Header Ads

মুনশি একাডেমি

শিক্ষা ও সাহিত্যভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
নোট ও সাজেশন বিসিএস ও এনটিআরসিএ বি.এড ও ব্যাংক প্রস্তুতি

কারক ও বিভক্তি নির্ণয়ের সহজ কৌশল: শতভাগ নির্ভুল পদ্ধতি

 

কারক ও বিভক্তি নির্ণয়ের সহজ কৌশল: শতভাগ নির্ভুল পদ্ধতি

 

কারক ও বিভক্তি নির্ণয়ের সহজ কৌশল, কারক ও বিভক্তি নির্ণয়ের সহজ পদ্ধতি, সংস্কৃত কারক ও বিভক্তি নির্ণয়ের সহজ কৌশল, এক বাক্যে কারক ও বিভক্তি নির্ণয়ের সহজ পদ্ধতি (প্রাথমিক), কারক ও বিভক্তি নির্ণয়ের সহজ উপায়, কারক নির্ণয়ের সহজ কৌশল, অভিনব পদ্ধতিতে কারক ও বিভক্তি নির্ণয়, কারক নির্ণয়ের সহজ উপায়, কারক ও বিভক্তি মনে রাখার কৌশল, কারক ও বিভক্তি নির্ণয়,একাডেমি,কারক,বিভক্তি,বাংলা ব্যাকরণ,বিসিএস প্রস্তুতি,কারক চেনার উপায়,
কারক ও বিভক্তি

বাংলা ব্যাকরণে শতভাগ নির্ভুল পদ্ধতি

কারক ও বিভক্তি বাংলা ব্যাকরণের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অনেক শিক্ষার্থী এটিকে সহজ ভেবে অবহেলা করে ভুল করে বসেন, আবার অনেকেই প্রচলিত নিয়মে বিষয়টি বুঝতে গিয়ে বিভ্রান্ত হন। এর প্রধান কারণ হলো—কারক নির্ণয়ের জটিল ও গতানুগতিক পদ্ধতি।

আজ আমরা আপনাদের সঙ্গে কারক ও বিভক্তি নির্ণয়ের একটি সহজ, কার্যকর ও নির্ভুল কৌশল শেয়ার করব, যা আপনি আগে কোথাও দেখেননি। এই পদ্ধতির মাধ্যমে খুব সহজেই শতভাগ নির্ভুলভাবে কারক নির্ণয় করা সম্ভব।

এই আর্টিকেলের শেষ অংশে আমরা সেই বিশেষ কৌশলটি ধাপে ধাপে উপস্থাপন করব। তার আগে আপনাকে কারক ও বিভক্তির মৌলিক ধারণায় আগ্রহী, কৌতূহলী এবং প্রস্তুত করে তুলতে চাই। তাই অনুরোধ থাকবে—লেখাটি শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত মনোযোগ দিয়ে পড়ুন। আশা করা যায়, এই লেখা পড়ার পর আর কখনও কারক ও বিভক্তি নির্ণয়ে ভুল হবে না।

চলুন, শুরু করা যাক।

কারক কী ও কেন

'কারক' শব্দের অর্থ- যা ক্রিয়া সম্পাদন করে। ব্যুৎপত্তিগত দিক থেকে কারক" হলো – (কৃ + ণক)। ক্রিয়া সম্পাদনের জন্য বিভিন্ন উপকরণ অর্থাৎ ব্যাক্তি,স্থান,কাল প্রভৃতির দরকার হয়।এদের সঙ্গে ক্রিয়াপদের যে সম্পর্ক তাকেই কারক বলে। সুতরাং বলা যায়—বাক্যের অন্তর্ভুক্ত ক্রিয়াপদের সাথে অন্যান্য পদের যে প্রত্যক্ষ সম্বন্ধ তাকে কারক বলে।

কারকের প্রকারভেদ

ক্রিয়াপদের সাথে অন্যান্য পদের যে প্রত্যক্ষ সম্বন্ধ তা ছয় প্রকারের হতে পারে। যেমন- রাষ্ট্রপতি ঢাকায় রাজকোষ থেকে নিজ হাতে গরিবদেরকে অর্থ প্রদান করছেন। বাক্যটি বিশ্লেষণ করলে ক্রিয়াপদের সাথে অন্যান্য পদের ছয় প্রকার সম্পর্ক বেরিয়ে আসে।

কে দান করছেন?- রাষ্ট্রপতি (কর্তৃকারক)

কি দান করছেন? – অর্থ (কর্মকারক)

কিসের দ্বারা দান করছেন? – নিজ হাতে (করণকারক)

কাকে দান করছেন?— গরিবদেরকে (সম্প্রদান কারক )

কোথেকে দান করছেন?- রাজকোষ থেকে (অপাদান কারক)

কোথায় দান করছেন?- ঢাকায় (অধিকরণ কারক।)

রাষ্ট্রপতি, অর্থ, নিজ হাতে, গরিবদেরকে, রাজকোষ থেকে,ঢাকায়- এই ছয়টি পদের সাথে “প্রদান করছেন” ক্রিয়ার বিভিন্ন সম্পর্ক রয়েছে। এভাবে ক্রিয়াপদের সাথে বিশেষ্য ও সর্বনাম পদের ছয় প্রকারের সম্পর্ক হতে পারে। তাই কারক ছয় প্রকার। যথা—

১. কর্তৃকারক

২. কর্মকারক

৩. করণকারক

৪. সম্প্রদান কারক

৫. অপাদান কারক

৬. অধিকরণ কারক

বাংলা ব্যাকরণে কারক সম্বন্ধে ব্যাকরণবিদগণের মধ্যে বিতর্ক আছে। রামেন্দ্র সুন্দর ত্রিবেদী বাংলায় মাত্র তিনটি- কর্তা, কর্ম ও অন্য একটি কারকের কথা বলেন। যতীন্দ্রমোহন মুখোপাধ্যায় কর্তা ও কর্ম ছাড়া অন্য সব কারক স্বীকার করেননি। তবে ‘সম্প্রদান কারক ছাড়া অন্য পাঁচটি কারকের কথা অধিকাংশ ব্যাকরণবিদ মেনে নিয়েছেন। যেহেতু বাংলা ব্যাকরণ সংস্কৃত ব্যাকরণ অনুসরণে রচিত; এজন্য আলোচনার সময় সম্প্রদান কারককে বাদ দেয়া হয়নি।

 

কারকের প্রয়োজনীয়তা

বাক্যে ক্রিয়াপদের সঙ্গে অন্যান্য পদের সম্পর্ক নির্ণয় করা হয়ে থাকে কারকের মাধ্যমেই। মাঝে মাঝে ক্রিয়াপদ ছাড়াও বাক্য গঠিত হতে পারে। যেমন- সে খারাপ ছেলে। এ বাক্যটির মধ্যে ক্রিয়াপদ অনুল্লিখিত রয়েছে। এ উহা ক্রিয়াটি হলো- “হয়”। কারক নির্ণয়ের ক্ষেত্রে এ উহা ক্রিয়াকে বিবেচনা করা হয় না। কারক বাক্যে শব্দের অন্বয় বুঝিয়ে দেয় এবং এতে বাক্যের অর্থ ও গঠন সুস্পষ্ট হয়ে থাকে। এ দিক দিয়ে বিচার করলে কারকের প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।

 

সম্বন্ধ পদ

যে নামপদ ক্রিয়াপদের সঙ্গে সম্পর্ক না রেখে বাক্যস্থিত অন্যপদের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত হয়, তাকে সম্বন্ধ পদ বলে। যেমন- পিয়ালের ভাই বাড়ি যাবে। এখানে ‘পিয়ালের' সঙ্গে ‘ভাই'-এর সম্পর্ক আছে, কিন্তু যাবে ক্রিয়ার সাথে সম্বন্ধ নেই। ক্রিয়ার সঙ্গে সম্বন্ধ পদের সম্বন্ধ নেই বলে সম্বন্ধ পদকে কারক বলা হয় না। সম্বন্ধ পদ বিভিন্ন প্রকার হতে পারে। যথা :

১। অধিকার সম্বন্ধ: রাজার রাজ্য, প্রজার জমি

২। জন্ম-জনক-সম্বন্ধ : গাছের ফল, বনের কাঠ

৩। কার্যকারণ সম্বন্ধ: সূর্যের উত্তাপ, রোগের কষ্ট

৪। উপাদান সম্বন্ধ : সোনার বাটি, রুপার কাঠি

৫। গুণ সম্বন্ধ : নিমের তিক্ততা, মধুর মিষ্টতা

৬। হেতু সম্বন্ধ : রুপের দেমাক, ধনের অহংকার

৭। ব্যাপ্তি সম্বন্ধ : রোজার ছুটি, শরতের আকাশ

৮। ক্রম সম্বন্ধ : চারের ঘর, তিনের পৃষ্ঠা

৯। অংশ সম্বন্ধ : মাথার চুল, হাতির দাঁত

১০। ব্যবসায় সম্বন্ধ : আদার ব্যাপারী, পাটের গুদাম

১১। ভগ্নাংশ সম্বন্ধ : তিনের এক, পাঁচে চার

১২। কৃতি সম্মন্ধ : নজরুলের অগ্নিবীণা

১৩। আধার আধেয় : বাটির দুধ, শিশির ওষুধ

১৪। অভেদ সম্বন্ধ : জ্ঞানের আলোক, দুঃখের দহন

 

সম্বোধন

যে পদে কাউকে সম্বোধন বা আহ্বান করে কিছু বলা হয়, তাকে সম্বোধন পদ বলে। ‘সম্বোধন’ শব্দটির অর্থ আহ্বান। যেমন— 'ওহে, তুমি কোথায় যাচ্ছ? এই বাক্যে সম্বোধন পদ 'ওহে'-এর সঙ্গে ক্রিয়াপদ যাচ্ছ এর কোন সম্পর্ক নেই, যাচ্ছ—এর সম্পর্ক রয়েছে 'তুমি' শব্দের সঙ্গে। এই কারণে ‘ওহে’-এর কারক হয় না। সুতরাং সম্বন্ধ ও সম্বোধন পদ কারক নয়। 

 

বিভক্তি

বাক্যের অন্তর্ভুক্ত একটি শব্দের সাথে আরেকটি শব্দের সম্পর্ক সৃষ্টি করার জন্য শব্দের সাথে যে সকল বর্ণ বা বর্ণগুচ্ছ যুক্ত হয়, তাকে বিভক্তি বলে। যেমন— পাগলে কি না বলে, ছাগলে কি না খায়। এ বাক্যটিতে 'পাগল' এবং 'ছাগল' শব্দের সঙ্গে 'এ' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। যেমন -

পাগল + এ = পাগলে

ছাগল + এ = ছাগলে

ভিক্ষুককে ভিক্ষা দাও –এ বাক্যে ‘ভিক্ষুক' শব্দের সাথে ‘কে' বিভক্তি যুক্ত হয়েছে। বিভক্তি দু'প্রকার। যেমন—

১. শব্দ বিভক্তি বা নাম বিভক্তি

২. ক্রিয়া বিভক্তি বা ধাতু বিভক্তি।

১. শব্দ বিভক্তি বা নাম বিভক্তি

শব্দ বা নামপদের সাথে যে বিভক্তি যুক্ত হয় তাকে শব্দ বিভক্তি বা নাম বিভক্তি বলে। শব্দ বা নাম বিভক্তি কারক সূচিত করে বলে এর আরেক নাম কারক বিভক্তি। শব্দ বিভক্তি সাত প্রকার। যেমন— প্রথমা, দ্বিতীয়া, তৃতীয়া, চতুর্থী, পঞ্চমী, ষষ্ঠী ও সপ্তমী। একবচন এবং বহুবচন ভেদে শব্দ বিভক্তিগুলোর রূপগত বা আকৃতিগত পার্থক্য দেখা যায়। যেমন—

 

কারক ও বিভক্তি নির্ণয়ের সহজ কৌশল বিভক্তির রূপ

বিভক্তি একবচন বহুবচন
প্রথমা (0) শূন্য, অ, আ, য় রা, এরা, গুলি/ গুলো, গণ, সমূহ
দ্বিতীয়া কে, রে, এরে দিগকে, দেরকে, দিগেরকে, দিগেরে
তৃতীয়া দ্বারা, দিয়া/ দিয়ে, কর্তৃক দিগের দ্বারা, দিগ দ্বারা, দিগ কর্তৃক, দের দ্বারা, দের দিয়া, দের কর্তৃক
চতুৰ্থী কে, রে, এরে দিগকে, দেরকে, দিগেরকে, দিগেরে
পঞ্চমী হইতে/হতে, থেকে, চেয়ে দিগ হইতে, দের হইতে, দিগ থেকে, দের থেকে, দের চেয়ে
ষষ্ঠী র, এর দিগের, দের
সপ্তমী এ, য়, তে দিগে, দিগেতে, গুলিতে/গুলোতে, গণে।

Pro Tips: বিভক্তি শুধু একবচন জানা থাকেলই চলে।একবচনের চিহ্ন দ্বারা বিভক্তি নির্ণয় করলে সব সময় সঠিক বিভক্তিই পাওয়া যায়।এতে বিন্দুমাত্র ও সন্দেহ নেই।

 

বিভক্তি যোগের নিয়ম ✍️

১. স্বরান্ত শব্দের পরে 'এ' বিভক্তির রূপ হয়- 'য়' বা 'য়ে'। যেমন- মেলা + য় = মেলায়,পা + এ = পায়ে

২. স্বরান্ত শব্দের পরে 'এ' স্থানে 'তে' বিভক্তি যুক্ত হতে পারে। যেমন- পানি + এ > পানি+ তে = পানিতে

৩. অ-কারান্ত বা ব্যঞ্জনান্ত শব্দের পর প্রথমায় 'রা' স্থানে 'এরা' হয় এবং ষষ্ঠী বিভক্তির 'র'-এর স্থানে অনেক সময় 'এর' হয়। যেমন- বালক + এরা = বালকেরা , বালক + এর = বালকের।

৪. অপ্রাণিবাচক শব্দের পরে 'কে' বা 'রে' বিভক্তি হয় না, শূন্য বিভক্তি হয়। যেমন- কাগজ নাও।

৫. অপ্রাণিবাচক বা ইতরপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে 'রা' যুক্ত হয় না- গুলি, গুলা, গুলো হয়। যেমন- লেবুগুলো, কাঁঠালগুলা, হাঁসগুলো, ফুলগুলো।

 

২. ক্রিয়া বিভক্তি

ধাতুর সাথে যেসব বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যুক্ত হয়ে ক্রিয়াপদ গঠন করে তাকে ক্রিয়া বিভক্তি বলে। যেমন— সে চিঠি লিখিতেছে। এ বাক্যের 'লিখিতেছে' শব্দটিকে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়-

লেখা-- ক্রিয়া পদ এবং ক্রিয়া বিভক্তি- ইতেছে

লিখ— ধাতু লিখ্ + ইতেছে = লিখিতেছে

এরূপ – পড়ু + ইতেছে = পড়িতেছে

খেল্ + ইতেছে = খেলিতেছে

বল্ + আ = বলা

কাঁদ্ + আ = কাঁদা 

 

 ভিডিয়ো ক্লাসের লিংক: 


 


কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.