Header Ads

মুনশি একাডেমি

শিক্ষা ও সাহিত্যভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
নোট ও সাজেশন বিসিএস ও এনটিআরসিএ বি.এড ও ব্যাংক প্রস্তুতি

বচন কাকে বলে? প্রকারভেদ ও বহুবচনের নিয়মাবলি (পূর্ণাঙ্গ গাইড)

বচন কাকে বলে? প্রকারভেদ ও বহুবচনের নিয়মাবলি (পূর্ণাঙ্গ গাইড)

 

বচন কাকে বলে কয় প্রকার, বচন কাকে বলে কয় প্রকার ও কি, বচন কাকে বলে কয় প্রকার ও কি কি, বচন কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি, বচন কাকে বলে কয় প্রকার কি কি, বচন কাকে বলে কত প্রকার কি কি, বহুবচন কাকে বলে, একবচন এবং বহুবচন কাকে বলে?, বচন কাকে বলে, #বচন কাকে বলে? কয় প্রকার ও কি কি?, এক বচন কাকে বলে, বহুবচন কাকে বলে?, number কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি, বচনের প্রকারভেদ, বচন কাকে বলে?, number বা বচন কাকে বলে?, বচন ও লিঙ্গ কাকে বলে? জব নলেজ। job knowledge., এক বচন থেকে বহুবচন করার নিয়ম, একবচন কাকে বলে?, আরবি বচন এর প্রকারভেদ

*** বচন কাকে বলে? একবচন ও বহুবচন চেনার সহজ নিয়ম ও উদাহরণ।

বচন: 

সংস্কৃত ‘বচন’ শব্দটির ব্যুৎপত্তি হলো—
👉 বচ্ + অন = বচন

সাধারণ অর্থে বচন বলতে বোঝায়— কথা, বাক্য, উক্তি, প্রবাদ বা প্রবচন। কিন্তু ব্যাকরণশাস্ত্রে বচন শব্দটি এই অর্থে ব্যবহৃত হয় না। ব্যাকরণে বচন মূলত একটি সংখ্যাবাচক ধারণা, যা দ্বারা কোনো ব্যক্তি, বস্তু বা প্রাণীর সংখ্যাগত অবস্থান প্রকাশ পায়।

অর্থাৎ, কোনো পদ একবচন না বহুবচন—এই সংখ্যাগত পার্থক্য বোঝানোর জন্য যে ব্যাকরণিক রূপ ব্যবহৃত হয়, তাকেই বচন বলা হয়।

বাংলা ব্যাকরণে বচনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ—

  • বচনের ভেদে শব্দের রূপ পরিবর্তিত হয়,

  • বাক্যের অর্থ নির্ভুল হয়,

  • এবং ভাষার শুদ্ধতা বজায় থাকে।


বচন কাকে বলে?

'বচন' ব্যাকরণের একটি পারিভাষিক শব্দ। এর অর্থ সংখ্যার ধারণা। ব্যাকরণে বিশেষ্য ও সর্বনামের সংখ্যার ধারণা প্রকাশের উপায়কে বচন বলে। যার দ্বারা ব্যক্তি,বস্তু ইত্যাদি সংখ্যা নির্ধারণ করা হয় তাকে বচন বলে। অন্যভাবে বলা যায়, যা একত্বের বা বহুত্বের ধারণা দেয় তাকে বচন বলে। শুধু বিশেষ্য ও সর্বনাম শব্দের বচনভেদ হয়। দ্রব্য, গুণ ও ক্রিয়াবাচক বিশেষ্যের বহুবচন হয় না।

 

বচন কত প্রকার ও কী কী?

বাংলা ভাষায় বচন দুই প্রকার। যথাঃ

ক. একবচন

খ. বহুবচন

 

একবচন

যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একটিমাত্র সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে একবচন বলে। যেমন- সে এলো। মেয়েটি স্কুলে যায়নি। পদের আগে একটি, একটা,একজন,একখানা,প্রভৃতি শব্দ বসিয়ে এবং বিশেষ্য পদের শেষে টি,টা,খানা,খানি,গাছা,গাছি ইত্যাদি শব্দ যোগ করে একবচন বোঝানো যায়।

 

একবচনের কয়েকটি নিয়ম

(ক) সাধারণত মূল শব্দটি ব্যবহার করেই একবচন বোঝানো হয়। যেমন : ফুল, ফল, হাঁস, কলম, ছেলে, মেয়ে ইত্যাদি।

(খ) পদের আগে ‘এক’ বা ‘একটি’ বসিয়ে একবচন বোঝানো হয়। যেমন : এক টাকা; এক ব্যক্তি; একটি হাঁস; এক মাস ইত্যাদি।

(গ) বিশেষ্য পদের সাথে টি, টা, খানা, খানি, গাছা, গাছি ইত্যাদি যোগ করে একবচনের ভাব বোঝানো হয়। যেমন : ছেলেটি, মেয়েটা, বইখানা, মুখখানি, ঝাঁটাগাছা, মালগাছি ইত্যাদি।

 

বহুবচন

যে শব্দ দ্বারা কোনো প্রাণী, বস্তু বা ব্যক্তির একের অধিক অর্থাৎ বহু সংখ্যার ধারণা হয়, তাকে বহুবচন বলে। যেমন- তারা গেল। মেয়েরা এখনও আসেনি।

বাংলায় বহুবচন বোঝানোর জন্য কয়েকটি রীতি আছে। যেমন :

সংখ্যাবাচক কিংবা সমষ্টিবাচক শব্দ ব্যবহার করে। যেমন : দশটা গাড়ি; পাঁচ বস্তা চাল; এক ধামা ধান; গাড়ি ভরতি লোক; যতসব দুষ্টু ছেলে। লক্ষণীয়: মূল শব্দটির এক বচনের রূপই থাকছে। তবে দশটি গাড়িগুলো – এরকম হয় না । প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক এবং ইতর প্রাণিবাচক ও উন্নত প্রাণিবাচক শব্দভেদে বিভিন্ন ধরনের বহুবচনবোধক প্রত্যয় ও সমষ্টিবোধক শব্দ যুক্ত হয়।

 

বাংলা ভাষায় ব্যবহৃত একবচন ও বহুবচন বাচক শব্দ

একবচনবাচক শব্দ: টা, টি, খানা, খানি।

বহুবচনবাচক শব্দ: রা, এরা, গুলা, গুলি, গুলো, দিগ, দের, প্রভৃতি যুক্ত হয় এবং সব, সকল, সমুদয়, কূল, বৃন্দ, বর্গ, নিচয়, রাজি, রাশি, পাল, দাম, নিকর, মালা, আবলি প্রভৃতি সমষ্টিবোধক শব্দ ব্যবহৃত হয়।

 

বহুবচন করার নিয়মসমূহ

১. উন্নত প্রাণিবাচক মনুষ্য শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:

বহুবচনবাচক শব্দ প্রয়োগ

গণ দেবগণ, নরগণ, জনগণ, গণকবর

বৃন্দ সুধীবৃন্দ, ভক্তবৃন্দ, শিক্ষকবৃন্দ

মণ্ডলী নির্বাচকমণ্ডলী, শিক্ষকমণ্ডলী, সম্পাদকমণ্ডলী

বর্গ পণ্ডিতবর্গ, মন্ত্রিবর্গ

 

২. অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:

বহুবচনবাচক শব্দ প্রয়োগ

পুঞ্জ মেঘপুঞ্জ, দ্বীপপুঞ্জ

মালা পর্বতমালা, বর্ণমালা

রাশি বালিরাশি, জলরাশি

রাজি তারকারাজি, বৃক্ষরাজি

আবলি পুস্তকাবলি, পদাবলি, রচনাবলি

গুচ্ছ কবিতাগুচ্ছ, কেশগুচ্ছ

দাম কুসুমদাম, শৈবালদাম

নিকর কমলনিকর

নিচয় কুসুমনিচয়

গ্রাম গুণগ্রাম

 

৩. প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দের বহুবচনে ব্যবহৃত শব্দ:

বহুবচনবাচক শব্দ প্রয়োগ

কুল কৰিকুল, পক্ষিকুল, মাতৃকুল, বৃক্ষকুল

সকল পর্বতসকল, মনুষ্যসকল

সব ভাইসব, পাখিসব

সমূহ বৃক্ষসমূহ, মনুষ্যসমূহ

৪. 'রা' কেবল উন্নত প্রাণিবাচক শব্দের সঙ্গে পাওয়া যায়।যেমন- শিক্ষকেরা জ্ঞান দান করেন।

৫. সময় সময় কবিতা ও অন্যান্য প্রয়োজনে অপ প্রাণিবাচক শব্দেও রা, এরা, যুক্ত হয়। যেমন- কাকেরা এক বিরাট সভা করল।

৬. গুলা, গুলি, গুলো প্রাণিবাচক ও অপ্রাণিবাচক শব্দের যুক্ত হয়। যেমন- অতগুলো কুমড়া দিয়ে কী হবে? আমগুলো টক । ময়ূরগুলো পুচ্ছ নাড়িয়ে নাচছে।

৭. পাল ও যূথ শব্দ দুটি কেবল জন্তুর বহুবচনে ব্যবহৃত হয়। যেমন- রাখাল গরুর পাল লয়ে যায় মাঠে। হস্তিযুথ মাঠের ফসল নষ্ট করছে।

 

বহুবচনের প্রয়োগ বৈশিষ্ট্য

ক. বিশেষ্য শব্দের এক বচনের ব্যবহারেও অনেক সময় বহন বোঝানো হয়। যেমন- সিংহ বনে থাকে। (এখানে সিংহ একবচন ও বহুবচন দুইই বোঝায়)এ পোকার আক্রমণে নষ্ট হচ্ছে (বহুবচন)। মানুষ মরণশীল। বনে বাঘ বাস করে।

খ. একবচনাত্মক বিশেষ্যের পূর্বে অজস্র, অনেক, বিস্তর, হু নানা, ঢের, অঢেল ইত্যাদি বহুত্ববোধক শব্দ বিশেষ হিসেবে প্রয়োগ করেও বহুবচন বোঝানো হয়। যেমন অজস্র লোক, অনেক ছাত্র, বিস্তর টাকা, বহু মেহমান, নানা কথা, ঢের খরচ, অঢেল টাকা ।

গ. অনেক সময় বিশেষ্য ও বিশেষণ পদের দ্বিত্ব প্রয়োগে বহুবচন সাধিত হয়। যেমন- হাঁড়ি হাঁড়ি সন্দেশ। কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা। পাকা পাকা আম। লাল লাল ফুল।

ঘ. কতিপয় বিদেশি শব্দে, সে ভাষার অনুসরণে বহুবচন হয়। যেমন- আন যোগে: বুজুর্গ - বুজুর্গান, সাহেব-সাহেবান।

ঙ. বিশেষ নিয়মে সাধিত বহুবচন: মেয়েরা কানাকানি করছে। এটাই করিমদের বাড়ি। রবীন্দ্রনাথরা প্রতিদিন জন্মায় না । সকলে সব জানে।

 

সংখ্যাবাচক শব্দ কাকে বলে কত প্রকার ও কি কি?

যে শব্দ দ্বারা সংখ্যা বোঝায়, তাকে গণনা বা সংখ্যাবাক শব্দ বলে। সংখ্যাবাচক শব্দ চার প্রকার। যথাঃ

ক. অঙ্কবাচক। যেমন- ১,২,৩,৪,৫ ইত্যাদি

খ. পরিমাণ বা গণনাবাচক । যেমন- এক,দুই,তিন,চার,পাঁচ ইত্যাদি ।

গ. ক্রম বা পূরণবাচক। যেমন-প্রথম,দ্বিতীয়,তৃতীয়,চতুর্থ,পঞ্চম ইত্যাদি ।

ঘ. তারিখবাচক। যেমন-পহেলা,দোসরা,তেসরা,চৌঠা,পাঁচই ইত্যাদি ।

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.