Header Ads

মুনশি একাডেমি

শিক্ষা ও সাহিত্যভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
নোট ও সাজেশন বিসিএস ও এনটিআরসিএ বি.এড ও ব্যাংক প্রস্তুতি

তাহারেই পড়ে মনে কবিতা: শব্দার্থ, বহুনির্বাচনি, সৃজনশীল প্রশ্ন

 

তাহারেই পড়ে মনে কবিতা: শব্দার্থ, বহুনির্বাচনি, সৃজনশীল প্রশ্ন

 
তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন, তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্ন ও উত্তর, তাহারেই পড়ে মনে কবিতা, তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর, তাহারেই পড়ে মনে কবিতার mcq, তাহারেই পড়ে মনে কবিতার ব্যাখ্যা, তাহারেই পড়ে মনে কবিতার প্রশ্ন, তাহারেই পড়ে মনে কবিতার অনুধাবন প্রশ্ন ও উত্তর, তাহারেই পড়ে মনে কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন ও উত্তর, তাহারেই পড়ে মনে কবিতার অনুধাবন প্রশ্নের উত্তর, তাহারেই পড়ে মনে কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্নের উত্তর, তাহারেই পড়ে মনে সৃজনশীল, কবিতা তাহারেই পড়ে মনে

তাহারেই পড়ে মনে- সুফিয়া কামাল

কাব্য: সাঁঝের মায়া


“হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়,

বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?”

কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি-

“দখিন দুয়ার গেছে খুলি?

বাতাবী নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?

দখিনা সমীর তার গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?”

“এখনো দেখনি তুমি?” কহিলাম “কেন কবি আজ

এমন উন্মনা তুমি? কোথা তব নব পুষ্পসাজ?”

কহিল সে সুদূরে চাহিয়া-

“অলখের পাথার বাহিয়া

তরী তার এসেছে কি? বেজেছে কি আগমনী গান?

ডেকেছে কি সে আমারে? -শুনি নাই,রাখিনি সন্ধান।”

কহিলাম “ওগো কবি, রচিয়া লহ না আজও গীতি,

বসন্ত-বন্দনা তব কণ্ঠে শুনি-এ মোর মিনতি।”

কহিল সে মৃদু মধুস্বরে-

“নাই হ’ল, না হোক এবারে-

আমার গাহিতে গান! বসন্তরে আনিতে ধরিয়া-

রহেনি,সে ভুলেনি তো, এসেছে তো ফাল্গুন স্মরিয়া।”

কহিলাম “ওগো কবি, অভিমান করেছ কি তাই?

যদিও এসেছে তবু তুমি তারে করিলে বৃথাই।”

কহিল সে পরম হেলায়-

“বৃথা কেন? ফাগুন বেলায়

ফুল কি ফোটে নি শাখে? পুষ্পারতি লভে নি কি ঋতুর রাজন?

মাধবী কুঁড়ির বুকে গন্ধ নাহি? করে নি সে অর্ঘ্য বিরচন?”

“হোক, তবু বসন্তের প্রতি কেন এই তব তীব্র বিমুখতা?”

কহিলাম “উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?”

কহিল সে কাছে সরি আসি-

“কুহেলী উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী-

গিয়াছে চলিয়া ধীরে পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে

রিক্ত হস্তে। তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোন মতে।”

 

বহুনির্বাচনী (MCQ) — তাহারেই পড়ে মনে

  1. কবিতার শিরোনাম কী?
    a) সাঁঝের মায়া
    b) তাহারেই পড়ে মনে
    c) বসন্তের গান
    d) ফাল্গুনের ফুল
    উত্তর: b

  2. কবিতার রচয়িতা কে?
    a) জসীম উদ্দিন
    b) সেলিনা হোসেন
    c) সুফিয়া কামাল
    d) কাবিরা দাস
    উত্তর: c

  3. কবিতায় কোন ঋতুর উল্লেখ আছে?
    a) গ্রীষ্ম
    b) বর্ষা
    c) বসন্ত
    d) হেমন্ত
    উত্তর: c

  4. কবিতায় “ফাল্গুন” কী বোঝানো হয়েছে?
    a) ঋতু
    b) ফুলের নাম
    c) নদীর নাম
    d) পাখির নাম
    উত্তর: a

  5. কবিতায় “বসন্ত-বন্দনা” শব্দের অর্থ কী?
    a) বসন্তকে উপেক্ষা করা
    b) বসন্তকে স্বাগত জানানোর গান
    c) ফুল ছড়ানো
    d) গাছের পরিচর্যা
    উত্তর: b

  6. “দখিন দুয়ার গেছে খুলি?” কথায় “দখিন” দ্বারা কী বোঝানো হয়েছে?
    a) পূর্ব
    b) পশ্চিম
    c) দক্ষিণ
    d) উত্তর
    উত্তর: c

  7. কবিতায় কোন ফুলের উল্লেখ আছে?
    a) লাল গোলাপ
    b) নেবুর ফুল
    c) কোকিল ফুল
    d) জবা ফুল
    উত্তর: b

  8. কবি কোন শব্দে তার অভিমান প্রকাশ করেছেন?
    a) অলখের পাথার বাহিয়া
    b) রিক্ত হস্তে
    c) গিয়াছে চলিয়া ধীরে
    d) ভুলিতে পারি না
    উত্তর: d

  9. কবিতায় “অলখের পাথার বাহিয়া” মানে কী?
    a) পরিচিতের পথে
    b) অচেনা পথ ধরে
    c) নদীর ধারে
    d) ফুলের বাগানে
    উত্তর: b

  10. কবি কাকে সম্বোধন করছেন?
    a) বন্ধুকে
    b) ঋতুরাজকে
    c) আত্মাকে
    d) শিষ্যকে
    উত্তর: b

  11. কবিতায় কোন ঋতুর প্রতি বিমুখতা দেখানো হয়েছে?
    a) গ্রীষ্ম
    b) শীত
    c) বসন্ত
    d) বর্ষা
    উত্তর: c

  12. “মাধবী কুঁড়ির বুকে গন্ধ নাহি?” কথায় কোন অর্থ প্রকাশ পেয়েছে?
    a) ফুলের সুগন্ধ এসেছে
    b) ফুল এখনও ফোটেনি
    c) ফুল মুছে গেছে
    d) ফুল নষ্ট হয়েছে
    উত্তর: b

  13. “কুহেলী উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী” দ্বারা বোঝানো হয়েছে—
    a) বসন্তের আগমন
    b) শীতের অবসান
    c) প্রকৃতির অবরুদ্ধতা
    d) কবির অভিমান
    উত্তর: d

  14. কবিতায় “রিক্ত হস্তে” বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
    a) ফুল না পেয়ে শূন্য হাতে থাকা
    b) কবির শক্তি
    c) নদীর শুকনা
    d) নতুন গাছ লাগানো
    উত্তর: a

  15. কবিতায় “ডেকেছে কি সে আমারে?” কথায় “সে” কাকে নির্দেশ করছে?
    a) বন্ধু
    b) বসন্ত
    c) ফুল
    d) পাখি
    উত্তর: b

  16. কবিতায় “আমের মুকুল” কোন ঋতুর প্রতীক?
    a) বর্ষা
    b) বসন্ত
    c) গ্রীষ্ম
    d) হেমন্ত
    উত্তর: b

  17. কবিতার মূল ভাব কী?
    a) প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ
    b) বসন্তকে অভিমান
    c) নদীর গান
    d) ফুলের পরিচর্যা
    উত্তর: b

  18. কবিতায় “সন্দেহ নেই, এসেছে তো ফাল্গুন স্মরিয়া” কথায় কবি কী বোঝাচ্ছেন?
    a) বসন্ত এসেছে
    b) কবি আনন্দিত
    c) ফুল ফুটেছে
    d) সব শীত কেটে গেছে
    উত্তর: a

  19. কবিতায় কোন উপমা বা রূপক ব্যবহার হয়েছে?
    a) “অলখের পাথার বাহিয়া”
    b) “আমের মুকুল”
    c) “নেবুর ফুল”
    d) “সাঁঝের মায়া”
    উত্তর: a

  20. “তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোন মতে” দ্বারা কবি কী বোঝাতে চেয়েছেন?
    a) ঋতুর প্রতি আগ্রহ
    b) বসন্তের আগমন ভুলানো যায় না
    c) ফুলগুলো দেখেনি
    d) শীতের অবসান
    উত্তর: b




▶ কবি পরিচিতি

জন্ম তারিখ : ২০ জুন, ১৯১১ খ্রিষ্টাব্দ
জন্মস্থান : শায়েস্তাবাদ, বরিশাল
পিতার নাম : সৈয়দ আবদুল বারী
মাতার নাম : নওয়াবজাদী সৈয়দা সাবেরা খাতুন
শিক্ষাজীবন : অনানুষ্ঠানিক ও স্বশিক্ষায় শিক্ষিত
পেশা / কর্মজীবন : কলকাতার একটি বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেন; পরবর্তীতে সাহিত্য সাধনা ও নারী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে ব্রতী হন


▶ সাহিত্যকর্ম ও অন্যান্য তথ্য

কাহিনিকাব্য : সাঁঝের মায়া, মায়া কাজল, উদাত্ত পৃথিবী, মন ও জীবন, প্রশস্তি ও প্রার্থনা
গল্প : কেয়ার কাঁটা
ভ্রমণকাহিনি : সোভিয়েতের দিনগুলি
স্মৃতিকথা : একাত্তরের ডায়েরী
শিশুতোষ গ্রন্থ : ইতল বিতল, নওল কিশোরের দরবারে
পুরস্কার ও সম্মাননা : বুলবুল ললিতকলা একাডেমি পুরস্কার, বাংলা একাডেমি পুরস্কার, একুশে পদক, নাসিরউদ্দীন স্বর্ণপদক, মুক্তধারা সাহিত্য পুরস্কার
মৃত্যু : ২০ নভেম্বর, ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দ



▶ কবি সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

প্রথম বিবাহ : সুফিয়া কামালের প্রথম বিয়ে হয় তাঁর মামাতো ভাই সৈয়দ নেহাল হোসেনের সঙ্গে ১৯২৩ সালে
প্রথম পরিচিতি : সে সময় তিনি ‘সুফিয়া এস. হোসেন’ নামে পরিচিত ছিলেন
উপাধি : তাঁকে ‘জননী সাহসিকা’ বলা হয়
স্বামীর মৃত্যু : সৈয়দ নেহাল হোসেন ১৯৩২ সালে যক্ষা রোগে মৃত্যুবরণ করেন
দ্বিতীয় বিবাহ : ১৯৩৯ সালে চট্টগ্রাম নিবাসী লেখক কামাল উদ্দীন আহমেদের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন; এরপর তিনি ‘সুফিয়া কামাল’ নাম গ্রহণ করেন
সম্পাদনা : বেগম পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন (১৯৪৭)
সংগঠন প্রতিষ্ঠা ও নেতৃত্ব : মহিলা সংগ্রাম পরিষদ প্রতিষ্ঠা ও নেতৃত্ব দেন (১৯৬৯); বর্তমানে এর নাম বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ
কবিসত্তা : তিনি রবীন্দ্র কাব্যধারার গীতিকবিতা রচয়িতা


▶ তাহারেই পড়ে মনে কবিতার উৎস:

তাহারেই পড়ে মনে কবিতাটি ১৯৩৫ খ্রিষ্টাব্দ মাসিক মোহাম্মদী পত্রিকায় প্রথম প্রকাশিত হয়। পরে কবিতাটি বেগম সুফিয়া কামালের প্রথম প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ সাঁঝের মায়াতে অন্তর্ভুক্ত হয়।


▶ মর্মবাণী/মূলবাণী/উপজীব্য বিষয়: বিষাদময় রিক্ততার সুর।


▶ শব্দার্থ ও টীকা

উত্তরীয় → চাদর
পাথার → সমুদ্র
লবে → নেবে
কুহেলি → কুয়াশা
সমীর → বাতাস
উন্মনা → অন্যমনস্ক, অনুৎসুক
বরিয়া → বরণ করে
মাধবী → বাসন্তীলতা বা তার ফুল
অর্ঘ্য → অঞ্জলি / উপহার
অলখ → দৃষ্টির অগোচরে
বন্দনায় → স্তুতিতে, প্রশংসায়
মধু-স্বরে → মিষ্টি সুরে, কোমল কণ্ঠে
ফাগুন স্মরিয়া → ফাল্গুন মাসকে অর্থাৎ বসন্তকালকে স্মরণ করে
তাহারেই পড়ে মনে → বসন্তের আগমনে কবির অন্তরে বিদায়ী শীতের কথা জেগে ওঠে
অলখের পাথার বাহিয়া → কোনো অদৃশ্যলোকের সাগর পার হয়ে
আগমনী গানে → মহৎ কিছুর আগমন উপলক্ষে গাওয়া মঙ্গলসূচক গান


 

▶ কবিতার জ্ঞানমূলক প্রশ্ন

(নির্দেশনা: প্রশ্নগুলোর উত্তর নোটখাতায় লিখো)

১. সুফিয়া কামাল কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
২. কবি সুফিয়া কামালের পিতার নাম কী?
৩. সুফিয়া কামালের জন্মের সময় বাঙালি মুসলমান নারীদের কীরকম জীবন কাটাতে হতো?
৪. সুফিয়া কামালের জন্মের সময় তাঁর পরিবারে কোন ভাষার প্রবেশ একরকম বন্ধ ছিল?
৫. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি ‘মাসিক মোহাম্মদী’ পত্রিকার কততম সংখ্যায় প্রকাশিত হয়?
৬. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবির মন কীসে আচ্ছন্ন হয়ে যায়?
৭. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবিকে বসন্ত বন্দনা করতে বলেছেন কে?
৮. কোন ঋতুর কারণে কবি রিক্ত ও বিষণ্ন হয়ে আছেন?
৯. বিরুদ্ধ পরিবেশে কবি সুফিয়া কামাল কোন ধরনের শিক্ষার সুযোগ পাননি?
১০. গঠনরীতির দিক থেকে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি কেমন?

১১. প্রকৃতিতে বাতাবি নেবুর ফুল দেখা যায় কোন ঋতুতে?
১২. কবি শীতকে কী রূপে কল্পনা করেছেন?
১৩. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি কী দ্বারা আচ্ছন্ন হয়ে আছে?
১৪. ‘অলখ’ শব্দের অর্থ কী?
১৫. ‘উন্মনা’ শব্দের অর্থ কী?
  উত্তর: ‘উন্মনা’ শব্দের অর্থ—অন্যমনস্ক।

১৬. সুফিয়া কামাল কত সালে মৃত্যুবরণ করেন?
১৭. ‘কেয়ার কাঁটা’ সুফিয়া কামালের কোন ধরনের রচনা?
১৮. সুফিয়া কামালের স্বামীর নাম কী?
১৯. বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের অন্যতম পথিকৃৎ কোন মহিলা কবি?
২০. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কী প্রকাশ পেয়েছে?

২১. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কোন দুয়ার খুলে গেছে?
২২. ‘মায়া কাজল’ সুফিয়া কামালের কোন জাতীয় রচনা?
২৩. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কীসের ছায়াপাত ঘটেছে?
২৪. কার মৃত্যুতে কবি সুফিয়া কামালের জীবনে প্রচণ্ড শূন্যতা নেমে আসে?
২৫. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার লক্ষণীয় বৈশিষ্ট্য কোনটি?

২৬. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবি কয়টি ফুলের কথা উল্লেখ করেছেন?
২৭. ‘পুষ্পারতি’ শব্দটি ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কোন অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে?
২৮. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কয়টি ঋতুর কথা বলা হয়েছে?
২৯. কবি সুফিয়া কামালের কাব্য সাধনায় প্রেরণাপুরুষ কে ছিলেন?
৩০. কে শীতকে মাঘের সন্ন্যাসীরূপে কল্পনা করেছেন?

৩১. দৃষ্টির অগোচর বোঝাতে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কোন শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে?
৩২. ‘বাতাবি নেবুর ফুল ফুটেছে কি?’—কে, কাকে এ প্রশ্ন করেছেন?
৩৩. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবি কেমন গানের কথা জানতে চেয়েছেন?
৩৪. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবি কোন ফুল ফোটার কথা জানতে চেয়েছেন?
৩৫. কে কবিকে বসন্ত-বন্দনা রচনা করতে বলেছেন?

৩৬. কবি সুফিয়া কামাল শীতের রিক্ততার সাথে কীসের সাদৃশ্য খুঁজে পেয়েছেন?
৩৭. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
৩৮. ‘দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি?’—প্রশ্নটি কার?
৩৯. ‘উত্তরী’ শব্দটির অর্থ কী?
৪০. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কয়টি চরিত্র রয়েছে?

৪১. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবির কাকে মনে পড়ে?
৪২. ‘কুড়ি’ শব্দটির ব্যুৎপত্তি নির্দেশ করো।
৪৩. সুফিয়া কামালের পৈতৃক নিবাস কোথায়?
৪৪. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি কত সালে প্রথম প্রকাশিত হয়?
৪৫. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কোন ঋতুর আগমনের কথা বলা হয়েছে?

৪৬. ‘অর্ঘ্য বিরচন’ অর্থ কী?
৪৭. ‘সমীর’ শব্দের অর্থ কী?
৪৮. কবি কোন দিকের দুয়ার খোলার কথা জানতে চেয়েছেন?
৪৯. কবির স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেন কত সালে মারা যান?
৫০. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় ‘হে কবি’ বলে কে সম্বোধন করেছেন?

৫১. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি কে লিখেছেন?
৫২. কোন ঋতুতে দখিনা বাতাস বইতে শুরু করে?
৫৩. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় পুষ্পশূন্য কোন পথ?
৫৪. বাতাবি নেবুর প্রসঙ্গ এসেছে কোন কবিতায়?
৫৫. সুফিয়া কামাল তাঁর সাহসী কর্মকাণ্ডের জন্য কোন বিশেষ অভিধা পান?

৫৬. সুফিয়া কামালের জন্মসাল কত?
৫৭. ‘পাথার’ শব্দের অর্থ কী?
৫৮. ‘মাঘের সন্ন্যাসী’ কাকে বলা হয়েছে


 

কবিতার ছন্দ বিশ্লেষণ:

 
↓  ↓↓    ↓↓↓ ↓↓   ↓↓↓   ↓  ↓↓↓  ↓↓↓
হে কবি, নীরব কেন / ফাগুন যে এসেছে ধরায়, (৮+ ১০)
↓↓↓  ↓↓↓  ↓↓    ↓↓  ↓ ↓  ↓↓ ↓↓↓↓
বসন্তে বরিয়া তুমি / লবে না কি তব বন্দনায়?  (৮ + ১০)
↓↓↓   ↓  ↓↓ ↓↓   ↓↓
কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি (১০)
 ↓↓↓ ↓↓↓  ↓↓   ↓↓
দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি? (১০)


বিশ্লেষণ : ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দে রচিত একটি সংলাপনির্ভর কবিতা। উপরের চার লাইনের ছন্দ বিশ্লেষণে দেখা যায়, কবিতাটির মূলপর্ব ৮ ও ১০ মাত্রার। কবিতাটির দুই পর্ব ও এক পর্বের পংক্তি রয়েছে। দুই পর্বের পংক্তিতে মাত্রাসংখ্যা (৮ +১০) = ১৮ এবং এক পর্বের পংক্তির মাত্রা সংখ্যা ১০। তাহারেই পড়ে মনে- সুফিয়া কামাল

কোনো কোনো পংক্তিতে ৪ মাত্রার অতিপর্ব রয়েছে। যেমন :
↓↓↓↓     ↓↓↓↓     ↓↓↓↓      ↓↓  ↓↓  ↓↓  ↓↓  ↓↓
কহিলাম,/  উপক্ষোয়  ঋতুরাজে / কেন কবি দাও তুমি ব্যথা
   (৪            + ৮          + ১০)
↓↓  ↓↓      ↓↓↓↓   ↓↓  ↓↓         ↓↓↓   ↓↓  ↓   ↓↓   ↓↓
রিক্ত হস্তে!/ তাহারেই পড়ে মনে, /   ভুলিতে   পারি না  কোন মতো
  (৪            + ৮             + ১০)
ছন্দ : কবিতাটি অক্ষরবৃত্ত ছন্দ রচিত। ৮ ও ১০ মাত্রার পর্ব। স্তবক বিন্যাসে কিছুটা বৈচিত্র আছে।

পর্ব : প্রথম পর্ব আট মাত্রার, দ্বিতীয় পর্ব দশ মাত্রায়। প্রতি চরণে পর্ব দুইটি।

প্রতিচরণ মাত্রা : আঠারোটি।
 


➤  সারমর্ম:
 

এ কবিতায় প্রকৃতি ও মানবমনের সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তাৎপর্যময় অভিব্যক্তি পেয়েছে। সাধারণভাবে প্রকৃতির সৌন্দর্য মানব মনের অফুরন্ত আনন্দের উৎস। এ কবিতায় কবির ব্যক্তিজীবনের দুঃখময় ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে। তাঁর সাহিত্য সাধনার প্রধান সহায়ক ও উৎসাহদাতা স্বামী সৈয়দ নেহাল হোসেনের মৃত্যুতে (১৯৩২) কবির জীবনে শূন্যতা নেমে আসে। তাহারেই পড়ে মনে কবিতাকে আচ্ছন্ন করে আছে এই বিষাদময় রিক্ততার সুর। বসন্ত এলেও উদাসীন কবির অন্তর জুড়ে রিক্ত শীতের করুণ বিদায়ের বেদনা।


পাঠ বিশ্লেষণ:

    হে কবি, নীরব কেন ফাগুন যে এসেছে ধরায়,
    বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?
    কহিল সে স্নিগ্ধ আঁখি তুলি
    “দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি?


কবি প্রকৃতির রূপের সাথে নিজেকে প্রকাশ করবেন। সেটিই স্বাভাবিক। অথচ কবি উদাসীন। কাব্য ও গান রচনায় তিনি নিস্ক্রিয়। কবি ভক্তরা তাঁর কাছে জানতে চাইছে কেন তিনি নীরব। ফাগুন চলে এসেছে, বসন্তের ফুল ফুলে প্রকৃতি রঙে-রূপে ভরে উঠেছে- কবি কেন তার বন্দনা করছেন না, তাকে কি কবি বরণ করে নেবেন না? দখিনা বাতাস বইছে। কী স্নিগ্ধ পরিবেশ, তা কি কবির আগ্রহ জাগাতে পারছে না?
 

বাতাবি নেবুর ফুল ফুটেছে কি? ফুটেছে কি আমের মুকুল?
দখিনা সমীর তাঁর গন্ধে গন্ধে হয়েছে কি অধীর আকুল?”
“এখনো দেখনি তুমি?” কহিলাম, “কেন কবি আজ
এমন উন্মনা তুমি? কোথা তব নব পুস্পসাজ?”

 
বসন্তের আগমনে বাতাবি লেবুর ফুল, আমের মুকুলের কিন্তু উন্মনা কবি এসব কিছুই কি লক্ষ করছেন না? কবি তা সত্তে¡ও যা বলছেন তা তো তাঁর উদাসীনতাকেই স্পষ্ট করে তুলেছে। বসন্ত এসেছে, অথচ কবি বসন্তের ফুলে শয্যা সাজানোর আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। কবির নিজের সাজও প্রকৃতির সাথে মেলে না। ভক্তরা ভেবে আকুল।

কহিল সে সুদূরে চাহিয়া
“অলখের পাথার বাহিয়া
তরী তার এসেছে কি? বেজেছে কি আগমনী গান?
ডেকেছে কি সে আমারে? শুনি নাই, রাখি কি সন্ধান।”


কবি সুদূরে দৃষ্টি ফেলে নিরাশ কণ্ঠে জানতে চান, অলখের পাথার বেয়ে তার আনন্দের তরি এসেছে কিনা, তার আগমনী সংগীত ধ্বনিত হয়েছে কিনা? তারা কি কবিকে ডেকেছে? কই? কবি তো কিছুই শোনেননি, কোন কিছুর সন্ধানই তো তার কাছে নেই। কবির এহেন নির্লিপ্ততা ভক্তকে আহত করল।
কহিলাম, “ ওগো কবি! রচিত লহ না আজও গীতি,
বসন্ত -বন্দনা তব কন্ঠে শুনি- এ মোর মিনতি। ”
কবি ভক্তকুল তবুও অনুরোধ করল, ওসব না হোক, বসন্ত তোমার দুয়ারে এসেছে। প্রকৃতি সেজেছে তার আপন সাজে, আপন স্বভাবে। তাকে আনন্দচিত্তে বরণ করে লও। তোমার কণ্ঠে বসন্ত বন্দনা শুনতে আমরা অপেক্ষায় রয়েছি। আমাদের সেই সংগীত শুনিয়ে আনন্দ দাও, মুগ্ধ কর। তাহারেই পড়ে মনে- সুফিয়া কামাল

কহিল সে মৃদু মধু স্বরে
“নাই হলো, না হোক এবারে
আমারে গাহিতে গান, বসন্তেরে আনিতে বরিয়া
রহেনি, সে ভুলেনি তো, এসেছে তা ফাগুনে স্মরিয়া।”

কবি সব ভক্তের কথা শুনে, নিচুস্বরে স্নিগ্ধ ভাষায় উত্তর দিলেন, তা না হোক। আমাকে আনন্দ সংগীত শোনাতে, কিংবা গান গাইতে অনুপ্রাণিত করতেও তো বসন্ত আসেনি। সে এসেছে ফাগুনকে স্মরণ করে। তাকে বরণ করে নিতে আমাকেই লাগবে, তা কেন?

কহিলাম :  “ওগো কবি, অভিমান করেছ কি তাই?
যদিও এসেছে তবু তুমি তারে করিলে বৃথাই।”

ভক্তরা কবিকে বলল- এ কারণেই কি তুমি অভিমান করেছ? প্রকৃতির নিয়ম মেনে যদিও সে এসেছে, তবু কি তাতে তোমার অধিকার নেই? তুমি কি তাকে বরণ করে আমাদের আনন্দের সাথে সম্পৃক্ত করার তাগিদ অনুভব কর না? তুমি তাকে বৃথাই ফেরত পাঠাবে? তা থেকে দূরে সরে থেকে আমাদেরও দূরে রাখবে?

কহিল সে পরম হেলায়
“বৃথা কেন? ফাগুন বেলায়
ফুল কি ফোটেনি শাখে? প্স্পুারতি লভেনি কি ঋতুর রাজন?
মাধবী কুঁড়ির বুকে গন্ধ নাহি? করে নাই অর্থ্য বিরচন?”


কবি ভক্তদের শোনালেন তাঁর চির ব্যথার কথা গোপন করে, কেন ও কথা বলছ? বসন্ত বেলায় কি ফুল ফোটেনি? ফুলে ফুলে পৃথিবী সাজিয়ে বসন্ত কি ঋতুরাজ হয়ে ওঠেনি? মাধবীর গন্ধে কী তোমরা মেতে উঠছ না? তাহলে আমাকে এমন করে বলছ কেন?

“হোক, তবু বসন্তের প্রতি কেন এই তব তীব্র বিমুখতা?”
কহিলাম, “উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যথা?”


ভক্তরা যুক্তি দেখাল, তা যদি হয় হোক, কিন্তু তাই বলে তুমি কি আগ্রহ দেখাবে না? এমন কঠোর কঠিন হয়ে ফাগুন বিমুখ হয়ে থাকবে? হে প্রিয় কবি, তুমি বসন্ত বিমুখ হয়ে তোমার শত শত ভক্তকে কেন এত ব্যথা দিচ্ছ? কেন তুমি যথারীতি সানন্দে বসন্ত বন্দনা না করে তার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে রয়েছ? সুফিয়া কামালের রচনা: তাহারেই পড়ে মনে।

কহিল সে কাছে সরে আসি
“কুহেলি উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী
গিয়াছে চলিয়া ধীরে পুস্পশূন্য দিগন্তের পথে
রিক্ত হস্তে তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোন মতে।”


কবি বসন্তের প্রসঙ্গ থেকে সরে এসে বসন্তের পূর্ব ঋতুর প্রসঙ্গ স্মরণ করিয়ে দিলেন ভক্তদের। বসন্ত আসার আগে সর্বত্যাগী সর্বরিক্ত সন্ন্যাসীর মতো মাঘের শীতের কথা বলতে লাগলেন। তাকে কবিহৃদয়ে রিক্ততায় যে ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে, তাকে তিনি কিছুতেই ভুলতে পারছেন না। শীতের ফুলহীন, ফলহীন, পাতাহীন রিক্ত বৃক্ষের যন্ত্রণা কবির হৃদয়ে। তা তিনি কিছুতেই মুছে দিতে পারছেন না। প্রকৃতি বসন্তের আগমনে অপরূপ রূপে ফুলের সাজে সাজলেও তার মনজুড়ে শীতের রিক্ততার ছবি। কবি সেই ছবি কিছুতেই স্মৃতি থেকে মুছে ফেলতে পারছেন না। ভক্তদের অনুরোধে বসন্ত বন্দনা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। কারণ কবির হৃদয়ে যে শূন্যতা, তা প্রিয়জন হারানোর গভীর শোক ও বেদনাসৃষ্ট শূন্যতা।


‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার গুরুত্বপূর্ণ লাইন

তরী তার এসেছে কি? বেজেছে কি আগমনী গান?
বসন্ত -বন্দনা তব কণ্ঠে শুনি- এ মোর মিনতি।
কুহেলি উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী-
গিয়াছে চলিয়া ধীরে পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে রিক্ত হস্তে!


“হে কবি, নীরব কেন-ফাগুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?”- উক্তিটি কবির প্রতি ভক্তবৃন্দের।

ওগো কবি, অভিমান করেছ কি তাই?
যদিও এসেছে তবু তুমি তারে করিলে বৃথাই।


‘তাহারেই পড়ে মনে, ভুলিতে পারি না কোন মতে’- উক্তিটি শীত প্রকৃতির উদ্দেশ্যে বেগম সুফিয়া কামালের।
 

▶ গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর (জ্ঞানমূলক)

কবি মাঘের সন্ন্যাসী রূপে কল্পনা করেছেন—শীত ঋতুকে
কবিতায় শীতের রূপ স্থাপন করা হয়েছে—বসন্তের বিপরীতে
বসন্তের আগমনে কবির হৃদয়ে জেগে ওঠে—শীতের কথা
দক্ষিণা সমীর অধীর আকুল—বাতাসি লেবু ও আমের মুকুলের গন্ধে
কবির নিরবতার কারণ—প্রিয় বিয়োগ
পুষ্পশূন্য দিগন্তে পথে চলিয়া গিয়াছে—মাঘের সন্ন্যাসী
মাঘের সন্ন্যাসী মারা গেছে—রিক্ত হস্তে
ঋতুর রাজন—বসন্ত
কবিভক্তের প্রতি কবির প্রশ্ন প্রমাণ করে—কবির উদাসীনতা
‘দক্ষিণ দুয়ার গেছে খুলি’—উক্তিটি কবির
‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার মূল বিষয়—জীবনের বিষণ মাধুর্য
গঠনরীতির দিক দিয়ে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি—সংলাপ নির্ভর কবিতা
‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি প্রথম প্রকাশিত হয়—১৯৩৫ সালের ‘মাসিক মোহাম্মদী’ পত্রিকায়
‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি অন্তর্ভুক্ত—‘সাঁঝের মায়া’ কাব্যগ্রন্থে
স্তবক বিন্যাসে বৈচিত্র্য আছে—‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার

 

🎯  ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার অনুধাবনমূলক প্রশ্ন

➤ ‘এসেছে তা ফাগুনে স্মরিয়া’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
➤ বসন্তের সৌন্দর্য কবির কাছে অর্থহীন কেন? — ব্যাখ্যা করো
➤ কবি উদাসীনতা নিয়ে কবিভক্ত প্রশ্ন করেছেন কেন?
➤ ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কোন বিষয়টি প্রত্যাশা করা হয়েছে? — ব্যাখ্যা করো
➤ “হে কবি, নীরব কেন ফাগুন যে এসেছে ধরায়।” — ব্যাখ্যা করো
➤ ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাকে আচ্ছন্ন করে আছে সেই বিষাদময় রিক্ততার সুর। — বুঝিয়ে লেখো
➤ ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কোন ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে? — ব্যাখ্যা করো
➤ ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় শীত ঋতুকে কীসের সাথে তুলনা করা হয়েছে? — ব্যাখ্যা করো
➤ সুফিয়া কামাল ‘জননী’ সম্ভাষণে ভূষিত হয়েছেন কেন?
➤ ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় উল্লিখিত প্রকৃতির পরিবর্তনের পরিচয় দাও
➤ ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবির যে বিষাদঘন একাকিত্বের বিষয়টি ফুটে উঠেছে তা ব্যাখ্যা করো
➤ ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় শীত ঋতুকে কীসের সাথে তুলনা করা হয়েছে? — ব্যাখ্যা করো
➤ ‘হে কবি নীরব কেন?’ — কবি কোন কারণে নীরব ছিলেন তা ব্যাখ্যা করো
➤ কবি বসন্তের আগমনের কোনো সন্ধান রাখেননি কেন?
➤ ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় বর্ণিত প্রকৃতির রূপ বৈশিষ্ট্য কেমন?
➤ ‘অর্ঘ্য-বিরচন’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
➤ ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবির উদাসীনতার কারণ ব্যাখ্যা করো
➤ ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কোন ঘটনার ছায়াপাত ঘটেছে? — ব্যাখ্যা করো
➤ ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কবি বসন্তকে কীভাবে উপলব্ধি করেছেন?
➤ ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় প্রকৃতি ও মানবমনকে কীভাবে সম্পর্কিত করা হয়েছে?
➤ কবি বসন্ত-বন্দনাগীতি না গাইলেও বসন্তের আগমন ব্যর্থ হয়নি কেন?
➤ সুফিয়া কামাল ‘জননী’ সম্ভাষণে ভূষিত হয়েছেন কেন? — ব্যাখ্যা করো
➤ ‘ফাগুন যে এসেছে ধরায়’—উক্তিটি কী সংকেত বহন করে? ব্যাখ্যা করো
➤ ‘ওগো কবি, অভিমান করেছ কি তাই?’ — কবির কাছে কবিভক্তের এ প্রশ্ন জানতে চাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করো
➤ কবিতায় ‘পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে’ বলতে কী বোঝানো হয়েছে?



📝 তাহারেই পড়ে মনে কবিতার সৃজনশীল প্রশ্নগুলোর উত্তর তোমার নোটখাতায় লিখ। 

 
🧭 সৃজনশীল প্রশ্ন ১ : সালমা ও জামিল দাম্পত্য জীবনে সুখেই দিনাতিপাত করছিল । হঠাৎ এক দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করল জামিল। ছন্দপতন ঘটল সালমার সুখময় জীবনে । যদিও পরবর্তীকালে শামীম নামের এক ভদ্রলোকের সাথে সালমার আবার বিয়ে হয়। কিন্তু প্রথম স্বামীর স্মৃতি সে এক দিনের জন্যেও ভুলতে পারেনি। কারণ, সে ছিল তার সকল কাজের প্রেরণাদাতা। প্রতি বসন্তে সালমা প্রথম স্বামীর কথা স্মরণ করে একদম উদাসীন হয়ে যায় এবং স্বামীর কবরের পাশে বসে নীরবে অধুপাত করে। কেননা তার সেই ভালোবাসার মানুষটি বসন্তকালেই তাকে ছেড়ে চিরদিনের মতো চলে গেছে।

ক. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতাটি কোন ছন্দে লেখা?
খ. ‘কুহেলি উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী’ বলতে কবি কী বুঝিয়েছেন?
গ. উদ্দীপকের জামিলের সাথে ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় কার সাদৃশ্য রয়েছে? বর্ণনা করো।
ঘ. “উদ্দীপকের সালমার মনের কষ্ট আর ‘তাহারেই পড়ে মনে” কবিতার কবির হৃদয়ের রক্তক্ষরণ এক সূত্রে গাথা”—আলোচনা করো। 


🧭 সৃজনশীল প্রশ্ন ২ : ঋতুরাজ বসন্তে প্রকৃতি এক নতুন সাজে সজ্জিত হয়। শীতের শুষ্কতা কাটিয়ে প্রকৃতি তখন নব যৌবন লাভ করে। গাছে গাছে নতুন পাতা গজায়, ফুলে ফুলে ভরে যায় অবারিত মাঠ-ঘাট ও বাগান। আমের মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে তখন চারদিক মুখরিত হয়ে ওঠে । এই ঋতুতে বিরহীদের মন প্রিয়জনের সানিধ্য খোজে। তাদের কথা বেশি বেশি মনে পড়ে। কারণ, প্রকৃতির সঙ্গে মানব মনের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। প্রকৃতির সৌন্দর্যের প্রভাব তখন মানব মনে পড়ে। কবি-সাহিত্যিকগণ তখন নতুন নতুন সাহিত্য চর্চায় আত্মনিয়োগ করার অনুপ্রেরণা লাভ করেন।

ক. মাঘের সন্ন্যাসী কোথায় চলে গিয়েছে?
খ. বসন্তের আগমন সত্বেও কবির নীরব ভূমিকা পালনের কারণ কী?
গ. প্রকৃতির সঙ্গে মানব মনের একটা ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে—উদ্দীপকের উক্তিটি ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো। 
ঘ. ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতায় বর্ণিত বসন্তের রূপচিত্র এবং উদ্দীপকের ঋতুরাজের রূপচিত্র একই অর্থে সমার্থক’—উক্তিটির যথার্থতা মূল্যায়ন করো। 


🧭 সৃজনশীল প্রশ্ন ৩ :
সে চলে গেছে বলে কিগো স্মৃতি কি তার যায় ভোলা,
আজো মনে হলে তার কথা, মর্মে যে মোর দেয় দোলা;
এ প্রতিটি ধুলিকণায়, আছে তার ছোওয়া লেগে হেথায়,
আজো তাহারি আসার আশায়, রাখি মোর ঘরের সব দ্বার খোলা।
হেথা সে এসেছিল যবে ঘর ভরে ছিল ফুল উৎসবে;
মোর কাজ ছিল শুধু ভবে, তার হারগাঁথা আর ফুল তোলা।

ক. ‘তাহারেই পড়ে মনে” কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
খ. ‘পুষ্পশূন্য দিগন্তের পথে’—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. “তাহারেই পড়ে মনে” কবিতার কবির হাহাকারের দৃশ্যই যেন উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে—ব্যাখ্যা করো।
ঘ. “উদ্দীপকটিতে বিরহবেদনার বর্ণনার সাথে তাহারেই পড়ে মনে কবিতার কবির মনোবেদনার প্রকৃতিঘনিষ্ঠ যে বর্ণনা, তার সাথে মিলের চেয়ে অমিলই বেশি” মন্তব্যটি তোমার মতামতসহ যাচাই করো। 


🧭 সৃজনশীল প্রশ্ন ৪ : বর্ষায় বাংলার প্রকৃতি যেন ভির এক রূপের পসরা সাজায়। বিলের বুকে কলমিলতা, শাপলার অনাবিল সৌন্দর্য, পানকৌড়ির লুকোচুরি - কার না ভালো লাগে। কিন্তু শিল্পী নাজমা বিলের ধারে বেড়াতে এসেও যেন কেন আনমনা হয়ে আছেন। এমনি এক বর্ষায় নৌকাডুবিতে চিরতরে হারিয়ে যায় তার স্নেহের দুটি ভাইবোন। শাপলা-শালুকভরা শাশ্বত বাংলার বর্ষা প্রকৃতি দেখেও আজ তাই কণ্ঠশিল্পী নাজমার কণ্ঠে ধ্বনিত হয় না কোনো গান। তার হুদয় জুড়ে শুধুই বিষতা ।

ক. “তাহারেই পড়ে মনে” কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
খ. “কুহেলি উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী”—চরণটি আলোচনা করো।
গ. উদ্দীপকের সাথে “তাহারেই পড়ে মনে” কবিতার বিষয়বস্তুর সাথে প্রচুর বৈসাদৃশ্য রয়েছে—বিশ্লেষণ করো। 
ঘ. উদ্দীপকের কণ্ঠশিল্পী নাজমার সাথে “তাহারেই পড়ে মনে” কবিতার কবির শিল্পী সত্বার তাৎপর্যপূর্ণ মিল রয়েছে—উক্তিটির মূল্যায়ন করো। 


🧭 সৃজনশীল প্রশ্ন ৫ : জানালার শার্সিতে বৃষ্টির অবিশ্রান্ত ফোটাগুলো মনে করিয়ে দেয়, ফেলে আসা শরতের পরিষ্কার আকাশ, পূজোর ঢাকঢোলের শব্দ, অগ্রহায়ণে মাঠের নতুন ধানের গন্ধ, মনে পড়ে যায় মার সঙ্গে বৃষ্টিতে ভেজার সেই সুন্দর সময়গুলোকে। আজ ১০ বছর হলো আমি দেশের বাইরে। মার মুখটা মনে হলেই ইচ্ছে হয় সব ছেড়ে মায়ের ভালোবাসা ঘেরা সেই ছোট্ট বাড়িতে ফিরে যেতে।

ক. কুহেলি শব্দের অর্থ কী?
খ. উপেক্ষায় ঋতুরাজে কেন কবি দাও তুমি ব্যাথা—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকে বর্ণিত প্রকৃতির সাথে “তাহারেই পড়ে মনে” কবিতায় বর্ণিত বৈসাদৃশ্য নির্ণয় করো।
ঘ. প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও উদ্দীপক ও “তাহারেই পড়ে মনে” কবিতায় প্রিয় মানুষের প্রতি ভালোবাসার রূপ একসূত্রে গাঁথা—বিশ্লেষণ করো।


🧭 সৃজনশীল প্রশ্ন ৬ :
ভেতরে আমার বাঁশিটি বাজে না আর,
ওড়েনা পাখি আঁকাবাঁকা সাদা ঝাঁক
নদী জলের ঢেউগুলো নির্বাক
ভেতরে আমার ভেঙে পড়ে শুধু পাড় ।

ক. ‘তাহারেই পড়ে মনে” কবিতাটি প্রথম কোন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়?
খ. “যদিও এসেছে তবু তুমি তারে করিলে বৃথাই”—বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
গ. উদ্দীপকটির কোন দিকটি “তাহারেই পড়ে মনে” কবিতার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ তা চিহ্নিত করো।
ঘ. উদ্দীপকের ‘ভেতরে আমার বাশিটি বাজে না আর’ এর দহন ‘তাহারেই পড়ে মনে’ কবিতার কবির অন্তর্দহন—তোমার উত্তরের সপক্ষে যুক্তি দাও।


🧭 সৃজনশীল প্রশ্ন ৭ : বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনে তথা পহেলা বৈশাখে উৎসবে মেতে উঠেছে সবাই। কিন্তু মোমেনার মনে বিষাদের কালো ছায়া। তার একমাত্র পুত্রের মৃত্যুতে সে বাকরুদ্ধ ও শোকাহত। শোক ব্যথায় মোমেনার হৃদয় হাহাকার মথিত। গত বছর মোমেনা তার ছেলেকে নিয়ে পহেলা বৈশাখের উৎসবে মেতে উঠেছিল । মোমেনার জীবনে এখন সেটা শুধুই স্মৃতি। পুত্রের মায়াময় মুখটির কথা স্মরণ করে মোমেনা কেমন অস্থির হয়ে ওঠে।

ক. ঋতুর রাজন কী লাভ করেনি বলে কবির জিজ্ঞাসা?
খ. “বসন্ত বন্দনা তবে কণ্ঠে শুনি এ মোর মিনতি”—কবি কেন এ মিনতি করেছেন?
গ. উদ্দীপকের মোমেনা “তাহারেই পড়ে মনে” কবিতার কোন চরিত্রকে স্মরণ করিয়ে দেয়? যুক্তিসহ ব্যাখ্যা করো।
ঘ. স্বজনহারা শোক-ব্যথা মানুষের সংবেদনশীল মনকে আচ্ছন্ন করে রাখে সর্বদা। মন্তব্যটি উদ্দীপক ও “তাহারেই পড়ে মনে” কবিতার আলোকে বিশ্লেষণ করো।



🧭 সৃজনশীল প্রশ্ন ৮ :
মুছে যাওয়া দিনগুলি আমায় যে পিছু ডাকে
স্মৃতি যেন আমার হৃদয়ে বেদনার
রঙে রঙে ছবি আকে।
 কোথায় কখন কবে কোন তারা ঝরে গেল
আকাশ কি মনে রাখে?

ক. কবি সুফিয়া কামাল কোথায় জন্মগ্রহণ করেন?
খ. ব্যাখ্যা কর: ‘ওগো কবি, অভিমান করিলে কি তাই?
যদিও এসেছে তবু তুমি তারে করিলে বৃথাই।’
গ. উদ্দীপকের সাথে “তাহারেই পড়ে মনে” কবিতার সাদৃশ্যগত দিক তুলে ধরো।
ঘ. উদ্দীপক ছোট্ট পরিসরে “তাহারেই পড়ে মনে” কবিতার মূলভাব ধরতে সক্ষম হয়েছে।—প্রমাণ করো। 

🧭 সৃজনশীল প্রশ্ন ৯ : ১৮৯৪ খ্রিষ্টাব্দে কেদার নাথ রায়ের সঙ্গে কামিনী রায়ের বিয়ে হয়। কেদার নাথ অনেক আগে থেকেই কামিনীর গুণগ্রাহী ছিলেন। কিছুদিন পরে কামিনী রায়ের জীবনে বেদনার কালো মেঘ জমে ওঠে। ১৯০৮ খ্রিস্টাব্দে ঘোড়ার গাড়ি উল্টে গিয়ে আঘাতজ্জনিত কারণে তার স্বামী মারা যান। এরপর মেয়ে লীলা ও ছেলে অশোকের মৃত্যু হয়। সবকিছু ভুলে থাকার জন্য কামিনী রায় বিভিন্ন সমাজকর্মে জড়িয়ে পড়েন।

ক. ‘ইতল বিতল’ কোন ধরনের রচনা?
খ. ‘কুহেলী উত্তরী তলে মাঘের সন্ন্যাসী’—কথাটি ব্যাখ্যা করো।
গ. উদ্দীপকের কামিনী রায়ের সঙ্গে “তাহারেই পড়ে মনে” কবিতার কবির সাদৃশ্য ব্যাখ্যা করো। 
ঘ. “তাহারেই পড়ে মনে” কবিতায় স্বামী মৃত্যুশোকে কবি প্রকৃতি ও সমাজবিমুখ হলেও উদ্দীপকের কামিনী রায়
সমাজমুখী—মন্তব্যটির যথার্থতা বিচার করো।
 





কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.