আমার বন্ধুরে কই পাবো সখিগো-লিরিক্স
আমার বন্ধুরে কই পাবো সখিগো-লিরিক্স
বন্ধুরে কই পাবো সখি গো
সখি আমারে বলো না?
আমার বন্ধু বিনে পাগল মনে বুঝাইলে বুঝেনা
সাধে সাধে ঠেকছি ফাঁদে গো
সখি দিলাম ষোল আনা
আমার প্রাণ-পাখি উড়ে যেতে চায় আর ধৈর্য মানে না
আমার বন্ধু বিনে পাগল মনে বুঝাইলে বুঝেনা
কী আগুন জ্বালাইলো বন্ধে গো
সখি নিভাইলে নিভে না
জল ঢালিলে দ্বিগুণ জ্বলে উপায় কি বলো না?
আমার বন্ধু বিনে পাগল মনে বুঝাইলে বুঝেনা
বাউল আব্দুল করিম বলে সখি
অন্তরের বেদনা
সোনার বরণ রূপের কিরণ
না দেখলে বাঁচিনা
বন্ধুরে কই পাবো সখি গো
সখি আমারে বলো না?
আমার বন্ধু বিনে পাগল মনে বুঝাইলে বুঝেনা ...
বিশেষ ব্যাখ্যা ও তথ্য:
এই গানের অন্তর্নিহিত দর্শনটি আপনার পাঠকদের জন্য নিচে দেওয়া হলো:
আগুনের রূপক: গানে বলা হয়েছে— "জল ঢালিলে দ্বিগুণ জ্বলে"; এটি প্রেমের এক গভীরতম অবস্থা। জাগতিক আগুন জল দিলে নিভে যায়, কিন্তু আধ্যাত্মিক প্রেমের বিরহ-আগুন চোখের জলে (কান্নায়) আরও প্রবল হয়।
ষোলো আনা দান: "দিলাম ষোলো আনা" বলতে কবি বুঝিয়েছেন তিনি নিজেকে সম্পূর্ণভাবে (মন-প্রাণ-দেহ) সমর্পণ করেছেন। বাউল দর্শনে পূর্ণ আত্মসমর্পণ ছাড়া 'বন্ধুর' বা পরমাত্মার দেখা পাওয়া অসম্ভব।
প্রাণ-পাখির অস্থিরতা: কবির প্রাণ-পাখি দেহ খাঁচা ছেড়ে উড়ে যেতে চায় বন্ধুর খোঁজে। এটি জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে পরমাত্মার সাথে মিলনের এক তীব্র আকুতি।
সখি সম্বোধন: বাউল গানে 'সখি' মূলত মনের সেই অবস্থাকে বোঝায় যা সাধককে সাধনায় সহযোগিতা করে। রাধা-ভাবের এই গানে সখি হলো বিরহী আত্মার সান্ত্বনার স্থল।
গানের তথ্য:
গীতিকার ও সুরকার: শাহ আব্দুল করিম।
কণ্ঠ: শাহ আব্দুল করিম (এটি ধামাইল ও বাউল উভয় সুরেই গীত হয়)।
জনপ্রিয়তা: গানটি বাংলাদেশের লোকসংগীতের এক অমূল্য সম্পদ এবং আধুনিক প্রজন্মের কাছেও এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়।

কোন মন্তব্য নেই