শিক্ষায় তিন অগ্রাধিকার ও ১২ পরিকল্পনা ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর
শিক্ষায় তিন অগ্রাধিকার ও ১২ পরিকল্পনা ঘোষণা শিক্ষামন্ত্রীর
মুনশি একাডেমি ডেস্ক | ২০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে তিনটি প্রধান অগ্রাধিকারসহ ১২ দফা পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন নবনিযুক্ত শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন। উল্লেখ্য, এবার তিনি একই সঙ্গে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন।
শিক্ষামন্ত্রীর ঘোষিত ৩ প্রধান অগ্রাধিকার
শিক্ষামন্ত্রী বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তিনটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছেন:
১. শ্রেণিকক্ষে ফেরার পরিবেশ সৃষ্টি: শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা।
২. জাতীয় পাঠ্যক্রম পর্যালোচনা: বর্তমান কারিকুলাম নিয়ে বিস্তর আলোচনার প্রেক্ষিতে এটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করা হবে।
৩. কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন: কর্মমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করতে কারিগরি শাখাকে আরও যুগোপযোগী করা।
শিক্ষা প্রশাসনের জন্য নতুন বার্তা
স্বয়ংক্রিয় বদলি ব্যবস্থা: দুর্নীতি রোধে শিক্ষকদের বদলি প্রক্রিয়াকে একটি নির্দিষ্ট অ্যাপের আওতায় আনা হবে। মেধার ভিত্তিতে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে এই বদলি সম্পন্ন হবে।
আন্দোলনমুক্ত শিক্ষা ব্যবস্থা: মন্ত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, শিক্ষকদের দাবি-দাওয়ার জন্য রাজপথে নামার প্রয়োজন নেই। সরকার নিজ উদ্যোগেই শিক্ষকদের চাহিদা পূরণ করবে।
নকলমুক্ত পরিবেশ: অতীতে নকলবিরোধী অভিযানে সফল হওয়া এই মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন বাংলাদেশে আর 'অটোপাস' বা 'নকল' করার সংস্কৃতির প্রয়োজন হবে না।
বেসরকারি ও ইংরেজি মাধ্যম শিক্ষা
নিবন্ধন বাধ্যতামূলক: অনিবন্ধিত বা অস্থায়ী অবকাঠামোতে কোনো স্কুল চালানো যাবে না। অগ্নি নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত মানদণ্ড মেনে চলা বাধ্যতামূলক করা হবে।
অবসর ও কল্যাণ ভাতা: বেসরকারি শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের বকেয়া অবসর ও কল্যাণ ভাতা পরিশোধ করাকে সরকারের 'তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার' হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১২ দফা মহাপরিকল্পনা
সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ সরকারের ১২টি সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ নীতি গ্রহণ।
তৃতীয় ভাষা শিক্ষা বাস্তবায়ন।
মাধ্যমিক স্তর থেকে খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা।
শিক্ষা খাতকে রাজনীতিমুক্ত রেখে 'রাষ্ট্র গড়ার হাতিয়ার' হিসেবে গড়ে তোলা।
মুনশি একাডেমি নোট: এই ঘোষণার মাধ্যমে স্পষ্ট যে, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় প্রযুক্তিগত উৎকর্ষতা এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা আনার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে 'অটোপাস' সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে গুণগত শিক্ষার দিকে ফেরার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য ইতিবাচক।

কোন মন্তব্য নেই