Header Ads

মুনশি একাডেমি

শিক্ষা ও সাহিত্যভিত্তিক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম
নোট ও সাজেশন বিসিএস ও এনটিআরসিএ বি.এড ও ব্যাংক প্রস্তুতি

রণির অনুশোচনা: মুনশি আলিমের শিক্ষণীয় অডিও গল্প

রণির অনুশোচনা: মুনশি আলিমের শিক্ষণীয় অডিও গল্প


রণির অনুশোচনা (Roni's Remorse)

রচনা ও উপস্থাপনা: মুনশি আলিম অডিও স্টোরি

 

[আবহসংগীত: প্রথমে একটি শান্ত, সুমধুর কিন্তু কিছুটা বিষাদময় বাঁশির সুর ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজবে। আস্তে আস্তে সুরটি কমে এসে কথকের কণ্ঠ ভেসে উঠবে।]

দৃশ্য ১: অবহেলা আর অহংকার

কথক: রণি মধ্যবিত্ত পরিবারের একমাত্র ছেলে। কলেজ পাস করে শহরে একটা বড় চাকরিতে জয়েন করার পর থেকেই তার আচরণ বদলে যেতে শুরু করে। গ্রামের সাধারণ বাবা-মা, যারা নিজেদের রক্ত পানি করে, খেয়ে না-খেয়ে রণিকে আজ এই জায়গায় পৌঁছাতে সাহায্য করেছেন—শহরের চাকচিক্য আর বড়লোকদের সাথে মিশে রণি যেন তাঁদের অস্তিত্বই ভুলে যেতে বসল।

[সাউন্ড ইফেক্ট: অফিসের শোরগোল, কি-বোর্ড টাইপিংয়ের শব্দ এবং ফোনের রিংটোন]

রণি এখন দামি ফ্ল্যাটে থাকে, দামি ব্র্যান্ডের জামাকাপড় পরে। গ্রামে থাকা বৃদ্ধ বাবা-মা মাঝেমধ্যে ফোন করলে সে বিরক্ত হতো।

মা (ফোনে দুর্বল কণ্ঠে): "বাবা রণি, কেমন আছিস রে? কতদিন তোরে দেখি না। তোর বাবাটার শরীরটাও ভালো না, তুই কি এই ঈদে বাড়ি আসবি বাবা?"

রণি (বিরক্ত ও রুক্ষ স্বরে): "মা! কতবার বলেছি আমি অফিসে খুব ব্যস্ত থাকি? তোমরা যখন-তখন ফোন করে ডিস্টার্ব করো কেন? আর ঈদের সময় আমার অনেক কাজ আছে, আমি আসতে পারব না। টাকা দরকার হলে বলো, বিকাশ করে দিচ্ছি। ব্যস, এখন রাখি!"

[সাউন্ড ইফেক্ট: ফোন কেটে দেওয়ার শব্দ 'টুডুডু...']

কথক: রণি ভাবত, বাবা-মাকে প্রতি মাসে কিছু টাকা পাঠিয়ে দিলেই সন্তানের সব দায়িত্ব শেষ হয়ে যায়। সে বুঝত না, বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মা সন্তানের টাকার চেয়ে তার একটু ভালোবাসা আর সান্নিধ্য বেশি খোঁজে।

 

দৃশ্য ২: এক টুকরো কঠিন আঘাত

কথক: দেখতে দেখতে কেটে গেল আরও একটা বছর। রণি নিজের ক্যারিয়ার, পার্টি আর বন্ধুদের নিয়ে ব্যস্ত। এর মধ্যে সে ভুলেই গেছে শেষ কবে তার মায়ের সাথে একটু ভালো করে কথা হয়েছে।

একদিন অফিসে বসে রণি একটা বড় প্রজেক্টের ফাইল দেখছিল। হঠাৎ তার ফোনটা বেজে উঠল। স্ক্রিনে ভেসে উঠল গ্রামের প্রতিবেশী কাকা রহমত আলীর নাম।

[সাউন্ড ইফেক্ট: ফোনের রিংটোন এবং রণির ফোন রিসিভ করার শব্দ]

রণি (স্বাভাবিক কণ্ঠে): "হ্যাঁ, রহমত কাকা বলুন। কোনো দরকার?"

রহমত কাকা (কাঁদো কাঁদো ও কাঁপানো কণ্ঠে): "রণি বাবা... তুমি যেখানেই থাকো, জলদি গ্রামে চলে এসো। আজ সকালে তোমার মা... আমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে গেছেন রে বাবা! আর তোমার বাবা স্ট্রোক করে হাসপাতালে ভর্তি..."

[সাউন্ড ইফেক্ট: হাত থেকে ফাইল বা কলম মেঝেতে পড়ে যাওয়ার তীব্র শব্দ]

[আবহসংগীত: ব্যাকগ্রাউন্ডের মিউজিক হঠাৎ থেমে গিয়ে একটি ধক করে ওঠা গম্ভীর ও শোকের আবহ তৈরি হবে]

কথক: কথাটি শোনার পর রণির পায়ের নিচ থেকে যেন মাটি সরে গেল। চারপাশের আলো ঝলমলে শহরটা এক নিমেষে অন্ধকার হয়ে গেল। সে বাকরুদ্ধ হয়ে বসে রইল। মায়ের শেষ কথাগুলো তার কানে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল—"কতদিন তোরে দেখি না বাবা..."

 

দৃশ্য ৩: অন্তিম শয়ান ও অনুশোচনার আগুন

[সাউন্ড ইফেক্ট: গাড়ির হর্ন, দ্রুত গাড়ি চলার শব্দ এবং শ্মশান/কবরস্থানের নীরব পরিবেশ]

কথক: রণি যখন গ্রামে পৌঁছাল, ততক্ষণে সব শেষ। উঠোনে সাদা কাপড়ে ঢাকা মায়ের নিথর দেহ পড়ে আছে। যে মা তাকে একবুক ভালোবাসা দিয়ে আগলে রেখেছিলেন, তিনি আজ চিরদিনের মতো নীরব।

রণি ধপাস করে মায়ের পায়ের কাছে বসে পড়ল। মায়ের সেই খসখসে, চাদরে ঢাকা হাত দুটো নিজের কপালে ছোঁয়াল। কিন্তু আজ সেই হাতে কোনো ওম নেই, কোনো আশীর্বাদের স্পর্শ নেই।

রণি (চিৎকার করে ও কেঁদে উঠে): "মা! চোখ খোল মা! আমি এসেছি। তোমার রণি এসেছে মা! আমি আর কোনোদিন বলব না যে আমি ব্যস্ত। আমি চাকরি ছেড়ে তোমার কাছে চলে আসব মা, প্লিজ একবার কথা বলো!"

 

[আবহসংগীত: এবার করুণ কান্নার সুরে সানাই অথবা বেহালার সুর ব্যাকগ্রাউন্ডে উচ্চৈঃস্বরে বাজবে]

কথক: কিন্তু চলে যাওয়া মানুষ কি আর কখনো ফিরে আসে? রণি কাঁদছিল, কিন্তু এই কান্না মায়ের জন্য নয়—এই কান্না ছিল তার নিজের অপরাধবোধের, তার অহংকারের আর তার অবহেলার অনুশোচনার আগুন। সে বুঝতে পারল, পৃথিবীর সব টাকা-পয়সা আর সাফল্য এক করেও মায়ের মুখের ওই একটি মিষ্টি হাসি আর ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।

 

📌 গল্পের মূল শিক্ষা (Moral of the Story)

[আবহসংগীত: সুরটি ধীরে ধীরে কমে আসবে এবং কথকের কণ্ঠ গম্ভীর ও শিক্ষণীয় রূপ নেবে]

কথক: প্রিয় শ্রোতাবন্ধুরা, 'মুনশি আলিম অডিও স্টোরি'র আজকের এই গল্পটি আমাদের সমাজের এক নির্মম বাস্তবতাকে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয়।

  • বাবা-মা কোনো দায়িত্ব নন, তাঁরা আশীর্বাদ: জীবনে যতই বড় হোন না কেন, যে বাবা-মা আপনাকে শূন্য থেকে পূর্ণতা দিয়েছেন, তাঁদের কখনো অবহেলা করবেন না।
  • সময় থাকতে মূল্যায়ন করুন: টাকা-পয়সা, ক্যারিয়ার বা বন্ধু—সবকিছু জীবনে বারবার ফিরে পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু বাবা-মা চলে গেলে পৃথিবীতে নিঃশর্ত ভালোবাসার আর কোনো আশ্রয় থাকে না। তাঁদের জীবদ্দশায় সময় দিন, ভালোবাসুন। অন্যথায়, রণির মতো সারাজীবন অনুশোচনার আগুনে পুড়তে হবে, যা কোনোদিন নিভবে না।

[আবহসংগীত: বিষাদময় সুরটি আস্তে আস্তে মিলিয়ে যাবে এবং গল্পটি শেষ হবে]

কোন মন্তব্য নেই

Blogger দ্বারা পরিচালিত.