হারাবতী পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট: জয়পুরহাট
হারাবতী পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট: জয়পুরহাট
![]() |
ছবি: হারাবতী পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট: জয়পুরহাট |
ভূমিকা
জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলায় ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে চলা ঐতিহাসিক হারাবতী নদীর নামানুসারে গড়ে তোলা হয়েছে 'হারাবতী পার্ক অ্যান্ড রিসোর্ট'। প্রাকৃতিক সবুজ পরিবেশ এবং আধুনিক স্থাপত্যের এক চমৎকার সমন্বয় এই পার্কটি। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে এটি একটি জনপ্রিয় পিকনিক স্পট এবং ফ্যামিলি আউটডোর বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে দ্রুত পরিচিতি পেয়েছে। বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই পার্কে রয়েছে দৃষ্টিনন্দন কৃত্রিম লেক, নানা প্রজাতির ফুলের বাগান এবং শিশুদের জন্য রোমাঞ্চকর সব রাইড। রিসোর্টটিতে আধুনিক কটেজ এবং সুইমিং পুলের ব্যবস্থাও রয়েছে, যা ভ্রমণপিপাসুদের যান্ত্রিক জীবন থেকে দূরে প্রকৃতির মাঝে কিছুটা সময় কাটানোর সুযোগ করে দেয়। এর শান্ত পরিবেশ এবং সুপরিকল্পিত সাজসজ্জা যেকোনো পর্যটকের মন জয় করে নেয়।
কোথায় অবস্থিত?
এটি জয়পুরহাট জেলার পাঁচবিবি উপজেলার কুসুম্বা ইউনিয়নের আটাপুর নামক স্থানে অবস্থিত। পাঁচবিবি শহর থেকে মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে এবং হারাবতী নদীর তীর ঘেঁষে এর অবস্থান।
কেন যাবেন?
পারিবারিক বিনোদন: পরিবার ও শিশুদের নিয়ে নিরাপদ পরিবেশে আনন্দময় সময় কাটানোর জন্য।
প্রকৃতি ও আধুনিকতা: লেকের ধারে বসে নির্মল বাতাস উপভোগ এবং সুন্দর স্থাপনার মাঝে ছবি তোলার জন্য।
পিকনিক ও ইভেন্ট: বড় দল নিয়ে পিকনিক বা যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সুব্যবস্থা থাকায়।
রিলাক্সেশন: আধুনিক সুইমিং পুল এবং কটেজে রাত্রিযাপনের মাধ্যমে ক্লান্তি দূর করতে।
কখন যাবেন?
বছরের যেকোনো সময়ই যাওয়া যায়। তবে শীতকালে (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং পার্কের বাগানগুলো ফুলে ফুলে সজ্জিত থাকে বলে ভ্রমণের সেরা সময়।
কীভাবে যাবেন / রুট (স্টেপ বাই স্টেপ)
১. ঢাকা থেকে: গাবতলী বা কল্যাণপুর থেকে সরাসরি জয়পুরহাট বা পাঁচবিবিগামী বাসে (হানিফ, শ্যামলী, এসআর ট্রাভেলস) চড়ে পাঁচবিবি বাসস্ট্যান্ডে নামতে হবে।
২. ট্রেনে: ঢাকা থেকে নীলসাগর, একতা বা দ্রুতযান এক্সপ্রেস ট্রেনে করে সরাসরি পাঁচবিবি রেলওয়ে স্টেশনে নামা যায়।
৩. শহর থেকে রিসোর্ট: পাঁচবিবি বাসস্ট্যান্ড বা রেলওয়ে স্টেশন থেকে রিকশা বা ইজিবাইকে করে মাত্র ১৫-২০ মিনিটে হারাবতী পার্কে পৌঁছানো যায়।
কী দেখবেন?
কৃত্রিম লেক ও নৌকা ভ্রমণ: পার্কের মাঝখানে থাকা লেকে প্যাডেল বোটে ঘোরার সুযোগ।
কিডস জোন: শিশুদের জন্য ট্রেন, নাগরদোলা, স্লিপারসহ বিভিন্ন রাইড।
ভাসমান রেস্টুরেন্ট: লেকের ওপর খাবার উপভোগের এক অন্যরকম অভিজ্ঞতা।
হারাবতী নদী: পার্কের পাশ দিয়েই বয়ে চলা শান্ত হারাবতী নদীর দৃশ্য।
সুসজ্জিত বাগান: হরেক রকমের ফুলের গাছ এবং বসার জন্য নান্দনিক স্পট।
খরচ
প্রবেশ ফি: প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য সাধারণত ৫০-১০০ টাকা (সময়ভেদে পরিবর্তিত হতে পারে)।
রাইড খরচ: প্রতিটি রাইডের জন্য আলাদা ২০-৫০ টাকার টিকিট নিতে হয়।
পিকনিক স্পট: বড় গ্রুপে পিকনিক স্পট ভাড়া নিতে হলে আগে থেকে যোগাযোগ করে বুকিং দিতে হয়।
পরিবহন ও খাওয়ার ব্যবস্থা
পরিবহন: ইজিবাইক, রিকশা ও সিএনজি প্রধান মাধ্যম।
খাবার: পার্কের ভেতরে নিজস্ব রেস্টুরেন্ট আছে যেখানে দেশি ও চাইনিজ খাবার পাওয়া যায়। এছাড়া স্ন্যাকস ও ফাস্টফুডের দোকানও রয়েছে।
যোগাযোগ ও আবাসন ব্যবস্থা
আবাসন: রিসোর্টটিতে উন্নত মানের কটেজ ও রুম রয়েছে। দূরে থেকে আসা পর্যটকরা এখানে রাত্রিযাপন করতে পারেন। রুম বুকিংয়ের জন্য রিসোর্টের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ বা নম্বরে যোগাযোগ করা ভালো।
যোগাযোগ: জয়পুরহাট বা পাঁচবিবির স্থানীয় ডিরেক্টরি থেকে তাদের নম্বর সংগ্রহ করা যায়।
দৃষ্টি আকর্ষণ ও সতর্কতা
পার্কের লেকের পানিতে নামার সময় সতর্ক থাকুন।
রাইডগুলো ব্যবহারের সময় শিশুদের দিকে নজর রাখুন।
পরিবেশের সৌন্দর্য রক্ষায় নির্দিষ্ট ডাস্টবিন ছাড়া অন্য কোথাও ময়লা ফেলবেন না।
সীমান্তের কাছাকাছি হওয়ায় অপ্রয়োজনীয় স্থানে ঘোরাঘুরি থেকে বিরত থাকুন।
আশেপাশের দর্শনীয় স্থান
নিমাই পিরের মাজার: পাঁচবিবি উপজেলার একটি ঐতিহাসিক স্থান।
পাথরঘাটা: প্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন সমৃদ্ধ এলাকা।
আছরাঙ্গা দিঘি: ক্ষেতলাল উপজেলার বিশাল এক দিঘি।

কোন মন্তব্য নেই