কোন মেস্তরি নাও বানাইছে-লিরিক্স
কোন মেস্তরি নাও বানাইছে-লিরিক্স
কোন মেস্তরি নাও বানাইলো এমন দেখা যায়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় ।।
চন্দ্র-সূর্য বান্ধা আছে নাওয়েরই আগায়
দূরবীনে দেখিয়া পথ মাঝি-মাল্লায় বায়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় ।।
রঙ-বেরঙের যতো নৌকা ভবের তলায় আয়
রঙ-বেরঙের সারি গাইয়া ভাটি বাইয়া যায়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় ।।
জারি গায়ে ভাটি বায়ে করতাল বাজায়
মদন মাঝি বড়ই পাজি কতো নাও ডুবায়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় ।।
হারা-জিতা-ছুবের বেলা কার পানে কে চায়
পাছের মাঝি হাল ধরিয়ো ঈমানের বৈঠায়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় ।।
বাউল আব্দুল করিম বলে বুঝে উঠা দায়
কোথা হইতে আসে নৌকা কোথায় চলে যায়
ঝিলমিল ঝিলমিল করে রে ময়ূরপঙ্খী নায় ।।
মূল রচয়িতা ও সুরকার: শাহ আব্দুল করিম।
অতিরিক্ত তথ্য:
নাও (নৌকা): গানটিতে 'ময়ূরপঙ্খী নাও' বলতে মানুষের দেহকে বোঝানো হয়েছে।
মেস্তরি: সেই মহান কারিগর বা সৃষ্টিকর্তা যিনি এই নিপুণ দেহটি তৈরি করেছেন।
ঈমানের বৈঠা: অনিশ্চিত জীবন-নদীতে টিকে থাকার জন্য বিশ্বাস বা ঈমানকে মজবুত বৈঠা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মদন মাঝি: মানুষের ভেতরের কাম-বাসনা বা রিপু, যা মানুষকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করে জীবন-তরী ডুবিয়ে দেয়।
বাউল দর্শন: গানের শেষ অংশে "কোথা হইতে আসে নৌকা কোথায় চলে যায়"—এই চরণের মাধ্যমে জীবনের আদি ও অন্ত সম্পর্কে মানুষের চিরন্তন সীমাবদ্ধতা ও বিস্ময় ফুটে উঠেছে।
গানের তথ্য:
জনপ্রিয় সংস্করণ: কালিকা প্রসাদ ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে 'দোহার' ব্যান্ড এই গানটিকে নতুনভাবে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় করে তোলে।

কোন মন্তব্য নেই