্যমে কোন মূল্যবোধ উঠে এসেছে?
১৭. মায়ের হাসি ও কথার মধ্যে কোন আশ্বাস নিহিত আছে?
১৮. বাড়িতে ফেরার লজ্জা কেন বক্তাকে স্পর্শ করেছে?
১৯. মাকে জড়িয়ে ধরার দৃশ্যটি কীভাবে কবিতার আবেগ চূড়ান্ত করেছে?
২০. কবিতাটি কীভাবে ব্যর্থতার মধ্যেও মানবিক আশ্রয়ের বার্তা দেয়?


 

💡 কবিতার মূল নির্যাস (Key Insights)

১. ব্যর্থতা ও গ্লানি: কবিতার শুরুতে কবির ট্রেন ফেল করা এবং সাত মাইল পথ হেঁটে অখ্যাত স্টেশনে কুয়াশায় কাঁপা কেবল একটি যাত্রা বিফল হওয়া নয়, বরং এটি কবির 'সময়নিষ্ঠ' ভাইবোনদের তুলনায় নিজের 'অগোছালো' স্বভাবের প্রতি এক ধরনের আত্মসমালোচনা। ২. প্রকৃতির রূপান্তর: কবি যখন স্টেশনে ছিলেন, তখন চারপাশ ছিল অন্ধকার ও কুয়াশাচ্ছন্ন (অনিশ্চয়তার প্রতীক)। কিন্তু বাড়ির পথে ফেরার সময় যখন 'লাল সূর্য' উঠল, তখন প্রকৃতি হয়ে উঠল পরিচিত ও স্নিগ্ধ। ৩. মায়ের চিরন্তন আশ্রয়: শহরমুখী নাগরিক জীবনের কৃত্রিম প্রতিযোগিতায় কবি যখন পরাজিত, তখন মা ও পল্লী-প্রকৃতি তাকে পরম মমতায় গ্রহণ করে নেয়। মায়ের সেই অকৃত্রিম হাসিতেই কবির যাবতীয় 'প্রত্যাবর্তনের লজ্জা' ধুয়ে মুছে যায়।

 

📝 গুরুত্বপূর্ণ কিছু উত্তর-সংকেত 

খ. অনুধাবনমূলক প্রশ্নের জন্য টিপস:

  • “নিহত হয়ে থাকলাম”: এখানে শারীরিক মৃত্যু নয়, বরং ট্রেন ধরতে না পারার তীব্র হতাশা এবং একাকীত্বে কবির যে মানসিক অসাড়তা তৈরি হয়েছিল, তাকেই বোঝানো হয়েছে।

  • সূর্য কেন পরাজিতের মতো? সকালে যখন সূর্য ওঠে, তখন কবির ট্রেন ধরতে না পারার ব্যর্থতা দিনের আলোর মতো স্পষ্ট হয়ে ওঠে। সূর্যের আলো যেন কবির পরাজয়কে সবার সামনে উন্মোচিত করে দিচ্ছিল, তাই একে 'পরাজিতের মতো' বলা হয়েছে।

  • বাবার কোরআন তিলাওয়াত: কবি যখন ফিরলেন, বাবা তখন সূরা আর-রাহমানের "ফাবি আইয়ে আলা ই-রাব্বিকুমা তুকাজ্বিবান" (অতএব তোমরা তোমাদের রবের কোন কোন নিয়ামতকে অস্বীকার করবে?) পাঠ করছিলেন। এটি একটি গভীর ব্যঞ্জনা তৈরি করে—হয়তো কবির ফিরে আসাই পরিবারের জন্য এক বড় নিয়ামত।

 

 

প্রত্যাবর্তনের লজ্জা কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন

 

✍️ সৃজনশীল প্রশ্ন–১

উদ্দীপক:
রাত গভীর। রাশেদ দেরিতে স্টেশনে পৌঁছায়। ট্রেনটি তখন হুইসেল দিয়ে ছেড়ে যাচ্ছে।
সে একা কুয়াশার ভেতর দাঁড়িয়ে থাকে। শহরে যাওয়ার স্বপ্ন মুহূর্তে ভেঙে যায়।
কিছুক্ষণ পর তার মনে পড়ে বাড়ির কথা, বাবা-মায়ের মুখ।
ভোরের আলো ফুটতেই সে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

ক. রাশেদ কোথায় যেতে চেয়েছিল?
খ. ট্রেন ছেড়ে যাওয়ার ঘটনাটি রাশেদের মানসিক অবস্থাকে কীভাবে প্রকাশ করে?
গ. উদ্দীপকের রাশেদের পরিস্থিতির সঙ্গে কবিতার বক্তার মিল দেখান।
ঘ. ব্যর্থতার পর ঘরে ফেরার সিদ্ধান্ত মানুষের জীবনে কেন গুরুত্বপূর্ণ—মতামত দিন।

 

✍️ সৃজনশীল প্রশ্ন–২

উদ্দীপক:
মা বলেছিলেন, “সময় থাকতেই প্রস্তুত হও।”
কিন্তু ছেলেটি তা গুরুত্ব দেয়নি। ফলস্বরূপ যাত্রা ভেস্তে যায়।
পরে সে বুঝতে পারে, মায়ের কথার মধ্যেই ছিল অভিজ্ঞতার আলো।
ভুল বুঝতে পেরে তার মনে অনুশোচনা জন্মায়।

ক. কবিতায় মায়ের প্রধান পরামর্শ কী ছিল?
খ. মায়ের কথার মধ্যে কী ধরনের জীবনবোধ প্রকাশ পেয়েছে?
গ. উদ্দীপকের মায়ের বক্তব্য কবিতার মায়ের বক্তব্যের সঙ্গে তুলনা করুন।
ঘ. পারিবারিক উপদেশ অবহেলা করলে কী ধরনের ক্ষতি হতে পারে—বিশ্লেষণ করুন।

 

✍️ সৃজনশীল প্রশ্ন–৩

উদ্দীপক:
কারও কারও জীবনে সময়ানুবর্তিতা স্বভাবগত।
তারা আগেভাগেই প্রস্তুত থাকে।
অন্যদিকে কেউ কেউ বারবার দেরি করে সুযোগ হারায়।
এই বৈপরীত্য থেকেই জীবনের সাফল্য–ব্যর্থতা গড়ে ওঠে।

ক. কবিতায় সময়ানুবর্তী চরিত্রের নাম লেখো।
খ. ফরহাদের আচরণ তাকে আলাদা করেছে কেন?
গ. উদ্দীপকের ভাবের সঙ্গে কবিতার চরিত্রচিত্রণের সাদৃশ্য দেখাও।
ঘ. সময় ব্যবস্থাপনা জীবনে কতটা গুরুত্বপূর্ণ—যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো।

 

✍️ সৃজনশীল প্রশ্ন–৪

উদ্দীপক:
কুয়াশায় ঢাকা ভোরে চারপাশ অস্পষ্ট লাগে।
মানুষ তখন দিশেহারা হয়ে পড়ে।
তবু ধীরে ধীরে আলো আসে, দৃশ্য পরিষ্কার হয়।
এই আলো নতুন উপলব্ধির জন্ম দেয়।

ক. কবিতায় কোন প্রাকৃতিক উপাদানটির উল্লেখ আছে?
খ. কুয়াশা কবিতায় কী প্রতীকী অর্থ বহন করে?
গ. উদ্দীপকের কুয়াশা ও কবিতার কুয়াশার তাৎপর্য মিলিয়ে দেখাও।
ঘ. প্রকৃতির উপাদান দিয়ে মানবজীবনের সংকট প্রকাশের সার্থকতা মূল্যায়ন করো।

 

✍️ সৃজনশীল প্রশ্ন–৫

উদ্দীপক:
ভোরের আলোয় গ্রামটি ধীরে ধীরে জেগে ওঠে।
নদীর পাড়ে পাখির ঝাঁক উড়ে যায়।
পরিচিত দৃশ্যগুলো মানুষকে মানসিক আশ্রয় দেয়।
এতে ক্লান্ত হৃদয় শান্তি খুঁজে পায়।

ক. কবিতায় কোন পাখির ঝাঁকের কথা বলা হয়েছে?
খ. গ্রাম ও প্রকৃতির বর্ণনা কবিতায় কী ভূমিকা রেখেছে?
গ. উদ্দীপকের গ্রামীণ পরিবেশের সঙ্গে কবিতার পরিবেশের মিল দেখাও।
ঘ. নগরজীবনের ক্লান্তি দূর করতে গ্রাম কেন কার্যকর আশ্রয়—বিশ্লেষণ করো।

 

✍️ সৃজনশীল প্রশ্ন–৬

উদ্দীপক:
বাবা নীরবে বসে বই পড়ছিলেন।
ছেলেটি ফিরে এলেও তিনি বেশি কথা বললেন না।
এই নীরবতার মধ্যেই ছিল গভীর অনুভব।
ছেলেটি তা বুঝে আরও লজ্জিত হলো।

ক. কবিতায় বাবা কী করছিলেন?
খ. বাবার নীরব আচরণ কী প্রকাশ করে?
গ. উদ্দীপকের বাবার আচরণের সঙ্গে কবিতার বাবার মিল ব্যাখ্যা করো।
ঘ. নীরবতা কখনো কখনো ভাষার চেয়েও শক্তিশালী—মতামত দাও।

 

✍️ সৃজনশীল প্রশ্ন–৭

উদ্দীপক:
মা ছেলেকে দেখে হেসে ফেললেন।
কাজের মাঝেও তার চোখে ছিল স্বস্তি।
ছেলে না থাকলে ঘর যে শূন্য লাগে—তা তিনি বললেন।
এই কথায় ছেলের লজ্জা মুছে গেল।

ক. কবিতায় মা হাতে কী নিয়ে ছিলেন?
খ. মায়ের হাসির অর্থ কী?
গ. উদ্দীপকের মায়ের আচরণ কবিতার মায়ের সঙ্গে তুলনা করো।
ঘ. মায়ের ভালোবাসা সন্তানের মানসিক শক্তির উৎস—বিশ্লেষণ করো।

 

✍️ সৃজনশীল প্রশ্ন–৮

উদ্দীপক:
ব্যর্থ হয়ে ফিরে আসাকে অনেকে লজ্জা মনে করে।
কিন্তু পরিবার সেই ব্যর্থতাকে গ্রহণ করে ভালোবাসায়।
এতে মানুষ আবার নতুন করে সাহস পায়।
পরাজয় তখন শিক্ষায় রূপ নেয়।

ক. কবিতায় বক্তা কেন লজ্জাবোধ করেছে?
খ. এই লজ্জার উৎস কী?
গ. উদ্দীপকের ভাবের সঙ্গে কবিতার শেষাংশের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো।
ঘ. ব্যর্থতাকে গ্রহণ করার পারিবারিক পরিবেশ কেন জরুরি—মূল্যায়ন করো।

 

✍️ সৃজনশীল প্রশ্ন–৯

উদ্দীপক:
কেউ কেউ সব কাজ গুছিয়ে নেয় আগেই।
আবার কেউ সুযোগ হারিয়ে নিজেকে দায়ী করে।
এই আত্মসমালোচনা মানুষকে পরিণত করে।
ভুল থেকেই শেখার পথ তৈরি হয়।

ক. কবিতায় বক্তা নিজেকে কার সঙ্গে তুলনা করেছে?
খ. এই তুলনার উদ্দেশ্য কী?
গ. উদ্দীপকের আত্মসমালোচনার ধারণা কবিতার সঙ্গে মিলিয়ে দেখাও।
ঘ. আত্মসমালোচনা ব্যক্তিত্ব গঠনে কী ভূমিকা রাখে—বিশ্লেষণ করো।

 

✍️ সৃজনশীল প্রশ্ন–১০

উদ্দীপক:
জীবনে সব যাত্রা সফল হয় না।
কখনো শেষ মুহূর্তে সব ভেঙে যায়।
তবু মানুষ ঘরে ফিরে আশ্রয় খোঁজে।
এই ফেরাই জীবনের গভীর সত্য।

ক. কবিতায় কোন যাত্রা অসম্পূর্ণ রয়ে গেছে?
খ. সেই যাত্রা ব্যর্থ হওয়ার কারণ কী?
গ. উদ্দীপকের বক্তব্যের সঙ্গে কবিতার মূলভাবের মিল দেখাও।
ঘ. কবিতাটি কীভাবে মানবজীবনের চিরন্তন আশ্রয়ের ধারণা তুলে ধরে—বিশ্লেষণ করো।



কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.