Header Ads

মুনশি একাডেমি

শিক্ষা ও সাহিত্যভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
নোট ও সাজেশন বিসিএস ও এনটিআরসিএ বি.এড ও ব্যাংক প্রস্তুতি

লাকমা রাজবাড়ি: জয়পুরহাটের রাজকীয় নিদর্শন


লাকমা রাজবাড়ি: জয়পুরহাটের রাজকীয় নিদর্শন

 
joypurhat lakma rajbari,লাকমা রাজবাড়ি, munshi-alim, munshi-academy, lakma rajbari jaypurhat, joypurhat lokma rajbari, lokma rajbari joypurhat, joypurhat rajbari, rajbari joypurhat, lakma rajbari panchbibi joypurhat, lokma rajbari joypurhat bangladesh, lokma rajbari pachbibi joypurhat, lakma rajbari, makalpur rajbari, lakma_rajbari_panchbibi_jaipurhat, lakma rajbare, #joypurhat, joypurhat bangladesh, #lakma_zamindar_bari_panchbibi_joypurhat, mystry of lakma rajbari, joypurhat-bangladesh, lakma jomidar bari, lakma rajbari panchbibi, lokmar rajbari

ভূমিকা

জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার উত্তর সীমান্তবর্তী লাকমা গ্রামে অবস্থিত লাকমা রাজবাড়ি ইতিহাসের এক অনন্য এবং রহস্যময় নিদর্শন। প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০ বছর আগে মোগল আমলের শেষের দিকে বা ব্রিটিশ শাসনের শুরুতে এই রাজবাড়িটি নির্মিত হয়েছিল বলে ধারণা করা হয়। জনশ্রুতি আছে, স্থানীয় প্রভাবশালী এক রাজা বা জমিদার তাঁর আবাসস্থল হিসেবে এটি নির্মাণ করেছিলেন। যদিও কালের বিবর্তনে রাজবাড়িটি এখন জরাজীর্ণ, তবুও এর ধ্বংসাবশেষের পরতে পরতে লুকিয়ে আছে আভিজাত্যের ছাপ। প্রাচীন চুন-সুরকি আর ছোট ইটের এই স্থাপনাটি বর্তমানে লতাপাতায় ছেয়ে গেলেও এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব পর্যটকদের টানে। এটি ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত রেখার একদম কাছে অবস্থিত হওয়ায় এখান থেকে সীমান্তের অপর প্রান্তের সৌন্দর্যও উপভোগ করা যায়।

 

কোথায় অবস্থিত?

এটি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের লাকমা গ্রামে অবস্থিত। পাঁচবিবি উপজেলা সদর থেকে এর দূরত্ব প্রায় ৫-৬ কিলোমিটার।

 

কেন যাবেন?

  • ইতিহাসের সন্ধানে: কয়েকশ বছরের পুরনো জমিদার বাড়ি বা রাজবাড়ির প্রাচীন স্থাপত্য দেখার জন্য।

  • ফটোগ্রাফি: প্রাচীন ধ্বংসাবশেষ ও গ্রামীণ প্রকৃতির মিশেলে দারুণ সব ছবি তোলার জন্য।

  • সীমান্ত ভ্রমণ: বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের একদম কাছে অবস্থিত হওয়ায় এক অন্যরকম রোমাঞ্চ অনুভব করতে।

     

কখন যাবেন?

বছরের যেকোনো সময় যাওয়া যায়, তবে শীতকাল (অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি) ভ্রমণের জন্য সবচেয়ে আরামদায়ক। বর্ষাকালে রাজবাড়ির চারপাশ সবুজে ভরে ওঠে যা দেখতে বেশ সুন্দর লাগে।

 

কীভাবে যাবেন / রুট (স্টেপ বাই স্টেপ)

১. ঢাকা থেকে: গাবতলী বা কল্যাণপুর থেকে জয়পুরহাট বা পাঁচবিবিগামী সরাসরি বাসে (হানিফ, শ্যামলী, এসআর ট্রাভেলস) চড়ে পাঁচবিবি নামতে হবে।

২. ট্রেনে: ঢাকা থেকে নীলসাগর, একতা বা দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনে সরাসরি পাঁচবিবি রেলওয়ে স্টেশনে নামা যায়।

৩. শহর থেকে রাজবাড়ি: পাঁচবিবি বাসস্ট্যান্ড বা রেলস্টেশন থেকে রিকশা, ভ্যান বা ইজিবাইক (অটো) ভাড়া করে সরাসরি লাকমা রাজবাড়ি যাওয়া যায়। সময় লাগে ২০-৩০ মিনিট।

 

কী দেখবেন?

  • রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ: প্রাচীন জরাজীর্ণ ভবন, অন্দরমহল ও দেয়ালের কারুকার্য।

  • বিশাল পুকুর: রাজবাড়ি সংলগ্ন রাজকীয় বড় পুকুর।

  • সীমান্তের দৃশ্য: রাজবাড়ির পাশেই ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া এবং বিজিবির ক্যাম্প।

  • গ্রামীণ প্রকৃতি: রাজবাড়ির চারপাশে উত্তরবঙ্গের শান্ত ও স্নিগ্ধ গ্রামীণ পরিবেশ।

     

খরচ

  • প্রবেশ ফি: এখানে প্রবেশের জন্য কোনো টিকিট বা ফি লাগে না। এটি সাধারণের জন্য উন্মুক্ত।

  • যাতায়াত: পাঁচবিবি শহর থেকে অটো বা রিকশা ভাড়া আসা-যাওয়া বাবদ ১০০-১৫০ টাকা।

     

পরিবহন ও খাওয়ার ব্যবস্থা

  • পরিবহন: রিকশা ও ইজিবাইক প্রধান যাতায়াত মাধ্যম।

  • খাবার: রাজবাড়ি এলাকায় ভালো রেস্টুরেন্ট নেই। ভালো খাবারের জন্য পাঁচবিবি বাজার বা জয়পুরহাট শহরে ফিরে আসতে হবে। জয়পুরহাটের বিখ্যাত মিষ্টি ও প্যারা সন্দেশ চেখে দেখতে ভুলবেন না।

     

যোগাযোগ ও আবাসন ব্যবস্থা

  • আবাসন: রাত্রিযাপনের জন্য জয়পুরহাট জেলা শহরে থাকাই সবচেয়ে ভালো। সেখানে 'হোটেল পৃথিবী', 'হোটেল পপি' বা জেলা পরিষদের ডাকবাংলো রয়েছে।

     

দৃষ্টি আকর্ষণ ও সতর্কতা

  • যেহেতু এটি সীমান্ত এলাকা, তাই বিজিবি বা প্রশাসনের নিয়ম মেনে চলুন এবং নো-ম্যানস ল্যান্ডে প্রবেশের চেষ্টা করবেন না।

  • ভবনটি অত্যন্ত পুরনো ও জরাজীর্ণ, তাই দেয়ালের কাছে যাওয়ার সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন।

  • নিরাপত্তার স্বার্থে সন্ধ্যার আগেই মূল শহরে ফিরে আসা ভালো।

     

আশেপাশের দর্শনীয় স্থান

  • হারাবতী পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট।

  • পাথরঘাটা (প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন)।

  • নিমাই পিরের মাজার।





কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.