ফেনী পুরাতন এয়ারপোর্ট: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি ও এক উন্মুক্ত বিনোদন কেন্দ্র
ফেনী পুরাতন এয়ারপোর্ট: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতি ও এক উন্মুক্ত বিনোদন কেন্দ্র
📜 ভূমিকা
ফেনী জেলা শহরের অদূরে অবস্থিত পুরাতন এয়ারপোর্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের এক নীরব সাক্ষী। ১৯৪২-৪৩ সালের দিকে ব্রিটিশ সরকার সামরিক প্রয়োজনে এই বিমানবন্দরটি নির্মাণ করেছিল। মূলত বার্মা (বর্তমান মিয়ানমার) ফ্রন্টে জাপানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য রসদ সরবরাহ এবং যুদ্ধবিমান ওঠানামার জন্য এটি ব্যবহৃত হতো। যুদ্ধের পর দীর্ঘ সময় পরিত্যক্ত থাকায় এর রানওয়ে ও পারিপার্শ্বিক এলাকা এখন এক বিশাল উন্মুক্ত প্রান্তরে পরিণত হয়েছে। বর্তমানে এটি ফেনীর তরুণ প্রজন্ম এবং ভ্রমণপিপাসুদের কাছে অন্যতম জনপ্রিয় একটি বিকেল কাটানোর জায়গা। মাইলের পর মাইল বিস্তৃত রানওয়ে, দুপাশে সবুজের সমারোহ এবং উন্মুক্ত আকাশ একে একটি চমৎকার পিকনিক স্পট ও আড্ডার কেন্দ্রে পরিণত করেছে। প্রতি বছর এখানে বিভিন্ন মেলা ও জনসভার আয়োজনও করা হয়।
কোথায় অবস্থিত?
এটি ফেনী জেলা শহর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে ফেনী সদর উপজেলার সিলোনিয়া এলাকায় অবস্থিত। ফেনী-সোনাগাজী সড়ক সংলগ্ন এই এলাকাটি এখন 'এয়ারপোর্ট রোড' নামেই বেশি পরিচিত।
✨ কেন যাবেন?
ইতিহাসের ছোঁয়া: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রাচীন রানওয়ে এবং সামরিক ইতিহাসের স্মৃতি দেখার জন্য।
উন্মুক্ত প্রান্তর: যান্ত্রিক শহর থেকে দূরে মাইলের পর মাইল খোলা জায়গায় বুক ভরে শ্বাস নিতে।
বিকেলের আড্ডা: সূর্যাস্তের সময় রানওয়ের ওপর বসে বন্ধুদের সাথে আড্ডা বা হাঁটার জন্য আদর্শ।
ফটোগ্রাফি: খোলামেলা আকাশ এবং ল্যান্ডস্কেপ ফটোগ্রাফির জন্য এটি ফেনীর সেরা জায়গা।
📅 কখন যাবেন?
বছরের যেকোনো সময়ই যাওয়া যায়। তবে বিকেল ৪টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময়টি সবচেয়ে উপভোগ্য। শীতকালে এবং বর্ষার পরবর্তী সময়ে এখানকার প্রকৃতি সবচেয়ে সতেজ থাকে।
🚀 কীভাবে যাবেন / রুট (স্টেপ বাই স্টেপ)
১. ঢাকা বা চট্টগ্রাম থেকে: বাসে বা ট্রেনে ফেনী স্টেশনে অথবা মহিপাল বাস স্ট্যান্ডে নামতে হবে।
২. শহর থেকে এয়ারপোর্ট: ফেনী ট্রাঙ্ক রোড বা রেলওয়ে স্টেশন থেকে সিএনজি বা ইজিবাইক রিজার্ভ করে সরাসরি 'পুরাতন এয়ারপোর্ট' যাওয়া যায়। শহর থেকে সময় লাগে মাত্র ১৫-২০ মিনিট।
👁️ কী দেখবেন?
প্রাচীন রানওয়ে: ব্রিটিশ আমলের তৈরি বিশাল ও দীর্ঘ ইটের রানওয়ে।
উন্মুক্ত আকাশ: কোনো উঁচু ভবন না থাকায় এখান থেকে আকাশ ও সূর্যাস্তের পূর্ণ দৃশ্য দেখা যায়।
গ্রামীণ পরিবেশ: এয়ারপোর্টের চারপাশের শান্ত গ্রাম্য প্রকৃতি এবং ফসলি জমি।
💰 খরচ
প্রবেশ ফি: এখানে প্রবেশের জন্য কোনো টিকেট বা ফি লাগে না, এটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এলাকা।
যাতায়াত: ফেনী শহর থেকে সিএনজি বা অটো ভাড়া রিজার্ভ করলে ১০০-১৫০ টাকা, আর লোকাল জনপ্রতি ৩০-৪০ টাকা।
🍽️ পরিবহন ও খাওয়ার ব্যবস্থা
পরিবহন: সিএনজি এবং ইজিবাইক প্রধান যাতায়াত মাধ্যম।
খাবার: এয়ারপোর্ট এলাকায় ছোট ছোট চা ও নাস্তার দোকান আছে। তবে ভালো খাবারের জন্য ফেনী শহরে (যেমন: লতিফ টাওয়ার সংলগ্ন রেস্টুরেন্টগুলো) ফিরে আসাই উত্তম।
🏨 যোগাযোগ ও আবাসন ব্যবস্থা
আবাসন: রাত্রিযাপনের জন্য ফেনী শহরে বেশ উন্নত মানের হোটেল রয়েছে (যেমন: হোটেল স্টার লাইন, হোটেল বেস্ট ইন)। এয়ারপোর্ট এলাকায় থাকার কোনো ব্যবস্থা নেই।
⚠️ দৃষ্টি আকর্ষণ ও সতর্কতা
যেহেতু এটি একটি উন্মুক্ত এবং নির্জন এলাকা, তাই সন্ধ্যার আগেই শহরে ফিরে আসা নিরাপদ।
রানওয়ের আশেপাশে মোটরসাইকেল বা যানবাহন চালানোর সময় সাবধানতা অবলম্বন করুন।
পরিবেশের পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখতে চিপস বা বিস্কুটের প্যাকেট যত্রতত্র ফেলবেন না।
🎡 আশেপাশের দর্শনীয় স্থান
মুহুরী প্রজেক্ট: এখান থেকে সোনাগাজী হয়ে যাওয়া যায়।
ফেনী নদী ও সোনাগাজী বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

কোন মন্তব্য নেই