মেঘলা (ছোটোগল্প) - মুনশি আলিম
মেঘলা (ছোটোগল্প)
মুনশি আলিম
আকাশের কোলজুড়ে ঘনমেঘ। দেখতে দেখতেই ঝরঝর করে বৃষ্টি নামল। শহরের ব্যস্ত রাস্তাগুলো মুহূর্তেই ভিজে উঠল। মনে হলো বৃষ্টিময় বিকেল! আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম ট্রাফিক পয়েন্টের ঠিক পাশেই। হাতে ছাতা ছিল না। বৃষ্টির প্রতি আলাদা দুর্বলতা ছিল বলে বৃষ্টিকে থামানোর কোনো ইচ্ছে ছিল না।
হঠাৎ পেছন থেকে একটি কণ্ঠ ভেসে এল-
-এভাবে ভিজছেন কেন?
পেছন ফিরে তাকাই। বাসন্তীয় সাজে এক অপূর্ব যুবতী। হাতে ছোট্ট একটি ছাতা। ডাগর চোখ; কিন্তু সে চোখজুড়ে ছিল বৃষ্টির মতোই স্বচ্ছ মায়া।
আমি হেসে বললাম- বৃষ্টি থামার অপেক্ষা করছি।
সে বলল- বৃষ্টি তো থামবেই। কিন্তু ততক্ষণে যদি জ্বর চলে আসে?
আমি কিছু বললাম না। কেবল তার চোখের দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকি। সে ছাতাটা আমার দিকে এগিয়ে দিল। আমরা পাশাপাশি হাঁটতে শুরু করলাম। ছাতাটি ছোটো ছিল। তাই দুজনের কাঁধ বারবার ছুঁয়ে যাচ্ছিল। প্রতিবারই আমার বুকের ভেতর অকারণে ঢেউ উঠছিল। মনে হচ্ছিল স্বপ্নের মধ্যে আছি! নিজের স্বপ্নভ্রম বুঝতে নিজের হাতেই নিজে চিমটি কাটি। না, ঠিকই তো আছে! পৃথিবীতে সবকিছুই প্রত্যাশামাফিক হয় না। কিছু থাকে না অপ্রত্যাশিত?
নীরবতা ভেঙে জিজ্ঞেস করি- আপনার নামটা জানতে পারি?
সে মৃদু হেসে বলল- নাম জেনে কী করবেন?
আমি বললাম- বৃষ্টির দিনের স্মৃতিটাকে একটা নাম দিতে হবে তো।
সে কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে বলল- মেঘলা।
মুহূর্তেই আমার বহু আগে হারিয়ে যাওয়া সেই প্রিয় ছাতাটার কথা মনে পড়ে গেল; যে ছাতার ভেতরের সুতোয় পরম যত্নে লিখে রেখেছিলাম- ‘মেঘলা, ০১৭৪১...'
প্রকাশিতব্য গল্পগ্রন্থ: ছায়াবৃত্তের মানুষগুলো, ০৬.১০.২০২৬ খ্রি., সিলেট

কোন মন্তব্য নেই