Header Ads

মুনশি একাডেমি

শিক্ষা ও সাহিত্যভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
নোট ও সাজেশন বিসিএস ও এনটিআরসিএ বি.এড ও ব্যাংক প্রস্তুতি

Gulliver's Travels | গালিভার'স ট্রাভেলস | Jonathan Swift | Galivers Trav...

গালিভার’স ট্রাভেলস

 

 

গালিভার’স ট্রাভেলস—জনাথন সুইফটের বিশ্বখ্যাত কল্পকাহিনি। রোমাঞ্চ, ব্যঙ্গ ও মানবসমাজের গভীর দর্শনে ভরপুর এক অনন্য সাহিত্যকর্ম।

 

সমুদ্রযাত্রাপ্রিয় ইংরেজ চিকিৎসক ও নাবিক লেমুয়েল গালিভার এক অভিযানে জাহাজডুবির শিকার হন। অচেতন অবস্থায় ভেসে গিয়ে তিনি এক অদ্ভুত দেশে পৌঁছান। জ্ঞান ফিরলে দেখেন—শরীরজুড়ে অসংখ্য ক্ষুদ্র মানুষ দড়ি দিয়ে তাঁকে বেঁধে রেখেছে। এ দেশটির নাম লিলিপুট, যেখানে মানুষের উচ্চতা মাত্র ছয় ইঞ্চি।

লিলিপুটবাসীরা প্রথমে গালিভারকে ভয় পেলেও পরে বুঝতে পারে তিনি ক্ষতিকর নন। ধীরে ধীরে গালিভার রাজদরবারের অনুগ্রহ লাভ করেন। তাঁর বিশাল দেহ ও শক্তি দিয়ে তিনি শত্রু রাষ্ট্র ব্লেফাস্কু–এর বিরুদ্ধে লিলিপুটকে সাহায্য করেন। কিন্তু দরবারি ষড়যন্ত্র, হিংসা ও ক্ষমতার লোভের কারণে একসময় গালিভারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পরিকল্পনা হয়। প্রাণ বাঁচাতে তিনি ব্লেফাস্কুতে পালিয়ে যান এবং সেখান থেকে এক ইংরেজ জাহাজে করে দেশে ফিরে আসেন।

কিছুদিন পর গালিভার আবার সমুদ্রে পাড়ি দেন। এবার তিনি পৌঁছান ব্রোবডিংনাগ নামের দেশে, যেখানে মানুষ তাঁর চেয়ে বহু গুণ বড়। এখানে গালিভার নিজেই ক্ষুদ্র ও অসহায়। তাঁকে খেলনার মতো ব্যবহার করা হয়, প্রদর্শনীতে দেখানো হয়। রাজা তাঁর কথা শুনে ইউরোপীয় সমাজের যুদ্ধ, রাজনীতি ও লোভ সম্পর্কে গভীর সমালোচনা করেন। অবশেষে এক বিশাল পাখির হাতে খাঁচাসহ উঠে গিয়ে তিনি আবার সমুদ্রে পড়ে দেশে ফেরেন।

তৃতীয় অভিযানে গালিভার যান লাপুটা নামের ভাসমান দ্বীপে—যেখানে মানুষ বিজ্ঞানে মগ্ন কিন্তু বাস্তব জীবন সম্পর্কে অজ্ঞ। অদ্ভুত সব গবেষণা আর অর্থহীন তত্ত্বে তারা ব্যস্ত। এখানকার অভিজ্ঞতা গালিভারকে শেখায়—জ্ঞান যদি মানবকল্যাণে কাজে না লাগে, তবে তা মূল্যহীন।

শেষ যাত্রায় তিনি পৌঁছান হুইনহুইনমদের দেশে। এখানে ঘোড়ারা বুদ্ধিমান, ন্যায়পরায়ণ ও শান্তিপ্রিয়; আর মানুষসদৃশ ইয়াহুরা লোভী, হিংস্র ও অসভ্য। এই সমাজে বাস করে গালিভার গভীরভাবে ভাবতে শেখেন—আসল সভ্যতা কী? মানুষ কি সত্যিই শ্রেষ্ঠ প্রাণী?

দেশে ফিরে গালিভার আগের মতো হতে পারেন না। মানবসমাজের লোভ, হিংসা ও ভণ্ডামি তাঁর কাছে অসহ্য লাগে। তিনি নিঃসঙ্গভাবে জীবন কাটাতে শুরু করেন, স্মরণ করেন সেই ঘোড়াদের ন্যায়ভিত্তিক সমাজ।

 

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.