Header Ads

মুনশি একাডেমি

শিক্ষা ও সাহিত্যভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
নোট ও সাজেশন বিসিএস ও এনটিআরসিএ বি.এড ও ব্যাংক প্রস্তুতি

লাঠিটিলা বন: সীমান্তের কোলঘেঁষা এক বুনো অ্যাডভেঞ্চার

লাঠিটিলা বন: সীমান্তের কোলঘেঁষা এক বুনো অ্যাডভেঞ্চার

 
লাঠিটিলা বন, জুড়ী মৌলভীবাজার, বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য, সীমান্ত ভ্রমণ, অ্যাডভেঞ্চার ট্র্যাকিং, Lathitila Forest, Juri Adventure, Munshi Alim, Munshi Academy, #MunshiAcademy

ভূমিকা (Introduction):

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় অবস্থিত 'লাঠিটিলা বন' বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি অন্যতম প্রাচীন ও সংরক্ষিত প্রাকৃতিক বন। প্রায় ৫২০০ একর জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই বনটি জীববৈচিত্র্যের এক বিশাল ভাণ্ডার। ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় এই বনের গভীরতা ও নির্জনতা অন্য যেকোনো বনের চেয়ে আলাদা। ঘন জঙ্গল, সর্পিল পাহাড়ী ঝিরি এবং হরেক প্রজাতির বন্যপ্রাণীর উপস্থিতির কারণে এটি অ্যাডভেঞ্চার প্রেমীদের কাছে 'স্বর্গরাজ্য' হিসেবে পরিচিত।

লাঠিটিলা বনের বিশেষত্ব হলো এর শান্ত ও গা ছমছমে পরিবেশ। এখানে গর্জন, বাঁশ আর বড় বড় লতাগুল্মের এমন প্রাকৃতিক বুনন রয়েছে যে দিনের বেলাতেও বনের অনেক জায়গায় সূর্যের আলো পৌঁছাতে পারে না। বনের গভীরে গেলেই দেখা মেলে বিরল চশমাধারী হনুমান, উল্লুক, মায়া হরিণ এবং বিভিন্ন প্রজাতির বন্য হাতির। যারা গতানুগতিক পর্যটন কেন্দ্রের বাইরে গিয়ে একদম সত্যিকারের বুনো পরিবেশে ট্র্যাকিং করতে চান, তাদের জন্য লাঠিটিলা বন এক অনন্য রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা হতে পারে।

 

কোথায় অবস্থিত? (Location)

এটি সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী উপজেলার গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নে অবস্থিত। এটি সরাসরি ভারতের ত্রিপুরা সীমান্ত ঘেঁষে অবস্থিত।

 

কেন যাবেন? (Reason to Visit)

  • বুনো ট্র্যাকিং: পাহাড়ী ঝিরি ও গহীন বনের ভেতরে দীর্ঘপথ হাঁটার এক রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা নিতে।

  • বন্যপ্রাণী দর্শন: বিরল প্রজাতির হনুমান, পাখি এবং ভাগ্য ভালো থাকলে বুনো হাতির পাল দেখার সুযোগ।

  • সীমান্ত দর্শন: বনের ভেতর দিয়ে যাওয়ার সময় জিরো পয়েন্ট বা সীমান্ত স্তম্ভ দেখার সুযোগ হয়।

  • নিভৃত প্রকৃতি: লোকালয় থেকে দূরে সম্পূর্ণ নিরিবিলি এবং বুনো পরিবেশে নিজেকে হারিয়ে ফেলার জন্য।

 

কখন যাবেন? (Best Time to Visit)

শীতকাল (নভেম্বর-ফেব্রুয়ারি) এই বনে যাওয়ার সেরা সময়। এ সময় ঝিরিপথে কাদা কম থাকে এবং বন্য হাতির আক্রমণ হওয়ার ঝুঁকিও কম থাকে। বর্ষাকালে বন খুব পিচ্ছিল থাকে এবং জোঁকের প্রচুর উপদ্রব থাকে, যা সাধারণ পর্যটকদের জন্য কঠিন হতে পারে।

 

কীভাবে যাবেন / রুট প্ল্যান (Step by Step Route)

১. মৌলভীবাজার বা শ্রীমঙ্গল থেকে: প্রথমে বাস বা সিএনজিতে করে জুড়ী উপজেলা সদরে আসতে হবে।

২. জুড়ী থেকে লাঠিটিলা: জুড়ী বাজার থেকে সিএনজি রিজার্ভ করে সরাসরি লাঠিটিলা বিট অফিস বা বনের প্রবেশমুখে যাওয়া যায় (দূরত্ব প্রায় ১৮ কিমি)।

৩. বন প্রবেশ: বন বিট অফিস থেকে অনুমতি নিয়ে এবং একজন গাইড সাথে নিয়ে বনের গভীরে প্রবেশ করতে হবে।

 

কী দেখবেন? (What to See)

  • গহীন অরণ্য: কয়েকশ বছরের পুরনো বিশালাকার সব গাছ এবং ঘন জঙ্গল।

  • পাহাড়ী ঝিরি: পাথুরে ঝিরিপথ দিয়ে বয়ে চলা স্বচ্ছ শীতল জল।

  • বন্যপ্রাণী: উল্লুক ও চশমাধারী হনুমানের বিচরণ এবং বিচিত্র সব বনজ পাখি।

  • সীমান্ত পিলার: বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের সীমানা স্তম্ভ।

 

খরচ (Expenses)

এটি বন বিভাগের এলাকা, তাই নির্দিষ্ট সরকারি প্রবেশ ফি (বর্তমানে ২০-৫০ টাকা) দিতে হতে পারে। তবে সাথে গাইড নিতে হলে তাকে আলাদা ৫শ থেকে ১ হাজার টাকা দিতে হয়। যাতায়াত খরচ জুড়ী থেকে আসা-যাওয়া ৫০০-৭০০ টাকার মধ্যে সম্ভব।

 

পরিবহন ও খাওয়ার ব্যবস্থা (Transport & Dining)

  • পরিবহন: সিএনজি অটোরিকশা এবং জিপ।

  • খাবার: বনের ভেতরে বা প্রবেশপথে কোনো হোটেল নেই। আপনাকে অবশ্যই জুড়ী বাজার থেকে সাথে করে শুকনো খাবার ও পর্যাপ্ত পানি নিয়ে যেতে হবে।

 

যোগাযোগ ও আবাসন (Accommodation)

লাঠিটিলা এলাকায় থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই। থাকার জন্য আপনাকে জুড়ী, কুলাউড়া বা মৌলভীবাজার শহরের হোটেলগুলোতে ফিরে আসতে হবে।

 

দৃষ্টি আকর্ষণ ও সতর্কতা (Cautions)

  • এটি একটি সীমান্ত এলাকা এবং গহীন বন, তাই বিজিবি এবং বন বিভাগের অনুমতি ছাড়া গভীরে যাবেন না।

  • বন্য হাতির চলাচলের রাস্তা রয়েছে, তাই একা বা গাইড ছাড়া বনের ভেতরে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক।

  • বনে উচ্চৈঃস্বরে কথা বলবেন না বা বন্যপ্রাণীদের বিরক্ত করবেন না।

  • জোঁকের কামড় থেকে বাঁচতে লম্বা মোজা বা লবণ সাথে রাখতে পারেন।

  • কোনো ধরণের প্লাস্টিক বা ময়লা বনের ভেতরে ফেলে আসবেন না।

 

আশেপাশের দর্শনীয় স্থান (Nearby Attractions)

  • সাগরনাল চা বাগান।

  • চন্দ্রপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্ভাব্য স্থান।

  • জুড়ী নদী।

 

টিপস (Tips)

  • খুব সকালে ভ্রমণ শুরু করার চেষ্টা করুন যাতে বিকেলের মধ্যেই বন থেকে লোকালয়ে ফিরে আসা যায়।

  • ট্র্যাকিং-এর জন্য গ্রিপ জুতো বা আরামদায়ক কেডস ব্যবহার করুন।


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.