আমি কুলহারা কলঙ্কিনী -লিরিক্স
আমি কুলহারা কলঙ্কিনী -লিরিক্স
আমি কুলহারা কলঙ্কিনী
আমারে কেউ ছুঁইয়ো না গো সজনী
আমারে কেউ ছুঁইয়ো না গো সজনী
প্রেম করে প্রাণবন্ধুর সনে
যে দুঃখ পেয়েছি মনে
আমার কেঁদে যায় দিন-রজনী
আমারে কেউ ছুঁইয়ো না গো সজনী
আমি কুলহারা কলঙ্কিনী
আমারে কেউ ছুঁইয়ো না গো সজনী
প্রেম করা যে স্বর্গের খেলা
বিচ্ছেদে হয় নরক জ্বালা
আমার মন জানে, আমি জানি
আমারে কেউ ছুঁইয়ো না গো সজনী
আমি কুলহারা কলঙ্কিনী
আমারে কেউ ছুঁইয়ো না গো সজনী
সখি আমায় উপায় বলনা?
এ জীবনে দূর হলনা
বাউল করিমের পেরেশানি
আমারে কেউ ছুঁইয়ো না গো সজনী
আমি কুলহারা কলঙ্কিনী
আমারে কেউ ছুঁইয়ো না গো সজনী
বিশেষ ব্যাখ্যা ও তথ্য:
পাঠকদের জন্য এই গানের অন্তর্নিহিত মর্মার্থ এখানে দেওয়া হলো:
কুলহারা কলঙ্কিনী: এখানে 'কলঙ্ক' শব্দটি নেতিবাচক নয়, বরং আধ্যাত্মিক প্রেমের চূড়ান্ত স্তরের প্রতীক। যখন কোনো ভক্ত বা সাধক দুনিয়ার সব পিছুটান এবং লোকলজ্জা ত্যাগ করে সৃষ্টিকর্তার প্রেমে মগ্ন হন, তখন সমাজ তাকে 'কলঙ্কিনী' বলে অপবাদ দেয়। এটি মূলত ত্যাগের এক চরম বহিঃপ্রকাশ।
স্বর্গের খেলা ও নরক জ্বালা: আব্দুল করিম এখানে প্রেমকে 'স্বর্গের খেলা' বললেও এর বিরহকে 'নরক জ্বালা' হিসেবে অভিহিত করেছেন। অর্থাৎ প্রেমের পথে যে আনন্দ আছে, বিচ্ছেদ বা বিরহে তার চেয়েও বেশি যন্ত্রণা সহ্য করতে হয়।
পেরেশানি: বাউল দর্শনে 'পেরেশানি' হলো এক ধরনের অস্থিরতা—যা কেবল প্রিয়তমের সান্নিধ্যেই দূর হওয়া সম্ভব।
স্পর্শ না করার অনুরোধ: "আমারে কেউ ছুঁইয়ো না"—এই চরণের মাধ্যমে সাধক আসলে নিজের ভেতরের সেই দহন বা পবিত্র বিরহটুকুকে আগলে রাখতে চাইছেন, যেখানে জাগতিক কোনো মানুষের সান্ত্বনা বা স্পর্শ পৌঁছাতে পারে না।
গানের তথ্য:
গীতিকার ও সুরকার: শাহ আব্দুল করিম।
ধরণ: লোকসংগীত / বাউল গান।
জনপ্রিয়তা: গানটি বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ধামাইল হিসেবে যেমন জনপ্রিয়, তেমনি আধুনিক ফিউশন ও ক্ল্যাসিক ফোক মিউজিক হিসেবেও সমান আদৃত।

কোন মন্তব্য নেই