হিমালয় পার্ক রংপুর, ভ্রমণ গাইড
হিমালয় পার্ক, রংপুর ভ্রমণ গাইড
ভূমিকা
রংপুর শহরের খুব কাছেই গড়ে তোলা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন এবং আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত বিনোদন কেন্দ্র 'হিমালয় পার্ক'। কোলাহলমুক্ত শান্ত পরিবেশে সময় কাটানোর জন্য এটি রংপুরের মানুষের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। মূলত এটি একটি থিম পার্ক এবং পিকনিক স্পট হিসেবে পরিচিত। বিশাল এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই পার্কে রয়েছে পরিকল্পিত বাগান, কৃত্রিম হ্রদ এবং বিভিন্ন আনন্দদায়ক রাইড। পরিবার নিয়ে একবেলার আনন্দ ভ্রমণ কিংবা বন্ধুদের সাথে আড্ডার জন্য হিমালয় পার্ক এক চমৎকার গন্তব্য। পার্কের সবুজ চত্বর আর কৃত্রিম ঝরনা পর্যটকদের মনে এক প্রশান্তির ছোঁয়া দিয়ে যায়।
কোথায় ও কেন যাবেন?
এটি রংপুর মহানগরীর কাছেই অবস্থিত একটি আধুনিক বিনোদন কেন্দ্র।
কেন যাবেন: রংপুরে যারা পরিবার বা শিশুদের নিয়ে নিরাপদ পরিবেশে ঘুরতে চান, তাদের জন্য এটি সেরা জায়গা। এখানে একই সাথে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও যান্ত্রিক বিনোদনের সমন্বয় পাওয়া যায়। এছাড়া শিক্ষা সফর বা বড় পিকনিকের জন্য এটি একটি আদর্শ স্পট।
কখন যাবেন?
বছরের যেকোনো দিন হিমালয় পার্ক যাওয়া যায়। তবে:
আদর্শ সময়: শীতকালে (নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি) আবহাওয়া ঠান্ডা থাকায় পার্কে ঘুরে বেড়ানো আরামদায়ক হয়। তবে বিকেলের দিকে আকাশ যখন রঙিন হয়, তখন পার্কের আলোকসজ্জা দেখার মতো হয়।
কীভাবে যাবেন / রুট (স্টেপ বাই স্টেপ)
১. রংপুর শহর থেকে: রংপুরের মেডিকেল মোড় বা শাপলা চত্বর থেকে অটো-রিকশা বা সিএনজি যোগে সরাসরি পার্কে যাওয়া যায়।
২. অন্যান্য জেলা থেকে: ঢাকা বা অন্য শহর থেকে বাসে বা ট্রেনে রংপুর স্টেশনে নামতে হবে। এরপর লোকাল অটোতে করে সহজেই হিমালয় পার্ক পৌঁছানো সম্ভব।
৩. যাতায়াত মাধ্যম: ইজিবাইক বা রিজার্ভ অটোতে যাওয়া সবচেয়ে সুবিধাজনক।
কী দেখতে পাবেন?
রঙিন বাগান: বিভিন্ন প্রজাতির দেশি-বিদেশি ফুলের সমারোহ।
শিশুদের রাইড: মেরি-গো-রাউন্ড, ট্রেন রাইড এবং দোলনা।
কৃত্রিম ঝরনা ও ভাস্কর্য: পার্কের সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য নির্মিত বিভিন্ন দৃষ্টিনন্দন স্থাপনা।
বিশাল দিঘি: নৌকায় চড়ে লেকে ভ্রমণের সুযোগ।
খরচ ও প্রবেশমূল্য
টিকেট মূল্য: সাধারণত জনপ্রতি ২০-৫০ টাকার মধ্যে প্রবেশ মূল্য থাকে (মূল্য পরিবর্তনশীল)।
রাইড খরচ: প্রতিটি রাইডের জন্য আলাদা ২০-৫০ টাকা খরচ হতে পারে।
পিকনিক স্পট: বড় গ্রুপ বা পিকনিকের জন্য বুকিং মানি আলাদাভাবে নির্ধারণ করা হয়।
খাওয়ার ব্যবস্থা
পার্কের ভেতরেই ছোট-বড় ক্যাফেটেরিয়া ও খাবারের দোকান আছে। সেখানে হালকা নাস্তা, আইসক্রিম এবং সফট ড্রিঙ্কস পাওয়া যায়। ভারী খাবার খেতে চাইলে পার্কের আশেপাশে বা রংপুর শহরের নামকরা রেস্টুরেন্টগুলোতে ফিরতি পথে খেতে পারেন।
আবাসন ব্যবস্থা
হিমালয় পার্কে সাধারণত থাকার ব্যবস্থা নেই। রাত্রিযাপনের জন্য রংপুর শহরে প্রচুর ভালো মানের হোটেল আছে (যেমন: পর্যটন মোটেল, হোটেল নর্থভিউ বা আরডিআরএস গেস্ট হাউস)।
দৃষ্টি আকর্ষণ
পার্কটির প্রধান আকর্ষণ হলো এর শৈল্পিক আলোকসজ্জা। সন্ধ্যার ঠিক আগে দিয়ে যখন আলোগুলো জ্বলে ওঠে, তখন পুরো পার্কটি স্বপ্নের মতো সুন্দর দেখায়। এছাড়া পার্কের মাঝখানে থাকা কৃত্রিম পাহাড়টি পর্যটকদের কাছে বেশ পছন্দের।
সতর্কতা ও টিপস
সতর্কতা: লেকের পানিতে নামার চেষ্টা করবেন না। রাইডে ওঠার সময় শিশুদের প্রতি লক্ষ্য রাখুন।
টিপস ১: ছুটির দিনে বা বিশেষ উৎসবে পার্কে প্রচুর ভিড় হয়, তাই শান্তিতে ঘুরতে চাইলে অন্য দিনগুলো বেছে নিন।
টিপস ২: সাথে ছাতা বা রোদচশমা রাখতে পারেন যদি দুপুরে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকে।
আশেপাশের দর্শনীয় স্থান
১. ভিন্ন জগৎ: রংপুর জেলার বড় একটি বিনোদন কেন্দ্র।
২. তাজহাট রাজবাড়ি: ঐতিহাসিক একটি স্থান।
৩. রংপুর চিড়িয়াখানা: পার্ক থেকে ফেরার পথে ঘুরে আসা যায়।

কোন মন্তব্য নেই