মিমি বিড়াল (শিশুতোষ গল্প)- মুনশি আলিম
মিমি বিড়াল
মুনশি আলিম
![]() |
| মিমি বিড়াল গল্পের প্রচ্ছদে একটি সাদা বিড়াল ও হাঁসের ছানার বন্ধুত্বপূর্ণ দৃশ্য |
লোকটির নাম দবির| লোকটি দেখতে যেমন লম্বাটে তেমনই বদমেজাজি| টিকটিকি ও বিড়ালদের তিনি দু’চোখে দেখতে পারেন না|
একদিন রাতেরবেলা তিনি দুধভাত খাচ্ছিলেন| এমন সময় এক হুলোবিড়াল ম্যাও ম্যাও করতে করতে তার পায়ের কাছে এসে হাজির| মশা যেমন অনেকদূর থেকে মানুষের উপস্থিতি টের পায়, তেমনই বিড়ালও দুধভাতের গন্ধ টের পায়| দুধ এবং মাছ বিড়ালের খুবই প্রিয়| তিনবেলা খাবার পেলে বিড়াল মোটেও মনিবের খাবার নষ্ট করে না| মানুষের মতো বিড়ালেরও মান-অভিমান আছে| কেবল দুধ আর মাছ দেখলে সব রাগ ভুলে যায়|
হুলোবিড়ালটি দবির সাহেবের পায়ের কাছে দীর্ঘ সময় বসে রইল| দবির সাহেব চপচপ করে দুধভাত সাবাড় করছে| বিড়ালের ম্যাও ম্যাও শব্দ শুনেও সে না শোনার ভান করল| মনিবের এমন আচরণে বিড়ালটি খুবই কষ্ট পেল| নিরুপায় হয়ে বিড়ালটি আরও জোরে জোরে ম্যাও ম্যাও করতে লাগল| খাওয়ার সময় কেউ বড়ো বড়ো চোখ করে তাকিয়ে থাকুক এটা দবির সাহেবের মোটেও পছন্দ নয়| তার পাশেই ছিল ছোটো লাঠি| তিনি কৌশল করে সেটি হাতে নিলেন| বিড়ালটি যেই ম্যাও ম্যাও করে ডেকে উঠল অমনিই লাঠি দিয়ে বিড়ালের পিঠে একঘা বসিয়ে দিলেন| বিড়ালটি হাউমাউ করে কাঁদতে কাঁদতে বাইরে চলে গেল|
দবির সাহেবের ছিল দুই হালি হাঁসের ছানা| সেগুলো দেখতে খুবই সুন্দর আর নাদুসনুদুস| এই ছানাগুলোর সাথে ছিল বিড়ালের খুবই ভাব| ছায়ার মতো করে প্রায় সারাক্ষণই বিড়ালটি ছানাগুলোর পাশে থাকত| আজ মানিবের ওপর অভিমান করে আর ছানাগুলোর খোঁজ নেয়নি| দবির সাহেবের বাড়ির পাশেই ছিল বিরাট এক পুকুর| ছানাগুলো সারাক্ষণই সে পুকুরে জলকেলি করত| বলা নেই-কওয়া নেই—আজ কোথা থেকে যেনো কয়েকটি কাক পুকুরপাড়ে এসে হাজির| কাকগুলো আশেপাশে তাকাল| কাউকে না দেখে মহাখুশিতে নাচতে লাগল| নাদুসনুদুস বাচ্চাগুলো খেতে নিশ্চয়ই ভারি মজা হবে! এক কাক আরেক কাকের ওপর হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাচ্ছে আর কথাগুলো বলছে| পুকুরের অদূরেই ছিল জারুল গাছ| বিড়ালটি সে জারুলগাছের ছায়ার নিচে গিয়ে বসল| নানা চিন্তাভাবনা করতে করতে কিছু সময়ের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়ল| বিড়ালরা এমনিতেই একটু বেশি ঘুমায়| সর্দার কাকের অট্টহাসিতে বিড়ালের ঘুম ভেঙে গেল| তার বুঝতে বাকি রইল না যে ছানাগুলো বিপদে পড়েছে|
লেজটি ওপরে তুলেই বিড়ালটি দিলো দৌড়| বেতের ফলা, বাঁশঝাড়, ঝাউগাছ কয়েক লাফে পাড়ি দিয়ে একেবারে পুকুরপাড়ে এসে হাজির| ইতোমধ্যে সর্দার কাকটি একটি নাদুসনুদুস ছানা ধরে এনেছে| তার ধারাল নখ দিয়ে হাঁসছানার গলা আটকে রেখেছে| ঠোঁট দিয়ে যেই ছানাটিকে খেতে যাবে অমনিই বিড়ালটি সেই সর্দার কাকের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল| কাকের গলায় এমন কামড় লাগাল যে—কাকটির শ্বাস নেওয়া প্রায় বন্ধই হয়ে গেল| বিড়ালের এমন সাহসী হামলা দেখে অপর কাকগুলো যার যার মতো করে পালিয়ে গেল| বিড়ালটি রাগে গো গো করছে| সর্দার কাককে একেবারে আধমরা করে তবেই ছেড়ে দিলো| পড়িমড়ি করে সর্দার কাকটি উড়াল দিলো| সেই যে উধাও হলো এ পুকুরঘাটে আর তাদের দেখা যায়নি|
দবির সাহেব অদূরে দাঁড়িয়ে পুরো ঘটনাই দেখলেন| বিড়ালের কারণেই আজ তার হাঁসের ছানাগুলো বেঁচে গেল| বিড়ালের এমন সুবিচার দেখে দবির সাহেব মনে মনে খুবই লজ্জা পেলেন| মিমি বলে ডাক দিতেই বিড়ালটি তার পায়ের কাছে এলো| দবির সাহেব পরমমমতায় বিড়ালটিকে কোলে তুলে নিলেন| বিড়ালটিও আদর পেয়ে চোখ বন্ধ করল| এরপর থেকে যখনই দবির সাহেব খাবার খেতেন তখনই মিমিকে কাছে ডেকে খাবার দিতেন|
নীতিকথা : গৃহপালিত পশুপাখিদের অবহেলা করতে নেই|

কোন মন্তব্য নেই