মাটির নিচে যে শহর: উয়ারী-বটেশ্বর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সম্পূর্ণ গাইড
মাটির নিচে যে শহর: উয়ারী-বটেশ্বর প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের সম্পূর্ণ গাইড
মাটির নিচে যে শহর (মূলভাব)
বাংলাদেশের নরসিংদী জেলার বেলাবো ও শিবপুর উপজেলায় অবস্থিত উয়ারী-বটেশ্বর একটি সুপ্রাচীন প্রত্নতাত্ত্বিক স্থান। এটি প্রায় আড়াই হাজার বছরের পুরানো এক দুর্গ-নগরী। এক সময় এখানে শীতলক্ষ্যা ও পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে এক সুসভ্য জনপদ ছিল। ভূমিকম্প, বন্যা বা নদী ভাঙনের ফলে এই সভ্যতা এক সময় মাটিচাপা পড়ে যায়। স্থানীয় শিক্ষক মোহাম্মদ হানিফ পাঠান এবং তাঁর ছেলে হাবিবুল্লাহ পাঠানের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় এই অমূল্য নিদর্শনগুলো বিশ্বের নজরে আসে।
অনুশীলনী
১. শব্দগুলো পাঠ থেকে খুঁজে বের করি। অর্থ বলি।
প্রত্নতাত্ত্বিক জনপদ প্রাচীনতম অভিভূত নিদর্শন খ্রিষ্টপূর্ব ঐতিহাসিক
২. ঘরের ভিতরের শব্দগুলো খালি জায়গায় বসিয়ে বাক্য তৈরি করি।
ঐতিহাসিক উপত্যকা অভিভূত নিদর্শন প্ৰাচীনতম
ক. পাহাড়পুর আমাদের দেশে অতি…………………….একটি বিহার ।
খ. ক্রমে ক্রমে অনেক আশ্চর্য……………… পাওয়া যাচ্ছে উয়ারী-বটেশ্বরে।
গ. উয়ারী-বটেশ্বর বাংলাদেশের………………… নিদৰ্শন ৷
ঘ. পাহাড় ও পর্বতের মাঝে সমতল ভূমিকে বলে…………………...।
ঙ. আমি জাদুঘর দেখে……………………….হয়ে গেলাম ।
৩. প্রশ্নগুলোর উত্তর মুখে বলি ও লিখি ।
ক. প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বলতে কী বোঝ? বাংলাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলি সম্পর্কে যা জান লেখ।
খ. উয়ারী-বটেশ্বরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কীভাবে মানুষের নজরে এলো?
গ. উয়ারী-বটেশ্বর এলাকাটি বাংলাদেশের কোন অঞ্চলে অবস্থিত? এই এলাকাটির প্রত্নতাত্ত্বিক অঞ্চলে পরিণত হওয়ার পিছনে কী কারণ তা লেখ ।
গ. ব্রহ্মপুত্র নদ আগে কোথা দিয়ে প্রবাহিত হতো আর এখন কোথায় ?
ঘ. কোন কোন নিদর্শন থেকে উয়ারী-বটেশ্বরের সময়কাল জানা যায় ?
ঙ. উয়ারী-বটেশ্বর এলাকাটি সম্পর্কে ঐতিহাসিকগণ যা ধারণা করেছেন তা বর্ণনা কর ।
৪. বিশেষভাবে লক্ষ্য করি।
ছাপাঙ্কিত-ছাপ হলো দাগ বা চিহ্ন দেওয়া। কোনো কিছুর ওপর ছাপ দিয়ে অঙ্কন করা। বাংলাদেশের মুদ্রার ওপর শাপলা ফুল ছাপাঙ্কিত আছে। এখানে দুটি শব্দ, ছাপ + অঙ্কিত মিলে হয়েছে ছাপাঙ্কিত। এই রকম দুই শব্দের মিলন হলে তাকে বলে সন্ধি। যেমন, নীল + আকাশ= নীলাকাশ ।
৫. ঠিক উত্তরটিতে টিক (√) চিহ্ন দিই।
ক. উয়ারী-বটেশ্বরের প্রচুর প্রাচীন নিদর্শন সংগ্রহ করে জাদুঘরে কে জমা দেন ?
১. হাসিবুল্লাহ পাঠান ২. হাফিজুল্লাহ পাঠান
৩. হাবিবুল্লাহ পাঠান ৪. শরিফুল্লাহ পাঠান
খ. একটি বৌদ্ধবিহারের সন্ধান পাওয়া গেছে—
১. ভাষানটেকে ৩. টেকেরহাটে
২. জানখাঁরটেকে ৪. টঙ্গীরটেকে
গ. কোন নদীপাড়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ছিল সুসভ্য মানুষজনের বসবাস ?
১. বুড়িগঙ্গা ২. ব্ৰহ্মপুত্ৰ
৩. শীতলক্ষ্যা ৪. মেঘনা
ঘ. ব্রহ্মপুত্র নদ বয়ে গেছে কোন অঞ্চলের পাশ দিয়ে ?
১. মধুপুর ২. ময়নামতি
৩. পাহাড়পুর ৪. নরসিংদী
ঙ. এই সভ্যতা প্রাচীনকালে কী নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিল?
১. রূপাগড়া ২. মনগড়া
৩. সোনাগড়া ৪. সোনাঝুরি
৬. কর্ম-অনুশীলন
বাংলাদেশের একটি ঐতিহাসিক স্থান সম্পর্কে রচনা লিখি।
🔘 বহুনির্বাচনী প্রশ্ন (MCQ):
১. উয়ারী-বটেশ্বরের প্রচুর প্রাচীন নিদর্শন সংগ্রহ করে জাদুঘরে কে জমা দেন?
(ক) হাসিবুল্লাহ পাঠান (খ) হাফিজুল্লাহ পাঠান (গ) হাবিবুল্লাহ পাঠান ✅ (ঘ) শরিফুল্লাহ পাঠান
২. একটি বৌদ্ধবিহারের সন্ধান পাওয়া গেছে—
(ক) ভাষানটেকে (খ) জানখাঁরটেকে ✅ (গ) টেকেরহাটে (ঘ) টঙ্গীরটেকে
৩. কোন নদীপাড়ের বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে ছিল সুসভ্য মানুষজনের বসবাস?
(ক) বুড়িগঙ্গা (খ) ব্রহ্মপুত্র (গ) শীতলক্ষ্যা ✅ (ঘ) মেঘনা
৪. ব্রহ্মপুত্র নদ বয়ে গেছে কোন অঞ্চলের পাশ দিয়ে?
(ক) মধুপুর (খ) ময়নামতি (গ) পাহাড়পুর (ঘ) নরসিংদী ✅
৫. এই সভ্যতা প্রাচীনকালে কী নামে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ছিল?
(ক) রূপাগড়া (খ) মনগড়া (গ) সোনাগড়া ✅ (ঘ) সোনাঝুরি
📝 অনুশীলনী সমাধান
১. শব্দার্থ শিখি:
প্রত্নতাত্ত্বিক: প্রাচীনকালের ধ্বংসাবশেষ বা ইতিহাস সম্পর্কিত।
জনপদ: লোকালয় বা যেখানে মানুষ বসবাস করে।
প্রাচীনতম: সবচেয়ে পুরানো।
অভিভূত: বিস্মিত বা স্তম্ভিত।
নিদর্শন: প্রমাণ বা চিহ্ন।
খ্রিষ্টপূর্ব: যিশু খ্রিষ্টের জন্মের আগের সময়কাল।
ঐतिहासिक: ইতিহাস সংক্রান্ত বা ইতিহাসে স্থান পেয়েছে এমন।
২. শূন্যস্থান পূরণ করো:
(ক) পাহাড়পুর আমাদের দেশে অতি ঐতিহাসিক একটি বিহার।
(খ) ক্রমে ক্রমে অনেক আশ্চর্য নিদর্শন পাওয়া যাচ্ছে উয়ারী-বটেশ্বরে।
(গ) উয়ারী-বটেশ্বর বাংলাদেশের প্রাচীনতম নিদর্শন।
(ঘ) পাহাড় ও পর্বতের মাঝে সমতল ভূমিকে বলে উপত্যকা।
(ঙ) আমি জাদুঘর দেখে অভিভূত হয়ে গেলাম।
✍️ বড় প্রশ্নের উত্তর:
ক. প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বলতে কী বোঝ? বাংলাদেশের কয়েকটি নিদর্শনের নাম লেখ।
উত্তর: প্রাচীনকালের মানুষ যে সমস্ত জিনিস ব্যবহার করত এবং তাদের ঘরবাড়ি বা মন্দিরের যে ধ্বংসাবশেষ মাটির নিচে বা ওপরে পাওয়া যায়, তাকেই প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন বলে। বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো হলো— ময়নামতি, মহাস্থানগড়, পাহাড়পুর এবং উয়ারী-বটেশ্বর।
খ. উয়ারী-বটেশ্বরের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন কীভাবে মানুষের নজরে এলো?
উত্তর: ১৯৩৩ সালে উয়ারী গ্রামে শ্রমিকরা মাটি খননের সময় একটি পাত্রে কিছু প্রাচীন মুদ্রা পায়। স্থানীয় স্কুল শিক্ষক মোহাম্মদ হানিফ পাঠান সেগুলো সংগ্রহ করেন। পরবর্তীতে তাঁর ছেলে হাবিবুল্লাহ পাঠান দীর্ঘ সময় ধরে এলাকা থেকে প্রচুর প্রাচীন নিদর্শন সংগ্রহ করে জাদুঘরে জমা দেন। ২০০০ সালে অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে খনন কাজ শুরু হলে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে মানুষের নজরে আসে।
গ. ব্রহ্মপুত্র নদ আগে কোথা দিয়ে প্রবাহিত হতো আর এখন কোথায়?
উত্তর: ১৭৭০ সাল পর্যন্ত ব্রহ্মপুত্র নদ ময়মনসিংহ পেরিয়ে নরসিংদী জেলার বেলাবো উপজেলার দক্ষিণ দিক দিয়ে প্রবাহিত ছিল। কিন্তু ভূমিকম্প ও প্রাকৃতিক পরিবর্তনের ফলে বর্তমানে এটি যমুনা নদী হয়ে অন্য পথে প্রবাহিত হচ্ছে।
💡 ব্যাকরণ অংশ (সন্ধি)
পাঠ্যবইয়ে ছাপাঙ্কিত শব্দটি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
ছাপাঙ্কিত = ছাপ + অঙ্কিত (দুইটি শব্দের মিলনে নতুন শব্দ গঠিত হয়েছে, একেই সন্ধি বলে)।
উদাহরণ: নীল + আকাশ = নীলাকাশ।
উয়ারী-বটেশ্বর আমাদের দেশের গৌরব। এটি প্রমাণ করে যে আজ থেকে আড়াই হাজার বছর আগেও এদেশের মানুষ অত্যন্ত উন্নত ও সুসভ্য ছিল।

কোন মন্তব্য নেই