শব্দে ‘স’ ও ‘ষ’ ব্যবহারের সহজ কৌশল
শব্দে ‘স’ ও ‘ষ’ ব্যবহারের সহজ কৌশল
শব্দে ‘স’ এবং ‘ষ’ ব্যবহারের কৌশল:
[প্রতিযোগিতামূলক
পরীক্ষার জন্য এই নিয়মটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই নিয়মটি থেকে বিসিএস
প্রিলি, ব্যাংক ও ভার্সিটি ভর্তি পরীক্ষায় অধিকবার প্রশ্ন এসেছে। সুতরাং
সবাই খাতায় নোট করে নিন।]
→ অ, আ স্বরধ্বনির পরে ‘স’ হয়। যেমন— পুরস্কার (প্+উ+র্+অ+স্+ক্+আ+র্+অ),
পরস্পর, তিরস্কার, নমস্কার, তেজস্কর, ভাস্কর, আস্পদ, স্নেহাস্পদ,
শ্রদ্ধাস্পদ, প্রীত্যাস্পদ, কল্যাণীয়াসু, সুচরিতাসু, শ্রদ্ধাস্পদাসু
ইত্যাদি।
→ অ, আ স্বরধ্বনি ব্যতিত অন্য (ই, ঈ, উ, ঊ, ঋ, এ, ঐ, ও, ঔ) স্বরধ্বনির পরে মূর্ধন্য ‘ষ’ হয়। যেমন— বিষয় (ব্+ই+ষ্+অ+য়্+অ),
ভবিষ্যৎ, বিষ, শিষ্য, আবিষ্কার, আবিষ্কৃত, পরিষ্কার, পরিষ্কৃত, বহিষ্কার,
বহিষ্কৃত, দুষ্কর, দুষ্কৃত, দুষ্কৃতি, চতুষ্পদ, চতুষ্কোণ, বিষাদ, নিষ্পাদন,
ভ্রাতুষ্পুত্র, আয়ুষ্মান, আয়ুষ্কাল, শ্রীচরণেষু, কল্যাণীয়েষু,
প্রীতিভাজনেষু, সুচরিতেষু, শ্রদ্ধাস্পদেষু, গোষ্পদ, ঘোষ, পূষ, পোষ্য,
চক্ষুষ্মান, চিকীর্ষা, মুমূর্ষু, প্রতিষ্ঠান, অনুষ্ঠান, অনুষ্ঠিত, অভিষেক,
অনুষঙ্গ, অনুষদ, প্রতিষেধক, সুষম, বিষম, সুষমা, সুষুপ্ত, নিষুপ্ত, নির্বিষ,
নিষ্ক্রিয়, নিষ্কলুষ, নিষ্কাম, নিষ্পাপ, নিষ্পত্তি, নিষ্পন্ন, নিষ্প্রাণ,
নিষ্প্রয়োজন, নিষ্ফল, নিষ্ফলা, নির্নিমেষ ইত্যাদি।
ব্যতিক্রম-০১:
‘ত’ বর্গীয় (ত, থ) ধ্বনির আগে সব সময় দন্ত্য ‘স’ যুক্ত হয়। যেমন— নিস্তেজ,
বিস্তার, বিস্তারিত, নিস্তার, নিস্তব্ধ, নিরস্ত, পরিস্থিতি।
ব্যতিক্রম-০২:
সুস্মিতা (যে নারীর হাসি সুন্দর), শুচিস্মিতা (যে নারীর হাসি
কুটিলতাবর্জিত), মৃদুস্মিতা, বিস্ময়, বিস্মিত, বিস্ফোরণ, পরিস্ফুট,
পরিস্রুতি, নিস্পৃহ/নিঃস্পৃহ, সুস্পষ্ট, বিস্বাদ, নিস্পন্দ।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: স্বভাবতই ‘ষ’ শব্দগুলো কিন্তু ব্যতিক্রমের মধ্যে পড়বে।
“পুরস্কার-বিতরণী অনুষ্ঠানের পরিবেশ এত অপরিস্কার”!-বাক্যটির নিম্নরেখ পদে ষ/স ব্যবহারে-
ক.
প্রথমটি অশুদ্ধ, দ্বিতীয়টি শুদ্ধ
খ. প্রথমটি শুদ্ধ, দ্বিতীয়টি অশুদ্ধ
গ. দুটোই অশুদ্ধ
ঘ. দুটোই শুদ্ধ

কোন মন্তব্য নেই