Header Ads

মুনশি একাডেমি

শিক্ষা ও সাহিত্যভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
নোট ও সাজেশন বিসিএস ও এনটিআরসিএ বি.এড ও ব্যাংক প্রস্তুতি

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর: হাজার বছরের ইতিহাসের মহাকাব্য

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর: হাজার বছরের ইতিহাসের মহাকাব্য


 
বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর,barendra Research Museum,varendra research museum//বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর রাজশাহী, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, #বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর রাজশাহী, রাজশাহী বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, রাজশাহীর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, বরেন্দ্র গবেষনা গবেষণা যাদুঘর, varendra research museum, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরে কি আছে, #প্রাচীন জাদুঘর বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের ইতিহাস, রাজশাহী বরেন্দ্রভূমি বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর, varendra research museum rajshahi
ছবি: 

ছবি: বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর প্রবেশদার


ভূমিকা (Introduction)

বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রাচীন জনপদ বরেন্দ্র ভূমির ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের এক জীবন্ত দলিল হলো রাজশাহী শহরে অবস্থিত 'বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘর'। এটি কেবল একটি প্রদর্শনী কেন্দ্র নয়, বরং বাঙালির আত্মপরিচয় এবং নৃতাত্ত্বিক শেকড়ের এক বিশাল গবেষণাগার। ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই জাদুঘরটি বাংলাদেশের প্রাচীনতম জাদুঘর এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক সংগ্রহশালা হিসেবে স্বীকৃত। সমকালীন বাংলার বিখ্যাত মনীষী ও জমিদারদের ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত এই প্রতিষ্ঠানটি তৎকালীন ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক প্রেক্ষাপটে এক বৈপ্লবিক সংযোজন ছিল।

জাদুঘরটির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস অত্যন্ত গৌরবোজ্জ্বল। বিংশ শতাব্দীর প্রথম দশকে বরেন্দ্র অঞ্চলের ইতিহাস ও পুরাকীর্তি অনুসন্ধানের জন্য নাটোরের দিঘাপতিয়া রাজপরিবারের কুমার শরৎ কুমার রায়, প্রখ্যাত ঐতিহাসিক ও আইনজীবী অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় এবং পণ্ডিত রমাপ্রসাদ চন্দ—এই তিন কৃতি সন্তানের হাত ধরে গঠিত হয় 'বরেন্দ্র অনুসন্ধান সমিতি'। ১৯১০ সালের এপ্রিলে তাঁরা বরেন্দ্র অঞ্চলে প্রথম ঐতিহাসিক অভিযান পরিচালনা করেন এবং বেশ কিছু দুষ্প্রাপ্য মূর্তিসহ ৩২টি প্রত্নসম্পদ সংগ্রহ করেন। এই সংগৃহীত নিদর্শনগুলো সংরক্ষণের তাগিদ থেকেই রাজশাহীর হেতেম খাঁ এলাকায় জাদুঘরটির যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে শরৎ কুমার রায়ের দান করা জমিতে নিজস্ব ভবনের নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ১৯১৩ সালে তৎকালীন বাংলার গভর্নর লর্ড কারমাইকেল এর দ্বার উদ্ঘাটন করেন। ভবনটির স্থাপত্যশৈলীতেও এক বিশেষ আভিজাত্য ফুটে উঠেছে, যা আজও দর্শকদের মুগ্ধ করে।

বরেন্দ্র গবেষণা জাদুঘরের সংগ্রহ সংখ্যা বর্তমানে ১৯ হাজারেরও বেশি, যা একাদশ-দ্বাদশ শতাব্দীর পাল ও সেন আমলের ভাস্কর্যকলার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে। এর গ্যালারিগুলোতে রাখা পাথর ও ধাতব মূর্তি, শিলালিপি, প্রাচীন পাণ্ডুলিপি এবং পোড়ামাটির ফলকগুলো আমাদের হাজার বছরের প্রাচীন সভ্যতার গল্প শোনায়। বিশেষ করে মহেঞ্জোদারো ও সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন থেকে শুরু করে মৌর্য, গুপ্ত, পাল ও সুলতানি আমলের মুদ্রা ও ভাস্কর্যগুলো এই জাদুঘরকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এখানে সংরক্ষিত হিন্দু ও বৌদ্ধ দেবদেবীর বিরল সব মূর্তি এবং প্রাচীন পুঁথিগুলো কেবল শিল্পমন্ডিতই নয়, বরং এগুলো তৎকালীন সমাজব্যবস্থা ও ধর্মীয় সহাবস্থানের পরিচয় দেয়। ১৯৬৪ সাল থেকে এটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হয়ে আসছে এবং গবেষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য এটি এক অপরিহার্য বিদ্যাপীঠ। আধুনিক সভ্যতার কোলাহলপূর্ণ নগরীর মাঝে এই জাদুঘরটি যেন একটি নিভৃত কালকক্ষ, যেখানে প্রবেশ করলে দর্শনার্থীরা মুহূর্তেই হারিয়ে যান কয়েক হাজার বছর আগের প্রাচীন বাংলার গৌরবময় দিনগুলোতে।

 

কোথায় অবস্থিত? (Location)

এটি রাজশাহী মহানগরের প্রাণকেন্দ্র হেতেম খাঁ সদর হাসপাতালের সামনে, মিউজিয়াম রোডে অবস্থিত। রাজশাহী জিরো পয়েন্ট থেকে এর দূরত্ব মাত্র ৫০০-৬০০ মিটার।

 

কেন যাবেন? (Reason to Visit)

  • দেশের প্রথম জাদুঘর: ১৯১০ সালে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশের প্রাচীনতম জাদুঘরটি দেখার অনন্য অভিজ্ঞতা নিতে।

  • বিস্ময়কর প্রত্নসম্পদ: দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম সমৃদ্ধ ভাস্কর্য গ্যালারি এবং হাজার বছরের পুরনো মূর্তি দেখার জন্য।

  • ঐতিহাসিক শিক্ষা: পাল, সেন, মৌর্য ও গুপ্ত আমলের শিল্পকলা এবং জীবনযাত্রা সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করতে।

  • স্থাপত্য সৌন্দর্য: ব্রিটিশ আমলে নির্মিত আভিজাত্যপূর্ণ লাল ইটের ভবন ও তার কারুকার্য দেখার জন্য।

 

কখন যাবেন? (Best Time to Visit)

সারা বছরই এই জাদুঘর পরিদর্শন করা যায়। তবে রাজশাহী ভ্রমণের জন্য শীতকাল (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) সবচেয়ে আরামদায়ক।

পরিদর্শনের সময়সূচী:

  • শনিবার থেকে বুধবার: সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা।

  • বন্ধ: বৃহস্পতিবার, শুক্রবার এবং বিশ্ববিদ্যালয় ঘোষিত ছুটির দিন।

 

কীভাবে যাবেন / রুট প্ল্যান (Step by Step Route)

১. রাজশাহী পৌঁছানো: ঢাকা থেকে বাস, ট্রেন বা বিমানে সরাসরি রাজশাহী আসা যায়।

২. জাদুঘর পর্যন্ত: রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশন বা বাস টার্মিনাল থেকে অটো-রিকশা বা রিকশায় করে সরাসরি 'হেতেম খাঁ' বা 'বরেন্দ্র জাদুঘর' যাওয়া যায় (ভাড়া ২০-৪০ টাকা)।

৩. হেঁটে: আপনি যদি সাহেব বাজার বা জিরো পয়েন্টে থাকেন, তবে ৫-১০ মিনিট হাঁটলেই জাদুঘরের গেটে পৌঁছাতে পারবেন।

 

কী দেখবেন? (What to See)

  • সাতটি গ্যালারি: জাদুঘরটি ৭টি পৃথক প্রদর্শন কোষ্ঠে বিভক্ত।

  • ভাস্কর্য গ্যালারি: হিন্দু ও বৌদ্ধ দেবদেবীর বিশাল সব পাথরের মূর্তি (বিষ্ণু, সূর্য, শিব, গৌরী ও বুদ্ধ মূর্তি)।

  • পাহাড়পুর গ্যালারি: নওগাঁর পাহাড়পুর বৌদ্ধ বিহার থেকে উদ্ধারকৃত পোড়ামাটির ফলক ও নিদর্শন।

  • শিলালিপি ও পাণ্ডুলিপি: প্রাচীন বাংলা, সংস্কৃত ও আরবি ভাষায় খোদাই করা পাথর এবং তালপাতার বিরল পুঁথি।

  • ইসলামিক গ্যালারি: সুলতানি ও মুঘল আমলের মুদ্রা, মিহরাব এবং ঐতিহাসিক অস্ত্রশস্ত্র।

  • সিন্ধু সভ্যতার নিদর্শন: মহেঞ্জোদারো থেকে প্রাপ্ত ৫০০০ বছরের পুরনো মৃৎপাত্র ও সিল।

 

খরচ (Expenses)

  • প্রবেশ ফি: প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ২০ টাকা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের (শিক্ষার্থী) জন্য ১০ টাকা।

  • বিদেশী পর্যটক: সার্কভুক্ত দেশের দর্শকদের জন্য ১০০ টাকা এবং অন্যান্য দেশের জন্য ৩০০-৫০০ টাকা। (মূল্য পরিবর্তনশীল হতে পারে)।

 

পরিবহন ও খাওয়ার ব্যবস্থা (Transport & Dining)

  • পরিবহন: রাজশাহী শহরের প্রধান বাহন ব্যাটারিচালিত অটো-রিকশা।

  • খাবার: জাদুঘরের পাশেই 'মাস্টার সেফ' বা 'মণি চত্বর' এলাকায় রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী খাবার ও মিষ্টান্ন পাওয়া যায়।

 

যোগাযোগ ও আবাসন (Accommodation)

জাদুঘর সংলগ্ন এলাকাতেই বেশ কিছু মানসম্মত গেস্ট হাউস রয়েছে। এছাড়া সাহেব বাজার বা রেল স্টেশনের আশেপাশে উন্নত মানের হোটেল ও পর্যটন মোটেলে থাকা যায়।

 

দৃষ্টি আকর্ষণ ও সতর্কতা (Cautions)

  • জাদুঘরের ভেতরের গ্যালারিতে ছবি তোলা বা ভিডিও করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ।

  • প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনে হাত দেওয়া বা স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকুন।

  • জাদুঘর প্রাঙ্গণে নীরবতা বজায় রাখুন।

  • প্রবেশ গেটে ব্যাগ ও মোবাইল রাখার নিয়মকানুন মেনে চলুন।

 

আশেপাশের দর্শনীয় স্থান (Nearby Attractions)

  • পদ্মা পাড় ও টি-বাঁধ।

  • রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।

  • পুঠিয়া রাজবাড়ী ও মন্দির কমপ্লেক্স।

  • বাঘা মসজিদ।

 

টিপস (Tips)

  • আপনি যদি ইতিহাসের ছাত্র বা গবেষক হন, তবে জাদুঘরের লাইব্রেরি ব্যবহারের জন্য কর্তৃপক্ষের পূর্ব অনুমতি নিয়ে রাখতে পারেন।

  • খুব ভিড় এড়াতে চাইলে সপ্তাহের কর্মদিবসের সকালের দিকে যাওয়া ভালো।

     

https://munshiacademy.blogspot.com/

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.