Header Ads

মুনশি একাডেমি

শিক্ষা ও সাহিত্যভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
নোট ও সাজেশন বিসিএস ও এনটিআরসিএ বি.এড ও ব্যাংক প্রস্তুতি

উপসর্গ: সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও মনে রাখার সহজ কৌশল

 

উপসর্গ: সংজ্ঞা, প্রকারভেদ ও মনে রাখার সহজ কৌশল

 
উপসর্গ, উপসর্গের সংজ্ঞা, উপসর্গের প্রকারভেদ, উপসর্গ মনে রাখার কৌশল, বাংলা উপসর্গ, বাংলা ব্যাকরণ, বাংলা ভাষার ব্যাকরণ, বাংলায় ব্যাকরণ, বাংলা ভাষা, ব্যাকরণ শেখার সহজ উপায়, uposorgo, bangla uposorgo, bangla grammar, bengali grammar, grammar in bengali, bengali language, bangla grammar rules, ssc bangla grammar, hsc bangla grammar, competitive bangla grammar

উপসর্গ কী

ইংরেজি ‘Prefix’ শব্দকে বাংলায় ‘উপসর্গ’ বলে।‘উপসর্গ' শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ 'অবাঞ্ছিত বিষয়'। এর ব্যাকরণগত অর্থ হলো উপসৃষ্টি। সুতরাং উপসর্গের সংজ্ঞা দিতে গিয়ে বলা যায়, যে সকল অব্যয় বা অব্যয়জাত শব্দাংশ ধাতুর পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে সেগুলোকে উপসর্গ বলে। যেমন: পরা + জিত = পরাজিত, পরা + শক্তি = পরাশক্তি।

 

উপসর্গের গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা

বাংলা ভাষায় উপসর্গের গুরুত্ব বা প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। উপসর্গ নতুন নতুন অর্থবোধক শব্দ গঠন ও শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধন করে। শুধু নতুন শব্দ গঠনই নয়, এরা ধাতু বা শব্দের পূর্বে বসে ধাতু বা শব্দের অর্থের সংকোচন, সম্প্রসারণ ও পরিবর্তন ঘটায়। উপসর্গের নিজস্ব কোন অর্থ নেই, কিন্তু শব্দ সৃষ্টি করে শব্দের বৈচিত্র্য আনয়ন করে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সংস্কৃত উপসর্গ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছেন, “ সংস্কৃত ভাষায় কতগুলো টুকরো শব্দ আছে যেগুলোর স্বতন্ত্র কাজ নেই, তারা বাক্যের লাইন বদলিয়ে দেয়। রেলের রাস্তায় যেমন সিগন্যাল, ভিন্নদিকে ভিন্ন রঙের আলোয় তাদের ভিন্ন রকমের সংকেত, সংস্কৃত ব্যাকরণের উপসর্গগুলো শব্দের মাথায় চড়া সেই রকম সিগন্যাল। কোনটাতে আছে নিষেধ। কোনটা দেখায় এগোবার পথ, কোনটা বাইরের পথ, কোনটা নিচের দিকে, কোনটা উপরের দিকে, কোনটা চারদিকে, কোনটা ডাকে ফিরে আসতে। গত' শব্দে আ উপসর্গ জুড়ে দিলে হয় ‘আগত’, সেটা লক্ষ্য করায় কাছের দিক; ‘নির’ জুড়ে দিলে হয় ‘নির্গত’, দেখিয়ে দেয় বাইরের দিক; ‘অনু’ জুড়ে দিলে হয় ‘অনুগত’, দেখিয়ে দেয় পিছনের দিক; তেমনি ‘সংগত’, ‘দুর্গত’, ‘অপগত’, প্রভৃতি শব্দে নানা দিকে তর্জনী চালানো। উপসর্গ থাকে সামনে, প্রত্যয় থাকে পিছনে। তারা আছে একই শব্দের নানা অর্থ বানাবার কাজে।”

 

উপসর্গের প্রকারভেদ

বাংলা ভাষায় তিন প্রকার উপসর্গ আছে। যথা :

(১) তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ

(২) খাঁটি বাংলা উপসর্গ ও

(৩) বিদেশি উপসর্গ।

 

তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ

সংস্কৃত ভাষা থেকে গৃহীত উপসর্গগুলোকে তৎসম উপসর্গ বলে। এগুলো তৎসম শব্দের আগে বসে। এ উপসর্গের সংখ্যা মোট বিশটি। যথা : প্র, পরা, অপ, সম, নি, নির, অনু, অব, অধি, অতি, অপি, অভি, পরি, প্রতি, উপ, উৎ, দূর, বি, সু, আ।

 

তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ মনে রাখার কৌশল

প্রিয় প্রভাস,

পরাজয়, অপমানের ম্মুখীন না হয়ে এগিয়ে যাও। নিজে অবহেলা অনুভব করো না। নির্ভয়ে (নির) দূর্গম (দূর) পথ এগোও। বিশুদ্ধ মনে সুচরিত্র উৎপন্ন হয়। অধিকার পরিপূর্ণ কর। প্রতিটি ভালো কাজ উপভোগ কর। অতি ভাল থেকো। আজ আর নয়।

ইতি

অপি

*** এই চিঠির প্রত্যেকটি বোল্ড বর্ণই এক একটি তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ।

 

খাঁটি বাংলা উপসর্গ

আর্যদের আগমনের পূর্বে এদেশবাসীর ভাষা থেকে যে সকল উপসর্গ এসেছে তাদেরকে দেশি বা খাঁটি বাংলা উপসর্গ বলে। খাঁটি বাংলা উপসর্গ মোট একুশটি। যথা : অ, অঘা, অজ, অনা, আ, আড়, আন, আর, ইতি, ঊন (ঊনা), কদ, কু, নি, পাতি, বি, ভর, রাম, স, সা, সু, হা।

খাঁটি বাংলা উপসর্গ মনে রাখার কৌশল

সুহাস,

প্রথমেই দর নিবি। তুই তো জানিসই, তুই আমাদের এই অজপাড়াগাঁয়ের একমাত্র আশা আর ভরসা। আর শোন, কিছু মানুষের অনাচার, কুকথা আর ঐ আড়চোখে তাকানো কে কিন্ত মোটেও পাত্তা দিবি না। তোর জন্য আবরার ঊনত্রিশ টি পাতিলেবু সাথে কয়েকটি কদবেল পাঠিয়েছে। চেনা জায়গায় গিয়েছিস। আনমনে হয়ে থাকলে খাবি। ভালো লাগবে।

ইতি

অঘারাম

*** এই চিঠির প্রত্যেকটি বোল্ড বর্ণই এক একটি খাঁটি বাংলা উপসর্গ।

 

বিদেশি উপসর্গ

আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু ইত্যাদি ভাষার বহুশব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এসব শব্দের কতগুলো খাঁটি উচ্চারণে, আবার কতগুলো বিকৃত উচ্চারণে বাংলায় ব্যবহৃত হয়। এরই সঙ্গে কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে। এগুলো বহুদিন যাবৎ ব্যবহারের ফলে বাংলা ভাষার -সাথে একদম মিশে গেছে। বিদেশি উপসর্গ মনে রাখার কৌশল আমরা বিদেশি উপসর্গের প্রকারভেদের সাথে একটি একটি করে কৌশল দিয়েছি।

 

বাংলা শব্দ গঠনে উপসর্গের ভূমিকা

বাংলা শব্দ গঠনে উপসর্গের যথেষ্ট ভূমিকা রয়েছে। উপসর্গ এক শ্রেণীর অব্যয় হিসেবে হয় এবং ধাতু বা শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন ও শব্দের অর্থের পূর্ণতা সাধন করে। শুধু নতুন শব্দ সৃষ্টিই নয়, শব্দের অর্থের পরিবর্তন, সম্প্রসারণ, সংকোচন ঘটাতে উপসর্গ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উপসর্গ নিজে কোন অর্থ প্রকাশ নাও করতে পারে। কিন্তু অন্য শব্দের আগে বসে এরা বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে বিশেষ বিশেষ অর্থ প্রকাশ করে। এভাবে উপসর্গ বাংলা শব্দ সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখে।

 

উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই, কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে

উপসর্গ নতুন শব্দ গঠনের একটি বিশেষ প্রক্রিয়া। যেসব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি ধাতু বা শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে, সেগুলোকে উপসর্গ বলে। উপসর্গ মূলত কতগুলো অব্যয়সূচক শব্দাংশ।

বাংলা ভাষায়— প্র, পরা, নির, সম, পরি, উপ, অপ, বি প্রভৃতি উপসর্গের নিজস্ব কোন অর্থ নেই; কিন্তু এগুলো নতুন শব্দ সৃষ্টি করে শব্দের বৈচিত্র্য বা পরিবর্তন ঘটাতে পারে। যেমন- উপ’ একটি উপসর্গ, ‘হার’ একটি মৌলিক শব্দ। যার অর্থ অলংকার বিশেষ। ‘হার’ এর পূর্বে 'উপ' উপসর্গ যুক্ত হয়ে ‘উপহার’ শব্দটি গঠিত হয়েছে। যা নতুন অর্থ আলোকিত করে। এভাবে একটি মৌলিক শব্দের পূর্বে বিভিন্ন উপসর্গ ব্যবহৃত হয়ে একাধিক নতুন অর্থের দ্যোতনা সৃষ্টি করতে সক্ষম। যেমন-


উপসর্গ + মূলশব্দনতুন শব্দার্থ
আ + হার (অলংকার বিশেষ)আহার = খাওয়া
বি + হার (অলংকার বিশেষ)বিহার = ভ্রমণ করা
সম + হার (অলংকার বিশেষ)সংহার = হত্যা
প্র + হার (অলংকার বিশেষ)প্রহার = মারা

উপর্যুক্ত আলোচনা থেকে দেখা যায় উপসর্গের নিজস্ব কোন অর্থ নেই কিন্তু অন্য শব্দের অর্থকে বদলে দিতে পারে, এমনকি অর্থের সংকোচন, সম্প্রসারণ করে। তাই, ওপরের বিশ্লেষণ প্রমাণ করে যে, “ উপসর্গের অর্থবাচকতা নেই কিন্তু অর্থদ্যোতকতা আছে।”

 

উপসর্গ ও প্রত্যয়ের পার্থক্য

উপসর্গ ও প্রত্যয়ের কাজ নতুন নতুন শব্দ তৈরি করা। তা সত্ত্বেও উভয়ের মধ্যে বেশ কিছু পার্থক্য বিদ্যমান।

(১) উপসর্গ ধাতু বা শব্দের পূর্বে বসে নতুন শব্দ গঠন করে এবং এগুলো একশ্রেণীর অব্যয় হিসেবে বিবেচিত।অপরদিকে প্রত্যয় ধাতু বা শব্দের শেষে যুক্ত হয় এবং এগুলো এক প্রকার বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি।

(২) উপসর্গ শুধু নতুন শব্দই গঠন করে না, শব্দের অর্থের পরিবর্তন ঘটায়, কখনো অর্থের বিশিষ্টতা দান করে।অপরদিকে প্রত্যয় কখনো ধাতুর শেষে কখনো শব্দের শেষে যুক্ত হয়ে নতুন শব্দ গঠন করে।

 

১. তৎসম বা সংস্কৃত উপসর্গ

সংস্কৃত ভাষা থেকে গৃহীত উপসর্গগুলোকে তৎসম উপসর্গ বলে। এগুলো তৎসম শব্দের আগে বসে।

তৎসম উপসর্গ বিশটি : প্র, পরা, অপ, সম, নি, নির, অনু, অব, অথি, অতি, অশি, অভি, পরি, প্রতি, উপ, উৎ,দূর, বি, স, আ। 

 

তৎসম/সংস্কৃত উপসর্গের ব্যবহার

উপসর্গযে অর্থে ব্যবহৃতউদাহরণ
প্রউৎকর্ষ/প্রকৃষ্টপ্রভাব, প্রচলন, প্রস্ফুটিত, প্রজ্ঞা, প্রদর্শন, প্রবাদ

খ্যাতিপ্রসিদ্ধ, প্রতাপ, প্রকীর্তি, প্রখ্যাত

অধিক্যপ্রগাঢ়, প্রচার, প্রবল, প্রসার, প্রকোপ

সম্মুখপ্রগতি, প্রণতি, প্রণাম

গতি/ক্রিয়াপ্রবেশ, প্রস্থান, প্রকাশ, প্রচলন, প্রচার

ধারা/পরম্পরাপ্রপৌত্র, প্রশাখা, প্রশিষ্য, প্রজন্ম
পরাঅতিশয্যপরাকাষ্ঠা, পরাক্রান্ত, পরায়ণ, পরাক্রম

বিপরীতপরাজয়, পরাভব, পরাধীন, পরান্মুখ
অপবিপরীতঅপমান, অপকার, অপচয়, অপবাদ

অপকর্ষঅপকর্ম, অপকীর্তি, অপচেষ্টা

নিকৃষ্টঅপসংস্কৃতি, অপকর্ম, অপসৃষ্টি, অপযশ

স্থানান্তর/ক্রিয়াঅপসারণ, অপহরণ, অপনোদন, অপসরণ

উৎকৃষ্টঅপরূপ

বিকৃতঅপমৃত্যু, অপব্যাখ্যা, অপপাঠ, অপভাষা
সমসম্যকরূপেসম্পূর্ণ, সমৃদ্ধ, সমাদর, সংগঠন, সংবাদ

অধিক্যসংক্রম, সন্তাপ, সমুজ্জ্বল, সমুৎসুক

মিলনসম্বন্ধ, সম্মিলন, সম্মেলন, সংকলন

সম্মুখেসমাগত, সম্মুখ, সমক্ষ, সমুপস্থিত
নিনিষেধনিবারণ, নিবৃত্তি

নিশ্চয়নির্ণয়

নেইনিখাদ, নিখুঁত, নিখোঁজ, নিচ্ছিদ্ৰ, নিটোল

সম্যকভাবেনিগূঢ়, নিথর, নিপুণ, নিবিষ্ট, নিবেদন

বাজেনিকৃষ্ট

অতিশয্যনির্দাঘ, নিদারুণ, নিষ, নিতল, নিপীড়ন

অভাবনিষ্কলুষ, নিষ্কাম
অবহীনতাঅবজ্ঞা, অবমাননা, অবহেলা

সম্যকভাবেঅবরোধ, অবগাহন, অবগত, অবগুণ্ঠন

উৎকর্ষঅবদান

নিশ্চয়তাঅবধান, অবধারণ

নিম্নে/অধোমুখিতাঅবতরণ, অবরোহণ, অবতীর্ণ, অবনতি

অল্পতাঅবশেষ, অবসান, অবেলা, অবশিষ্ট
অনুপশ্চাৎঅনুশোচনা, অনুগামী, অনুজ, অনুচর

সাদৃশ্যঅনুবাদ, অনুরূপ, অনুকার, অনুদান

পুনঃপুন্যঅনুক্ষণ, অনুদিন, অনুশীলন

সঙ্গেঅনুকূল, অনুকম্পা
নির্অভাব/নেইনিরক্ষর, নির্জীব, নিরহঙ্কার, নিরাশ্রয়

অতিরিক্তনিরতিশয়

নিশ্চয়নির্ধারণ, নির্ণয়, নির্ভর, নির্দেশ, নিঃসংশয়

বাহির/বহির্মুখিতানির্গত, নিঃসরণ, নির্বাসন
দূর্মন্দদুর্ভাগ্য, দুর্দশা, দুর্নাম, দুরাত্মা, দুর্ঘটনা

কষ্টসাধ্যদুর্লভ, দুর্গম, দুর্নাম, দুরূহ, দুর্জয়, দুর্নিবার
বিবিশেষরূপেবিধৃত, বিশুদ্ধ, বিজ্ঞান, বিবস্ত্র, বিশুষ্ক

অভাববিনিদ্র, বিবর্ণ, বিশৃঙ্খলা, বিফল, বিকর্ণ

বিপরীত ভাববিকর্ষণ, বিকাল, বিক্রয়, বিদেশ, বিরাগ

গতিবিচরণ, বিক্ষেপ

অপ্রকৃতস্থবিকার, বিপর্যয়
সুউত্তমসুকণ্ঠ, সুকৃতি, সুচরিত্র, সুপ্রিয়, সুনীল

সহজসুগম, সুসাধ্য, সুলভ, সুপাচ্য, সুবোধ্য

অতিশয্যসুচতুর, সুকঠিন, সুধীর, সুনিপুণ, সুতীক্ষ্ণ
উৎঊর্ধ্বমুখিতাউদ্যম, উন্নতি, উৎক্ষিপ্ত, উদগ্রীব, উত্তোলন

অতিশয্যউচ্ছেদ, উত্তপ্ত, উৎফুল্ল, উৎসুক, উৎপীড়ন

প্রাবল্যউচ্ছ্বাস, উত্তপ্ত, উদগ্ন, উত্তেজনা, উন্মত্ত

প্রস্তুতি/বিকাশউৎপাদন, উচ্চারণ, উত্তীর্ণ, উৎপন্ন
অপিব্যাকরণের সূত্রঅপিনিহিতি, অপিচ
অধিআধিপত্যঅধিকার, অধিপতি, অধিকর্তা, অধিনায়ক

মধ্য বা আয়ত্তঅধিকৃত, অধিগত, অধিগম্য, অধিবাসী

অতিরিক্তঅধিকর্ম, অধিবর্ষ, অধিহার

উপরিঅধিরোহণ, অধিষ্ঠান, অধিত্যকা

ব্যাপ্তিঅধিকার, অধিবাস, অধিগতি
পরিবিশেষরূপেপরিপূর্ণ, পরিবর্তন, পরিত্যাগ, পরিচালনা

শেষপরিশেষ, পরিশোধ, পরিসমাপ্তি

সুন্দরপরিচ্ছন্ন, পরিপাটি, পরিমার্জিত, পরিষ্কার

বিরুদ্ধপরিত্যাগ, পরিপন্থী, পরিহার

সম্যকরূপেপরিশ্রান্ত, পরীক্ষা, পরিমাণ

চতুর্দিকপরিক্রমণ, পরিমণ্ডল, পরিবেশ, পরিবার
প্রতিসদৃশপ্রতিমূর্তি, প্রতিধ্বনি, প্রতিচ্ছায়া, প্রতিকৃতি

বিরোধপ্রতিবাদ, প্রতিদ্বন্দ্বী, প্রতিকার, প্রতিপক্ষ

সম্যকপ্রতীক্ষা, প্রতিষ্ঠা

বিপরীতপ্রত্যুপকার, প্রতিদান

পুনঃপুন্যপ্রতিদিন, প্রতিমাস, প্রতিক্ষণ, প্রতিগ্রাম

অনুরূপ কাজপ্রতিঘাত, প্রতিদিন, প্রত্যুপকার
উপসামীপ্যউপকূল, উপকণ্ঠ, উপনগর

সদৃশউপদ্বীপ, উপবন

মন্দউপদেবতা, উপপতি, উপপত্নী, উপজীবী

সম্যকউপকরণ, উপদেশ, উপবেশন, উপহার

ক্ষুদ্রউপগ্রহ, উপসাগর, উপনেতা, উপজাতি

বিশেষউপনয়ন (পৈতা), উপভোগ
অভিসম্যকঅভিব্যক্তি, অভিজ্ঞ, অভিভূত, অভিনিবেশ

উৎকর্ষঅভিজাত, অভিরাম

বিশেষঅভিধান, অভিনয়, অভিনেতা, অভিভাবক

গমনঅভিযান, অভিসার, অভিকেন্দ্র, অভিবাসন

সম্মুখ/দিকঅভিমুখ, অভিবাদন, অভিনন্দন, অতিকায়
অতিঅতিশয্যঅতিকায়, অতিচার, অতিশয়

অধিক/অতিরিক্তঅতিকায়, অতিচালাক, অতিবুদ্ধি

স্বাভাবিকতার বাইরেঅতিপ্রাকৃত, অতিলৌকিক

পার হওয়াঅতিক্রম, অতিক্রান্ত
পর্যন্তআকণ্ঠ, আমরণ, আসমুদ্র

ঈষৎআরক্ত, আভাস

বিপরীতআদান, আগমন


 

খাঁটি বাংলা উপসর্গ (দেশি উপসর্গ)

আর্যদের আগমনের পূর্বে এদেশীয় ভাষা থেকে আগত উপসর্গগুলোকে খাঁটি বাংলা বা দেশি উপসর্গ বলা হয়। এগুলো সাধারণত খাঁটি বাংলা শব্দের আগে যুক্ত হয়।
খাঁটি বাংলা উপসর্গ মোট ২১টি


খাঁটি বাংলা উপসর্গের ব্যবহার (টেবিল)

উপসর্গযে অর্থে ব্যবহৃতউদাহরণ
নিন্দিত অর্থেঅকাজ, অকেজো, অপয়া, অকাট, অকাল, অগোছালো

না অর্থেঅচিন, অচেনা, অজানা, অথৈ, অখুশি, অমিল

ক্রমাগত অর্থেঅঝোর, অঝোরে, অঘোরে
অঘাবোকা অর্থেঅঘারাম, অঘাচণ্ডী
অজনিতান্ত মন্দ অর্থেঅজপাড়াগাঁ, অজমূর্খ, অজপুকুর
অনাঅভাব অর্থেঅনাবৃষ্টি, অনাদর, অনাদায়

ছাড়া অর্থেঅনাছিষ্টি, অনাচার, অনাসৃষ্টি

অশুভ অর্থেঅনামুখো
অভাব / না অর্থেআধোয়া, আলুনি, আচালা, আছাঁটা, আঢাকা

নিকৃষ্ট অর্থেআকাঠা, আগাছা, আকথা, আকাম, আকাল
আড়বক্র অর্থেআড়চোখ, আড়নয়নে

আধা / প্রায় অর্থেআড়ক্ষ্যাপা, আড়মোড়া, আড়পাগলা

বিশিষ্ট অর্থেআড়কোলা, আড়গড়া, আড়কাঠি
আননা অর্থেআনকোরা

বিক্ষিপ্ত অর্থেআনচান, আনমনা
আবঅস্পষ্টতা অর্থেআবছায়া, আবডাল
ইতিএই / এর অর্থেইতিকর্তব্য, ইতিপূর্বে

পুরাতন অর্থেইতিবৃত্ত, ইতিহাস
ঊনকম অর্থেঊনপাঁজুরে, ঊনিশ, ঊনবুকো, ঊনবর্ষা
কদনিন্দিত অর্থেকদবেল, কদর্য, কদাকার
কুকুৎসিত / অপকর্ষ অর্থেকুঅভ্যাস, কুকথা, কুকাজ, কুপথ্য
নিনাই / নেতিবাচক অর্থেনিখুঁত, নিখোঁজ, নিলাজ, নিপাট, নিদয়
পাতিক্ষুদ্র অর্থেপাতিহাঁস, পাতিশিয়াল, পাতিলেবু
বিভিন্নতা / নিন্দা অর্থেবিভুঁই, বিফল, বিপথ, বিকল, বিজন্মা
ভরপূর্ণতা অর্থেভরপেট, ভরপুর, ভরদুপুর, ভরসন্ধ্যে
রামবড় / উৎকৃষ্ট অর্থেরামছাগল, রামশিঙ্গা, রামবোকা
সঙ্গে অর্থেসলাজ, সরব, সঠিক, সজোর, সস্ত্রীক
সাউৎকৃষ্ট অর্থেসাজিরা, সাজোয়ান
সুউত্তম অর্থেসুনজর, সুখবর, সুনাম, সুদিন
হাঅভাব অর্থেহাপিত্যেশ, হাভাতে, হাঘরে, হাহুতাশ

✦ বিশেষ দ্রষ্টব্য (পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ)

আ, সু, বি, নি — এই চারটি উপসর্গ
👉 খাঁটি বাংলা ও তৎসম—উভয় ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হয়।
BCS, ব্যাংক ও ভর্তি পরীক্ষায় এখান থেকে সরাসরি প্রশ্ন আসে।



৩. বিদেশি উপসর্গ

আরবি, ফারসি, ইংরেজি, হিন্দি, উর্দু ইত্যাদি ভাষার বহুশব্দ দীর্ঘকাল ধরে বাংলা ভাষায় প্রচলিত আছে। এসব শব্দের কতগুলো খাঁটি উচ্চারণে, আবার কতগুলো বিকৃত উচ্চারণে বাংলায় ব্যবহৃত হয়। এরই সঙ্গে কিছু বিদেশি উপসর্গও বাংলায় চালু রয়েছে। এগুলো বহুদিন যাবৎ ব্যবহারের ফলে বাংলা ভাষার সাথে একদম মিশে গেছে।

 

আরবি উপসর্গ (Arabic Prefixes)

উপসর্গযে অর্থে ব্যবহৃতউদাহরণ
আম্সাধারণ অর্থেআমদরবার, আমমোক্তার
খাস্বিশেষ অর্থেখাসমহল, খাসদখল, খাসকামরা, খাসদরবার
লানা অর্থেলাজওয়াব, লাখেরাজ, লাওয়ারিশ, লাপাত্তা
গর্অভাব অর্থেগরমিল, গরহাজির, গররাজি

 

আরবি উপসর্গ মনে রাখার কৌশল

“আমদরবার এবং খাসমহল—এই দুই জায়গাতেই মন্ত্রী গরমিল করে লাপাত্তা।”
👉 এই একটি বাক্যে আম্, খাস্, গর্ ও লা—চারটি উপসর্গই চলে এসেছে।

 

ফারসি উপসর্গ (Persian Prefixes)

উপসর্গযে অর্থে ব্যবহৃতউদাহরণ
কার্কাজ অর্থেকারখানা, কারসাজি, কারচুপি, কারবার
দর্মধ্যস্থ / অধীন অর্থেদরপত্তনি, দরপাট্টা, দরখাস্ত, দরদালান
নানা অর্থেনাচার, নারাজ, নামঞ্জুর, নাখোশ, নালায়েক
নিম্আধা অর্থেনিমরাজি, নিমমোল্লা, নিমখুন
ফিপ্রতি অর্থেফি রোজ, ফি হস্তা, ফি বছর, ফি মাস
বদ্মন্দ অর্থেবদমেজাজ, বদরাগী, বজ্জাত, বদহাল
বেনা অর্থেবেআদব, বেআক্কেল, বেকসুর, বেকায়দা
বর্বাইরে / মধ্যে অর্থেবরখাস্ত, বরদাস্ত, বরখেলাপ, বরবাদ
সহিত অর্থেবমাল, বনাম, বকলম
কম্স্বল্প অর্থেকমজোর, কমবখ্‌ত, কমপোখ্‌ত

✦ পরীক্ষার টিপস

  • লা / না / বে → তিনটিই “না” অর্থে ব্যবহৃত হলেও ভাষাভেদ আলাদা

  • কার্ → কাজ বা কার্যসংক্রান্ত শব্দে

  • ফি → সময় বা হিসাবের ক্ষেত্রে “প্রতি” বোঝায়

  • BCS, ব্যাংক, ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষায় উপসর্গ + উদাহরণ মিলিয়ে প্রশ্ন বেশি আসে

 

ফারসি উপসর্গ মনে রাখার কৌশল

কারখানা তে গিয়ে কিছুর দরদাম না করাই ভালো।

নিম্ ফিরোজার বান্ধবী।

বদস্বভাব আর বেয়াদবি দুটোই তার মধ্যে আছে।

মিলির বর বোকা কম।

 

ইংরেজি উপসর্গ

উপসর্গ -------------------যে অর্থে ব্যবহৃত---------- উদাহরণ

ফুল ----------------------- পূর্ণ অর্থে ------------------ ফুলহাতা, ফুলশার্ট, ফুলমোজা, ফুলপ্যান্ট।

হাফ ----------------------- আধা ----------------------- হাফহাতা, হাফটিকিট, হাফফুল, হাফনেতা।

হেড-----------------------  প্রধান----------------------- হেডমাস্টার, হেড অফিস, হেড পণ্ডিত।

সাব -----------------------  অধীন ----------------------- সাব অফিস, সাবজজ, সাব ইন্সপেক্টর।


 

ইংরেজি উপসর্গ মনে রাখার কৌশল

ফুল -বাবু হাফ -টিকেট কেটে ট্রেনে করে হেড- অফিস এ সাব- ইনস্পেকটর এর সাথে দেখা করতে যাচ্ছেন।

 

হিন্দি উপসর্গ

উপসর্গ ---------------যে অর্থে ব্যবহৃত -----------------------উদাহরণ

হর --------------- প্রত্যেক বা বিভিন্ন ---------------অর্থে হরেক, হররোজ, হরকিসিম, হরহামেশা।

 

 

 

বাক্যে উপসর্গের ব্যবহার

তৎসম : ১০টি

প্র- প্রচণ্ড→ আমার প্রচন্ড রাগ হয়েছে।

পরা - পরাজয়→ পরাজয়ে ডরে না বীর।

অপ – অপরূপ → ধরণী বসন্তে অপরূপ সাজে সজ্জিত হয়।

সম - সংসার → সংসার সাগরে দুঃখের অন্ত নেই।

নি – নিবৃত্ত→ সে তার মনোবাসনা নিবৃত্ত করতে পারেনি।

অব – অবহেলা→ পাঠে অবহেলা অনুচিত।

অনু – অনুতাপ→ অনুতাপের অনলে দগ্ধ হলো মন।

নির – নির্দোষ→ নির্দোষ লোকটিকে অপমান করা হলো।

দুর – দুর্গম → 'দুর্গম গিরি কান্তার মরু দুস্তর পারাবার।'

বি - বিজন→ শ্বাপদ-সংকুল বিজন বন ভয়ংকর।

 

খাঁটি বাংলা : ১০টি

অ- অবেলা→ অবেলায় তুমি কোথায় যাচ্ছ?

অঘা-অঘাচণ্ডী→ তোমার মতো অঘাচন্ডী আর হয় না।

অজ-অজপাড়াগী→ এই অজপাড়াগায় এসে বিপদে পড়েছি।

অনা-অনাছিষ্টি→ তোমার যত অনাছিষ্টি কাণ্ড।

আ-আকাঁড়া→ ‘ভিক্ষার চাল কাঁড়া আর আকাঁড়া।

কু-কুকথা→ কুলোক-কুকথা বলবেই।

নি-নিলাজ→ মেয়েটি বড্ড নিলাজ।

বি-বিপথ→ বিপথে যেও না।

ভর-ভরদুপুর→ ভরদুপুরে চাষী জমিতে লাঙ্গল দেয়।

রাম-রামদা→ রামদা দিয়ে তাকে আঘাত করা হয়েছে।

 

বিদেশি উপসর্গ : ১০টি

আম-আমদরবার→ বাদশাহর আমদরবার লোকে লোকারণ্য।

কম – কমজোর → তোমার মতো কমজোর লোক দিয়ে এমন শক্ত কাজ হবে না।

খাস – খাস-চাকর→ আবদুল তাদের বাড়ির খাস-চাকর।

গর- গরমিল → হিসেবে গরমিল হয়ে গেল।

না – নাছোড় → তার মতো নাছোড়বান্দা আর হয় না।

নিম – নিমরাজি → মেয়েটি এ বিয়েতে নিমরাজি।

ফি – ফি-বছর→ ফি বছরই এ দেশে বন্যা হয়।

ব – বকলম → তার মতো বকলম লোক দিয়ে এ কাজ হবে না।

বদ – বদরাগী→ মনির অত্যন্ত বদরাগী।

বর – বরখেলাপ → কখনো কথার বরখেলাপ করো না।

 

 


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.