Header Ads

মুনশি একাডেমি

শিক্ষা ও সাহিত্যভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
নোট ও সাজেশন বিসিএস ও এনটিআরসিএ বি.এড ও ব্যাংক প্রস্তুতি

নয়াবাদ মসজিদ: কান্তজীউ মন্দিরের কারিগরদের এক অমর কীর্তি

 

নয়াবাদ মসজিদ: কান্তজীউ মন্দিরের কারিগরদের এক অমর কীর্তি

 
নয়াবাদ মসজিদ, দিনাজপুর, কাহারোল, কান্তজীউ মন্দির, স্থাপত্য নিদর্শন, মুঘল আমল, ১৭৯৩ সাল, কান্তনগর মসজিদ, পোড়ামাটির কারুকাজ, টেরাকোটা, মুসলিম স্থাপত্য, ঐতিহাসিক মসজিদ, পর্যটন কেন্দ্র দিনাজপুর, তিন গম্বুজ বিশিষ্ট মসজিদ, কান্তনগর মন্দিরের কারিগর, নয়াাবাদ, কলোনিয়াল স্থাপত্য, বাংলাদেশের প্রত্নতত্ত্ব, Nayabad Mosque, Dinajpur, Kaharol, Kantajew Temple Artisans, Mughal Architecture, 18th Century Mosque, Terracotta Art, Historical Landmark, Bangladesh Tourism, Ancient Heritage, Islamic Architecture, Three Domed Mosque.,মুনশি একাডেমি, মুনশি আলিম,munshi academy, munshi alim,

ভূমিকা ও ইতিহাস (Introduction & History)

দিনাজপুর শহর থেকে প্রায় ২০ কিমি দূরে কাহারোল উপজেলার নয়াবাদ গ্রামে ঢেপা নদীর তীরে এই মসজিদটি অবস্থিত। ১.১৫ বিঘা জমির ওপর নির্মিত এই মসজিদটি ১৭৯৩ সালে মোগল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলমের রাজত্বকালে নির্মিত হয়েছিল।

কান্তজীউ মন্দিরের সাথে সম্পর্ক: স্থানীয় জনশ্রুতি ও ইতিহাস অনুযায়ী, ১৮ শতকের মাঝামাঝিতে যখন বিখ্যাত কান্তজীউ মন্দিরের নির্মাণকাজ চলছিল, তখন মন্দির তৈরির জন্য মধ্যপ্রাচ্য (সম্ভবত মিশর বা পারস্য) থেকে একদল দক্ষ মুসলিম স্থাপত্যকর্মী ও কারিগরদের আনা হয়েছিল। এই কারিগররা তাদের নিজেদের নামাজ আদায়ের জন্য পাশেই নয়াবাদ গ্রামে এই মসজিদটি নির্মাণ করেন। কারিগরদের প্রধান নিয়াজ ওরফে কালুয়া মিস্ত্রি মহারাজার কাছে অনুরোধ করলে তিনি এই জায়গাটি দান করেন। মন্দির ও মসজিদের কাজ প্রায় একই সময়ে সম্পন্ন হয়েছিল।

 

স্থাপত্য ও সৌন্দর্য (Architecture)

নয়াবাদ মসজিদ মোগল স্থাপত্যশৈলীর এক চমৎকার উদাহরণ।

  • গম্বুজ: এটি একটি তিন গম্বুজবিশিষ্ট আয়তাকার মসজিদ। মাঝখানের গম্বুজটি অন্য দুটির চেয়ে আকারে বড়।

  • টেরাকোটা: মসজিদের বাইরের দেয়ালে ১০৪টি পোড়ামাটির ফলক বা টেরাকোটা খচিত ছিল, যেখানে লতাপাতা ও ফুলের নকশা ফুটে উঠেছে। কান্তজীউ মন্দিরের মতো এটিও টেরাকোটার সৌন্দর্যে অনন্য।

  • মিনার: মসজিদের চার কোণায় চারটি অষ্টভুজাকৃতির টাওয়ার বা মিনার রয়েছে।

  • প্রবেশপথ: পূর্ব দিকে তিনটি খিলানযুক্ত প্রবেশপথ রয়েছে এবং ভেতরে পশ্চিম দেয়ালে তিনটি মিহরাব আছে।

 

ভ্রমণ তথ্য (Travel Information)

  • অবস্থান: নয়াবাদ মিস্ত্রিপাড়া, কাহারোল, দিনাজপুর। কান্তজীউ মন্দির থেকে অটো বা ভ্যানে মাত্র ৫-১০ মিনিটে এখানে পৌঁছানো যায়।

  • কেন যাবেন: একই সাথে হিন্দু ও মুসলিম স্থাপত্যের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ইতিহাস জানতে এবং প্রাচীন মোগল শৈলী দেখতে।

  • কীভাবে যাবেন: দিনাজপুর থেকে কান্তজীউ মন্দিরে আসার পর সেখান থেকেই ভ্যান বা ইজিবাইকে সরাসরি নয়াবাদ মসজিদে যাওয়া যায়।

  • আবাসন ও খাবার: থাকার জন্য দিনাজপুর শহরে ফিরতে হবে। তবে মসজিদের কাছেই স্থানীয় কিছু দোকান ও চা-নাস্তার ব্যবস্থা আছে।

     

সতর্কতা ও টিপস

  • এটি একটি সক্রিয় মসজিদ, তাই পর্যটকদের শালীনতা বজায় রাখার অনুরোধ করা হয়।

  • মসজিদের প্রাচীন টেরাকোটাগুলো স্পর্শ না করাই ভালো, কারণ এগুলো অনেক পুরনো ও স্পর্শকাতর।

  • কান্তজীউ মন্দির দর্শনের পর পায়ে হেঁটেই বা অল্প খরচে ভ্যানে করে এই মসজিদটি দেখে নেওয়া যায়।

     

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.