বাক্যের গঠন: সরল, যৌগিক ও জটিল বাক্য চেনার কৌশল
বাক্যের গঠন: সরল, যৌগিক ও জটিল বাক্য চেনার কৌশল
বাক্য :
যে শব্দসমষ্টি দ্বারা বক্তার মনের একটি সম্পূর্ণ ভাব বা অর্থ স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়, তাকে বাক্য বলে।
উদাহরণ:
আমি বই পড়ি।
সে আজ স্কুলে যায়নি।
সত্যের জয় হয়।
👉 প্রতিটি বাক্যে একটি সম্পূর্ণ অর্থ, একটি কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি ক্রিয়া (বিধেয়) প্রকাশ পায়—এই কারণেই এগুলো বাক্য।
বাক্যের গঠন অনুসারে তিন প্রকার। যথা— ১. সরল বাক্য, ২. যৌগিক বাক্য, ৩. জটিল বাক্য বা মিশ্র বাক্য।
সরল বাক্য চেনার উপায়
সরল বাক্য:
যে বাক্যে একটি মাত্র কর্তা (উদ্দেশ্য) এবং একটি মাত্র সমাপিকা ক্রিয়া
(বিধেয়) থাকে তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন— পুকুরে পদ্মফুল (উদ্দেশ্য) জন্মে
(বিধেয়)। এই বাক্যে ‘পদ্মফুল’— কর্তা এবং ‘জন্মায়’—সমাপিকা ক্রিয়া। একটি
কর্তা ও একটি সমাপিকা ক্রিয়া সুতরাং এটি সরল বাক্য।
কিছু সরল বাক্যের ব্যাখ্যা—
- হযরত মোহাম্মদ (সঃ) ছিলেন একজন আদর্শ মানব। ব্যাখ্যা: এখানে ‘হযরত মোহাম্মদ (সঃ)’—কর্তা এবং ‘ছিলেন’—সমাপিকা ক্রিয়া।
- মিথ্যাবাদীকে কেউ ভালোবাসে না। ব্যাখ্যা: এখানে ‘কেউ’— কর্তা এবং ‘ভালোবাসে না’—সমাপিকা ক্রিয়া।
- বিপদে মোরে রক্ষা কর এ নহে মোর প্রার্থনা। ব্যাখ্যা: এই বাক্যে কর্তা উহ্য আছে (প্রভু) এবং ‘কর’—সমাপিকা ক্রিয়া।
- সুশিক্ষিত লোক মাত্রই স্বশিক্ষিত। ব্যাখ্যা: ‘সুশিক্ষিত লোক’—কর্তা এবং সমাপিকা ক্রিয়া (হন বা হয়) উহ্য আছে। এরূপ— দুর্জন লোক পরিত্যাজ্য। জ্ঞানী-ই সত্যিকার ধনী। ইনি আমার ভাই। ধনীরা প্রায় কৃপণ।
আবার, বাক্যে যদি একাধিক অসমাপিকা ক্রিয়া থাকে
এবং তা যদি একাধিক বাক্যকে যুক্ত করে তবুও বাক্যে যদি একটি সমাপিকা ক্রিয়া
থাকে তাহলে তাকে সরল বাক্য বলে। যেমন— কুবের ও কুপিলা দুজনে ময়না দ্বীপে
চলে গেল। এই বাক্যে— ‘কুবের’ ও ‘কপিলা’— দুটি কর্তা এবং ‘চলে’ —অসমাপিকা
ক্রিয়া আর ‘গেল’—কেবল সমাপিকা ক্রিয়া।
- মেঘ গর্জন করলে ময়ূর নৃত্য করে। ব্যাখ্যা: এই বাক্য— ‘মেঘ’ ও ‘ময়ূর’—দুটি কর্তা এবং ‘করলে’— অসমাপিকা ক্রিয়া আর ‘করে’— সমাপিকা ক্রিয়া।
যাঁরা সমাপিকা ও অসমাপিকা ক্রিয়া চিনেন না তাঁরা কমেন্টে সেকশনে দেখে নিবেন, সেখানে দেওয়া হয়েছে।
যৌগিক বাক্য চেনার উপায়
যৌগিক বাক্য:
দুই বা ততোধিক সরল বা জটিল বাক্য একত্র গঠিত হয়ে একটি সম্পূর্ণ বাক্য গঠন
করলে তাকে যৌগিক বাক্য বলে। যৌগিক বাক্যের অন্তর্গত নিরপেক্ষ বাক্যগুলো এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি, তারপর, সুতরাং, নতুবা, যদ্যপি ইত্যাদি দ্বারা সংযুক্ত থাকে। যেমন— তুমি মিথ্যা বলেছ, সুতরাং তোমর পাপ হবে।
টেকনিক: দুটি
সরল বাক্যকে (এবং, ও, কিন্তু, অথবা, অথচ, কিংবা, বরং, তথাপি, তারপর,
সুতরাং, নতুবা, যদ্যপি)— এই অব্যয়গুলো দ্বরা কানেক্ট করলেই তা যৌগিক
বাক্য। যেমন—
- উদয়াস্ত পরিশ্রম করব, তথাপি অন্যের দ্বারস্থ হব না।
- বিপদ এবং দুঃখ এক সাথে আসে।
- তিনি ধনী, কিন্তু অত্যন্ত কৃপণ।
- তার বয়স বেড়েছে, কিন্তু বুদ্ধি বাড়েনি।
জটিল বাক্য চেনার উপায়
জটিল বাক্য:
যে বাক্যে একটি প্রধান খণ্ড বাক্যের এক বা একাধিক আশ্রিত (অপ্রধান) খণ্ড
বাক্য পরস্পর সাপেক্ষভাবে ব্যবহৃত হয় তাকে জটিল বাক্য বলে। জটিল বাক্যে ২টি
খণ্ড বাক্য থাকে (প্রধান খণ্ড বাক্য এবং আশ্রিত খণ্ড বাক্য)। জটিল বাক্যে
প্রধান খণ্ড বাক্য এবং আশ্রিত খণ্ড বাক্যের মাঝে কমা (,) থাকে। যেমন— যে
মানুষটি দাঁড়িয়ে আছেন তাকে একটা চেয়ার দাও। এ বাক্যে ‘একটা মানুষকে চেয়ার
দিতে হবে’— এটাই মূল নির্দেশ, এটাই প্রধান বাক্য। অন্য যে বাক্যটি (যে
মানুষটি দাঁড়িয়ে আছেন) ব্যবহৃত হয়েছে তা ‘তাঁকে’ কথাটির ভাষ্য মাত্র, ফলে
এটি অপ্রধান বাক্য।
টেকনিক: সাপেক্ষ সর্বনাম (যে- সে, যা- তা, যিনি- তিনি, যারা- তারা, যাঁরা-তাঁরা, যেই- সেই, যত- তত ইত্যাদি) অথবা নিত্যসম্বন্ধীয় অব্যয় (যদিও-তবুও,
যখন-তখন, যেহেতু- সেহেতু, যেমন- তেমন, যেখানে-সেখানে, যে-তা, যেইনা- অমনি,
বরং, সেজন্যে ইত্যাদি) দ্বারা দুটি সরল বাক্য যুক্ত হলেই তা জটিল বা মিশ্র
বাক্য। যেমন—
- যে পরিশ্রম করে, সেই সুখ লাভ করে।
- সে যে অপরাধী, তা মুখ দেখেই বুঝেছি।
- লেখাপড়া করে যেই, গাড়ি-ঘোড়ায় চড়ে সেই।
- ‘যদি তোর ডাক শনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে।’
- যেখানে আকাশ আর সমুদ্র একাকার হয়ে গেছে, সেখানেই দিবাচক্রবাল।
- যতই করিবে দান, ততই যাবে বেড়ে।

কোন মন্তব্য নেই